Take Care of Your Parents after 60

Take Care of Your Parents after 60 in Bengali | Definitely it is Virtue | বয়স্ক মা-বাবাকে অবহেলা- ভয়ানক অপরাধ

বন্ধুরা আপনাদের বাবা মা’ইয়ের প্রতি 60 বছরের প্র যত্ন নিন(Take Care of Your Parents after 60)। সন্তানদের প্রতি বাবা মায়ের অবদান আমরা ভুলে থাকি(Contribution of Parents to their Children)। বয়স্ক মা-বাবাকে অবহেলা করো না ভাই। মায়েদের সন্তানদের কাছে করজোরে নিবেদন। আপনাদের আশেপাশে যদি এরকম সন্তানদের দেখেন তাদের অবশ্যই সতর্ক করুন।

বিবাহের পর একজন নারী ও পুরুষের জীবনের অমূল্য সম্পদ হলো তাদের ঔরসজাত সন্তান। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর, একজন নারী যেমন নারীত্বের পূর্ণতা পায়, তেমনি একজন পুরুষ বাবা হয়ে জীবনের পূর্ণতা লাভ করেন। সন্তান জন্ম নেওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে একটি সন্তানকে ছোট থেকে বড় করা যে কি কঠিন, তা সন্তান পালনকারী ছাড়া কেউ বুঝবে না। সন্তানকে ভবিষ্যতের পথ দেখানো ,তাকে সমাজের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি করতে বাবা মা সারাজীবন চেষ্টা করে যান। বাবারা তাদের জীবনে অর্জিত উপার্জন ছেলেমানুষ করার পেছনে ব্যয় করেন।

Contribution of Parents to their Children(সন্তানদের প্রতি বাবা মায়ের অবদান)-

বাবা-মা তাদের ছোট্ট শিশুটির ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে লেগে পড়েন। প্রথমে তাকে সুস্থ জীবন, তারপর তার সুস্থ এবং স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ গড়ায় সারা জীবন উৎসর্গ করেন বাবা মায়েরা। নিজেদের শেষ জীবনের সম্বল বলে কিছু তারা রাখেন না। যদি বা রাখেন সেটা তাদের সন্তানের জন্যই। বাবা-মায়েরা সর্বদা ভাবেন তাদের সন্তানরা বড় হবে, অনেক বড়। জীবনের শেষ বয়সে সন্তানরা তাদের সাহারা হয়ে দাঁড়াবে।

কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা হয়ে ওঠেনা। অনেক বাবা-মার ইচ্ছা পূরণ হয়। তবে বেশিরভাগ বাবা-মায়ের এই ইচ্ছাটাই অপূর্ণ থেকে যায়।

Story No.- 1

 কয়েকটা ঘটনা বলি- যেমন বাবা-মারা চায় তাদের ছেলে বা মেয়ে পড়াশোনায় খুব ভালো হবে। ছোট থেকে প্রত্যেকটি বিষয়ে অনেক নম্বর পেয়ে প্রথম হবে এবং হয়ও। তারপর সেই ছেলে বা মেয়ে একজন মেধাবী ছাত্র বা ছাত্রী হয়ে পড়াশোনা করে বিদেশে চাকরি পায়। যা বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিল তা সেই সন্তান পূরণ করে। এবং বাইরে কোন রাজ্যে বা বিদেশে চলে যায়। বিয়ে করে সংসারী হয় বউকে নিয়ে যেখানে সেখানে চলে যায়। আর বাবা-মা পড়ে থাকে তাদের গ্রামের বাড়িতে। একা হয়ে সেই সময় তাদের এক অসহায় অবস্থা। শরীরের জোর কমে যায়। মনের জোর থাকে না। এক একটা দিন তারা শুধু অপেক্ষা করে তার ছেলে বা মেয়ে আসবে ছুটি হলে তাদের নিতে।

 হোকনা বাবা-মায়ের এমন অবস্থা। তারা তো তাদের সন্তানকে মানুষ করেছে। সন্তান এখন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি হয়েছে। এটাই তো তারা চেয়েছিল। একবারও তো নিজেদের কথা ভাবেনি যে ছেলে চাকরি নিয়ে বাইরে গেলে তাদের বুড়ো বয়সে কিভাবে জীবন কাটবে। এরকম অনেক বাবা-মা আছে আজ যারা নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করে। আরো দুর্গতি তাদের যে সব মায়েরা বিধবা, একা। সন্তান বাইরে সংসার নিয়ে ব্যস্ত। স্বামী পরলোকগমন করেছেন।

ছেলের মনে তার মায়ের জন্য একটুও জায়গা নেই। এই প্রসঙ্গে নচিকেতার সেই গানটা সবাই জানে- ‘ছেলে আমার মস্ত মানুষ মস্ত অফিসার।’

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মা-বাবা তো ছেলেদের বড় করে তোলেন। কিন্তু হয়তো মনুষ্যত্বপূর্ণ মানুষ ছেলেরা হয় না। না হলে এত বৃদ্ধাশ্রম হতো না। বাবা মায়ের মৃত্যুর আগে কটা বছর বাড়ি ছেড়ে বৃদ্ধাশ্রমে কাটাতে হতো না। মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোতে বুড়ো বাবা মাকে তো ঠোক্কর খেতে খেতে খেতে খেতে জীবন কাটাতে হয়।

Story No.- 2

 এক মহিলা তার স্বামী মারা যাবার পর দুই সন্তানকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছেন। সেলাই করে আরো অনেক কষ্টে দুটো ছেলেকে বড় করেছেন। বড় ছেলে যখন প্রাপ্তবয়স্ক হলো তখন স্বামীর চাকরিটা তাকে দিলেন। তারপর মা ও বড় ছেলে মিলে ছোটকে মানুষ করলেন। পরে ছেলে পড়াশুনা সম্পূর্ণ করে চাকরি করছে। আজ দুই ছেলে প্রতিষ্ঠিত। যে যার নিজের সংসার। বাড়ি গাড়ি সব আছে। তাদের মায়ের অবস্থা?- মা একবার বড় ছেলের কাছে, তো পরের ছুটতে হচ্ছে ছোটর কাছে। ছোট ছেলে বলে মা বাবার চাকরি দাদাকে দিয়েছে অতএব সে মাকে ভাত দেবে না। দাদার কাছে মা থাকবে। বড় ছেলের অবশ্য কোন মন্তব্য নেই। মা বড় ছেলের কাছে থাকে।

মা কিন্তু দুই ছেলেকে খাবার খাওয়ানোর সময় একবারো ভাবেনা- একে বেশি আর ওকে কম দেব। অবাক লাগে ,আরো- মা তো বয়স্ক। মাকে সামান্য খাবার ও বাসস্থান দিতেও ছেলেদের কৃপণতা।

 আরেকটা ঘটনা। এটা খুবই মর্মান্তিক। বৃদ্ধা মহিলা। দুই ছেলে ও এক মেয়ে। স্বামী অনেকদিন হল গত হয়েছেন। স্বামীর পেনশন বৃদ্ধা পেতেন। ছোট ছেলের কাছে থাকতেন। ছোট ছেলের সুপরামর্শ বড় ছেলেকে তিনি প্রায় ত্যাগ করেছেন বললেই চলে। মাঝে মাঝে মেয়ের কাছে যেতেন। কিন্তু টাকার জন্য- ছোট ছেলে পেনশনের টাকা তোলার জন্য বৃদ্ধাকে নিয়ে চলে আসতো।

ছোট ছেলের কোনো কাজকর্ম ছিল না। বাবার পেনশনের টাকা তোলা আর বাবার সম্পত্তি যা আছে তা দিয়ে সংসার চালানো কোনো কাজ না। । তার ওপর বৃদ্ধা দিনরাত ছোট বৌমার গালাগালি খেত। খুব শান্ত প্রকৃতির ছিলেন। নিজের কাজ নিজে করতেন। তার বউয়ের অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করতেন। আর যাবার জায়গা ছিল মেয়ের বাড়ি। তাও ছোট ছেলেদের যেতে দিত না। যদিও দিত তাও কম দিন‌। আবার পেনশন তোলার সময় নিয়ে চলে আসতো। তার বড় ছেলের কাছে থাকার ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই। তাহলে ছোট ছেলে ও বৌ গালিগালাজ দিয়ে ঝগড়া করে অশান্তি করবে এই ভয়ে বড় ছেলের কাছে যেত না ও বড় ছেলের সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতে পারতো না।

এক সময় মানসিক অত্যাচার এত বেড়ে গিয়েছিল যে বিধাতা নিতে পারলেন না। নিজের জীবনটা শেষ করে দিলেন গলায় দড়ি দিয়ে। আশি বছরের বৃদ্ধা মহিলাকে নিজের জীবনটা শেষ করে দিতে হলো। এই নিয়ে ছোট ছেলে চুপচাপ। বৌমার কোনো অনুশোচনা নেই, কোনো অনুতাপ নেই। কারণ তারা দুজনে বৃদ্ধা যা কিছু পৈত্রিক অর্থ- সবই হস্তগত করেছে। আর তো প্রয়োজন নেই বৃদ্ধাকে।

Parents care Law-

আমরা জানি ভারত বর্ষ সহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে Parents care law তৈরি হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী প্রত্যেকটি সন্তান-সন্ততি তাদের বৃদ্ধ বাবা-মাকে সুস্থ এবং শান্তিতে রাখতে বাধ্য থাকবেন। তাদের প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছু সরবরাহ করবেন এবং এই parents care law থেকে তারা বিরত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে তাদের জেল হতে পারে। জরিমানা হতে পারে। অথবা তারা মা-বাবার সমস্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এই আইন বলবৎ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে উর্দ্ধতন প্রশাসন সকলেই একযোগে মিলিত হয়ে কাজ করবেন।

কিন্তু প্রশ্ন হল- সবকিছুই কি আইন দ্বারা হয়? সামাজিক রীতিনীতি, মানবিক বোধ, প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা বাই ফোর্স আইন দ্বারা কার্যকর করা হলে কি সমস্যার সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে? যদি সেটাই হতো তাহলে সমাজে Parent Care Law এর প্রয়োজন হত না বা এত অন্যায়, দুর্নীতি, বেআইনি কার্যকলাপ দিন দিন এত বুদ্ধি পেতনা।

মানবিক, মানসিক প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা আত্মশুদ্ধি করন নাহলে এই ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব কোনদিন হবে কি’না জানিনা।

অবাক লাগে- যে সব ছেলে বউরা বৃদ্ধ বাবা-মা শ্বশুর শাশুড়ির সাথে এমন ব্যবহার করে তাদের একবারও মনে হয় না যে তাদের জীবনে একসময় বার্ধক্য আসবে। তখন তাদের এমন অবস্থা হতে পারে। সারাজীবন তো আর রক্ত গরম থাকবে না।

Please, Take Care of Your Parents after 60-

বলা হয় বৃদ্ধ বয়স হলো দ্বিতীয় শৈশব। এ সময় মানুষের ব্রেইন প্রায় শিশুসুলভ হয়। তাদের বেশিকিছু চাওয়া পাওয়া থাকে না। শুধু মনের তৃপ্তি। একটু শান্তির আশ্রয়- এই টুকুই। তাও অনেক ছেলেমেয়ে বৌমাদের দিক থেকে দেওয়ার কৃপণতা থেকে যায়।

স্বর্গ-নরক বলে অন্য কোন জায়গা আছে কিনা জানিনা। এই পৃথিবীটাই স্বর্গ এবং নরক এ পরিনত হয়় নিজের কাজের জন্য। যে রকম কাজ করবেন, তিনি তার ফলাফল এখানেই ভোগ করবেন। ভালো কাজ করলে তার ফল এখানে পাবেন। খারাপ কাজে তার কর্মফল এখানেই সম্পন্ন হবে- এটাই সত্য বলে মানি।

‘পাত পড়লে কলি হাসে’ অথবা ‘ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে’- এই প্রবাদ-প্রবচন গুলো বাস্তবে প্রকৃতই এক বিশাল সত্য এবং সতর্কবাণী প্রকাশ করে। যেসবন্তানেরা যেসব বউমা’রা তার মা-বাবাকে অথবা শ্বশুর-শাশুড়িকে দেখাশোনা করছেন না তাদের গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাদেরকে হাসিখুশি তো দূরের কথা সামান্যতম বাঁচার আশাভরসা সেটুকুও দিচ্ছেন না। আপনাদের এখন মনে হবে ওই বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা আপনাদের বোঝা। আপনাদের সুখ এর পেছনে অন্তরায়। তাহলে জানবেন আপনারা বিশাল মাপের ভুল করছেন। ভুল নয় অন্যায় করছেন। এবং অন্যায়ের শাস্তি অবশ্যই পাবেন। আপনাদের কর্মফল, এই অন্যায়ের শাস্তি এই পৃথিবীতেই পাবেন। প্রকৃতি অন্যায়ের শাস্তি দেবে।

কর্ম ও কর্মফল চক্রাকারে আবর্তিত হয়়। আপনাদের বয়স আছে। এখন হয়ত রক্ত গরম। তাই আপনারা বৃদ্ধ বাবা-মা শ্বশুর-শাশুড়িকে বোঝা ভাবছেন। কিন্তু সময় তো থেমে থাকে না। সময় যায়। চুলে পাক ধরে। চোখে ছানি পড়ে। রক্তের জোর কমে যায়। চামড়া কুঞ্চিত হয়ে। কাজ করার ক্ষমতাও কমে যায়। আপনারাও বৃদ্ধ হবেন। বৃদ্ধ বাবা-মা হবেন। বৃদ্ধ শশুর শাশুড়ি হবেন। আপনাদের সন্তানদের বৌমারা আপনাদের বাড়িতে আসবে। তখন তো আপনার তাদের বোঝা হবেন। আপনারাও তো তাদের সুখের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াবেন। তাই নায় কি? কী ভাবছেন- সত্যি কি আপনাদের সন্তানদের কাছ থেকে আপনাদের বৌমা দের কাছ থেকে সুমধুর আচরণ ব্যবহার পাবেন? আপনাদের কি সেই সুমধুর আচরণ আশা করা উচিত? ঠান্ডা মাথায় একটু ভেবে দেখুন।

কর্মফল মৃত্যুর পরে নয়। কর্মফল এই জীবনেই পাওয়া যায়। যে, যে রকম কর্ম করবে তার ফলাফল সে রকমভাবে পাবে। মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে থাকুন। আপনারাও আপনাদের সন্তানদের কাছ থেকে অথবা বৌমার কাছ থেকে বা যেকোনো মানুষের কাছ থেকে একই আচরণ পাবেন। আপনারা অবহেলিত হবেন। আপনাদেরক আঁস্তাকুড়ের জায়গাটা খুঁজে রাখতে হবে। আপনাদেরকে সে পচা স্যাঁতস্যাঁতে আবদ্ধ ঘরের মেঝেটাকে এখন থেকে চিহ্নিত করে রাখতে হবে। কেননা সেটাই হবে আপনাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল।

শুধু বৃদ্ধ বাবা-মা বা শ্বশুর-শাশুড়ির ক্ষেত্রে নয়়, যেকোনো মানুষের প্রতি যেমন ধরনের আচরণ করবেন, এই জীবনে সেই ধরনের আচরণ আপনি ফিরে পাবেন। এটাই সত্য। সময় থাকতে নিজেদের আচার-আচরণ ব্যবহার সবগুলোই পরিবর্তন করুন। সমাজ সুস্থ-স্বাভাবিক সুমধুর মিষ্টি পরিবেশ তৈরি করুক। যে পরিবেশ সুখে থাকবে। শান্তিতে থাকবে। শীতল বাতাস থাকবে। সুমধুর ইতিহাস তৈরি হবে।

সকলে ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন। বাড়ির মধ্যে সকলকে সুস্থ রাখুন। পারস্পরিক মিলন, ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধায় ভরে উঠুক। এবং সেটা অটুট থাকুক। আশেপাশের মানুষের সঙ্গে সমধুর সম্পর্ক তৈরি হোক। প্রতি ভালোবাসার আদান-প্রদান তৈরি হয়ে উঠুক। সুস্থ ও অদ্বিতীয় সমাজ তৈরি হোক। আশেপাশের অন্যান্য সমস্ত সমাজকে পথ দেখাতে আদর্শ দৃষ্টান্তস্বরূপ।

ধন্যবাদ।

সদ্যজাত সন্তানের প্রতি আচরণ।
কিছু অনভিপ্রেত ও সামাজিক আচরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *