Lokhir Bhander Duare Sarkar

Lokhir Bhander Duare Sarkar- 16 Attractive & Beneficiary Projects of W.B. Govt. | লক্ষীর ভান্ডার দুয়ারে সরকার

পশ্চিমবঙ্গ সরকার গত 2011 সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছেন। লক্ষীর ভান্ডার, দুয়ারে সরকার( Lokhir Bhander Duare Sarkar), কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, সবুজ সাথীর, মুক্তির আলো ইত্যাদি ইত্যাদি। অসাধারণ সব প্রকল্প এবং অসাধারণ সব নাম। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে এর জন্য সাধুবাদ জানানো প্রয়োজন অনুভব করি। তার সাংস্কৃতিক মানসিকতাসম্পন্ন উদার এবং মহৎ প্রকল্পগুলি চালু করার জন্য। সঙ্গে তার মন থেকে উদ্ভুত অদ্বিতীয় নাম গুলি কিভাবে আসে ভেবে অবাক হতে হয়। অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা আকর্ষণীয় নামকরণও তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে দাঁড় করিয়েছে।

তবে সাধারণ মানুষ কতখানি উপকার পাচ্ছে, পাবে বা সত্যি যাদের প্রকল্পগুলির সুবিধা পাওয়া উচিত, তারা পাচ্ছে কি’না এ নিয়ে আমার আলোচনার বিষয় নয়। আজ শুধু অসাধারণ নামগুলি এবং সে প্রকল্পগুলির সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে দুটি কথা বলতে চাইছি।

বাংলার মাঠ ঘাট থেকে উঠে আসা মুখ্যমন্ত্রীর মননে কেবল মা-মাটি-মানুষের অনুভবের কথা। বাঙালি চেতনা, বাঙালি বোধ নিয়ে তার পথ চলা। সর্বসাধারণের ঘরের মধ্যে তার বসবাস। একেবারে হৃদয়ের মধ্যি খানে তিনি বিরাজ করছেন। অসাধারণ উদার মন নিয়ে তিনি মাঠে-ঘাটে কাজ করা মানুষ থেকে সমস্ত মানুষের মধ্যে যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তা সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। বিশ্বের বিশিষ্ট সংস্থা থেকে তাই তো তিনি বারবার আলোচিত হন।

আসা যাক সরকারের চালমান প্রকল্পর গুলি নাম এবং তাদের বৈশিষ্ট্যএ-

Page Contents

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকল্পগুলি(Projects of W.B. Govt.)-

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সৌন্দর্যের প্রতীক। সৌন্দর্য, সুন্দর, উজ্জ্বল, ভাস্বর প্রতিশব্দ গুলির প্রতি বিশেষভাবে আকর্ষিত। তাই তার অনেক প্রকল্পের নামের সাথে ‘শ্রী’ শব্দটি সুন্দরভাবে বসিয়েছেন। সুন্দরভাবে সেই সুন্দর শব্দগুলি আরো উজ্জল, সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা সেই রকম শ্রী-যুক্ত কিছু প্রকল্প সম্বন্ধে দু-চার কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করি।

1.কন্যাশ্রী-

‘কন্যা’ শব্দটি কত মধুর আমাদের কাছে। কন্যা অর্থে লক্ষ্মী, কমলা, তনয়া, স্নেহময়ী। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীও কন্যা। আমাদের সকলের দিদি।  বড়দিদি অর্থে মায়ের সমান। আমাদের গ্রাম বাংলার কন্যাদের নিয়ে ভাববেন না সেটা ভাবাই যায়না। তাই তো চালু করলেন ‘কন্যাশ্রী’র মতো প্রকল্প।

কন্যাশ্রীর বৈশিষ্ট-

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 2011 সালে সরকারের বসেই তার সৃষ্টির অন্যতম বিখ্যাত প্রকল্প হল কন্যাশ্রী। প্রথমে এই প্রকল্পের আওতায় ছিল অষ্টম থেকে দ্বাদশ এবং তদুর্ধ ছাত্রছাত্রীরা। কন্যাশ্রী প্রকল্পে দুটি ভা:গে বিভক্ত। যথা- K1 ও K2।

K1- ছাত্রীকে 13 বছর বয়স হতে হবে এবং তার সাথে অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত হতে হবে। প্রতি বছর বর্তমানে এক হাজার টাকা করে পাবে। কন্যার 18 বছর বয়সের আগে পর্যন্ত। অর্থাৎ সর্বমোট 5-6 বার 1000 টাকা করে।

K2- ছাত্রীর 18 বছর বয়স হয়ে গেলে সে K2 তে উত্তীর্ণ হবে এবং সে 25000 টাকা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে।

K1 ও K2 ক্ষেত্রে নিয়মগুলি সম্বন্ধে সবার সজাগ থাকা জরুরী। যেমন-

কন্যাকে অবশ্যই তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। কন্যাকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে। পূর্বে যদিও পিতা-মাতা বা পরিবারের সর্বোচ্চ আয়ের বাধা ছিল, কিন্তু বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা- সমস্ত পরিবারের কন্যারা এই প্রকল্পের অধীনে। তারা আর রোজগারের কোন বাঁধাধরা সীমার মধ্যে আটকে থাকবে না। ব্যাংক একাউন্ট থাকা প্রয়োজন। সরাসরি প্রকল্পের টাকা ECS-এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের ঢুকবে।

কন্যাশ্রী প্রকল্পের উদ্দেশ্য-

আমাদের সমাজ কন্যা/মহিলাদের সবসময়ই অবহেলা করে। তারা লাঞ্ছনা, অপমান সহ্য করে। নানা কারণে একজন পুরুষের তুলনায় মহিলাকে বিভিন্ন বিষয়ে বিষয়ে অবহেলিত হতে হয়। মা-বাবা পত্রের পড়াশোনা বা তার জীবন নিয়ে যতটা চিন্তাভাবনা করেন তার তুলনায় বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন কন্যার বিবাহ নিয়ে। তার পড়াশোনার প্রতি তেমন আগ্রহ পিতা-মাতার থাকেনা। 

মুখ্যমন্ত্রী মহিলা। তিনি আমাদের সমাজে কন্যাদের অবহেলা অপমান লাঞ্ছনার ইতি টানার জন্য, তাদের সামাজিক মর্যাদা দেওয়ার অঙ্গীকারে আবদ্ধ। প্রথম প্রয়োজন শিক্ষা। শিক্ষা থেকে বঞ্চিত অসংখ্য কন্যা মূল প্রতিবন্ধকতা- সামাজিক মানসিকতা এবং তারপরে আসে অর্থ। মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে উচ্চ স্তরের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্প। রাতে বছরের একটা আর্থিক ভার অভিভাবকের মাখা থেকে দূর হয়।

কন্যাশ্রীর সফলতা-

গত 10 বছরে আমরা দেখেছি কন্যাদের বিদ্যালয়ের আগমনের সংখা যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। দেখেছি কন্যাদের মহাবিদ্যালয়ের আগমনের সংখ্যা। কন্যাশ্রী প্রকল্পের জনপ্রিয়তা শুধু বাংলা বা ভারতে নয়, UNICEF পর্যন্ত এই প্রকল্পকে সাধুবাদ জানিয়েছে। অর্থাৎ কন্যাশ্রী প্রকল্প যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, তার আন্তর্জাতিক স্তর পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।

2.রুপশ্রী-

রূপ-এর সঙ্গে ‘শ্রী’ যুক্ত হয়ে রূপশ্রী শব্দটি আরও উজ্জ্বল হয়েছে। শব্দটি আকর্ষণী ক্ষমতা বেড়েছে কয়েকগুণ। 

এ প্রকল্পটির বয়স তিন বছর প্রায়। ভারতীয় কন্যাদের বিবাহের ন্যূনতম বয়স 18 বছর এবং এটি ন্যূনতম বিদ্যালয় শিক্ষার বয়সসীমা বটে। 18 বছর বয়স হয়ে গেলে সে পড়াশোনা করতে পারে আবার বিবাহ করার আইনগত স্বীকৃতি পায়।

বাংলায় মা-বাবারা কন্যার বিবাহের জন্য উদ্বিগ্ন থাকেন। পাত্র সন্ধান পছন্দ অপছন্দের সমস্যা, বিবাহের নিমিত্ত আর্থিক খরচাও পরিবারকে চিন্তিত করে। রূপশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার কিছুটা হলেও সেই পরিবারের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মস্তিষ্কপ্রসূত এই প্রকল্পের আওতায় পরিবার সামান্য হলেও উপকৃত হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

রূপশ্রী নিয়ম-

ব্লকেএই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে হয়। বিবাহের জন্য নিমন্ত্রণ কার্ড সহ কন্যা ও পিতার যাবতীয় নথি ব্লকে জমা দেওয়ার পর সামান্য ভেরিফিকেশন এবং অর্থ সরাসরি কন্যার একাউন্টে পৌছে যাবে।

মনে রাখবেন কন্যা নূন্যতম বয়স 18 হতেই হবে। বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে মাধ্যমিক এডমিট কার্ড, প্রয়োজন বার্থ সার্টিফিকেট লাগতে পারে।

3.শিক্ষাশ্রী-

শিক্ষাশ্রী প্রকল্প বৃত্তিমূলক প্রকল্প। প্রথম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এসসি এসটি ছাত্র-ছাত্রীরাই প্রকল্পের অধীনে পডে। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার মান এর উপর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয় পড়াশোনা করলেই প্রকল্পের অধীনে আসতে পারে। 

এই বৃত্তিমূলক প্রকল্পটি অনেক পূর্ব থেকেই পশ্চিমবঙ্গে ছিল। কেবলমাত্র বৃত্তি বা এসসি এসটি স্কলারশিপ বা বুকগ্র্যান্ট নামে পরিচিত ছিল। আমাদের মাননীয়া দিদি এই প্রকল্পটির নিজের মতো করে নাম দিয়ে তার নবরুপ দান করেছেন।

আবেদন পদ্ধতি-

ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ের মাধ্যমে জানতে পারবে বছরের কোন সময় প্রকল্পের শুভারম্ভ, তথা ফরম ফিলাপ করে জমা দেওয়া খবরগুলি।

ফর্ম বিদ্যালয় থেকে অথবা কম্পিউটার সেন্টার গুলি পাওয়া যেতে পারে। তবে যেহেতু কম বয়সী ছাত্র-ছাত্রীদের বিষয়, তাই বিদ্যালয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিনামূল্যে বিতরণ করে থাকে। বিভিন্ন সাইট থেকে ডাউনলোড করে যাবতীয় তথ্য প্রদানের মাধ্যমে এবং সঙ্গে সাপোর্টিং ডকুমেন্টস গুলি পিনআপ করে বিদ্যালয়র শিক্ষাশ্রী নোডাল টিচারকে জমা দিতে হয়। তিনি অনলাইনে সেই ফরমটি সাবমিট করবেন এবং সেটি ব্লক অফিসে ফরওয়ার্ড করবেন। ছাত্র-ছাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ে তাদের একাউন্টে বৃত্তির অর্থ পেয়ে যাবে।

4.ঐক্যশ্রী-

ঐক্যশ্রী এক অসাধারণ নাম। সর্বধর্ম সমন্বয় আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। নানা ভাষা পোশাক জীবন যাপনের বৈচিত্রের মধ্যে আমাদের সংহতির ঐক্যকে মুখ্যমন্ত্রী তার উন্নত মানসিকতার মাধ্যমে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছেন। তারই প্রমাণ স্বরূপ ঐক্য শ্রী প্রকল্প। বাংলা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ প্রকল্প‌ সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রীরা এই প্রকল্পের অধীনে।

নিয়মাবলী-

অবশ্যই সংখ্যালঘু হতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ের নাম নথিভুক্ত থাকলেই তারা আবেদনের যোগ্য। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ক্ষেত্রে অবশ্যই পাশ করে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে 50% ছেলেমেয়েদের জন্য এক ধরনের নিয়ম, এবং 50 শতাংশের কম পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের এক ধরনের নিয়ম। অর্থাৎ পাশ করলেই ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে। আবেদন পদ্ধতি-

ছাত্রছাত্রীদের ঐক্যশ্রী সাইডে গিয়ে wbmdfcscholarship.in নাম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। মোবাইল নাম্বার ইমেইল আই বি ইত্যাদি দিয়ে। যারা রিনিউ করতে চান তারা পুরনো ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে রিনিউ করবেন। প্রিন্ট আউট নিয়ে যাবতীয় ডকুমেন্ট সহ বিদ্যালয় বা কলেজের ঐক্যশ্রী নোডাল টিচার বা নোডাল অফিসারকে জমা দেবে।

সংখ্যালঘুদের জন্য একটি সুবিধা- এই প্রকল্প যেকোনো স্তরের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত চালু থাকবে এবং স্তরভেদে অর্থের পরিমাণ বিভিন্ন হবে।

5.যুবশ্রী- 

পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক যুবতীদের স্বনির্ভরতার বার্তায় মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্প 2013 সালে চালু করেন। বেকার যুবক-যুবতীদের মাসে 1500 টাকা প্রদানের মাধ্যমে এই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি কাজের ক্ষেত্র গুলো দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্য ছিল বেকারদের মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে নির্ভর করে তোলা। মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তির এবং যে কোন ব্যবসার মাধ্যমে নিজস্ব ও পারিবারিক আর্থিক চাহিদা মেটানো।

আবেদন করার যোগ্যতা-

প্রার্থীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসী হতে হবে। বয়স 18 থেকে 45 বছরের মধ্যে হতে হবে। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ-এ নাম নথিভুক্ত থাকতে হবে। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের নিয়মাবলী দেখুন।

কিভাবে আবেদন করবেন-

employmentbankwb.gov.in সাইটে গিয়ে annexure-1 এবং বেকারত্বের জন্য Annexure-2 ডাউনলোড করে যথাযথ নথিসহ পূরণ করা আবেদন পত্র এসডিও অফিসে জমা দিন।

6.সবুজশ্রী-

পৃথিবীর পরিবেশ আজ দূষণের দূষিত আগ্রাসনে নিশ্চিহ্ন হওয়ার জোগাড়। পরিবেশের নানান ক্ষেত্রে মানুষের ধ্বংসাত্মক কার্যকারী এর জন্য দায়ী। বাংলাযও দূষণের হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছে না। আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী চতুর্দিকেই দৃষ্টি। পরিবেশকে রক্ষা করার একমাত্র অপরিহার্য উপায় হল গাছ লাগানো। সবুজের সমারোহ বুদ্ধি। তিনি চালু করলেন সবুজশ্রী প্রকল্প। গ্রাম গঞ্জের সাধারণ মানুষসহ বিদ্যালয় স্তরে সকলকে গাছ বিতরণ কর্মসূচি সবুজশ্রী। NREGP অর্থাৎ 100 দিনের কাজের প্রকল্পে যাদের নাম আছে, তাদের একাউন্টে বৃক্ষ পরিচর্যার জন্য অর্থ প্রদান করা হবে।

7.সবুজ সাথী-

সবুজ সাথী প্রকল্প বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং এটি বেশ প্রভাবশালী প্রকল্প। পাঁচ বছর পূর্বে প্রকল্প চালু হয়েছিল। নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণীতে সাইকেল বিতরণের মাধ্যমে প্রকল্পের সূচনা হয়। বর্তমানে কেবল নবম শ্রেণীতে সাইকেল বিতরণ হয়। ধনী-গরীব কোন পরিবারের ছাত্র-ছাত্রী প্রকল্প থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। সকল স্তরের ছাত্রছাত্রীকে এই প্রকল্পের অধীনে চলতে থাকা কর্মসূচির সাথে যুক্ত। বিদ্যালয় থেকে দূরে ও কাছে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের সাইকেল বিতরণ করা হয়। অর্থাৎ নবম শ্রেণীর 100% ছাত্র-ছাত্রীই এই প্রকল্প থেকে উপকৃত।

উদ্দেশ্য-

গ্রাম বাংলার কথা ভেবেই প্রকল্প চালু হলেও শহরের ছাত্র-ছাত্রীরাও প্রকল্পের উপকারিতা পায়। গ্রাম বাংলার রাস্তাঘাট বিদ্যালয় পৌঁছানোর জন্য,  সময়ের সদ্ব্যবহারের কথা মাথায় রেখেই প্রকল্প চালু হয়েছে।

আবেদন করার পদ্ধতি- 

এক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীকে বিশেষ কিছু করতে হয় না। বর্তমানে বাংলা শিক্ষা পোর্টাল থেকে সবুজ সাথী পোর্টালে নাম সরাসরি চলে আসে। নোড়াল টিচার কেবল অ্যাটেনডেন্স রেজিস্টার থেকে থেকে বাদ যাওয়া নামগুলি অন্তর্ভুক্ত করেন। অথবা পূর্বে কেউ এ প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকলে তার নাম্ বাদ দিয়ে থাকেন। তিনি দ্বিধায় পড়লে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিতে পারেন।

বিডিও অফিসের মাধ্যমে সাইকেল বিতরনের সংবাদ এলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের জানিয়ে দেয় এবং বিতরণ সম্পন্ন হয়। সবুজ সাথী প্রকল্প বর্তমানে 2021এ VII নং phase চলছে।

8.খাদ্য সাথী-

পশ্চিমবঙ্গের অনেক পরিবারের সদস্যরা অপুষ্টিতে ভুগছে। বিশেষ করে মহিলা ও শিশুরা। বিপিএল পরিবারের মধ্যেই এই সমস্যা প্রধানত সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত।

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্য হল সঠিক নিশ্চিত পুষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য পরিবারগুলির হাতে তুলে দেওয়া। রেশনিং পদ্ধতির মাধ্যমে মাত্র 2 টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পকে বাস্তবতা করা হচ্ছে। 2016 সালের 27 শে জানুয়ারি থেকে খাদ্য সাথী প্রকল্প চালু হয়। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে রেশন পাওয়া যাচ্ছে।

9.স্বাস্থ্য সাথী-

পশ্চিমবঙ্গবাসীর স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে আপামর জনসাধারণের জন্য একটি বীমা প্রকল্প স্বাস্থ্য সাথী নামে বর্তমানে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। শরীর অসুস্থতার কারণে নগদ অর্থের সমস্যার সম্মুখীন হয় না এমন কোন সাধারন পরিবার খুঁজে পাওয়া মুশকিল। দুরারোগ্য ব্যাধি অথবা আপদকালীন পরিস্থিতি পরিবারকে অর্থকষ্টে জর্জরিত হয়ে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সেই সাংঘাতিক কষ্টদায়ক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে চালু করেছেন স্বাস্থ্য বীমা স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প।

প্রাথমিকভাবে এই বীমা অসংগঠিত কর্মীদের জন্য চালু করা হলেও বর্তমানে এর পরিধি অনেক দূর বিস্তৃত। সিভিক ভলেন্টিয়ার, আশা কর্মী, প্যারাটিচার, চুক্তিভিত্তিক সরকারি কর্মচারী, মহিলা স্বয়ংবর গোষ্ঠীর সদস্য, এমনকি শিক্ষকদের জন্যও স্বাস্থ্য সাথী প্রযোজ্য। কিন্তু গভমেন্ট স্পনসর্ড শিক্ষকরা অবশ্য অনেকেই এই বিমান অধীনে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করেননি। এর পেছনে তাদের ভিন্ন যুক্তিও আছে।

প্রথমাবস্থায় স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে বীমার পরিমাণ ছিল 1 লক্ষ 50 হাজার টাকা। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে 5 লক্ষ টাকা। সরকারি প্রকল্পের সাথে যুক্ত ব্যক্তি যিনি বীমার অধীনে আছেন, তিনি, তার স্বামী/স্ত্রী মা, বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ির, 18 বছরের কমবয়েসী ছেলেমেয়ে সকলেই এই বীমার আওতায় আসতে পারেন।

আবেদন করার পদ্ধতি-

ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে ফর্ম বিলি করা ও জমা নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। সঙ্গে ছবি ভোটার কার্ড আধার কার্ড। যে সকল ব্যক্তির নাম একটি কার্ডের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে তাদের সকলেরই বায়োমেট্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে সংযুক্তিকরণ হয়। ডিপার্টমেন্ট পঞ্চায়েত অথবা বিডিও অফিসের মাধ্যমে বিমান অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের একটি নির্দিষ্ট দিনে ডাকা হয়।

সরকার কখনো কখনো ক্যাম্প করেও বীমায় নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ করে দেয়। কখনো পঞ্চায়েত বা কখনো ব্লক স্তরে ক্যাম্প হয়ে থাকে।

10-সমব্যথী-

পরিবারের সদস্য আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুতে সকলে দিশাহারা। সবচেয়ে বেশি ব্যথিত হন, আহত হন একেবারে কাছের মানুষ জন। সরকার সেই পরিবারের বা সেই মৃত ব্যক্তির আত্মীয়দের পাশে আছে। সরকারও তাদের ব্যথায় সমব্যাথী। তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার আবদ্ধ।

মৃতের সৎকারের জন্য পঞ্চায়েত বা মিউনিসিপ্যালিটি সাহায্যের প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ। 2000 টাকা সৎকার্য সমাপনীর খরচের ব্যবস্থা করে পঞ্চায়েত ও পৌর নিগন দপ্তর। কার্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের নাম রেখেছেন সমব্যথী। অভিনব বৈচিত্র্যপূর্ণ নাম। সমস্ত কৃতিত্ব মাননীয়া দিদির উপর দিয়েই যায়।

কিভাবে আবেদন করবেন-

মত ব্যক্তির নিকট আত্মীয় বিশেষ করে ছেলেমেয়ে, স্বামী স্ত্রী যে কেউ আবেদন করতে পারে। মৃত ব্যক্তির ওই ধরনের সম্পর্ক না থাকলে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়, পরিবারের যে কোন সদস্য বা পাড়ার যে কোনো ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন। মৃত্যুর যাবতীয় প্রমাণপত্রসহ পঞ্চায়েত অফিসে বা পৌরসভায় আবেদন করা যাবে। তবে মৃত্যুর দিনই সেই অর্থ পাবেন তার নিশ্চয়তা নেই। তার পরবর্তী সময়ে সেই অর্থ আবেদনকারী হাতে তুলে দেওয়া হয়।

যুবক যুবতীদের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে কতকগুলি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প-

11-গতিধারা- 

বেকার যুবক যুবতীদের মধ্যে গাড়ি ব্যবসায় উৎসাহী করার লক্ষ্যে এ প্রকল্পের সূচনা। যুবক-যুবতীরা গাড়ি ব্যবসায় নামতে ইচ্ছুক অথচ আর্থিক সমস্যায় গাড়ি কিনতে পারছেন না। তারা সরকারি ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন গাড়ি কিনে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

এটি একটি স্বনির্ভর প্রকল্প। স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে 2015-16 সালে মমতা ব্যানার্জি সরকার এই প্রকল্প শুরু করে

প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য-

20 থেকে 40 বছর বয়সী যুবক যুবতীরা এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন। বাণিজ্যিক গাড়ি কেনার জন্য 30% ভর্তুকি অথবা এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেবে রাজ্য সরকার। অবশ্য বাকি অর্থ প্রার্থীকেই জোগাড় করতে হবে। কর্মহীন ও এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকের নাম নথিভুক্ত ব্যক্তিরা এ প্রকল্পের অধীনে আসতে পারে। শারীরিক ভাবে পিছিয়ে পরা ব্যক্তিরা ওই প্রকল্পের অধীনে সুবিধা নিতে পারেন।

12.মুক্তির আলো-

এক অভিনব প্রকল্প। যৌনকর্মীও দুর্ভাগা নারীদের পুনরুদ্ধারে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে সেই নারীদের বিশেষ কাউন্সিলিং এবং স্বনির্ভরতার লক্ষে এই প্রকল্প। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রকৃতপক্ষে এই প্রকল্পের অধীনে। সেই সংস্থাকে অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা।

বৈশিষ্ট্য-

যৌনকর্মী, দুর্ভাগা নারী এবং তাদের কন্যা সন্তানরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরবর্তীতে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে এক উজ্জ্বল প্রকল্প হল মুক্তির আলো প্রকল্প। প্রশিক্ষণ চলাকালীন থাকা খাওয়া ও কাউন্সেলিং-এর সমস্ত দায়িত্ব স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার। খরচ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত। যৌনপল্লীতে কাজ করা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা এনজিও এই প্রকল্পের অধীনে। সাধারণ কোনো ব্যক্তি বা যৌনকর্মীরা সরাসরি প্রকল্পের আবেদন করতে পারবেন না।

13.মুক্তিধারা-

মুক্তিধারা প্রকল্প ব্যাক স্বনির্ভরতার প্রকল্প। দরিদ্র পরিবারগুলি কথা মাথায় রেখে দলগতভাবে দারিদ্রতা মোকাবিলার প্রকল্প। আর্থিকভাবে দুর্বল বদ্ধ জীবনের জটিলতাকে আরও জটিল করে তোলে। প্রান্তিক জীবনকে মুক্তির দেখানোর উদ্দেশ্যে প্রকল্প মুক্তিধারা।

বৈশিষ্ট্য-

গ্রামবাংলার চিরাচরিত মৃত শিল্প গুলিকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই সেই পেশার সাথে যুক্ত মানুষদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। এ প্রশিক্ষণ দলগতভাবে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ। দলগত অর্থে স্বয়ম্ভর গোষ্ঠী নির্মাণ করে সেই গোষ্ঠীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।

পরীক্ষামূলকভাবে পুরুলিয়া-1এ 139 টি স্বনির্ভরগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়। একইভাবে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক স্তরে কুটির শিল্পের সাথে যুক্ত মৃত শিল্পগুলিকে পুনর্জীবন দান করা লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্প পুরুলিয়া মডেল হিসেবে অন্যান্য জেলায় চালু হয়েছে।

মনে রাখবেন কুটির শিল্পের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা স্বয়ম্ভরগোষ্ঠীর মাধ্যমেই প্রশিক্ষণ পাবেন। দলগত প্রশিক্ষণ।

প্রতিটি জেলায় WBSCL দপ্তরে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া যাবে।

14.সময়ের সাথী-

আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতির জটিলতার জট খোলার উদ্দেশ্যেই এই প্রকল্প সময়েরসাথী। আমরা জানি সরকারি বিভিন্ন পরিষেবা সহ নানান কাজকর্ম সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছোতে বা তার সমাধান পেতে অনেক কাল ঘাম ঝড়াতে হয়। অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে ক্ষয়ে যাওয়া চপ্পলের থাপ্পর খেতে খেতে হয়রান হয়ে যায় মানুষ।

উদ্দেশ্য-

বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা গুলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মানুষের কাছে কখনো কখনো সম্পূর্ণভাবে পৌঁছায় না। মানুষ এখনও সমস্ত প্রকল্প সম্বন্ধে ওয়াকিবহালও নয়।

এসমস্ত জটিলতায় জট খোলার জন্য খুব সহজে পরিসেবা পাওয়ার সরলিকরনের জন্য সময়েরসাথী প্রকল্প। সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পেতে সমস্ত সমস্যার সময়ের মধ্যে জনগণ বা আবেদনকারী সমাধান পাবে তার উদ্দেশ্য নিয়ে সময়েরসাথী প্রকল্প।

বৈশিষ্ট্য-

এর জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার মমতা ব্যানার্জির তত্ত্বাবধানে ওয়েস্ট বেঙ্গল রাইট টু পাবলিক সার্ভিস 2013 প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়।

এর জন্য তৈরি হয় ডব্লিউবি রাইট টু পাবলিক সার্ভিস কমিশন। সুবিধা হল আবেদন করার সাথে সাথে তাকে ফর্ম1 এ প্রাপ্তিস্বীকার দিতে হবে। সমস্ত ছুটির দিন বাদ দিয়ে আবেদনকারী তার সমস্যা বা প্রকল্পের সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট দপ্তরে যেতে পারেন ও আবেদন করতে পারেন।

কোন কোন দপ্তর এর অধীনে-

এই প্রকল্পের অধীনে রেশন কার্ড সংশোধন, নতুন কার্ড ইত্যাদি, নতুন মার্কশিট, সার্টিফিকেট, এডমিট, ইলেকট্রিক, জলের সংযোগ, দমকলের ছাড়পত্র, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন পরিষেবার বাস্তবায়ন আবেদনের দিন থেকে বিভিন্ন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। যেমন- রেশন কার্ডের ক্ষেত্রে আবেদনের দিন থেকে 30 দিনের মধ্যে নতুন রেশন কার্ড বা সংশোধিত রেশন কার্ড পেয়ে যাবেন, মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট/এডমিট কার্ড পেতে হলে দেপুটি সেক্রেটারি কাছে আবেদনের দিন থেকে 15 দিনের মধ্যে পেয়ে যাবেন, পুরসভা থেকে জলের সংযোগ এর ক্ষেত্রে আবেদনের দিন থেকে 10 দিনের মধ্যে সংযোগ পেয়ে যাবেন ইত্যাদি ইত্যাদি।

15.দুয়ারে সরকার+

সময়ের সাথী কতটা সুফল দিয়েছে বা দিচ্ছে তা আমার জানা নেই। কেননা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এত সহজে সমাধান হবে কিনা এ নিয়ে মানুষের সাথে আমার মনেও নানা সন্দেহ। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নিচুস্তরের অফিসার থেকে উচ্চ স্তর পর্যন্ত দায়িত্বের ভার ন্যাস্ত এবং একে অপরের সঙ্গে চেনের সাহায্যে জড়িত। কোন কর্ম সমাধানের আবেদন বা তার ছাড়পত্র স্তর থেকে স্তরে যাওয়ার জটিলতা ও পদ্ধতির জন্য সমাধানের রাস্তা অতি জটিলতায় পরিণত হয়েছে। ফলস্বরূপ ব্যক্তি মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছানও সাংঘাতিকভাবে বিঘ্নিত। তার অর্থ এই নয় যে মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে না। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন সমাধান হতে অনেক সময় লাগে, তেমনি তাৎক্ষণিক পর্যায়ে অতি অল্প সময়ের মানুষ তার সমাধানও পেয়ে যান।

তাই মুখ্যমন্ত্রী বর্তমানে তাৎক্ষণিক এবং অতিসত্বর কোন পরিষেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ প্রকল্প চালু করেছেন। তাহলো দুয়ারে সরকার

দুয়ারে সরকার প্রকল্পের বয়স এক বছর হয়নি। এর মধ্যে সারা বাংলায় বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। বালক থেকে বৃদ্ধ সমস্ত স্তরের মানুষের মুখে মুখে এখন দুয়ারে সরকারের নাম।

দুয়ারে সরকারের উদ্দেশ্য-

সরকারের উদ্দেশ্য হলো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সরকারি কার্য সমাধানের প্রকল্প। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সাধারণ মানুষের আমলাদের সামনে মুখোমুখি হওয়ার জড়তার কারণে যে পরিষেবা থেকে বা সমাধান থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে তারই তাৎক্ষণিক জরুরিকালীন সমাধানের লক্ষ্যে এই প্রকল্প।

দুয়ারে সরকার প্রকল্পের অধীনে দুয়ারে সরকার পোর্টালে আরো দুটি প্রকল্প আমরা দেখতে পাই- পাড়ায় সমাধান ও দুয়ারে প্রাণ।

দুয়ারের সরকার প্রকল্পের মধ্যে 100 দিনের কাজ, কিসান বন্ধু, পেনশন সংক্রান্ত সমস্যা, স্বাস্থ্যসাথী, কাস্ট সার্টিফিকেট, খাদ্যশক্তি ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে বিশেষভাবে কার্য করে থাকে। excise.wb.gov.in এই portal+এ গিয়ে দুয়ারের সরকার সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের তথ্য পেতে পারেন।

দুয়ারে সরকার প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য-

দুয়ারের সরকার নাম শুনেই সকলে বুঝতে পারছেন সরকারি সমস্ত কাজকর্ম আপনার বাড়িতে এসেই করে দিয়ে যাবে। বাস্তবে ব্যাপারটা কিন্তু সেরকম নয়। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যকারিতার জন্য সরকার আপনার নিজের এলাকা স্কুলবাড়ি, পঞ্চায়েত বা কোনো খোলামেলা স্থানে ক্যাম্প করা হয়। কোন সমস্যা বা পরিসেবা থেকে বঞ্চিত হলে আপনাকে বাড়ির কাছাকাছি ক্যাম্পে গিয়ে নির্দিষ্ট ফরম নেবেন ও তথ্য দিয়ে আবেদন করবেন। দুয়ারে সরকার ক্যাম্প প্রতিদিন হয়না। নির্দিষ্ট দিন তারিখ ঠিক করে সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়।

রেশন কার্ড স্বাস্থ্যসাথী বিভিন্ন স্কলারশিপ জাতিগত শংসাপত্র ইত্যাদি সমাধান করা দুয়ারে সরকার সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রতিটি বিভাগের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ডেস্ক থাকে। নিয়ন্ত্রিতভাবে লাইন ও বর্তমান কোভিড বিধি মেনে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। আপনাকে অবশ্যই খবর রাখতে হবে কবে কখন কোথায় দুয়ারে সরকার ক্যাম্প আপনার এলাকায় হচ্ছে। তারপর সমস্যা সংক্রান্ত তথ্যাদিসহ নির্দিষ্ট দিনে ক্যাম্পে গিয়ে নির্দিষ্ট ডেস্কে  হাজির হোন। সেখানেই আবেদন গ্রহণ ও সমাধানের জন্য অপেক্ষা করা।

দুয়ারে সরকারে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার( Lokhir Bhander Duare Sarkar)-

16.লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প(Lokhir Bhander Project)-

মুখ্যমন্ত্রী মস্তিষ্কপ্রসূত এক অতি আশ্চর্য সুন্দর নামকরণ। সম্পত্তি, অর্থ, প্রাচুর্য, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের দেবী লক্ষ্মী সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রকল্প। সমস্ত মহিলা সমাজেই এই লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প- এর সাথে যুক্ত হতে পারেন। প্রতিটি মাসে সাধারণ মহিলারা 500 টাকা ও তপশিলি জাতি উপজাতি মহিলারা 1000 টাকা করে পাবেন। তাদের হাত খরচের টাকা।

মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 এর আগে প্রতিশ্রুতি মত এই মুহূর্তে চলমান একটি প্রকল্প। আগামী দিনে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প জনপ্রিয়তা অর্জন করবে আশা করা যায়।

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প কাদের জন্য?-

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প- এর অধীনে সকল মহিলা অন্তর্ভুক্ত হলেও কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। যেমন- মহিলা যেন সরকারি অন্যান্য ভাতা বা লাভবান প্রকল্পের জড়িত না থাকেন। মহিলাকে অবশ্যই 25 থেকে 60 বছর বয়সের মধ্যে থাকতে হবে। মহিলা বা তার স্বামী পেনশন পেলে এ প্রকল্পের অধীনে আসবেন না। মহিলা তার স্বামীর সরকারি, সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত কোন সংস্থার অধীনে চাকুরীজীবি হলে এ প্রকল্পের আওতায় আসবেন না। মহিলা অবশ্যই নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে।

কিভাবে আবেদন করবেন?

এই মুহূর্তে দুয়ারে সরকার প্রকল্প চলছে। আপনি অবশ্যই আপনার এলাকার কবে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প হবে খোঁজ নিয়ে দেখুন। পঞ্চায়েত বা মিউনিসিপালিটি অফিসে বা excise.gov.in সাইট থেকেও আপডেট পেতে পারেন

ক্যাম্পে বিনামূল্যে লক্ষীর ভান্ডার এর ফরম দেওয়া হয়। আধার, ব্যাংক একাউন্ট, ছবি নিয়ে সেখানে যান। প্রয়োজনীয় তথ্যাদি প্রমান পত্র গুলির ফরমের সাথে সংযুক্ত করুন। যথাযথভাবে ফর্ম ফিলাপ করে জমা দিন। 

Read More-

বি:দ্র:-

দুয়ারে সরকার প্রকল্পের মধ্যে অন্যান্য যে সমস্ত প্রকল্প রয়েছে এই মুহূর্তে সেই প্রকল্পগুলি বাদ দিয়ে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের উপর সরকার বেশি জোর দিচ্ছেন। তাই লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য ক্যাম্পে যোগাযোগ করলে আপনার সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে ও লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের সত্ত্বর সুবিধা পাবেন।

সরকারি প্রকল্পগুলি(Projects of W.B. Govt.) সংক্ষিপ্ত পরিচয়, বৈশিষ্ট্য কিভাবে প্রকল্পগুলি সুবিধা পেতে পারেন তা বলা হলেও সমস্ত ক্ষেত্রেই যে সকল মানুষ একই ভাবে সুবিধা পাচ্ছেন তা নয়। কেউ হয়তো পাচ্ছেন, কেউ পাচ্ছেন না। অর্থাৎ প্রকল্পগুলির ফলাফল সকলের কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। ফলস্বরূপ সমালোচনা হতে পারে। আপনাদের প্রশ্ন ও সমালোচনামূলক মন্তব্যগুলি মন্তব্য বক্সে লিখে আমাদের পাঠান। সকলের মিলিত সমালোচনায় আমাদের সমৃদ্ধ করবে আশা রাখি।
ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *