pathology center near me

Pathology center near me in Bengali | Sometimes Patholab Test should be needed by Self Reference | নিজে থেকেই আমার কাছের প্যাথল্যবে যাই

Why I go pathology center near me to do test in Self Reference | নিজে থেকেই আমার কাছের প্যাথল্যবে যাই। এবং কখনো কখনো Self Reference এ বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বাধ্য হই। তারই একটি অভিজ্ঞতা গল্প আকারে দেবার চেষ্টায়। এই অভিজ্ঞতা আপনাদের কাজে লাগলে ধন্য হই।

প্রবীণ ডাক্তার ডা. মিত্র। তার সামনে স্পুটাম টেস্ট অফ এ.এফ.বি পজিতিভ। ডাক্তার বললেন- ‘এতো এ.এফ.বি পজিটিভ। কে স্পুটাম টেস্ট করাতে বলল? এক্স-রে করাতে হবে যে।

তুহিন বলল- ‘কেউ না স্যার। আমরা নিজে নিজে করালাম।
-‘নিজে নিজেই। বাবা কিন্তু এক্সরে করাতে হবে যে বাবা।’
এক্সরে প্লেটটা বের করলো মিহির- ‘এক্সরে করানো আছে স্যার। গত দিনতো প্লেটটা দেখাতে চাইলাম। আপনি বললেন- থাক থাক আমি ওষুধ দিয়ে দিচ্ছি। ভালো হয়ে যাবে। তাই স্যার নিজে থেকে স্পুটাম টেস্ট করালাম।
– ‘একেবারে ডাক্তার হয়ে গেছিস রে।’ বলে ডা. মিত্র হেসে নিজের ছোট সাধারন ভুলটা ঢাকার চেষ্টা করলেন।

তুহিন গত চার মাস ধরে হালকা জ্বরে ভুগছে। ডিসেম্বরের সকালে টিউশনি পড়িয়ে এসে উঠোনে একটা খরের বোঝার উপর শুয়ে পড়ল তুহিন। হালকা রোদ। বেশ ভালো লাগলো। শরীরটা কেমন জ্বর জ্বর লাগছে। সেদিন থেকে জ্বর কিছুতেই ছাড়েনা।

কতজন ডাক্তার যে দেখালো তার ঠিক নেই। প্রথমেই ডাক্তার ঘোষ কে দেখানো হলো। পকেটের টাকা নেই। ধার করল তুহিন। ডাক্তার ঘোষ এক্সরে ওয়াইডাল টেস্ট করতে বললেন। সবকিছু নরমেল। তবুও ডাক্তার ঘোষ অ্যান্টিবায়োটিক দিলেন। বললেন দু-একদিনের মধ্যেই জ্বর সেরে যাবে।

দু-একদিন তো দূর এক মাসে জ্বর সাড়লো না। প্রতিদিন চারটে করে অ্যান্টিবায়োটিক। গ্রামের ওষুধের দোকানের প্রেসক্রিপশন দেখালো তুহিন।দোকানের কাকু অবাক হয়ে বললেন- ‘চারটে করে অ্যান্টিবায়োটিক?’ তুহিন খুব ভয় পেয়েছিলো। তবুও চারটে করে এন্টিবায়োটিক খেতো। তবুও জ্বর কিছুতেই ছাড়েনা। ওষুধ খায় আর কিছুক্ষণের মধ্যে মুখ থেকে ওষুধের দুর্গন্ধ বের হয়। বমি আসে, কিন্তু বমি হয় না।

কিছু খেতে ইচ্ছে করে না। যা খায় কিছুক্ষণের মধ্যে অম্বল হয়ে যায়। জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।

ডাক্তার ঘোষ এর পর কতজনকে যে দেখানো হলো মনে নেই। ডাক্তার দে দামি ওষুধ দিয়ে বললেন- ‘আমি যে ওষুধ দেবো আজ খেলে কাল থেকে জ্বর বাপ বাপ করে পালাবে। খুব দামী এন্টিবায়োটিক।

সত্যি খুব দামী। একটি ট্যাবলেট এর দাম প্রায় 70 টাকা। পাঁচটি ট্যাবলেটের একটি ট্রিপ। খুব খুশি হলো তুহিন। এবার বুঝি জ্বর আর আসবেনা। সুস্থ হলেই টিউশনিতে মন দিতে পারবে।

ডিসেম্বর-জানুয়ারি পেরিয়ে এখন মার্চের শেষ দিক। জামা প্যান্ট সব ঢিলা হয়ে গেছে। তুহিনকে যে দেখে সেই বলে তোর চেহারা এত খারাপ হয়ে গেল কেন রে? তুহিন উত্তর পায় না। বলে-জ্বর কিছুতেই ছাড়েনা।

এখন শুধু হাড়ের ওপর বাইরের চামড়া টুকু জরানো। তুহিন আয়না দেখা বন্ধ করে দিয়েছে। ভয় তার প্রতিবিম্ব কে।

প্রথম দিন ডাক্তার ঘোষ যে যে পরীক্ষা করাতে বলেছিলেন সেই রিপোর্টগুলো তার কাছে। অন্য ডাক্তার আর কোন নতুন করে কিছু পরীক্ষা করাতে বলেন নি।

আর ওই রিপোর্টগুলো যে কিছু খারাপ ইঙ্গিত দিচ্ছে তাও নয়। তবু এত ওষুধ খাওয়ার পরও কেন জ্বর কমে না।

দাদা বাইরে থাকেন। সপ্তাহান্তে বাড়ি ফিরে প্রথমে খোঁজ নেন কেমন আছি। মা বৌদি বলেন জ্বর কমেনি। দাদার মন খারাপ নিয়ে চুপচাপ। মাঝে মাঝে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন।

রোজগারের বহর যে খুব ভালো, তাও নয়। যাতে বাইরে অন্য কোনো বড় জায়গায় বড় ডাক্তার দেখাতে পারে। তুহিন ধীরে ধীরে অবসাদে ডুবে যায়। মন মেজাজ ধীরে ধীরে আয়ত্তের বাইরে।

ও মনে মনে ভাবে তার হয়তো T.B হয়েছে। সঠিকভাবে সঠিক ওষুধ পড়ছে না বলেই জ্বর ছাড়ে না। জ্বর যে খুব বেশি তা নয় 101 ডিগ্রি ফারেনহাইট থেকে 102 ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু এতেই তাকে কাবু করেছে। চার মাস পেরিয়ে পাঁচ মাসে পড়েছে। সর্দি-কাশি কিছু নেই। সারা অঙ্গে ময়লা জমে জমে আস্তরণ হয়ে পড়েছে। একদিন মাকে দেখালো। তুহিন অঙ্গের মইয়লার জঞ্জাল দেখে তার মাও কথা হারিয়েছেন। তারও একই প্রশ্ন জ্বর ছাড়ে না কেন?

তুহিনের এখন নতুন উপসর্গ সারা অঙ্গে প্রচন্ড ব্যাথা। বিছানা শুয়ে পাশ ফিরতে পারে না। কোমরে প্রচন্ড যন্ত্রণা। সেই যন্ত্রণা কোমর থেকে পিঠ আর ঘার কে আবিস্ট করে রাখে। বড় কষ্ট হয় পাশ ফিরতে। মাঝে মাঝে মৃত্যুভয় আসে না তা নয়, এবার বুঝি শেষ যাত্রা ঘণ্টাধ্বনি শুনবে।

অবশেষে ডাক্তার মিত্র প্রবীণ ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। যদিও তার যাওয়ার ইচ্ছা ছিলনা। কেননা তুহিন কখনো শুনেছে উনি বয়স জনিত কারণে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারেন না। তবুও অনেকের উপদেশ- তার কাছে গেল।

তার কাছে নাম লেখানো এক বড় বিপদ। রাত তিনটে থেকে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে সকাল ছটা সাড়ে ছয়টায় নাম লেখেন উনি নিজে।
উনি বললেন- আমি ওষুধ দিচ্ছি সব ঠিক হয়ে যাবে।
তুহিন বলল- স্যার এক্স-রে করানো আছে, দেখুন।
রাখ রাখ এক্স-রের কোন দরকার নেই। ব্যাগে রেখে দে।
দাদা আর তুহিন চুপ করে বসে রইল। প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওষুধ কিনল। অভিজ্ঞ ডাক্তারের ওষুধ খেয়ে অবশ্যই জ্বর সেরে যাবে।

বাড়ি ফেরে ওষুধ খেয়ে যায় মনের জোর দিয়ে। ওষুধের ওপর করার চেষ্টা করে। কিন্ত দিন যায়। তুহিন একই আছে। বরং দিনদিন দুর্বল আর শরীর ক্ষীণ হচ্ছে। ব্যথায় ব্যথায় সারা অঙ্গ ফেতে যাচ্ছে। উঠে বসার ইচ্ছাটুকু দিন দিন মরে যাচ্ছে।

তুহিনের টি বি হয়েছে ভাবনার মধ্যেও অমূলক কিছু নেই। কেননা যে পরিবেশে আর যে সংসারে ও জীবন কাটায় সেখানে টি বি না হওয়ার কথা নয়।

3-4 বছর আগে তার মায়ের টি বি হয়েছিল। তুহিন দেখেছে তার মায়ের যন্ত্রণা। সে বেশি তার মাকে সেবা যত্ন করেছে। প্রথমে প্রাইভেটে। তারপর সরকারি হাসপাতালে। পরপর তিনদিন স্পুটাম স্যাম্পল নিয়ে গেছে সে। মায়ের এ এফ বি পজিটিভ। প্রাইভেটের খরচ চালানোর ক্ষমতা নেই। তুহিন মাসে মাত্র শ’পাঁচেক। দাদার সামান্য আয়। অগত্যা সরকারি চিকিৎসা। মা এখন সুস্থ। তুহিনের বুকে টি বি বাসা বাঁধলো কিনা তুহিনের মনে প্রশ্ন আসাটাই স্বাভাবিক। তাই কয়েকদিন আগে দাদা কে বলল- ‘অনেক ওষুধ তো খাওয়া হলো, একবার স্পুটাম টেস্ট করে দেখা হোক। আমার মনে হয় টি বি হতে পারে।

সকলেই চুপ- মা দাদা বৌদি। দাদা বললেন- ডাক্তার না লিখলে পরীক্ষা করানো হবে? তুহিন বললো- হতে পারে সেলফ রেফারেন্সে। প্যাথলজি ল্যাব গিয়ে তুহিন ব্যাপারটা টেকনিশিয়ানকে বলল। মালিক কাম টেকনিশিয়ান বললেন- হ্যা হবে। না হওয়ার কিছু নেই। সেলফ রেফারেন্সে করে দেব।

উনি কন্টেনার দিলেন। পরদিন সকালে স্পুটাম দইয়ে এল। পরপর তিনদিন। তিনদিন দেওয়ার পর উনি বললেন- প্রথম দুদিন নেগেটিভ। কিন্তু তৃতীয় দিন পজেটিভ।

তুহিনের ভেতরটা হু হু করে উঠলো। মনের মধ্যে একটা অস্বস্তি, গলাতে দলাপাকানো সর্দিটা যেন বসে থাকতে চাইছে। কিছুতেই উঠে আসছে না।

একটু ভীত আবার একটু ভাল লাগা। সঠিক ওষুধ পড়বে এবার। সেদিন দাদা সঙ্গে ছিল। রিপোর্টটা নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার মিত্রর কাছে। তারপরই রিপোর্ট দেখে উনি বললেন- এত এ এফ বি পজিটিভ।।

এবার আসা যাক আসল ঘটনায়। আজকের প্রতিপাদ্য বিষযে। বক্তব্য হলো অনেক ডাক্তারের ওভার কনফিডেন্স থাকে উনি যা বুঝেছেন বা যা ডায়াগনসিস করছেন সেটাই ঠিক। তুহিনের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছিল- ডাক্তার ঘোষ থেকে শুরু করে ডাক্তার দে ডাক্তার মিত্র ইত্যাদি সবাই ভেবেছিল তাদের ওষুধ অব্যর্থ। ওষুধের কাজ করবেই। জানি না নিজেরা যদি স্পুটাম টেস্ট করাতে না যেত তুহিনকে আর কতদিন বেঁচে থাকত। মনে প্রশ্ন আসতে পারে।

হয়তো বুকের ব্যথা যন্ত্রণা বা ভয়ানক শ্বাসকষ্ট হতো। তারপর মুখ দিয়ে হয়তো রক্ত উঠত। তখন হয়ত সকলে টি বি টেস্ট করানোর জন্য তৎপর হতো। দেখা যেত অবস্থা প্রায় শেষের দিকে।

জটিল অপারেশনের ক্ষেত্রে কিভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন?
কেন আমরা প্যাথলজি ল্যাবে যাই?
সিএমসি ভেল্লোর কেন একটি শ্রেষ্ঠ হাসপাতাল?

Sometimes I go pathology center near me to do test in Self Reference.-

তাই আমার বক্তব্য হল প্যাথলজি অযথা টাকা খরচ হয় বলে বসে থাকাটাও রোগীর ক্ষেত্রে হানিকর হতে পারে। ডাক্তার পরীক্ষা না দিলে অনেক সমস্যা সেলফ রেফারেন্সে আপনার মনে থাকা পরীক্ষাগুলো করানোর চেষ্টা করবেন। তবে সব পরীক্ষা আবার সেলফ রেফারেন্সে বড় ল্যাবগুলো করাতে চায় না। তাদের রেপুটেশনের কথা ভেবেই। না করতেই পারে। এক্ষেত্রে ডাক্তারকে বলে লিখিয়ে নিন- আপনি কোন পরীক্ষা করাতে চান।

আমি কিন্তু কখনো কখনো নিজে থেকে দু একটা পরীক্ষা করাই। আমার সন্দেহ বাতিক মন। মানসিক রোগী কিনা বলতে পারিনা।

আপনি যদি বায়োপ্সি বা এফএনএস করাতে চান, তা তো আর বিনা প্রেসক্রিপশনে সম্ভব নয়। এরকম ধরনের পরীক্ষা করানো নিজে থেকে সম্ভব নয়। আবার খরচও অনেক বেশি। তাছাড়া এমআরআই-এর মত পরীক্ষাও নিজে থেকে করানো উচিৎ নয়।

তবে লিপিড, এক্সরে ইসিজি ইত্যাদি সাধারণ কিছু ল্যাব পরীক্ষা করাতে পারেন ডাক্তার রেফারেন্স ছাড়াই। আপনার সন্দেহ হলে।

এতে রোগীর রোগ শনাক্তকরণ যেমন তাড়াতাড়ি হবে এবং রোগী সুস্থ হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। অনেক সময় এমন হয়, যে পরীক্ষাগুলো আপনি সেলফ রেফারেন্সে করাতে চাইছেন, এখন সেগুলো না করালে ডাক্তারই হয়তো ওই পরীক্ষাগুলো করাতে দিতে পারেন অনেক পরে। তখন হয়তো রোগীর রোগ অনেক দূর পর্যন্ত গড়িয়ে যেতে পারে।

তাই আপনার মনে সন্দেহ হলে অবশ্যই নিজে থেকে কিছু কিছু পরীক্ষা করাতে পারেন। এতে হয়ত আর্থিক কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু লাভ আপনারই বা আপনার আত্মীয় পরিজন রোগীর।

Disclaimer- লেখাটি সম্পূর্ণ লেখকের অভিজ্ঞতা প্রসূত। লেখকের অভিজ্ঞতার সাথে আপনার মতামত মিলিয়ে দেবেন না। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিন।   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *