National Children's Day 2021

National Children’s Day 2021 in Bengali | জাতীয় শিশু দিবস

জাতীয় শিশু দিবস 2021(National Children’s Day 2021) ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র ঠিক নয় মাস পর সারা ভারতবর্ষজুড়ে মহাসমারোহে পালিত হয়। ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র সাথে শিশু দিবসের কোন মিল আছে কি’না আমার জানা নেই। একটা নিছকই সময়ের এক গাণিতিক হিসাব মাত্শির। শিশুর দিবসে(Children’s Day) শিশুর প্রতি গুরুত্বারোপের এক অভূতপূর্ব দিবস উদযাপন। বছরের প্রতিটি দিনই কিছু-না-কিছু দিবস বা অনুষ্ঠান যেমন দিনের গুরুত্বকে উজ্জল করে, তেমনি শিশু দিবসও শিশুদের প্রতি যত্ন, আদর, ভালোবাসার এক অভূতপূর্ব আনুষ্ঠানিক দিবস।

কেন এই শিশু দিবস? | Why Children’s Day in India?

শিশু দিবস উদযাপনের জন্য 14 নভেম্বর দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে। এই দিনই পন্ডিত জহরলাল নেহেরু জন্মদিবস। তার জন্মদিনকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে উদযাপনের মাধ্যমে শিশু দিবসের পালন এবং উদযাপন। পন্ডিত জহরলাল নেহেরু শিশুদের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করতেন। এক গভীর ভালোবাসা, প্রেম ছিল শিশুদের প্রতি। 

আরো পড়ুন-

14 নভেম্বর জাতীয় শিশু দিবস। উদযাপনের নানান বৈচিত্র। শিশুদের অধিকার, যত্ন এবং শিক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে ভারতজুড়ে স্বীকৃত মহাসমারোহ। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্যও এই দিনটি পালন করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। জওহরলাল নেহেরু তার অন্য আরেক পরিচয় “চাচা নেহেরু”। তিনি শিশুদের শিক্ষার পরিপূর্ণতা অর্জনের পক্ষে বিশেষ সমর্থন করেছিলেন। নেহেরু বলতেন শিশুরা হল জাতির আসল শক্তি, যাদেরকে তিনি সমাজের ভিত্তি হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন। ভারতীয় জাতি শিশু দিবস পালন করার সাথে সাথে ভারত জুড়ে শিশুদের দ্বারা এবং শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক এবং প্রেরণামূলক কর্মসূচি পালন করে।

Pic courtesy DSP PR, CC BY-SA 3.0, via Wikimedia Commons

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু 1889 সালের 14 নভেম্বর কাশ্মীরি এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পরিবার, যারা তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা এবং বৃত্তির জন্য বিখ্যাত। তার পরিবার 18 শতকের প্রথম দিকে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন। 

 জওহরলাল নেহেরুর বাবা মতিলাল নেহরু একজন বিখ্যাত আইনজীবী এবং ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা, যিনি মহাত্মা গান্ধীর অন্যতম প্রধান সহযোগীও ছিলেন। মতিলাল নেহেরুর চার সন্তানের মধ্যে জাওয়াহারলাল নেহেরু জ্যেষ্ঠ ছিলেন। যাদের মধ্যে দুটি মেয়ে ছিল। অর্থাৎ জহরলাল নেহেরুরা ছিলেন দুই ভাই দুই বোন। একজন বোন, বিজয় লক্ষ্মী পন্ডিত, পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম মহিলা সভাপতি হন।

পূর্বেই বলেছি নেহরু শিশুদের দ্বারা “চাচা নেহেরু” নামে পরিচিত ছিলেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে শিশুরা ভারতের শক্তি। যাইহোক, অন্য গল্প হিসাবে, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী অর্থাৎ জওহরলাল নেহেরু মহাত্মা গান্ধীর সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে “চাচা” বলা হত। মহাত্মা গান্ধিকে সবাই ‘বাপু’ বলে সম্বোধন করতেন। তাই জনসাধারণ জওহরলাল নেহরুকে ‘চাচা’ নামে ডাকতে বেশি পছন্দ করত। মহাত্মা গান্ধী ছিলেন জাতির জনক এবং তার ভাই জহরলাল নেহেরু। সেই সুবাদে নেহেরু জনগণের চাচা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।

নেহেরু, গান্ধীর নির্দেশনায়, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন নেতা হয়ে ওঠেন। তিনি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ এবং একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসাবে স্বাধীন ভারতের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। এর জন্য নেহেরুকে আধুনিক ভারতের স্থপতি হিসাবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।

ভারতে জাতীয় শিশু দিবসের প্রস্তাব | Proposal of National Children’s Day in India-

1964 সালে জওহরলাল নেহরুর মৃত্যুর পর, সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে সম্মান জানানোর জন্য একটি প্রস্তাব পাস করা হয়েছিল‌। তার জন্মবার্ষিকীকে শিশু দিবসের সরকারী তারিখ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ভারত 1956 সালের আগে প্রতি বছর 20 নভেম্বর শিশু দিবস পালন করত। কারণ জাতিসংঘ 1954 সালে দিবসটিকে সর্বজনীন শিশু দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছিল। 1964 সাল থেকে প্রতি বছর, 14 নভেম্বর ভারতে শিশু দিবস হিসাবে পালিত হয় দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর জন্মবার্ষিকীকে স্মরণ করার জন্য।

এখন শিশু দিবস উপলক্ষে, স্কুলগুলি মজাদার আনন্দ পরিপূর্ণ এবং অনুপ্রেরণামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনেকে শিশু দিবসের বক্তৃতা তৈরি করেন। অনেক স্কুলে, বাচ্চাদের স্কুলের ইউনিফর্ম খুলে পার্টির পোশাক পরতে বলা হয়। এটি সমস্ত শিশু, পিতামাতা এবং শিক্ষকদের জন্য একটি আনন্দের উপলক্ষ।

শিশু দিবসের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা-

14 নভেম্বর শিশু দিবস পালিত হওয়ার কারণ হল জওহরলাল নেহরুর জন্মবার্ষিকীকে সম্মান জানানোর জন্য। তিনি জাতি গঠনে শিশুদের গুরুত্বের উপর জোর দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন। যেমন তিনি একবার সারা জাগানো উদ্ধৃত করেছিলেন, “শিশুরা বাগানের কুঁড়ির মতো এবং তাদের যত্ন সহকারে এবং ভালবাসার সাথে লালনপালন করা উচিত, কারণ তারা জাতির ভবিষ্যত এবং আগামী দিনের নাগরিক।”

শিশু দিবসে সারাদেশে চলছে নানা আয়োজন। তাদের বেশিরভাগই যুক্তিসঙ্গত মূল্য এবং বিভিন্ন বয়সের শিশুদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে সংগঠিত। আপনার বাচ্চাদের স্বার্থের সাথে মানানসই একটি অনুষ্ঠান পছন্দ করুন, যাতে তারা অবশ্যই মজা পায় এবং একটি অবিস্মরণীয় দিন সারা জীবন ধরে ম্নে রাখতে পারে।

Theme of the National Children’s Day 2021 along with World’s Children’s Day 20th November-

এ বছর UNICEF India National Children’s Day 2021 এর এক অভিনব Theme নির্বাচন করেছে। এই থিম করোনা পরিস্থিতি এবং তার ফল স্বরূপ আমরা, আমাদের শিশুরা এবং বিদ্যাল্যগুলি যে সাংঘাতিক সমস্যার মধ্য দিয়ে দুটি বছর অতিক্রম করল তারই সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ থিম। সেটি হল- Safe Reopening Of Schools। 14/11/2021 থেকে 20/11/2021 পর্যন্ত UNICEF এর কর্মসূচী নির্ধারিত হয়েছে।

  • November 14-20: Pandemic classroom installation
  • November 18: Launch of Changing Childhood Project Report – a landmark poll
  • November 19-20: Iconic buildings and historic monuments to #GoBlue
  • November 20: Charter of Demands presented to Parliamentarians on prioritizing children’s education and their recovery

কিভাবে পালন করা উচিত?

যেহেতু শিশু দিবস শিশুবিষয়ক তাই শিশুদের প্রতি ভালোবাসা, স্নেহ, আদর সংক্রান্ত আবেগ গুলির গুরুত্ব প্রদান করা। শিশুদের জামা, কাপড়, জুতো, পড়াশোনার সামগ্রী সহ নানান পুরস্কার। শিশুদের প্রিয় খাবার পরিবেশন, মজাদার অনুষ্ঠান, চলচ্চিত্র ইত্যাদির ব্যবস্থা করা জরুরি। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে তাদের বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তাদের সাথে সময় কাটানো সহ বিভিন্ন আয়োজন করাও প্রয়োজন এবং বিভিন্ন স্থানে তা হয়েও থাকে।

অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এনজিও বিভিন্ন অনাথ আশ্রমে গিয়ে শিশুদের আনন্দ দেবার জন্য পুরস্কারসহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ব্যক্তিগত উদ্যোগও দেখা যায়। এ ধরনের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে সাধুবাদ না জানিয়ে পারা যায় না।

শিশু দিবসের থিম পোশাক পরুন | Wear Theme Uniform of Children’s Day-

আপনি শিশু দিবসের থিমে আপনার বাচ্চাদের সাথে সাজতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, জলদস্যুদের মতো পোশাকে গুপ্তধনের সন্ধানে বেড়িয়ে পড়ুন। অথবা জওহরলাল নেহরুর মতো পোশাক পরে আপনার সমাজের শিশুদের সাথে সময় কাটাতে পারেন বা সেখানে শিশুদের সাহায্য করার জন্য একটি অনাথ আশ্রমেও যেতে পারেন।

এটি তারুণ্যকে সমর্থন করে-

ভারত জুড়ে এমন অনেক ইভেন্ট রয়েছে যা মজার অথচ পাশাপাশি সমাজকে সাহায্য করবে। আপনি পরিবেশের উন্নতির জন্য বৃক্ষ রোপণ করে দিন কাটাতে পারেন, বা শিশুদের সাথে উত্তেজনাপূর্ণ ইভেন্টের আয়োজন করতে পারেন। তা যাই হোক না কেন একটি সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম এবং বিনামূল্যে পছন্দ দেওয়া যেতে পারে।

জওহরলাল নেহেরু বিশ্বাস করতেন যে শিশুরা একটি জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের পূর্ণ শিক্ষার অধিকার দেওয়া উচিত। আপনি যে দেশেরই হোন না কেন, এটি সবার জন্য একটি সর্বজনীন থিম। আপনার সন্তান বা অল্প বয়স্ক আত্মীয়দের মনে করিয়ে দিন যে তারা কতটা আশ্চর্যজনক এবং বড় স্বপ্ন দেখতে দেখতে পারে।

শিশু দিবস কি ছুটির দিন? | Is The Children’s Day a Holiday?

জাতীয় দিবস অর্থ ছুটির আমেজ ভাবনাটা ভুল। তবে কিছু কিছু জন্ম দিবস বা জাতীয় দিবস সরকারিভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়। শিশু দিবস জাতীয়ভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয় না। দেশব্যাপী শিশু দিবস উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই দিবস পালনের অংশগ্রহণ করার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।

তবে একথাও ঠিক অন্যান্য দিবস সারা দেশব্যাপী যে ভাবে পালন করা হয় সমস্ত রাজ্যে সেভাবে শিশু দিবস পালনের উদ্যোগ দেখা যায় না।

শিশু দিবসের গুরুত্ব | Importance of the Children’s day-

শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। আগামীর কান্ডারী ও দেশ পরিচালনার নেতা। শিশুদের শিক্ষা সচেতনতা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব আরোপ না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। শিশুর জীবন যাপন প্রতিটি নাগরিকের জীবনের অভিজ্ঞতা এবং সমসাময়িক সমস্যার সাথে মোকাবিলা করে। শিশুদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব প্রদান বর্তমান রাষ্ট্রনেতাদের এক বিশেষ কর্মসূচি।

তবে সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে অভিভাবক দের দায়িত্ব লাঘব হয় না। প্রতিটি পরিবার তাদের শিশুদের সাথে অবশ্যই আশেপাশের শিশুদের প্রতি সমান গুরুত্ব প্রদান এ ব্রতী হওয়া বাঞ্ছনীয়।

শিশুরা যেমন আগামী রাষ্ট্রের কর্মধার, দেশ পরিচালনায় অংশগ্রহণ করবে, সে ভাবে একটি পরিবারের দায়িত্ব পালনের অংশ গ্রহণ করতে হয়। সেই হিসেবে শিশুদের প্রতি মর্যাদা প্রদান সহ তার সমস্ত সমস্যার সমাধানে পরিবারের অগ্রজদেরও দায়িত্ব রয়েছে।

তাইতো সরকারিভাবে বিনামূল্যে পোশাক, বিনামূল্যে শিক্ষা, মধ্যাহ্ন আহার, বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা সহ নানান কার্যপ্রণালী গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা চলছে।

কিন্তু তবুও শিশুদের নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যেমন-

শিশু শ্রমিক-

একবিংশ শতকেও মানুষ এখনো শিশুদের শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। এত প্রচার, এত শাস্তি থাকলেও সম্পূর্ণ ভাবে শিশু শ্রমিক মুক্ত দেশ গড়ে উঠল না।

স্কুলে ভর্তি না হওয়া-

বিভিন্ন কারণে পরিবারের অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে শিশুরা শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগদানে বাধ্য হলে স্কুলে ভর্তি হচ্ছে না। পরিবারের পক্ষ থেকে ভর্তি করানো হচ্ছে না। যদিও 6 থেকে 14 বছর বয়সী শিশুদের বাধ্যতামূলকভাবে স্কুলে ভর্তি করানোর আইন চালু হয়েছে। তবুও কোথাও যেন এর ত্রুটি থেকে যাচ্ছে।

স্কুল ছুট-

উপরিউক্ত কারণগুলি জন্য মাঝপথে বিদ্যালয় ছুট হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার শিশু।

এছাড়াও আরও নানান সমস্যা বর্তমান ভারতের শিশুদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এরকম আরেকটি সমস্যা হল- কন্যা শিশুর প্রতি পক্ষপাতিত্ব, কণ্যা ভ্রূণ হত্যা। পুত্র শিশুর প্রতি সমাজ-পরিবার যে গুরুত্ব প্রদান করে কণ্যা শিশুর প্রতি ঠিক ততটাই অবহেলা এ শুধু সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি করে না, এতে মানবিক অবমূল্যায়নও ঘটে।

উপসংহার-

কিন্তু সমস্ত পরিবার, পরিবারের সদস্যদের একই যন্ত্রে যান্ত্রিকভাবে মাপাও ঠিক নয়। কিছু এমন পরিবার, অভিভাবক, মা-বাবা আছেন যারা সকল সন্তানের প্রতি সমান ভালোবাসা, স্নেহ, মায়া-মমতা এবং গুরুত্ব প্রদান করে। এ ধরনের সুআচরণের সংখ্যাও কম নয়।

আমাদের আশা আগামীতে এ ধরনের মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে সমস্ত সমাজ আলোয় আলোয় ভরে উঠবে। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *