Second Marriage in India

Second Marriage in India till 2021 in Bengali | Widow Remarriage- a great positive issue | বিধবা বিবাহ

ভারতে দ্বিতীয় বিবাহ(Second Marriage in India) খুব একটা সুদৃষ্টিতে দেখা হয় না। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য দ্বিতীয় বিবাহ(Second Marriage for Girl) তো মনের মধ্যে একেবারেই আনা হয় না। সমস্ত বাধা পেরিয়ে যদিও দ্বিতীয়বার বিবাহ দেওয়া হয়, সেই দ্বিতীয় বিবাহ মহিলাকে(Second Marriage Girl) সুনজরে দেখার অভ্যাস আমাদের নেই, তা সে ডিভোর্সি হোক আর বিধবা হোক। ডিভোর্সি ক্ষেত্রে তিনি যদি স্বাবলম্বী হন, তাহলে দ্বিতীয়বার বিয়ের কথা হয়তো ভাবেন। কিন্ত বিধবা বিবাহ(Widow Remarriage) আমাদের সমাজ কতটা মেনে নিতে পেরেছে? আইন যতই থাকুক, সামাজিক বৈধতা এখনো পর্যন্ত সেই তিমিরেই।

সমাজে একটি পরিবারে মেয়ে জন্ম হওয়াটা কেউ ভালো ভাবে নেয় না। ছেলে হলে পরিবার খুশির সীমা থাকে না। আর মেয়ে হলে সবার মুখের হাসি কোথায় চলে যায়। মেয়ে যত বড় হয় বাবা-মা’র যেন গলার কাঁটা হয়ে ওঠে। বিয়ে দিয়ে বিদায় করলে তারা বাঁচে।

মহিলাদের দ্বিতীয় বিবাহ (Second Marriage for Girl)-

কমলার এমনই দশা, বয়স হতে না হতেই কমলার বিয়ে দিয়ে দিল তার বাবা-মা। বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতে কমলা মা হল। বাড়িতে খুশির জোয়ার। কিন্তু হঠাৎ এক দুর্ঘটনায় মারা গেল কমলার স্বামী। শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার কোন দায়িত্ব নিতে চায় না। অগত্যা কমলাকে ছেলের হাত ধরে ভাইয়ের সংসারে ঢুকতে হলো।

সবে কমলার 20 বছর বয়স। সারা জীবন পড়ে আছে। কিন্তু কমলার বাবা-মা এ বিষয়ে কোনো চিন্তা নেই। যদি বেঁচে থাকতে কমলার বাবা-মা তার আবার বিয়ে দিয়ে নতুন জীবন ও সংসার দিয়ে যেত আজ তার এই দুর্গতি হতো না। ছেলে নিয়ে, দিনরাত ভাই আর ভাইয়ের বউয়ের গালাগাল খেয়ে  সংসারের খেটে খেটে দিন কাটছে তার। কিন্তু মেয়ের জন্য দ্বিতীয় বিবাহ(Second Marriage for Girl) নিয়ে কারোর মুখে কোন কথাই নেই। উৎসাহ তো দূরের কথা।

মিতার গ্র্যাজুয়েশন শেষ হবার পর তার বাবা ছেলে দেখা শুরু করে। মিতারা দু বোন। দুজন প্রায় দু বছরের ছোট-বড়। বাবা চায় মিতার বিয়ে তাড়াতাড়ি দিতে। এরপর যে তার বোন আছে তাকেও তো পার করতে হবে। মিতা সুন্দরী ছিল, তাই বেশি দেখাশোনা করা দরকার হয়নি। বাড়ি থেকে 6 কিলোমিটার দূরে মিতার বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। মিতার স্বামীর একটা স্টেশনারি দোকান আছে। কিন্তু হায়রে ভাগ্য হৃদরোগে মৃত্যু হয় তার স্বামীর। তখন মিতা অন্তঃসত্ত্বা। শ্বশুর, শ্বাশুড়ি, ভাসুর, জায়েরা তার পাশে দাঁড়ালো না। মিতা বাবা-মায়ের সাহায্যে শারীরিক ও মানসিক ক্ষত বিক্ষত অবস্থা অনেক টানাপোড়েন পেরিয়ে আসার চেষ্টা করে। জন্মদিল ছেলের। এরপর মিতা ধীরে ধীরে স্বামীর দোকান চালাতে শুরু করলো শিশুকে নিয়ে।

একটু একটু করে দোকানটা মিতা বড় করেছে। বাবা-মায়ের সাহায্য, ছেলেকেও তার সাথে পড়াশোনা করাচ্ছে। তার বাবা-মা একটু চেষ্টা করলে মিতা ও তার ছেলে জীবনটা বদলে যেতে পারতো। মিতার আবার বিয়ে দিয়ে তাকে নতুন জীবন দেওয়া কঠিন কাজ ছিল কী?।

মিতা তো মাত্র সাত মাস স্বামীর সাথে সংসার করেছে। তার চাওয়া পাওয়া সব অসমাপ্ত থেকে গেছে। স্বামীর প্রতি ভালোবাসা বা তার স্মৃতিকে নিয়ে বেঁচে থাকার জায়গাটাও মিতার তৈরি হয়নি।

আজ তার স্বামীর সাথে কাটানো দিনগুলো ভালো করে মনে পড়ে না। সবে ত্রিশ বছর বয়স। একা পথ চলা খুব কঠিন। একজনকে প্রয়োজন হয়।                

 জীবনে ভালো লাগার জায়গাটা থেকেই যায়। সেই জায়গাটা একদম ফাঁকা। তাছাড়া মানসিক চাহিদা বা শারীরিক চাহিদাও তো থাকে। এই বয়সে যেটা স্বাভাবিক। এবং সেটা তো সহজাত। বিধবা নামটা নিয়ে এইসব জীবনকে কেন বেঁচে থাকবে? কিন্তু ভারতীয় সমাজ বিধবা বিবাহ(Widow Remarriage) ও মহিলাদের দ্বিতীয় বিবাহকে(Girls’ Second Marriage in India) কোনো দিনও স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেনে নেয়নি।

Widow Remarriage from the time of Vidyasagar-

বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বিধবার পুনঃবিবাহ(Widow Remarriage) সম্পর্কে কম-বেশি সবাই কিছু না কিছু জানেন। সমাজ সংস্কার করতে বিধবা বিবাহ(Widow Remarriage) প্রচলন করতে বিদ্যাসাগর মহাশয়কে কতই না সংগ্রাম করতে হয়েছিল। পুরো সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে আইন প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তার অবদানকে আমরা প্রণাম করি। কিন্তু সেই আইন বা সেই আইনের প্রচলনকে সমাজের স্রোতের সঙ্গে মেলাতে দ্বিধাবোধ করি। এ আমাদের দ্বিমুখী ভন্ডামি আচরণ।

যদিও কুলীন ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় বর্তমান স্ত্রীর বেঁচে থাকা অবস্থাতেই শুধু একবার নয় বহুবার, অন্তত দ্বিতীয় বিবাহ(many at least second marriage in India) করতে পারতেন। শুধু পারতেন নয় করতেন। ভারতবর্ষে কুলীন ব্রাহ্মণ সমাজের মধ্যে তাই দ্বিতীয় বিবাহ(second marriage in India) এমন কোন গর্হিত কাজ ছিল না। যদিও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে স্ত্রী বা স্বামী বেঁচে থাকা অবস্থাতে দ্বিতীয়বার বিবাহ অনেকেরই দৃষ্টিকটু বিষয় ছিল। তথাপি ভারতীয় কুলীন থেকে অন্যান্য সম্প্রদায়ের পুরুষদের মধ্যে দ্বিতীয় বিবাহ দীর্ঘকালীন পুরনো প্রথা হিসেবে বিবেচ্য ছিল।

Some Family things regarding Second Marriage for girl-

সেই হিসেবে সমাজে কোথাও না কোথাও বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে সংকীর্ণতা রয়েই গেছে। খুব কম পরিবার আছে, বলতে গেলে গোনাগুনতি পরিবার, যারা বিধবা মেয়ে বা বিধবা বৌমা দের কথা ভেবে তাদের নতুন পরিবার খোঁজার প্রয়াস চালায়। তবে এগুলো ব্যতিক্রমী উদাহরণ। সমাজের সামগ্রিক চিত্র হিসাবে গণ্য করা হয় না বা যায়ও না।

বিধবা বৌমা নতুন পরিবারের খোঁজে নুপুরের শ্বশুর শ্বাশুড়ি ভাসুর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। নুপুরের অন্যদের মতো অর্থাৎ কমলার আর মিতার মতো অবস্থা। বিয়ের এক বছর যেতে না যেতেই স্বামী কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। শুধু একটু আলাদা হলো নুপুরের শ্বশুড়বাড়ির পরিবার চায়না মেয়েটা সারা জীবন বিধবার জীবন কাটায়। তাই তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আবার নতুন পরিবার দিল নুপুরকে।

Position of Second Marriage Girl in Society-

তবে নুপুরকে নতুন পরিবার দেবার জন্য নুপুরের শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে গ্রামের পাড়া-প্রতিবেশীর কাছ থেকে অনেক হেনস্থা সহ্য করতে হয়েছিল। শুধু তাই নয় নুপুরকেও দ্বিতীয় বিবাহ মহিলা(Second Marriage Girl) হিসাবে কম হেনস্থা সহ্য করতে হয়নি।

বিদ্যাসাগর যে উদারতা দেখিয়ে বিধবাদের নতুন জীবন দান করার প্রয়াস চালিয়ে সফল হয়েছিলেন। এবং বিধবা বিবাহ আইন(Widow Remarriage Act) অত স্বীকৃত। তবুও এত বছর পরেও মানুষের মনে সংকীর্ণতা পুরোপুরি পাল্টায়নি। সবাই ঈশ্বরচন্দ্রের কথা ও তার সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কথা পড়েন, শোনেন, কিন্তু তার প্রয়োগের ইচ্ছা খুব কম। সমাজ মননের এক প্রবল শক্তিশালী কুধারণা মনের মধ্যে গেঁথে আছে। সেই সূূত্রে দ্বিতীয়বার বিবাহিত মহিলা(Second marriage girl) সম্বন্ধে আমাদের ধারণা ধনাত্মক নয়।

Negative thoughts of Second Marriage In India about a Girl-

সত্যি কি আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষ সচেতন হবে না? গ্রামগুলি তথা শহরে বসবাসকারী প্রত্যেকটা মানুষের মনের সংকীর্ণতা দূর হবে না? দুনিয়া এত দ্রুত গতিতে চলছে, তবুও মানুষের মনের কোনের ভেতরে সংস্কার গুলি ঘাপটি মেরে বসে আছে।

ঠিক এ ধরনের ঘটনায় যদি কোন এক পুরুষের ক্ষেত্রে ঘটে সেক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টি কিন্তু বাঁকা হয় না। আমরা সহজেই মেনে নি। প্রয়োজন বা প্রয়োজন কোন কিছুর দিকে না তাকিয়ে এক বাক্যেই সমাজ সেটাকে মান্যতা দেয়। অথচ একজন মহিলার ক্ষেত্রে এই ধারণা 180° ঘুরে গিয়ে সমাজ সেই মহিলাকে ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখে অথবা ভর্ৎসনা করে।

অবশ্য যে মহিলা দ্বিতীয়বার বিয়ের ব্যাপারে আলোচনা, তার মতামত সর্বাগ্ৰে প্রাধান্য পাওয়া উচিত। জোর করে আমাদের চিন্তা ভাবনা তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনমতেই উচিত নয়। বরং ভবিষ্যৎ ভালো-মন্দের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তার উপর সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়া উচিত।

 প্রশ্ন আসুক হিত-অহিত নিয়ে। কোন ধরনের সিদ্ধান্ত বা প্রয়োগ সার্বিক ক্ষতি করবে বা করছে- এ বিষয়ে। প্রশ্ন আসুক সেই সিদ্ধান্ত আর প্রয়োগের উপর। সম্পত্তি  আর্থিক ক্ষতি, বস্তু সম্পদের ক্ষতি দেখা অত্যন্ত জরুরী। অন্যদিকে কারো জীবন সুখ সমৃদ্ধি শান্তিতে ভরে উঠলে আমাদেরও মানসিক  শান্তিতে আনন্দিত হতে বাধা কোথায়?

A Revolution of Second Marriage in India coming soon-

বর্তমানে অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও দ্বিতীয়বার বিবাহের(Second Marriage in India) জন্য বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক পেইজ, গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেক ওয়েবসাইট চালু হয়েছে। যে সাইটে গিয়ে অনেকেই দ্বিতীয়বার বিবাহের জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করান। যদিও শহরের দিকে এর ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশা করা যায় আগামী দিনে গ্রামের মানুষজনরাও দ্বিতীয় বার বিবাহের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করবেন। তখন হয়তো এই সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটগুলি বা ওয়েবসাইটগুলি সদ্ব্যবহার করবেন। এবং ভারতে দ্বিতীয় বিবাহের শুধু পুরুষ নয় মহিলাদের মধ্যেও বিপ্লব আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সবার মনের সংকীর্ণতা দূর হোক, আমাদের সমাজ উন্নত হোক- এই শুভ কামনা। ধন্যবাদ।

সদ্যোজাত শিশুর প্রতি অবমাননা।‌‌‌‌‌‌‌‌
বয়স্ক মা বাবার প্রতি আচরণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *