Joint family disadvantages

Joint Family vs Nuclear Family and 21st Century Society | একান্নবর্তী পরিবার ও অনু পরিবার এবং সমাজ

একান্নবর্তী পরিবার(Joint family) অনু পরিবারের মধ্যে(Nuclear Family) দ্বন্দ্ব খুব প্রাচীন নয়। গত তিন দশকের মধ্যেই এর জন্ম। অত্যাধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার, জাতিগত পেশা পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অসাম্য, স্বাধীন মানসিকতার উন্মেষ, সামাজিক মূল্যবোধের পটপরিবর্তন ইত্যাদি নানা কারণবশত একান্নবর্তী পরিবার গুলি ভেঙে বর্তমানে অনু পরিবারে(Nuclear Family) পরিণত হচ্ছে। এই দু’ধরনের পরিবারের কিছু ভালোমন্দ বিষয় আছে। সুবিধা-অসুবিধা সমন্বয়ের পরিবারের স্থায়িত্ব। সুবিধা-অসুবিধা যত বৃদ্ধি পাবে স্থায়িত্বের সময়সীমা বৃদ্ধি পাবে। অসুবিধা ঠিক এর বিপরীত অবস্থা সৃষ্টি করেন- সহজ হিসাব।

তবে মনুষ্য সমাজের আনাচে-কানাচে অংকের মত সূত্রাবলী প্রয়োগ বৃথা। অতি সরল জীবনযাপন ও বাহ্যিক নানান ক্রিয়া-কলাপের প্রয়োগ, আবেগ প্রেম-ভালোবাসা, ঘৃণার দ্বারাও সম্পর্ক ও পরিবারগুলি ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর অথবা উল্টোও হতে পারে।

আজকে আমরা কেবল একান্নবর্তী পরিবার এবং অনু পরিবারের সৃষ্টির কারণ এবং তার ফলাফল গুলির দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করব। সামাজিকভাবেই একান্নবর্তী পরিবারে(Joint Family) জন্ম এবং মৃত্যু। অন্যদিকে অনু পরিবারের(Nuclear Family) জন্ম। স্বভাবতই তর্ক চলবে। চলুক। সমালোচনা ও বিতর্কের মধ্যেই একে অপরের পছন্দ ও গ্রহণযোগ্যতার আধার সৃষ্টি হোক।

অনু পরিবার গুলির সৃষ্টির কারণ | Reasons for Origin of Nuclear Family-

এখন অনু পরিবারগুলির সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করতে গেলে একান্নবর্তী ও অনু পরিবারগুলির সুবিধা-অসুবিধা বিষয়টি খোলাসা করা প্রয়োজন। সুবিধা ও অসুবিধা গুলি ব্যাখ্যা করলেই অনু পরিবারগুলির সৃষ্টির কারণ আমাদের সামনে হাজির হবে। তাই প্রাথমিখভাবে কারণ বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা খুব একটা নেই বললেই মনে হয়। সুবিধা-অসুবিধা বিষয়টি আপেক্ষিক বিষয়। সুবিধা ও অসুবিধা মানুষ হিসেবে ভিন্ন হতে পারে। একজনের সুবিধা অন্যজনের অসুবিধা হওয়াই স্বাভাবিক। তাইতো একান্নবর্তীতার ভাঙ্গন। তবে অসুবিধার তুলনায় সুবিধা বৃহত্তর বিষয়টিকে অনেকেই প্রাধান্য দেন। কিন্তু ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করাটা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না বলেই ভাঙ্গন এবং পৃথক হওয়ার পরিণতির প্রাপ্তি।

একান্নবর্তী পরিবারের অসুবিধা | Joint Family Disadvantages

কর্তা কেন্দ্রিক পরিবার-

একান্নবর্তী পরিবার গুলো মূলত কর্তা কেন্দ্রিক‌ অর্থাৎ জ্যেষ্ঠ একজনের উপরেই দায়িত্ব বর্তায়। পরিবারের সমস্ত রকম অনুষ্ঠান, খাওয়া-দাওয়া, শিক্ষা, কর্ম বিভাজন কর্তার সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নিতে হয়। পরিবারের কর্তা বেশিরভাগ সমস্যা সমাধান বা অন্যান্য যেকোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে নিজের হাতে রাখেন।

মতের অমিল-

কর্তা কেন্দ্রিক পরিবার পরিচালনায় অন্যান্য কম বয়সী সদস্যদের বিরম্বনায় ফেলে। অন্যান্য সদস্যরা স্বাধীনভাবে কোন কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা মতামত দিলেও কনিষ্ঠ জনের মতামত বা সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেয় না। স্বভাবতই সদস্যদের মধ্যে মতের অমিল লক্ষ্য করা যায়।

অশান্তি সৃষ্টি-

বয়োজ্যেষ্ঠ এবং কনিষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে স্বাধীনচেতা মনোভাবের জন্য অথবা সিদ্ধান্ত ও মতের অমিলের জন্য কখনো কখনো সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা পর্যন্ত গড়ায়। বাকবিতন্ডা কালক্রমে সেই পরিবারের মধ্যে অশান্তি নিয়ে আসে।

এক দু’জনের উপর সংসার খরচ-

একদিকে সদস্য সংখ্যা বেশি অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রোজগারের অসাম্য থাকলে বেশি রোজগারের সদস্যের উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়। সংসার পরিচালনার জন্য বেশিরভাগ আর্থিক খরচ পরিবারের সমস্ত সদস্য বেশি রোজগার করেন তাদের উপর দিয়ে বর্তায়। সদস্যদের মধ্যে উদার মানসিকতা থাকলে অশান্তি বা ঝামেলা সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বর্তমান সমাজে এইধরনের পরিবারের সংখ্যা খুব কম।

মহিলাদের কাজের ক্ষেত্র-

একান্নবর্তী পরিবারের অন্য আরেক অসুবিধা হলো পরিবারের মহিলা সদস্যদের সাংসারিক কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি। পাওয়া সমস্ত মহিলারাই সকাল থেকে চা তৈরি থেকে শুরু করে ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, রান্না, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খবরা-খবর নেওয়া, শারীরিক অসুস্থতা, সেবা ইত্যাদি থেকে মধ্যরাত্রিতে ঘুমোতে যাওয়া, সারাদিনের সময়সূচির মধ্যে নিজেদের অবসর যাপনের বা বিনোদনের সময় থাকেনা।

সখ আহ্লাদ-

পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে মহিলা সদস্যদের শখ-আহ্লাদ বা অবসর সময় কাটানোর, আমোদ-প্রমোদের জন্য বাড়ির কর্তা দের কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়া যায় না। একান্নবর্তী পরিবার গুলো সাধারণত রক্ষণশীল হয়ে থাকে। রক্ষণশীলতা পরিবারের সমস্ত সদস্যদের একসূত্রে গেঁথে রাখার চেষ্টায় অবতীর্ণ হয়। স্বভাবতই বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল রেখে আমোদ-প্রমোদের সুযোগ আসে না।

শিক্ষাব্যবস্থা-

শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীদের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিও একান্নবর্তী পরিবার গুলি এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা ভূমিকা গ্রহণ করে। যেহেতুসমস্ত শিশু সদস্যরা একটি ছাতার তলে রয়েছে, সেহেতু প্রত্যেকের জন্যেই একই ধরনের শিক্ষার মাধ্যম বা পন্থা গ্রহণ করা হয়। একই পরিবারের মধ্যেই কেউ কেউ সাধারণ মানের বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করবে বা অন্যজন বিশেষ কোন বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে এই বিষয়টি পরিবার পরিচালকদের কাছে দৃষ্টিকটু বলে মনে হয়। তাই সমমানের বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডির মধ্যে থেকেই ছেলেমেয়েদের মধ্যে শিক্ষা বণ্টিত হয়।

একান্নবর্তী পরিবারের সুবিধা | Joint Family Advantages-

একান্নবর্তী পরিবারে উপরিক্ত অসুবিধা গুলি থাকলেও কতগুলি সার্বিক সুবিধাকে অস্বীকার করা যায় না। এই সুবিধাগুলি অতি প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় এক শক্তিশালী পারিবারিক সমাজ তথা বৃহত্তম সমাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছিল। নিচের সুবিধাগুলি তার প্রমাণ দেবে।

ভালোবাসা বিশ্বাস বন্ধন- 

ভালোবাসা বিশ্বাস বন্ধন একান্নবর্তী পরিবার গুলির এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রাচীনকাল থেকেই পরিবারের সমস্ত সদস্যরা একটি ছাতার তলায় বসবাস করার ফলে তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় ভালোবাসা, একতা, বিশ্বাস এবং অটুট বন্ধন। যার মাধ্যমে একটি একান্নবর্তী পরিবার তার অস্তিত্ব বজায় রেখে চলে।

শিশুদের মানুষ করার সুবিধা-

সদ্যোজাত শিশুকে তার আদর-যত্ন সেবা শুশ্রূষা করার কোন অভাব হয়না। পরিবারের সমস্ত সদস্য স্নেহ, আদর, যত্ন দিয়ে তাকে বড় করে তোলে। মা-বাবার ক্ষেত্রে এ এক চরম পাওনা। একটি বাচ্চাকে বড় করার ক্ষেত্রে, মানুষ করার ক্ষেত্রে এককভাবে কত কষ্ট, যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়, কত সময় দিতে হয়, তা কারও অজানা নয়। কিন্তু একান্নবর্তী পরিবারের মধ্যে একটি শিশুর আদর, যত্নের কোন ত্রুটি থাকে না। বয়োজ্যেষ্ঠরা কোলে পিঠে করে সেই শিশুকে বড় করে তোলেন।

একতা-

একতা হলো একান্নবর্তী পরিবারের অন্য আরেক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। প্রত্যেক সদস্যরা একে অপরের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধার সঙ্গে জীবন যাপন করে। তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় এক অটুট বন্ধন এবং একতা। Unity is Strength Divided We Fall এই নীতির উপর বিশ্বাস করে একান্নবর্তী পরিবার গুলো টিকে থাকে। ওই পরিবারের ওপর বাইরের অন্য কোনো ব্যক্তির ক্রোধ তাদের উপর আক্রমণ করার সুযোগ পায়না। কেননা একান্নবর্তী পরিবারের সদস্যরা মিলিত হবে সেই সমস্যাগুলো সমাধান করে এবং তাদের শক্তিকে ধরে রাখার চেষ্টা করে।

একাকীত্ব থাকে না-

একান্নবর্তী পরিবারের সদস্যদের কখনোই একাকীত্ব আসে না। এলেও প্রত্যেকটা সদস্য মিলিত ভাবে কোনো সদস্যের একাকীত্ব দূর করার চেষ্টা করে এবং সফল হয়। যেহেতু সমস্ত সদস্যরাই একই সঙ্গে থাকেন তাই সব সময় তাদের মধ্যে বাক্যালাপ, অভিজ্ঞতার পারস্পরিক আদান-প্রদান এবং গল্পগুজব সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন ধরনের উপায় খুব সহজেই বেরিয়ে পড়ে। স্বভাবত সদস্যদের একাকীত্ব ছুঁতে পারে না।

সামাজিকতা-

আমাদের বৃহত্তর সমাজের ছোট্ট দৃষ্টান্ত হলো একান্নবর্তী পরিবার। একটা সমাজে তার স্থায়িত্ব এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য প্রত্যেক সদস্যর যে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তাকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস তার বৈশিষ্ট্য একটি পরিবারের মধ্যে থাকে। ফলস্বরূপ পরিবার থেকে শেখা সামাজিকতা বৃহত্তর সমাজ পর্যন্ত বর্তায় এবং কখনো কখনো তা দেশ পরিচালনার মতো বৃহত্তর ক্ষেত্রেও তার প্রয়োগ দেখা যেতে পারে।

উদার মানসিকতা-

একান্নবর্তী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এক উদার মানসিকতা লক্ষ্য করা যায়। পারিবারিক বিভিন্ন কাজকর্ম অথবা বিভিন্ন জিনিসপত্র বণ্টনের ক্ষেত্রে এই মানসিকতা লক্ষণীয়। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে বস্ত্র, বাসস্থানের বন্টন প্রত্যেক সদস্যদের মধ্যে সমানভাবে ঘটে থাকে। অথবা সামান্য কম-বেশির মধ্যেও প্রত্যেকেই তা মেনে নেওয়ার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের চেষ্টা সদস্যরা নিজেদের মধ্যেই বোঝাপড়ার মাধ্যমে করে থাকে। ফলস্বরূপ পরিবারের মধ্যে ঐক্য, বন্ধন, বিশ্বাস, ভালোবাসা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

সকলের আর্থিক সহযোগিতা-

প্রত্যেক সদস্য একান্নবর্তী পরিবারের মধ্যে সংসার পরিচালনা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ ও সহযোগিতা করে থাকে। প্রত্যেকের ক্ষেত্রে কখনোই সমানভাবে আর্থিক সহযোগিতা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। কেননা প্রত্যেক সদস্যের রোজগারের উৎস এবং পরিমাণ সমান হয় না। কিন্তু যেহেতু পরিবারটি ভালোবাসা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, একতা, বন্ধনের মধ্যে অবস্থান করে, সেহেতু লাভ-ক্ষতির হিসাবটাও সকলেই সমানভাবে আদান-প্রদান করে। বৃহত্তর সমাজের ক্ষেত্রে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এবার আসা যাক একান্নবর্তী পরিবার গুলির ভাঙনের কারণ। অথবা অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়ার কারণে। উল্টোদিকে অনু পরিবারগুলির সৃষ্টির কারণ নিয়ে কিছু আলাপচারিতা।

একান্নবর্তী পরিবারগুলির অসুবিধা গুলি অনু পরিবারগুলির সুবিধা। আবার একান্নবর্তী পরিবার গুলি সুবিধাগুলি অনু পরিবারগুলির ক্ষেত্রে অসুবিধার সৃষ্টি করে। এরই সূত্র ধরে আমরা যদি একান্নবর্তী পরিবার গুলি ভাঙ্গনের কারণ বিশ্লেষণ করি স্বাভাবিকভাবেই অনু পরিবারগুলি সৃষ্টির কারনগুলো আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠবে।

Read more- মা না হওয়া নারী।

কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক-

আর্থিক কারণ-

অর্থই অনর্থের মূল। অর্থের অসামঞ্জস্য এবং তার বন্টন একান্নবর্তী পরিবার গুলি ভাঙ্গনের অন্যতম মূল কারণ হিসেবে বলা যায়। একই পরিবারের অসংখ্য সদস্য এবং তাদের রোজগারের পরিমাণ যখনই অসামঞ্জস্য হয়ে পড়ে তখনই যে সদস্য বেশি রোজগার করে তার ওপর আর্থিক দায়ভার বোঝা বেশি করে চেপে যায়। আর তখনই সেই সদস্য তার স্ত্রী, তার মা-বাবা এবং সন্তানদের মধ্যে এক বিরূপ মানসিকতা সৃষ্টি হয়। সেই সদস্য, তাকে ঘিরে অশান্তি সৃষ্টি হয়ে ওঠে। তার মনে এ ধরনের প্রশ্ন উদয় না হলেও,  সদস্যের মধ্যে কোন একটা উৎস থেকে অসামঞ্জস্য যোগদানকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হয়। আর তখনই একান্নবর্তী পরিবার ছেড়ে ভিন্ন কোন স্থানে অনু পরিবার সৃষ্টির চেষ্টা বাস্তবে পরিণত হয়।

স্বাধীনতা-

একান্নবর্তী পরিবার গুলি ভাঙ্গনের এ এক অন্যতম কারণ। পরিবারটি যেহেতু কর্তাকেন্দ্রিক অথবা বলা যেতে পারে বয়স জ্যেষ্ঠ কেন্দ্রিক, তাই রক্ষণশীলতা পরিবারগুলোর মধ্যে বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। স্বভাবতই তরুণ সদস্যদের মধ্যে বর্তমান সময় উপযোগী স্বাধীনতা হরণ করার মত ঘটনা সৃষ্টি হয়। তরুণ সদস্যরা বহির্জগতের সঙ্গে মেলামেশা করার অভিলাষী সর্বদা চেষ্টা করে থাকে। জ্যেষ্ঠ সদস্য তার চোখে তা দৃষ্টিকটু বা অশালীন বলে মনে হয়। এখান থেকে সৃষ্টি হয় তর্ক-বিতর্ক অবশেষে ভাঙ্গন।

সমস্ত ক্ষেত্রেই কম বয়সী সদস্যরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মতামত, জিনিসপত্রের ব্যবহার আমোদপ্রমোদ এবং বিনোদনের বিভিন্ন বিষয়গুলি উপভোগ করার চেষ্টা করেন। এখান থেকে সৃষ্টি হয় অশান্তির বাতাবরণ। অবশেষে ভাঙ্গনে তার পরিসমাপ্তি ঘটে।

সন্তানদের শিক্ষার ক্ষেত্রে-

একান্নবর্তী পরিবারের কোন সদস্যের রোজগার বেশি। কিন্তু তার সন্তানরা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সাধারণ বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু সেই সন্তানের পিতা মাতা চান তার শিশুটিকে কোন নামকরা বিদ্যালয় অথবা মহাবিদ্যালয় বা ভিন্ন ধরনের কোনো শিক্ষা প্রদান করতে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বা কর্তার এই ধরনের সিদ্ধান্তকে একেবারেই গুরুত্ব দেন না। কিন্তু সন্তানের মা বাবার অন্য কোন বিদ্যালয়ে পড়ানোর জন্য আর্থিক সামর্থ্য থাকলেও বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হওয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে এনে অনু পরিবার গঠনের পথকে মসৃণ করে।

আরো বিভিন্ন কারণে একান্নবর্তী পরিবার গুলির ভাঙ্গন, অনু পরিবারগুলির সৃষ্টির পেছনে অবস্থান করলেও মূলত উপরোক্ত তিনটি কারণের জন্য একান্নবর্তী পরিবার গুলির ভাঙ্গন সৃষ্টি এবং অনু পরিবারগুলির জন্ম।

তাছাড়াও অন্য কারণ হিসেবে রক্ষণশীলতা থেকে মুক্তি এবং অত্যাধুনিক জীবনযাপন ও ভোগবিলাসী মনোভাব একান্নবর্তী পরিবার গুলিকে ভাঙনের দিকে নিয়ে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *