10 Bold Social issues in India in Bengali | ভারতের সামাজিক সমস্যা

social issues in India

বর্তমান ভারতবর্ষের সামাজিক সমস্যাগুলি(Social issues in India) বলে শেষ করা মুশকিল। সকলেই এই সামাজিক সমস্যাগুলো সাথে যথেষ্ট পরিচিত। এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যখনই সমাধানের প্রসঙ্গ আসে গুটিকয় ব্যক্তি ছাড়া সমাধানের মধ্যে এক উদাসীন মনোভাবের আচরণের পরিস্ফুটন লক্ষ্য করা যায়। তাদের বক্তব্য থাকে এগুলো কোনদিন শেষ হবে না। অস্থিমজ্জায় এই সমস্যাগুলি এমনভাবে এঁটে বসেছে, সাধারণ কোনো ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব।

কিন্তু তাই বলে আমরা কি এই সমস্যাগুলোর(Social issues in India) প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা বা প্রশ্ন তুলবো না? প্রসঙ্গ তুলবো না এও প্রায় অসম্ভব। রাস্তাঘাটে, হাটে, বাজারে, দোকানে, মোড়ের মাথায় আমরা তো এ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করি। স্বাস্থ্যকর, অস্বাস্থ্যকর দু ভাবেই প্রসঙ্গ আসে। যদিও স্বাস্থ্যকর বিতর্ক সুশীল সমাজে প্রাসঙ্গিক হওয়া প্রয়োজন। তবুও টেম্পো বা মেজাজ নিয়ন্ত্রণের বাইরে বেরিয়ে কথা-কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি হয় না এমন নয়। পরে নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করে দূরত্ব বজায় রাখি, মানুষের থেকে মানুষে।

আমরা প্রথমে দেখি ভারতবর্ষের সামাজিক সমস্যাগুলে কি? বা কোনো সামাজিক সমস্যা গুলি বেশি আলোচিত হয়।

Lat us see what are the Principle social issues in India? which social issues in India are discussed everywhere?

Major Social Issues in India | ভারতের সামাজিক সমস্যা-

এই সামাজিক সমস্যার কিছু শুধু যে সামাজিক স্তর থেকে তৈরি হয় এবং সামাজিক ভাবেই এই সব সমাধান সম্ভব, তা নয়। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে সমাজে নেমে আসে। এবং সমাজের মধ্যে আষ্টে পৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে। উৎস যেখান থেকে হোক না কেন, সমাজকে যেহেতু প্রভাবিত করে অতএব সবগুলোই সামাজের অন্তর্গত বলে ধরে নেওয়া হবে।

1. Education and Educational System-

প্রথম যে প্রধান সামাজিক সমস্যা সর্বস্তরে আলোচিত তা হলো শিক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা শেষ নেই। বিভিন্ন স্তরের মানুষের বিভিন্ন মতামত থেকে আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করে রেখেছে সেই স্বাধীনতার পর থেকে।

এখানে বলে রাখা প্রয়োজন আমরা সাধারন পাবলিক, সহকারী শিক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থার আলোচনায় প্রাসঙ্গিকতা ধরবো। কেন না বেসরকারি সংস্থা দ্বারা শিক্ষা সমাজের সর্বস্তরে এখনো পর্যন্ত পৌঁছায় নি। সর্বসাধারণের গ্রহণযোগ্য শিক্ষা সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়, সেটাই আমাদের আলোচ্য বিষয়।

মানুষের একটা সাধারন মতামত থাকে- পুরনো শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ছিল, সিলেবাস ভালো ছিল, পাঠক্রম ভালো ছিল। তুলনায় বর্তমান শিক্ষায় নেমে এসেছে এক নৈরাজ্য। প্রকৃত শিক্ষা থেকে সরকার নিজের হাত গুটিয়ে নিয়ে, অতি সাধারন মানের মধ্যে কেবলমাত্র শিক্ষা নামক শব্দটা কে জিইয়ে রাখার সাধারণ প্রক্রিয়াকে চালু রেখেছে দরিদ্রদের মধ্যে। কারণ সাধারণ শিক্ষা বলতে সরকারি শিক্ষাকে বোঝানো হয় এবং সরকারী শিক্ষা কেবল দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েদের কথা ভেবে এখনো চালু রাখা আছে।

কেননা মধ্যবিত্ত উচ্চবিত্তরা এখন আর সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতি আর আস্থা রাখতে পারছে না। স্কুল শিক্ষায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এখন রমরমিয়ে তার শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত করেছে। ভারতবর্ষের শহর থেকে গ্রামে গঞ্জে।

কি ধরনের শিক্ষা চলছে, সরকারি, না বেসরকারি, প্রশাসন ব্যবস্থা, পরিকাঠামো শিক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান আলোচ্য বিষয়।

শিক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার উভয়ের তালিকাভুক্ত। তাই কখনো কখনো কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের সমালোচনা আমাদের আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

2. Health Service-

পরের প্রাসঙ্গিক সামাজিক সমস্যা আলোচনা বিষয় হলো- স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়। Next discussion social issues in India is health and health Service Department. এর মধ্যে পড়ে মূলত হাসপাতাল। আমরা মূলত সরকারি হাসপাতালে প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনার কথাই বলবো।

মূলত মহানগরগুলির সরকারি হাসপাতালগুলি বাদ দিলে শহরের সরকারি হাসপাতাল প্রসঙ্গ, যেখানে রোগী ভর্তি, চিকিৎসা, কোন কোন রোগের চিকিৎসা, ইনডোর, আউটডোর ছবি আলোচনায় উঠে আসে।

140 কোটি জনগণের একটি দেশ, কত লোকের প্রতিদিন রোগে আক্রান্ত হন, তার পরিসংখ্যা এবং কোন ধরনের রোগ রোগে আক্রান্ত হন, সেই হিসাব অনুযায়ী কোথায় কোন ধরনের পরিষেবা যুক্ত হাসপাতাল থাকা জরুরি- এ প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাবার নয়।

তাছাড়া তুলনামূলক আলোচনার ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে সাথে বেসরকারি এবং ভারতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার সাথে বিদেশি স্বাস্থ্যপরিসেবার প্রসঙ্গও আসে।

3. Employment issues-

আরেক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা হল রোজগারের সমস্যা। Employment problem is another social issues in India. This problem controls the economic condition of the citizen as well as the country.

শিক্ষা সম্পন্ন করার পর যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান কেবলমাত্র ক্ষুদ্র স্বার্থসিদ্ধি নয় বরং সমগ্র দেশের আয়, সম্পদ, বিদেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপন, মর্যাদা কে নিয়ন্ত্রণ করে।

কর্মসংস্থানে আলোচনার মধ্যে কর্মক্ষেত্রের সংকোচন, অনিযুক্তি, বেকারত্ব, উৎপাদন বন্ধ, শ্রমিক স্বার্থবিরোধী প্রসঙ্গ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্যভাবে স্থান পায়।

তাছাড়া আছে বেতন কাঠামো, বেতন কাঠামোর অসামঞ্জস্য। বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মীর মধ্যে যেমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ, তেমনি বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে বেতন পার্থক্য চোখে পড়ার মতো।

রোজগারের সংস্থাগুলি প্রসঙ্গ এলে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাও আলোচ্য বিষয় হয়ে পড়ে। কারও কাছে সরকারি চাকরি কারো কাছে বেসরকারি কর্পোরেট চাকরি- এসবই পড়াশোনা, বেড়ে ওঠা ও পরিবেশ নির্ভরশীল জীবনবোধ।

4. Rationing System-

পরবর্তী এক সর্বসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হল রেশনিং সিস্টেম। আমাদের এক্ষনে যে খাদ্য সংক্রান্ত প্রসঙ্গ, তার কেবল সরকারি খাদ্য পরিষেবার কথাই বলবো। আর এ বিষয়ে ভারতবর্ষের আপামর জনসাধারণ এই পরিষেবায় ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ কিছু মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণী ছাড়া উচ্চমধ্যবিত্ত, উচ্চ শ্রেণীর লোকেরা এই পরিষেবা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে। এ প্রসঙ্গে আসে আত্মমর্যাদা, স্ট্যাটাস ইত্যাদি নানান রকম বিষয়।

রেশন ব্যবস্থায় যে সমস্ত দ্রব্য সামগ্রী বিতরণ হয় তার গুণগতমান, পরিমাপ ইত্যাদিও সর্বসাধারণের মনে উদয় হয়।

বর্তমান সমসাময়িক প্যানডেমিক এবং তার জন্য লকডাউনের ফলে রেশনিং সিস্টেমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে কেন্দ্র এবং রাজ্য যৌথভাবে বিনামূল্যে চাল ডাল ইত্যাদি বিলি ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবং এই পরিষেবা অতি সাধারন থেকে সাধারণ মানুষের বেশ কাজে লাগছে। যেহেতু কর্মসংস্থান নেই, রোজগার নেই তাই অন্তত চালডাল জীবনধারণের ন্যূনতম যোগান সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।

5. Rising in Price of Essential Commodity-

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিও এক উল্লেখযোগ্য এবং বেশ গুরুত্বপূর্ণ। Rising in price is one of the most social issues in India.

দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে কেবল বিব্রত নয়, মানসিক অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়। একদিকে কর্মহীনতা, পারিশ্রমিকের সমস্যা অন্যদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সমস্যা জনসাধারণের জীবন যাপনে এক অন্ধকার ছায়াবৃত্ত করে রাখে।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির নিয়ন্ত্রণের জন্য করণীয় কর্মসূচি ও তার প্রয়োগ, ব্যর্থতা জনসাধারণের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যায় না, ঠিকই কিন্তু সেরকম ভাবে জনমত নির্বিশেষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিবাদ, আন্দোলন কেবলমাত্র বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ারের বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

Although there are many social issues in India, but those are Bold social issues in India.

উপরিউক্ত সমস্যাগুলি প্রধান যে সমস্ত সমস্যা বর্তমান ভারতবর্ষে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত তার শীর্ষে রয়েছে।

এই প্রক্রিয়া গুলির সরকার দ্বারা প্রয়োগ ও নিয়ন্ত্রিত হয়. সর্বসাধারণের মধ্যে পরিষেবাগুলি সরকারী স্তর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ব্যাপ্ত এবং তা সামাজিক স্তরকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এই পরিষেবাগুলির উপরে নির্ভর করে সমাজ কিভাবে, কতদূর তার কার্যাবলী বিকশিত করতে পারে।

আরো অন্যান্য নানান ধরনের সামাজিক সমস্যা বিভিন্ন সমাজ ও জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর সামাজিক সমস্যা অন্য গোষ্ঠীকে কখনো প্রভাবিত করে আবার কখনো প্রভাবিত করে না।

এবার আরও কিছু সামাজিক সমস্যার কথা বলব যেগুলো নিয়ম সমাজের সর্বস্তরের মানুষ বেশ বিচলিত এবং আতঙ্কিত। আসুন দেখা যাক সে সমস্ত সমস্যা গুলির দিকে একটু লক্ষ্য রাখি।

6. Insecurity of Women-

সমাজের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে মহিলাদের নিরাপত্তাহীনতা। গৃহ(domestic Insecurity of Women) নিরাপত্তাহীনতা থেকে বহির্জগতের মহিলা নিরাপত্তা আমাদের সমাজের অন্ধকার নিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক প্রশাসক থেকে সরকারি প্রশাসকরা এক একটা সমস্যা আসার পরই নড়েচড়ে বসেন। যথারীতি তারপর পুনরায় সব চুপচাপ।

কিছু সমস্যা ফিরে ফিরে আসে চক্রাকারে। পরিবার থেকে পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয় সামাজিক নরপিশাচের আক্রমণে। এবং কেউ শাস্তি পায়, কেউবা ফাঁকফোকর দিয়ে গলে যায় অর্থের জোরে বা রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োগ। 

এ সমস্যা থেকে মুক্তির আশায় মানুষ অপেক্ষায় আছে নতুন সূর্যোদয়ের ভোরের।

7. Gender Problem-

সমাজে পুরুষ নারী সমান অধিকার নিয়ে বিভিন্ন NGO ও সমাজকর্মী বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করলেও এখনো লিঙ্গ বৈষম্য সমস্যা ভারতের বেশ জটিল। সমস্যা সমাজের পরতে পরতে মরিচার মতো এক কঠিন পর্দার আচ্ছাদন ফেলে রেখেছে। উচ্চ মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্তদের মধ্যে সামান্য কম হলেও নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্তদের মধ্যে এখনও বিদ্যমান।

কারণ হিসেবে বলা যায় স্বনির্ভরতা ও আর্থিক স্বাধীনতা নারীর অসমান অধিকার অনেকাংশে মর্যাদা পেয়েছে। নিম্নবিত্ত সামাজিক পরিবারের এখনো কর্মে নিযুক্ত হওয়ার সুযোগ থেকে অনেকাংশে পিছিয়ে। নির্ভরশীল জনসংখ্যার মধ্যে নারীরা বিবেচিত হয়। ফলস্বরূপ লিঙ্গবৈষম্যের প্রকোপ ও নারী পুরুষ সমান অধিকার দুর অস্ত্।

এ প্রসঙ্গে বলা আবশ্যক ‘স্বনির্ভর প্রকল্প'(Self-help Group) গ্রামীণ মহিলাদের কিছুটা হলেও রোজগারের পথ অনেকখানি শক্তি ও স্বচ্ছতা দিয়েছে।

8. Corruption Problem-

আমলাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি কার্য পরিচালনার পদ্ধতিগত ত্রুটি এবং তারসাথে করাপশন(Corruption Problem) এক সখ্যতা সূত্রে আবদ্ধ। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথকে স্বল্প সময়ের পরিবর্তনের এক উল্লেখযোগ্য পন্থা হলো উৎকোচ প্রদান। এই পদ্ধতি দুই প্রান্তের পক্ষকে এক সমাধান কেন্দ্রে এনে দাঁড় করিয়েছে। এবং উৎকোচ পদ্ধতি এক নিশ্চিত এবং সরকারী পদ্ধতি হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের সামনে।

যাদের উৎকোচ দেবার সামর্থ্য আছে, তার কার্যসিদ্ধি শীঘ্র সমাধানের সবুজ বাতি জ্বলে। অন্যথায় লালবাতি কখনোই নেবে না।

অন্যদিকে প্রশাসনিক আমলারাও অলিখিতভাবে সরকারি নিয়মের দোহাই দিয়ে জনগণের সমস্যাকে জিইয়ে রাখার এক আপ্রাণ প্রয়াসকে আঁকড়ে ধরে রাখে। কখনো ইচ্ছাকৃত, কখনোবা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বা রাজনৈতিক মদদপুষ্ট নেতা-নেত্রী বা প্রতিশোধস্পৃহাও উৎকোচ পদ্ধতি বহাল তবিয়তে কলেবর বৃদ্ধি করে যাচ্ছে।

অন্যদিকে সরকারি বেসরকারি কর্মসংস্থানের আশায় বেকার যুবক যুবতীরাদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করা এক পদ্ধতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 চাকরির যোগ্যতা পরীক্ষার সমস্ত বাধা অতিক্রম করলেও, শেষ পদ্ধতি উৎকোচ পাঁচিল না পার করলে সমস্ত চেষ্টাই বৃথা।

ভ্রষ্টাচার(Corruption) কেমল ঘুষ বা উৎকোচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সাথে আছে স্বজনপোষণ(Nepotism) বেনিয়মে টেন্ডার পাস, নির্দোষ ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান, দোষীদের মুক্তি ইত্যাদি নানান সমস্যা। এসবই হয় আর্থিক সহায়তা অথবা অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ চরিতার্থ সাধনের জন্য।

9. Overpopulation-

জনসংখ্যাও আমাদের সামনে এক বিরাট সমস্যা। oOverpopulation is also a large social issues in India.

সম্পদ সৃষ্টির মূল তিনটি বিষয়- প্রকৃতি, মানুষ এবং প্রযুক্তি বা জ্ঞান। তিনটি উপাদানের একটি অনুপস্থিতিতে সম্পদ সৃষ্টির ব্যাহত হবে। তাই মানুষকে সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু সম্পদের সংজ্ঞায় বলা হয়- যে সমস্ত বস্তু বা পদার্থের উপযোগিতা আছে, গ্রহণযোগ্যতা আছে, যার প্রতি চাহিদা উদ্রেক হয়, তাই হল সম্পদ।

এখন জনসংখ্যা থেকে যদি কোনো উপযোগিতাবা  কার্যকারিতা বা চাহিদা সৃষ্টি না হয়, তাহলে তাকেও সম্পদ বলবো না। অর্থাৎ সম্পদ সৃষ্টিতে সমস্ত মানুষের যোগ্দান না থাকলে,  অযোগদানকারী মানুষেরা কেবলই নিরপেক্ষ বস্তুতে পরিণত হয়। তারা কেবল নির্ভরশীল জনসংখ্যা হিসেবে বিবেচিত। ফলস্বরূপ দেশের মাথাপিছু গড় আয় কম হতে বাধ্য।

সুতরাং সেই দেশের গণ্ডির মধ্যে উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে সম্পদ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় মানুষের অনুপাত এর ফলে যে মানুষ জমি অনুপাত, তার সর্বাধিক প্রয়োগ হওয়া বাঞ্ছনীয়। কার্যকরী জমি কম, জনসংখ্যা বেশি হলে সম্পদ সৃষ্টির চূড়ান্তভাবে সম্ভব নয়। ফলে জনাধিক্য করতে বাধ্য, যা সেই দেশের আর্থিক উন্নয়নে বাধা স্বরূপ। এও ভারতীয় সমাজে এক বিরাট সমস্যা। এজন্য দুটি বিষয়ের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। হয় কার্যকরী জমির পরিমাণ বৃদ্ধি নতুবা জন্ম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা হ্রাসের পরিকল্পনা করা।

10. Racing Problem-

প্রাচীন আর্য সমাজের সৃষ্ট ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র এই বর্ণভেদ বর্তমানে কিছুটা হলেও কমেছে। কমেছে বলতে আর্য সমাজ যেভাবে এর রূপ প্রকট ছিল, তার চিত্র দেখা যায় না ঠিকই। কিন্তু সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে এটা বলা যাবে না। কেননা এখনও আমাদের সমাজে বর্ণ বৈষম্য বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে আছে।

ব্রাহ্মণদের মধ্যে সামাজিক মর্যাদা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ব্রাহ্মন-শুদ্র, বৈশ্য-শূদ্রদের মধ্যে ভেদাভেদ বর্তমানে অনেকাংশে আর্থিক বৈষম্যের কারণে হয়ে থাকে। শুদ্রদের মধ্যে আর্থিক সচ্ছলতা তাদের সামাজিক ভাবে মর্যাদা বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়দের মধ্যে আর্থিক অনটন ও সামাজিকভাবে অমর্যাদার গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে।

অন্যদিকে এই বৈষম্য স্থান-কাল-পাত্রভেদে কম বেশি পরিলক্ষিত হয়। শিক্ষার দ্বারা মানবিক উৎকর্ষতা এই বৈষম্য দূরীভুত করলেও, রোহিত ভেমুলা বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে শুদ্র হওয়ার কারণে নিহত হতে হয় আজও। আমরা ভুলে যাই বাবাসাহেব আম্বেদকরের কথা। তিনি শূদ্র হয়েও পৃথিবীর বৃহত্তম সংবিধান রচয়িতা। সেই সংবিধানে আমাদের সকল জাতিকে মেনে চলতে হয়। আবার পরক্ষণেই বাউরি বাগদী শিরোনামের ব্যক্তিদের ঘৃনার চোখে দেখি। এ দ্বিচারিতা চরিত্র নিয়ে আমরা শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে ভারতে বসবাস করছি।

Conclusion-

আমাদের আশা ভবিষ্যতে আমরা আরো উৎকর্ষতার দিকে যাবো। জাতিবিদ্বেষ, অর্থনৈতিক পার্থক্য, শিক্ষায় সমান অধিকার, স্বাস্থ্য ইত্যাদি সামাজিক সমস্যা(Social issues and problems) গুলো দূরে সরিয়ে এক সাধারণ সমানাধিকারের সুশীল সমাজের মুখ দেখবো। আজ থেকে শুরু হোক পথ চলা। এ সংকল্প গ্রহণ করি- সকলেই সুস্থ স্বাভাবিক সচ্ছল জীবনযাপনের মধ্যে অতিবাহনের এক জ্যোতির্ময় সমাজ গঠনের। ধন্যবাদ।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.