Problem of Migrant Workers

Problem of Migrant Workers in Bengali | কোভিড- 19-এ পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা

ভূমিকা – 

ভারতে  পরিযায়ী শ্রমিক এই বিষয়টি কোভিড-১৯(COVID-19) মহামারী সময় থেকে অনেক বেশি চর্চিত হতে থাকে। এই মহামারিতে তারা অনেক সমস্যায় পড়েছেন । আজ পরিযায়ী শ্ররমিকদের সমস্যা(Problem of Migrant Workers)। প্রায় ১০কোটির বেশি শ্রমিক পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে পরিচিত, তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ পুরুষ।

পরিযায়ী’র সংজ্ঞা | Definition of Migration-

Migration বা পরিযান হলো স্বল্প সময়ের বা দীর্ঘ সময়ের জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন। Migration বা পরিযান বিভিন্ন ধরনের হতে পারে-

  • (১)আইনত পরিযান
  • (২)বেআইনি পরিযান,
  • (৩)অনিয়মিত পরিযান,
  • (৪))শরনার্থী বা রিফিউজি এবং
  • (৫)শ্রমিক পরিযান।

এখানে আমরা শুধু শ্রমিক পরিযান বা পরিযায়ী শ্রমিক সম্বন্ধে আলোচনা করব।

অভ্যন্তরীণ পরিযান দুই ধরনের  (১)আন্তঃরাজ্য পরিযান ও(২) আন্তঃরাজ্য পরিযান।

(১)অন্ত:রাজ্য পরিযান বা INTER STATE MIGRATION-

একই রাজ্যের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিযান হল অন্ত:রাজ্য পরিযান।এই ধরনের পরিযান সবথেকে বেশি দেখা যায়। 

(২)আন্তঃরাজ্য পরিযান বা INTRA STATE MIGRATION –

যখন শ্রমিকরা  এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পরিযান করে তখন সেটি হল আন্তঃরাজ্য পরিযান।এই ধরনের পরিযান কম দেখা যায় অন্তঃরাজ্য পরিযানের থেকে কারণ এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যের দূরত্ব বেশি।আন্তঃরাজ্য পরিযান বেশি দেখা যায় দুটি রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায়।

শ্রমিকদের পরিযায়ী হওয়ার  কারণ | REASONS FOR BEING MIGRATION-

(১)কাজের অভাব –

মানুষ নিজেদের বাসস্থানের কাছাকাছি যখন কাজ পায়না তখন তারা অন্য স্থানে কাজের খোঁজে পরিযান করেন।

(২)কাজের সুযোগ –

অন্য স্থানে ভালো কাজের সুযোগও মানুষ পরিযায়ী হয়। কিছু মানুষ তাদের স্থানীয় কাজে সন্তুষ্ট হয় না তাই তারা তার থেকে ভালো কাজ করতে অন্য স্থানে গমন করে।

(৩)বেশি আয় –

শহরাঞ্চল ও অন্যান্য রাজ্যে শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বেশি হওয়ায় শ্রমিকরা পরিযায়ী হয়।আমরা সবাই জানি গ্রামের তুলনায় শহুরে পারিশ্রমিক বেশি তাই শ্রমিকরা বেশি আয়ের খোঁজে পরিযায়ী হয় ।

(৪)ভালো স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পরিষেবার জন্য –

মানুষ ভালো শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে চায় তাই অনেক মানুষ ভাল স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিষেবা পাওয়ার জন্য অন্য স্থানে গমন করে। লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে বড় বড় হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আসে পাশে অনেক মানুষ বাস  করে ও  ভাড়া থাকেন।

কোভিড-১৯ মহামারীতে পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা | Problem of Migrant Workers in COVID-19

(১)হঠাৎ কাজ হাতছাড়া –

এই মহামারীর অবস্থায় যখন প্রথম লকডাউন চালু হয় তখন পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় সকল পরিযায়ী শ্রমিক অস্থায়ী ভিত্তিক কাজে নিযুক্ত থাকায় তাদের কোন বেতন দেওয়া হয় না লকডাউন এর সময়। লকডাউন যখন শিথিল তখনও অনেককে আর কাজে যোগ দিতে দেওয়া হয় না যাকে কর্পোরেট জগতে কর্মী ছাঁটাই বলে।

(২)বেশিরভাগ শ্রমিকদেরই উপযুক্ত বাসস্থানের অভাব-

পরিযায়ী শ্রমিকদের বিশাল অংশ অস্থায়ী হয় তাই তারা ভাড়া বাড়িতে থাকে সেখানে তারা একই রুমে অনেকজন থাকে। এই সমস্ত শ্রমিকদের নিজস্ব বাসস্থান না থাকায় অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

(৩)খারাপ জীবনযাপনের অবস্থা –

পরিচয় শ্রমিকরা বেশি আয়ের  উদ্দেশ্যে শহরাঞ্চলে  থাকে,কিন্তু সেখানে জিনিস পত্রের দাম বেশি হওয়ায় তারা কম খরচে থাকার চেষ্টা করে। তারা একটা রুমে অনেক জন একসাথে থাকে এবং রান্নাও একসাথে করে, সাধারণ ভাত খেয়ে তারা জীবন কাটিয়েছে। অনেক সময় তারা নোংরা জায়গায় থাকতে বাধ্য হয়েছে। শৌচালয়ের সঠিক ব্যবস্থা তারা পায়নি। পরিশুদ্ধ জলও  তারা পায়নি।

(৪)পুলিশ ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের দ্বারা হয়রানি –

বেশিরভাগ পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে অনেক সময় সঠিক কাগজপত্র থাকেনা তাই তাদের অনেক হয়রানির মুখে পড়তে হয়। আমরা দেখেছি লকডাউন এর সময় শ্রমিকরা যখন বাড়ি ফিরতে চাইছিল তখন তাদেরকে পুলিশ লাঠিপেটা করেছিল। পরিযায়ী শ্রমিকদের কিছু অংশ রাজমিস্ত্রির সঙ্গে লেবার বা কোন দোকানের সাফাই কর্মী হিসেবে কাজ করে,তাদের কাছে ওখানে কাজ করার কোন প্রমাণ না থাকায় অনেক কর্মকর্তা তাদের harrass বা হয়রানি করে। 

(৫)একাকীত্ব জনিত বিষন্নতা –

পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেদের পরিবার ছেড়ে অন্য জায়গায় বাস করে। তারা সেখানে অনেক লোকের সাথে মিশলে পরিবারের জায়গা কেউ মেটাতে পারে না। তারা সেখানে নিজেদের একাকীত্ব অনুভব করে এবং তা অনেক সময় বিষন্নতা সৃষ্টি করেছে। কিছু পরিযায়ী শ্রমিকদের আত্মহত্যার খবর আমরা পেয়েছি।

আরো পড়ুন- শিশুশ্রম বিরোধী দিবস

উপসংহার (CONCLUSION) – 

পরিযায়ী শ্রমিকরা প্রথম লকডাউনের চরম সমস্যায় পড়ে তার অনেক কারণ আছে কিন্তু সবথেকে বড় কারণ হল – কোন আগাম নোটিশ ছাড়াই লকডাউন ঘোষণা। সরকার অন্তত পাঁচ থেকে সাত দিন আগে আগাম নোটিশ জারি করলে পরিযায়ী শ্রমিকরা এতটা সমস্যায় পড়তো না। সরকার নাগরিকদের নিজেদের বাসস্থানের কাছাকাছি কাজ দিতে পারেনি তাই তারা পরিযায়ী শ্রমিকে পরিণত হয় এবং তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়।

সরকারের কাছ থেকে আশা, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে পরিযায়ী শ্রমিকদের যাতে সমস্যায় না পড়তে হয় অথবা পরিযায়ী না’হতে হয় সেদিকে নজর দেওয়া।

Mehatory Shashwata

Hi, I am Shashwata Mehatory. I am Student of MSW, like to write something about Social issues and Problems of West Bengal as well as India also.

View all posts by Mehatory Shashwata →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *