Is Cryptocurrency Legal in India 2022 | ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ভারতীয় সমাজ

Is Cryptocurrency Legal in India

ভারতে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন নিষিদ্ধ, না আইন সিদ্ধ(Is Cryptocurrency Legal in India)? এই ধরনের প্রশ্ন উঠলেই ভারতের 10 কোটির বেশি ক্রিপ্টো ইনভেস্টরদের রাতের ঘুম শেষ হয়ে যায়। এক রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে 10 কোটি, ইউএসএ’তে 2.7 কোটি, নাইজেরিয়ায় 1.3 কোটির বেশি ক্রিপ্টো ইনভেস্টর রয়েছেন। সারা পৃথিবীর মধ্যে ভারত যে একেবারে শীর্ষ স্থানে অবস্থান করছে এটা সহজেই বুঝতে পারছেন। তাইতো স্বাভাবিকভাবেই ইনভেস্টরদের মধ্যে প্রায়শই শুরু হয় এক দ্বদ্ব, এই বুঝি সরকার ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার এবং ইনভেস্টিং বন্ধ করে দিল।

কখনো কখনো অর্থমন্ত্রীর মুখ থেকে শোনা যায়- যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সি সশরীরে সংগ্রহ করা যায় না, তাই এর নিয়ন্ত্রণ প্রাইভেট কোম্পানির হাতে থেকে যাচ্ছে। অর্থাৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি ডিসেন্ট্রলাইজড পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এটি যে প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় সেটি হল ব্লকচেইন মেথড।

কি কি কারণে ক্রিপ্টোকারেন্সি এন্ড রেগুলেশন অফ অফিশিয়াল ডিজিটাল কারেন্সি বিল 2021– এর মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সি রেগুলেট করার প্রয়াস চালানো হওয়ার কথা ছিল এবং সেই সংক্রান্ত বিল আনার কথা বলা হয়েছিল কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেটা অথৈ জলে। পার্লামেন্ট, আর.বি.আই এবং সুপ্রিম কোর্ট এই তিন বিন্দুর ৎসহাবস্থানের ফলেই ক্রিপ্টোকারেন্সি উপরে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কেননা ক্রিপ্টোকারেন্সি বহমান প্রযুক্তিগত একটি জটিল সমীকরণ- সেটা প্রথমে বোঝা দরকার।

ক্রিপ্টোকারেন্সি সত্যিই ভালো কি মন্দ এ বিষয়ক বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানগত দিক দিয়ে নানান বিতর্ক রয়েছে। তাই হয়তো একটি নতুন আধুনিক প্রযুক্তিগত কারেন্সিকে প্রবহমান স্রোতে আনাটা যতই জটিল, সেটাকে বন্ধ করাও ঠিক ততটাই জটিল বলে মনে করছেন।

ভারতবর্ষে ক্রিপ্টোকারেন্সি আইন সিদ্ধ, না বেআইনি(Is Cryptocurrency Legal in India)-

ভারতবর্ষে এখনো পর্যন্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি লিগেল। আবার যেহেতু কোনরকম আইন জারি হয়নি। তাই এ ব্যাপারে দ্বন্দ্ব থেকেই যায়। তবে প্রথমেই বলেছি ভারতে প্রায় দশ কোটির উপর ব্যক্তি ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেড করেন ঊবং সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ট্রেড করার বিভিন্ন কোম্পানি। তারা তাদের ওয়েবসাইট অথবা অ্যাপের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে ইনভেস্ট করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। লিগেল বা ইললিগ্যাল ভাবে এখনো পর্যন্ত তাইদোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে‌। তবে তার আগে জানা দরকার কোন কোন দেশ ক্রিপ্টোকারেন্সিকে লিগেল বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি স্বীকৃত দেশ(The Countries where Cryptocurrency is Legal)-

আরো পড়ুন

মহিলাদের প্রতি প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি
সমাজে টি ভি সিরিয়ালের প্রভাব
বয়স্ক মা-বাবাকে অবহেলা- ভয়ানক অপরাধ
একান্নবর্তী পরিবার ও অনু পরিবার এবং সমাজ
ভারতীয় সমাজে নারীর অবস্থান
আঁতুড়ঘরে 1 মাস
বিধবা বিবাহ
ভারতের বিস্ময় কন্যা জাহ্নবী পানোয়ার

এল সালভাডোর-

এল সালভাডোর এমন একটি দেশ যে দেশের সরকার ক্রিপ্টোকারেন্সিকে পুরোপুরি লিগেল বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। যে কোন মানুষজন ক্রিপ্টো কারেন্সিকে কারেন্সি বা কমোডিটি হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে। তাছাড়া বাহমাতেও ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ বলে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাহমাতেও বিটকয়েন ক্যারন্সি হিসেবে কাজ করে।

কেন এল সালভাডোর ক্রিপ্টোকারেন্সির উপর গুরুত্ব দিয়েছে?

বিটকয়েনের পূর্বে ইউ এস ডলার ট্রেডের ক্ষেত্রে সালভাদরে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করত। কিন্তু ক্রিপ্টোকারেন্সির বিট কয়েন আসার পর থেকেই তা লীগেল। এই কয়েন দিয়ে সে দেশের মানুষ যেকোন জিনিসপত্র কেনা বেচা করতে পারেন।

কারণ হিসেবে এদেশে সরকারের মত অনুযায়ী এই দেশ ইকোনমিক রেমিটেন্সের উপর দিয়ে চলে‌। দেশের  বাইরে থাকা জনগণ বাইরে থেকে দেশে প্রচুর পরিমাণে অর্থ প্রদান করে, যা ইকোনমিতে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। তাই সে দেশের ইকোনোমি যথেষ্ট শক্তিশালী হয়। 2020 সালে রেমিটেন্স হিসেবে প্রায় 5.9 বিলিয়ন ডলার ছিল, যা এদেশের টোটাল জিডিপি-র এক পঞ্চমাংশ (⅕)ছিল। এর মধ্যে 400 মিলিয়ন ডলার ট্রানজেকশন চার্জ থেকে উঠে এসেছিল।

কারন ওয়েস্টার্ন উনিয়ন, মানিগ্রাম, মানি ট্রান্সফারের বাইরে টাকা পাঠাতে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ধার্য করে। কিন্তু বিটকয়েনের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হলে কোনো ট্রানজাকশন চার্জ লাগবে না। অর্থাৎ 0 ট্রানজেকশন চার্জ। তাই অন্যান্য দেশ থেকে সালভাডোর জনগণ সালভাডোরে টাকা পাঠাতে পারবে নির্দ্বিধায়, বিনা খরচে।

সে দেশের প্রেসিডেন্ট নাইব বাকেলের বক্তব্য- যেহেতু বিটকয়েনের ব্যাপারে এদেশে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তাই অন্যান্য দেশের লোক এখানে এসে মাইনিং করতে পারবে, ইনভেস্ট করবে এবং তাদের দেশে ইকোনমিক উন্নতি হবে। ক্রিপ্টো ট্রেডারাও আসবে। পৃথিবীর মধ্যে বিটকয়েন শহর হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা হলো এর উদ্দেশ্য।

কোন কোন দেশে আধা লীগেল(The countries where Cryptocurrency is Semi Lega)-

পৃথিবীর এমন কিছু কিছু দেশ রয়েছে যে দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সির বিটকয়েনকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

যেমন ইউএসএ টেন্ডার করা যায় না অর্থাৎ কারেন্সি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু এটি এসেট ব্যবহার করা যায়। জার্মানিতে লীগেল ট্যাক্স টেক্স বসে। জার্মানিতে ব্যাংকে ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচা করা হয়। ইউরোপে কিছু কিছু দেশে জিএসটি চার্জ করা হয় না। আবার অস্ট্রেলিয়াতে লাভের অঙ্কের উপর ট্যাক্স বসানো হয়। তুর্কিতে দিয়ে ট্রেড করা যায় কিন্তু ব্যাংকের ক্ষেত্রে পুরোপুরি ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যান।

কোন কোন দেশে সম্পূর্ণ ব্যান(Fully Cryptocurrency Banned Countries)-

পৃথিবীতে কয়েকটি দেশ রয়েছে যে দেশগুলোতে ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। দেশ গুলি হল-চীন, আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, নেপাল, মিশর, ইরাক, মরক্কো, কাতার, তিউনিসিয়া ইত্যাদি ইত্যাদি(সোর্স-১, সোর্স-২)।

ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে চীনের খবর(Cryptocurrency in China)-

4 বছর আগে 2013 সাল থেকে চীন প্রকাশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। 2013 সালে তারা বিটকয়েন ব্যাংকিং লেনদেনের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এবং অবশেষে 2017 সালের সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। কোন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে বিটকয়েন লেনদেন হলেও পেমেন্ট গেটওয়ে গুলিকে বন্ধ করে দেওয়ার আইন চালু হয়েছে। বাইন্যান্স কোম্পানি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কোম্পানি চায়নাতে স্থাপন করে। কিন্তু 2017 সালে চীনের নিষেধাজ্ঞার জন্য তা স্থানান্তরিত হয় কিয়েমেন দ্বীপে। বর্তমানে চায়নাতে ক্রিপ্টোকারেন্সি রুট স্টাম্প, বিটকয়েন মাইনিং, হোলসেল সম্পূর্ণভাবে নিষেধ। এমনকি চীনের বর্ডারের বাইরেও জনসাধারণকে প্রলোভন বা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ(সোর্স)।

চীনের ফলাফল-

এপ্রিল 2021 এর রিপোর্ট অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশ বিটকয়েন মাইনিং করা হতো চীনে। কিন্তু জুলাই 2021 থেকে বিটকয়েন মাইনিং করা লোকেরা চীনের বাইরে থেকে মাইনিং করতে শুরু করে। সেসব মাইনিং কাজাখস্তান, ইউএসএ, কানাডা থেকে শুরু হয়। অথবা যারা বিটকয়েন লেনদেন বা ব্যবসা করত তারা তাদের ক্যাসেট বিক্রি করে দেয় অথবা এই সংস্থান ছেড়ে দিয়ে অন্য কোন কাজে লিপ্ত হয়েছে।

চীনের ক্ষেত্রে বিটকয়েন নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ-

চীন চায়না সেখানে বিট কয়েনের মতো কোন ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা করুক। যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সি ডিসেন্ত্রালাইজড পদ্ধতি, তাই তারা চায়না তাদেরকে কেউ কন্ট্রোল করুক বা তারা কারও অধীনে নিয়ন্ত্রিত হোক। এটা তারা কোনোদিনও মেনে নিতে পারেনি। তারা ডিসেন্ত্রালাইজড পদ্ধতি ওপর নিজেদের সপে দিতে চায় না। সমস্ত বিষয়ের উপর তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় এবং তা করতে তারা বদ্ধপরিকর।

অন্যদিকে চীন সরকার নিজেরাই government-backed ডিজিটাল কারেন্সি তৈরি করেছে। তাই তারা চায়না বিটকয়েন তাদের সঙ্গে পাল্লা দিক। চীন সরকার জনসাধারণকে বলে যে বিটকয়েন জনসমাজের কিছু খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে একটা সাধারন সত্যতা থাকলেও সম্পূর্ন নয়। যেমন ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণ বৈদ্যুতিক খরচ হয় এবং তা পরিবেশের উপর প্রভাব রয়েছে। যা খুবই মারাত্মক। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে বলে যে, এটা কোন যুক্তি নির্ভর যুক্তি নয়। তাদের আসল যুক্তি হলো- সারা পৃথিবীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

ক্রিপ্টোকারেন্সি- বিটকয়েন ব্যান করার ফল(Effect for Banning Cryptocurrency)-

যে সমস্ত দেশ ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে, সত্যি সত্যি তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা সে দেশ থেকে অন্য দেশে চলে গিয়ে ইকোনমিতে আঘাত হেনেছে। ইনোভেশন বন্ধ হয়ে গেছে। প্রচলিত কোন পদ্ধতিকে উন্নতি করার জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ করে কিছু লাভ হবে বলে মনে হয় না। কেননা শিক্ষা, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সিস্টেমে চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে। তাছাড়া এ থেকে লাভের অংক সরকারি ট্যাক্স হিসাবে জমা পড়বে। যেমন চীন থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা অন্য দেশে চলে যাওয়াই, সেখান থেকে ট্যাক্স তোলার আর কোনো রাস্তা নেই। যেখানে ইউএসএ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়াতে ট্যাক্স এবং long-term ক্রিপ্ত গেইন ট্যাক্স তাদের যথেষ্ট সাহায্য করছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে ক্ষতির দিক-

Ransomware attack- মে’ 2021 ইউ এস এ এর লার্জেস্ট পাইপ লাইন কলোনিয়াল পাইপলাইনের উপর Ransomware অ্যাটাক হয়েছিল এবং তার কন্ট্রোল পুরোপুরি হ্যাকারদের হাতে চলে গিয়েছিল। হ্যাকাররা পাইপলাইনের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মুক্তিপণ হিসেবে সরকারের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে বিটকয়েন ধার্য চেয়েছিল।

এদিকে একটু সাধারণ ধারণার সূত্রপাত হয় যে, যে সমস্ত হ্যাকাররা ডিজিটাল কারেন্সি মাধ্যমে মুক্তিপণ ধার্য করে, তাদের ধরা খুব কঠিন। যেহেতু ব্লকচাইন এর মাধ্যমে ডিজিটাল কারেন্সি সিস্টেম পরিচালিত হয়, তাই তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। কে কোন আইপি অ্যাড্রেস থেকে বিটকয়েন পাঠাচ্ছে অথবা কে কোন আইপি অ্যাড্রেস থেকে তা গ্রহণ করছে, তা শনাক্ত করা কেবল কঠিন কাজ নয়, বরং একেবারেই অসম্ভব। কিন্তু ইউএসএ সরকার লার্জেস্ট পাইপলাইন হ্যাকারদের ট্রেস করে ও ধরে ফেলে। অতএব সাধারণ লোকের, সাধারণ ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো যে, ক্রিপ্টোকারেন্সি অপারেটরদের ধরা খুব মুশকিল। বলা যেতে পারে ইউএসএ’র ইনফ্রাস্ট্রাকচার অবশ্য খুবই উন্নত ধরনের, যা অন্যান্য দেশের পক্ষে সম্ভব হয়তো হবে না।

ভারতের ক্ষেত্রে-

ভারতের মতো দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে যথেষ্ট দ্বন্দ্ব রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংস্থার মধ্যে তর্ক বিতর্ক চলছে। আর বি আই 2018 তে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যান করেছিল। কিন্তু শেষে সুপ্রিম কোর্টে মামলা উঠলে, 2020 সালের মার্চ মাসে সেই ব্যানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। সুপ্রিম কোর্ট বলে যে, ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো এক বিশাল ব্যবসায়িক সুযোগ। তার থেকে সরকার এবং মানুষের উপকার নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তা শেষ করার প্রচেষ্টা চলছে। এটা ভবিষ্যতে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। ক্রিপ্টোকারেন্সি বিভিন্ন ক্ষতিকারক দিক রয়েছে। কিন্তু ব্যান করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ক্ষতিকারক দিক গুলি খতিয়ে দেখে তার প্রতিকারের ব্যবস্থা বা পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে, রেগুলেশনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন আছে।

ভারত সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায় শুনে এ বিষয়ে সামান্য হলেও বোঝার চেষ্টা করেছে। তাই আইন-কানুন আনার চেষ্টা করছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি উপর রেগুলেশন আমার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। কিরকম নিয়ম বা আইন করলে ক্ষতিকারক প্রভাব গুলি থেকে মুক্তি পেয়ে নতুন অর্থনীতির পন্থা উন্মেষ সম্ভব হবে, সেটা এখনো অদূর ভবিষ্যতে বলবে। 

Enforcement directorate of India এক ঘোষণা অনুযায়ী- গত এক বছরে 4 হাজার কোটি টাকা বাইরের দেশে মানি লন্ডারিং অর্থাৎ অর্থপাচার করা হয়েছে। এর থেকে একটি সাধারণ ধারণা হতে পারে যে মানিলন্ডারিং, হ্যাকারদের দ্বারা আক্রমণ, সন্ত্রাসবাদীদের হাতে অর্থ মজুদ হবার সম্ভাবনা এক মারাত্মক ক্ষতিকারক দিক হতে পারে। এই কারণের জন্য দেশের সরকারকে ক্রিপ্টোকারেন্সি উপর নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-কানুন আনা খুব প্রয়োজন।

তাই বলা যেতে পারে রানসমওয়ার আক্রমণ এবং বিভিন্ন ধরনের স্ক্যাম ক্রিপ্টোকারেন্সি দ্বারা ঘটছে। তবে এগুলি কেওয়াইসি দ্বারা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রনে আনা যেতে পারে এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি একাউন্টগুলোকে নিরাপদে রাখা যেতে পারে।

উপসংহার-

তবে আগত সময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি যথেষ্ট অর্থনৈতিক সুবিধা রয়েছে, যেটা সমাজ ও দেশের পক্ষে ভাল হবে বলে মনে হয়। তাই ভারতের ক্ষেত্রে কেমন ধরনের রেগুলেশন চালু করা যায়, তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তাভাবনা প্রয়োজন রয়েছে। তবে এক্সট্রিম লেভেলে সবকিছুর ওপর ছাড়পত্র দিলেও ক্ষতি হবার সম্ভাবনা বেশি। এল সালভাডোর যে সহজ সরল আইন চালু করেছে, ভারত ক্ষেত্রে হয়তো সেটা সম্ভব হবেনা। কারণ এখনও পর্যন্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্বন্ধে আমরা সম্পূর্ণভাবে জানতে ও বুঝতে পারিনি। খুব সহজ-সরল খোলাখুলি আইন চালু করলে ভবিষ্যতে কি রকম মারাত্মক প্রভাব পড়বে তা আমাদের জানা নেই।

তবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়ার মতো আইন চালু হলেও ভারতের মতো দেশের জন্য শুফল হতে পারে। শুধু সরকার নয়, জনগণেরও এই বিষয়ে যথেষ্ট ভূমিকা থাকা জরুরি। তার আগে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লক চেন সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রপ্ত করা উচিত। এ বিষয়ে আপনাদের মতামত জরুরি। ধন্যবাদ।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.