mother's day

Dedication of all women who can never be mother | Respect them on mother’s day- 2021 | মাতৃদিবসে সেই মহিলাদের অবদান, যারা কোনদিন মা হতে পারবে না।

Mother’s day- 2021 এর প্রাক্কালে মা’রা, যাদের জীবন উৎসর্গ(dedication of all women) করেছেন সন্তানের সুখ শান্তি সমৃদ্ধির জন্য, তাদের প্রতি মাতৃ দিবসে(mother’s day-2021) শ্রদ্ধা জানানোর বিশেষ দিন। আনুষ্ঠানিক অর্থে বিশ্বে সমারোহে উদযাপনের দিন ধার্য করে UNESCO of UN. যদিও আনুষ্ঠানিকতা অনেকেই মানেন না। আমিও মানি না। প্রশ্ন ওঠে শ্রদ্ধা কি কেবল মাতৃ দিবসে?

Which day is Mother’s Day । কোন দিন মাতৃদিবস?

মাতৃদিবস(Mother’s day) বছরের মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার। তারিখ যাই থাকুক না কেন, মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মাতৃ দিবস উদযাপিত হয সারা বিশ্বে। 2021 মাতৃদিবস(Mother’s Day-2021) 9ই মে উদযাপিত হবে।

A short history of Mother’s Day । মাতৃ দিবসের ইতিহাস সংক্ষিপ্তাকারে-

mother's day

Mother’s Day ইতিহাস বলতে গেলে প্রথমেই দুজন মহিলার নাম অবশ্যই জাসে। তারা হলেন Anna Jarvis and Julia ward Howe.

আধুনিক মাতৃদিবসের স্রষ্টা হলেন Anna Jarvis(1864-1948). তিনি প্রথম 1908 সালের 10 মে মাতৃদিবস উদযাপন করেছিলেন আমেরিকায়। এরও আগে Julia Ward Howe(1819-1910) 1872 সালের 2nd May Mother’s Day for Peace প্রচলন করার চেষ্টা করেছিলে। কিন্তু সেরকম ভাবে তিনি সমর্থ হন নি। তাই পরবর্তীকালে আন্না জার্ভিস আনুষ্ঠানিকভাবে মাদার্স ডে প্রচলন করেন।

পরবর্তিতে উড্রো উইলসন(Woodrow Wilson) মাতৃদিবস্কে সরকারিভাবে আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত করেন। Woodrow Wilson একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং 1913 – 1921 সাল পর্যন্ত আমেরিকা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। উইলসন 1914 খ্রিস্টাব্দে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার কে মাতৃ দিবস উদযাপন করার নির্দিষ্ট দিন প্রচলন করেন। সেই হিসাব অনুযায়ী এ বছর 2021 সালের 9ই মে (দ্বিতীয় রবিবার) মাতৃদিবস(Mother’s Day-2021) উদযাপিত হবে সারা বিশ্বে।

এখানে ক্লিক করে জানুন- ২০২১ বিশ্বপরিবেশ দিবসের বিশেষ থিম।

Respect to all mothers on Mother’s Day-2021

mother's day

যারা 364 দিন মা’কে গালিগালাজ আর অসম্মান, ঝাঁটাপেটা করে আর ঢং করে একটা দিন মাতৃদিবস পালন করে আত্মশুদ্ধ করার জন্য, তাদেরকে ধিক। সকলকে জানিয়ে এই ভন্ডামি না করলেই নয়? তাইতো প্রশ্ন জাগে বছরের একটা দিন নির্দিষ্ট করে বিষয়টা কেমন যেন লঘু করে দেওয়া হয়, বিষয়টা সে রকম নয়। আসলে একটা দিন আনুষ্ঠানিকভাবে তার সূচনায় সারা বছরের আরাধনার উদ্বোধন। যুক্তি পাল্টা যুক্তি অসংখ্য। তর্কে যাচ্ছি না।

পৃথিবীর সকল মা ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আদরে থাকুন যত্নে থাকুন, হৃদয়ে থাকুন নমস্কার, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা সবকিছু।

আমার চোখে ভিন্ন ভাবে মাতৃদিবস । My point of View Mother’s Day-2021 in different way।

এবার আসি অন্য মা’য়ের কথায়। বন্ধু বলতে শুনি মা হওয়া নারী জীবনকে সার্থক করে। একজন মহিলা নারী হিসেবে পরিপূর্ণতা পায়। মা’গো আপনারা যারা মা হয়েছেন তারা সকলেই সম্পূর্ণ নারী। আপনাদের পায়ে শতকোটি প্রণাম ও শ্রদ্ধা ২০২১ মাতৃদিবসে(Mother’s day-2021)।

যে নারী কেবলি নারী, মা হলো না কোনদিন। পরিপূর্ণতা পেল না জীবনে। আর হতে পারবে না কোনদিনও, যেখানে প্রতিদিন প্রতিরাত মা ডাকের অপেক্ষায় বসে থাকে হত্যে দিয়ে। ডাক্তারের কাছে যেতে যেতে যে পরিশ্রান্ত হয়ে কেবল ঠাকুর তাবিজ-কবজ নিয়েআনমনে থাকে। শুধু একটা ডাক শোনার অপেক্ষায়। তা কি আজ মাতৃদিবসের অনুষ্ঠানে বঞ্চিত হবে আজ? এই যজ্ঞ অনুষ্ঠানে তার কি অংশগ্রহণের কোন অধিকার নেই?

তার কথা কজন রাখে? মনে মনে মনের মধ্যে টানাপড়েন, টানাহেঁচড়া করা মনটাকে নিয়ে বসে আছেন কোন বাড়িতে। সে হয়তো আপনারই বাড়িতে অথবা আপনার পাশের বাড়ি। আপনার পাড়ায়, গ্রামে, আপনার শহরে অগণিত মানুষের ভিড়ে। মা না হওয়া নারী, অসম্পূর্ণ নারী। কি গ্লানির বোঝা নিয়ে জীবনের বাকি পথ হাঁটছে অমৃতলোকের উদ্দেশ্যে।

২০২১ মাতৃদিবসে মা না হওয়া এক নারীর গল্প । Story of a non-mother on mother’s day-2021 ।

প্রদীপের বিয়ে হয়েছে প্রায় দশ বছর। স্ত্রী রমলা। এখনো সন্তান হয়নি তাদের। ডাক্তারের কাছে আজ প্রায় আট বছর ধরে হত্যে দিয়ে অবশেষে অনেকটাই হাল ছেড়ে দিয়েছে। প্রথমে বাড়ির কাছাকাছি গাইনি ডাক্তার, তারপর ধীরে ধীরে দুর্গাপুর, দুর্গাপুর থেকে বর্ধমান অবশেষে কলকাতা। দুজনের কারো কোন কিছু সমস্যা নেই। তবুও সন্তান আসছে না। এক বড় সমস্যা। সমস্যা না থাকাটাই বর সমস্যা। IUI, IVF সবকিছু করা হয়ে গেছে। সবই ব্যর্থ।

প্রদীপ আর রমলা আত্মীয় স্বজন থেকে বন্ধুমহলে প্রসঙ্গক্রমে কথা উঠলেই দুজনে এরিয়ে যেতে চায় লজ্জায়। নিজেদের বড় অপরাধী মনে হয়।

প্রদীপের পরিচিত দু’ একজন তো মাঝে মাঝে বলে দেয় বিভিন্ন ধরনের নগ্ন কথাবার্তা। প্রদীপ জানে এগুলো অপরাধী মুলক কথাবার্তা। তবুও চুপ করে থাকে। বোকার মত হাসে। বোকার মত থাকার চেষ্টা করে।

কতগুলো নির্লজ্জ অন্যায় অপরাধী অফেন্সিভ কথাবার্তা। প্রদীপ নিজমুখে সহ্য করে। দূরত্ব করার চেষ্টা করে কিন্তু বন্ধুরা তাকে ছাড়তে চায়না। প্রদীপ সব কথা রমলাকে কোনদিন বলে না। কিন্তু ভেতরে রমলা ভীষণভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। প্রদীপ বুঝতে পারে। সাহস যোগানোটাও এখন বড় মেকি মনে হয়। তাই এসব নিয়ে সে স্বাভাবিক জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে। বাচ্চা এডপ্ট করার কথাও ভাবে। কিন্তু তারা গ্রামের মানুষ। গ্রামীণ মানসিকতার সমাজ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। শুধু গ্রামের মানষের কথা কেন, শহরের অলিতে গলিতে অনেক এরকম মানসিকতা অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাচ্চা এডপ্ট করার ব্যাপারে তারাও এখনও পরিণত নয়। দুই একজন বাদে বাচ্চা এডপ্ট করার ব্যাপারে উদার মানুষ খুবই কম।

আমি ভাবি রমলার কথা। হয়তো কোনদিন মা হতে পারবে না। বয়স থেকে গড়িয়ে যাচ্ছে। মাথার উপর সূর্য পশ্চিম দিকে চলতে শুরু করেছে। আর কবে?

মাতৃদিবসের অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহণ করা যাবে না। মাতৃদিবস অনুষ্ঠানে তাকে ডেকে কেউ নেমন্তন্নও করবে না কেউ।

আমি কিন্তু মনে মনে তার কথা চিন্তা করি। বলতে পারিনা জোর গলায়। রমলা মাতৃদিবস তোমাকে শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন। বলতে ভয়। কারন ও তো মা হতে পারেনি। এখন ও আমার শুভেচ্ছা শ্রদ্ধা তাকে খুশির বদলে আঘাতই দেবে।

এইতো সেদিন কার্তিকের মা তাকে জিজ্ঞেস করল- কিরে ছেলেপুলে কবে নিবি? অনেক বছর তো হয়ে গেল। রমলা বললো- আর না। এবারে আর মানুষ করতে পারব না গো। ভাসুরের ছেলে মেয়েগুলোই আমার ছেলে মেয়ে। নিজের পেটের ছেলে মেয়ে না হলে বুঝি মা হওয়া যায়না?
কার্তিকের মা বলে জোর গলায়- না, হওয়া যায় না। নিজের পেটে ছেলে না হলে মা হওয়া যায় না। তবে তারপর থেকে আর কার্তিকের বাড়ি যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে অনেকটা।

এরকম অনেক কথাবার্তা তার কানে আসে। প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হতো। কিন্তু এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। 

তার জামাইবাবুই বলেছে- ছেলেপুলে না হলে কেউ তোর হাতে জল খাবে না। রমলা সেদিন প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছিল। কিন্তু তার স্বামী সব সময় তার সঙ্গে আছে। বলে- এসব কথার কোন যুক্তি নেই। কোনও অর্থ নেই। প্রদীপ এড়িয়ে যেতে বলে। আসলে দুজনই তো একই ঘাটের মড়া।

Dedication of all women who can never be mother । মা না হওয়াটাও সমাজের প্রতি নারীদের অবদান ।

মাতৃদিবস আমি তাদেরকে শ্রদ্ধা জানাই যারা রমলার মত এত তীব্র যন্ত্রণায় মরু বালির উপর দিয়ে হাঁটছে। মা হতে না পারাটাও তো তাদের শূন্য জীবন। এ জীবনো সমাজের প্রতি তাদের অবদান, জীবন উৎসর্গ। এরকম কত মা না হওয়া নারী আমাদের আশেপাশে আছে চলুন খোঁজ রাখি একটু। তাদের ব্যথায় না-পাওয়ার যন্ত্রণায় একটু পাশে দাঁড়াই। তারা গর্ভধারিনী মা হয়নি ঠিকই কিন্তু তাই বলে ‘মা’ হতে পারে না?

আমাদের এক পিসি যিনি এখন সত্তরের কোঠায়। তাঁর কোন সন্তান নেই। তখন অবশ্য চিকিৎসাব্যবস্থা এত উন্নতি হয়নি। তাই বলে তিনি কি মানুষ নন? আজ তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো না? তিনি কি মাতৃদিবসে সম্মানিত হবেন না?

আমার মায়ের খুড়ি। বাল্য বিধবা। সেকালে দ্বিতীয় বিয়ে নৈব নৈব চ। যদিও বিদ্যাসাগর মহাশয় বিধবা বিবাহের জন্যে কি’ই না করেছেন। কিন্তু এ সমাজে এখনও এক্স শতাংশ সেটা সাদরে গ্রহণ করতে পারেনি। আর মায়ের খুড়ির ঘটনা বিংশ শতকের মাঝামাঝি। মায়ের খুড়ই কি মাতৃদিবসে সম্মানিত হবেন না?

See Surroundings the Dedication of all Women-

আমাদের চারপাশে কত পিসি, মাসি, ঠাকুমা, কাকিমা আছেন তা গুনে শেষ করা যাবে না. বঞ্চিত কত মহিলা গর্ভ ধারণে। ব্যর্থ জীবন নিয়ে কাটিয়েছেন সারা জীবন। এখনো কাটাচ্ছেন। তার কি কেবল সমাজের বোঝা? সমাজের প্রতি তাদের মতৃসুলভ কোন অবদান নেই? শ্রদ্ধা জানাই সেসব আমাদের আজকের মাতৃদিবস।

আমি বছর তিন ভাড়া বাড়িতে ছিলাম কর্মসূত্রে। আমার বাড়িতে রান্না করতেন দুর্গাদি। দুর্গাদির সাথে কথা হত। একদিন হঠাৎই প্রশ্ন করেছিলাম- তোমার ছেলে মেয়ে ক’টি দুর্গাদি? দুর্গাদি বলেছিল- আমার অনেক ছেলেমেয়ে। হাসতে হাসতেই বলেছিল। অনেক পরে বুঝেছিলাম দূর্গাদি নিঃসন্তান। আমি নিজেকে দোষ দিয়েছিলাম খুবই প্রশ্ন করার জন্য। ভেবেছিলাম দুর্গাদিকে কত বিব্রত করেছিলাম। কিন্তু দু্গাদি কিছুই মনে করেনি আমার প্রশ্ন শুনে। দুর্গাদির কথাটি আজও আমার মনে আছে- আমার অনেক ছেলেমেয়ে। বিশ্বসংসারই দুর্গাদিদের সন্তান। তারপর থেকে দূর্গাদির সঙ্গে আরও বন্ধুত্ব হয়েছিল।

আসলে এই পরিস্থিতিতে ঠোক্কর খেতে খেতে দুর্গাদিরা কখন শক্ত পাথর হয়ে যায় অথবা শক্ত পাথরের ভেতরে থাকে। আমরা বুঝতে পারিনা। এক সময় মিষ্টি মনের শক্ত খোলক। এখান থেকে কেবলই ভালোবাসা, প্রীতি, আদর। তারই গন্ধ বেরোয়। সকলকে ভরিয়ে দেয় সুগন্ধি, আলোয় আলোয় জ্যোতির্ময়।

আজ দুর্গাদিকে মাতৃদিবসের শ্রদ্ধা জানাই। আমার ভন্ডামি নয় বন্ধু। আমার অন্তরের ভালোবাসা।

Respect Different mothers on Mother’s Day- 2021

শ্রদ্ধা জানাই সেই মা’কে যে কখনোই ধর্ষিত হবে বলে জন্মায়নি। কিন্তু কি তীব্র যন্ত্রণায় তার ওপর পাশবিক আক্রমণ। ফলাফল জঠরে সন্তান। সেই সন্তানকে হারাতে চাইনি কখনো। বরং সামাজিক প্রত্যাখ্যান লাঞ্ছনা অপমান সহ্য করেও জন্ম দিয়েছে। সেই মা সেই সন্তানের মা এবং বাবা দুই’ই। শ্রদ্ধা জানাই সেই মা’কে মাতৃদিবস।

Women In-dependency-

এখন তো 2021। অজানা পুরুষের স্প্যার্ম নিয়ে মা হওয়া যায় নারী স্বাধীনতার আবহে। অনেক নারী আজকে বিয়ে না করেও ধারণ করছেন সন্তান। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হয়েও যারা মা’য়ের স্বাদ নিতে চায়, গড়ে তুলতে চায় আপন গর্ভের বিগ্রহ- সেই সব মা’য়েদের আজকের মাতৃদিবসের উজ্জ্বল আবহে প্রণাম।

Mother of the World- Mother Teresa- প্রণমি তোমায় ।

গর্ভে সন্তান ধারণ করে যার কোনো দিন মা হবার সাধ ছিল না। তিনিই তবু সারা পৃথিবীর সন্তানদের মাতৃস্নেহে আদরে আদরে ভরিয়ে দেন। বিশ্ব মায়ের সুবর্ণ রঙিন স্নেহ, সুগন্ধ আদর আর ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয় সারাবিশ্ব সংসারকে।

বিশ্ব মা মাদার টেরেসা- আপনারা সকলেই জানেন- নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন মানুষের সেবায়। সন্তানের সেবায। তিনি তো কোনদিন সন্তান ধারণ করেন নি। কিন্তু সারাবিশ্ব তাকে মা’য়ের আসনে বসিয়েছে। মাদার ২০২১ মাতৃদিবসের প্রাক্কালে (Mother’s day-2021) তোমাকে আমার শতকোটি প্রণাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *