Labour

Is the word ‘Labour’ Dishonor in Bengali? | বাংলায় ‘লেবার’ বা ‘শ্রমিক’ শব্দটি কি অপমানজনক?

আমরা প্রায়শই ‘Labour’ শব্দটি কথ্য ভাষায় ব্যবহার করি। যার বাংলা অর্থ শ্রম অথবা একে শ্রমিক হিসেবেও ব্যবহার করি। কোন অসুবিধা নেই। অর্থ বোধগম্যতাকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য লেবার হিসেবে ব্যবহার অসুবিধার কথা নয়।

কিছু কিছু শব্দের প্রয়োগের ক্ষেত্রে, কাকে বা কোন ব্যক্তির জন্য ব্যবহার করছি সেটা ভীষণভাবে নাড়া দেয়। আমরা বলি আজ লেবার পেলাম না। কাজ বন্ধ। বাড়িতে প্লাস্টার হচ্ছে, গাঁথনি হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু লেবার শব্দটি তখনই অসুবিধার সৃষ্টি করে যখন দেখি সেটা আমার নিজের ক্ষেত্রে অন্য কেউ প্রয়োগ করে। তখন মনে হয় তার গালে ঠাস ঠাস করে দুটো থাপ্পর মারি। নিজেকে খুবই অপমানিত মনে হয়, ছোট মনে হয়। আচ্ছা আপনারও কি তাই মনে হয়?

ভাই ছোট মনে হওয়ার বা অসম্মানিত হওয়ার কোন ব্যাপার নয়। আমি আমার নিজের যে কথাগুলো বললাম, ওগুলোর সবই মিথ্যে কথা। কখনোই নিজেকে অপমানিত বা অসম্মানিত বোধ করিনা।

Labour বা শ্রমিক শব্দটি ব্যবহারে কেন অপমানিত বোধ করবো না তার কারণ-

কারণ যে লেবার দেয় তাকে Labour বলাটা যেমন অপরাধ নয়, Labour হিসেবে এটা শোনাও অপমানিত বা লজ্জিত হওয়ার নয়।

Labour যার অন্য একটি ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Work. Work থেকে Worker, Labour থেকে Labourer হয়। কিন্তু আমরা লেবার বলতেই বেশি অভ্যস্ত। Work অর্থে কর্ম। Worker বলতে কর্মী।

Labour শ্রম, Labourer শ্রমিক। এখন Worker/Labourer শব্দটি আইটি সেক্টরে কর্মরত কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে তিনি অপমানিত বোধ করবেন। একজন কলেজ/ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে প্রয়োগ করলে তিনি অপমানিত বোধ করবেন, অসম্মানিত বোধ করবেন।

অপমানিত বোধ করার পেছনের কারণ | Why Dishonor-

লেবার বা ওয়ার্কার শব্দগুলি আমরা কেবলমাত্র মাঠে-ঘাটে জলকাদায় বালি সিমেন্ট এ কাজ করা লোকদের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার করি। স্বাভাবিকভাবে মনে প্রশ্ন আসে যে শব্দ একেবারে নিচু তলার শ্রমিকদের জন্য ব্যবহার হয় সেই শব্দ কেন কর্পোরেট বা সমাজ সেবায় যুক্ত মানুষদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করব?

যার অর্থ এই দাঁড়ায় শব্দগত কৌলিন্য ও বামনত্ব। আমাদের মনে Worker, Labour বা বাংলায় শ্রমিক শব্দটাও বামনত্বের দশায় ভুগছে। শব্দগুলোর মধ্যে মান-মর্যাদার লেশমাত্র অবশিষ্ট রাখছি না। এর বদলে যদি Employee, Service Holder ইত্যাদি ইংরেজি শব্দগুলো ব্যবহার করি আমরা বেশ প্রীত হই, মানসিক তৃপ্তি বোধ করি।

Worker, Labourer, শ্রমিক শব্দগুলিকে পোস্টমর্টেম করি-

যে ওয়ার্ক করে সে ওয়ার্কার। যে লেবার দেয় সে লেবার। যে শ্রম করে সেই শ্রমিক। সহজ-সরল অর্থ। কোথাও কোনো জটিলতা থাকার কথা নয়।

অর্থাৎ যারা কোন না কোন সংস্থায় বা ব্যক্তির অধীনে বা কোন প্রতিষ্ঠানে শ্রম দেয় সেই শ্রমিক। এর পরিবর্তে সে মজুরি পায়। হতে পারে রোজ পায় অথবা মাসিক অথবা বার্ষিক প্যাকেজ সিস্টেমে। শ্রম সে অবশ্যই দেয়। তবে শ্রমিক বা ওয়ার্কার ডাক শুনতে অসুবিধা কোথায়?

অর্থনীতিতে শ্রমের ক্ষেত্র গুলির শ্রেণীবিভাগ আছে। বোধগম্য করার জন্য নানান পরিভাষায় তাদের সূচিত করা হয়। কাজের ক্ষেত্র গুলিকে অর্থনীতি পাঁচটি শ্রেণীতে বিভক্ত করেছে। যেমন-

  • Primary Economic Activity(Red Collar)
  • Secondary Economic Activity(Blue Collar)
  • Tertiary Economic Activity(Pink Collar)
  • Quaternary Economic Activity(White Collar) এবং
  • Quinary Economic Activity(Golden Collar)

কে কোন ধরনের শ্রমিক এখানে ক্লিক করে জানুন।

এই ক্ষেত্রগুলি শ্রেণীকরণ ও তার সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক শ্রেণী বিভাজন রয়েছে। কাজের ধরন বৈশিষ্ট্য গুলির পার্থক্য আছে। কিন্তু সকল শ্রেণী একটি ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তা হল লেবার অফ ইকনোমিক অ্যাক্টিভিটি। অর্থাৎ অর্থনৈতিক কার্যাবলীর বিভিন্ন ক্ষেত্র ও শ্রমিক শ্রেণী।

শ্রমিক ও মালিক-

শ্রমিকশ্রেণীকে উৎপাদনের এক প্রান্তে রাখলে অন্য প্রান্তে থাকে মালিক পক্ষ। দুইয়ের পারস্পরিক সম্পর্ক আদান-প্রদানের যৌথ সহযোগিতায় উৎপাদন সম্পূর্ণ হয়। সে হিসেবে মালিকও শ্রম দেন। তিনিও শ্রমিক। কিন্তু তাদের ধরন কমান্ড ধর্মী। বিনিয়োগ ও মুনাফার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে বলে তাকে মালিক হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। কিন্তু তিনিও সমগ্র উৎপাদনের সাথে বৃহৎ অংশ জুড়ে থাকেন। শ্রমও দেন।

অর্থাৎ সকল কাজের শ্রেণীবিভাগের মধ্যে উৎপাদন যুক্ত আছে। সে উৎপাদনভিত্তিক হতে পারে বা সেবা, মানবিক উৎপাদনও হতে পারে।

অন্যদিকে শ্রমের বিষয়টাও কায়িক বা শারীরিক পরিশ্রম বা মানসিক পরিশ্রমের সার্থকতায় সৃষ্টি হতে পারে। যে শ্রমিক যে ক্ষেত্রে রয়েছে তার ধরন গুণগত ও পরিমাণগত উৎপাদন, সেবার উপর নির্ভর করে তার পারিশ্রমিক নির্ধারিত হয়। একজন মাঠে-ঘাটে কাজ করার শ্রমিককে সাথে সফটওয়্যার তৈরির শ্রমিকের শ্রমের তুলনা করা বা পারিশ্রমিকের সমতুলনা যুক্তিহীন।

আবার একজন শিক্ষকের সেবা ডাক্তারের সাথে তুলনা করা যায় না। কিংবা একজন পুলিশ কর্মীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এর সমতুলনা দেওয়াও অযৌক্তিক। কিন্তু প্রত্যেকেই শ্রমিক। যে মাসে মিলিয়ন ডলার পারিশ্রমিক পেলেও সে শ্রমিক। আবার কেউ মাসে 100 ডলার পেলেও সে শ্রমিক।

গ্রামে মাঠে কাজ করা রাম কিংবা রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে শ্যামল শ্রমিক। সুন্দরলাল পিচাই শ্রমিক হলেও উভয়ের সমতুলনাও আমাদের কাম্য নয়।

শ্রমিকের পার্থক্য জরুরী-

বোধ, বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা, দক্ষতা, পারদর্শিতা, পেশাদারিত্বের গুরুত্বকে অস্বীকার করা নয়, কিন্তু শ্রমিক হয়েও নিজেকে শ্রমিক না মানার অহংকারও কাম্য নয়।

পূর্বের কথা-

আবার প্রথম কথায় ফিরে আসি। এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কেউ যদি কারোকে লেবার, ওয়ার্কার বা শ্রমিক বলে এতে অপমানিত বা অসম্মানিত হওয়ার কিছু নেই। পৃথিবীর 99 শতাংশ লোকই শ্রমিক। শ্রমের বিনিময়ে পারিশ্রমিক পাওয়া, জীবন-জীবিকার যোগান ধারাবাহিকতাকে রোধ করার ক্ষমতা কারো নেই।

যে মানসিক ধারণা আমাদের মধ্যে ভুলভাবে বদ্ধমূল হয়ে মনে গেথে আছে, তা হলো লেবার, ওয়ার্কার বা শ্রমিক, মজুর বললে কাদামাটি ধুলোবালি মাখা শ্রমিকদের কথা মনের মধ্যে ভাসতে থাকে। নিজেকে সেখানে বসিয়ে ফেলি। কোথায় যেন কৌলিন্য দূর হয়ে সারা গায়ে পাঁক মাখিয়ে দেয় কেউ।

তাহলে কি সত্যি সত্যি নিচু স্তরের শ্রমিকরা প্রকৃতপক্ষেই অপমানজনক ও সম্মানজনক পেশার সঙ্গে যুক্ত? আপনার কি মনে হয়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *