International Day of Peace 2021 in Bengali | বিশ্ব শান্তি দিবস 2021

বিশ্ব শান্তি দিবস 2021(The International Day of peace 2021) আসন্ন প্রায়। আদিম সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থার অন্তিম দশায় নিজের অস্তিত্ব রক্ষা, শাসন-শোষণের জন্মের সাথে সাথে সুখের খোঁজে শান্তির বিলীন হওয়ার ইতিহাস আমাদের সকলেরই জানা। জানা-অজানার ভান্ডার মানুষ বিশেষে পার্থক্য সূচিত করে। তবে জনমানষে প্রচলিত বাক্যটি প্রায়ই শোনা যায়- ‘সুখের চেয়ে শান্তি ভালো।’ কখনো কখনো শোনা যায়- ‘সুখ স্বপনে, শান্তি শ্মশানে।’ অনেকের মতে- এতো প্রবচন বাক্য। বাস্তবের সাথে এর কোন মিল নেই। তারা বলতে পারেন, ভয়ের স্বপ্ন কি সুখ দেবে? গভীর রাতে শ্মশানে সাধারণ মানুষ থাকতে পারে? এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু এক্ষণে সমাজে দৈনন্দিন জীবনযাপনের সুখ-শান্তির সাধারণ বৈশিষ্ট্য গুলিকে এড়িয়ে গেলে চলবে না।

বিশ্ব শান্তি দিবস 2021 এর প্রাক্কালে সুখ-শান্তির আকাঙ্খা-

মানুষ শান্তিও চায়, আবার সুখ পেতেও দিন রাত এক করতেও পিছপা হয় না।। অথবা সুখের সাথে শান্তির আকাঙ্ক্ষী। অর্থাৎ এই দুই অবস্থার জন্য চিরকালই কামনা করা, মানুষের সাধারণ ধর্ম।

সাধারণভাবে বলা যেতে পারে সুখ-শান্তি একে অপরের পরিপূরক। যে সুখী সে শান্তি পেতে পারে, শান্তিতে থাকতে পারে। আবার শান্তি না পেতেও পারে। অশান্তিময় জীবন থেকে নিস্তার পাওয়া খুব মুশকিল হয়ে পড়ে। তবে যিনি শান্তির সঙ্গে সহাবস্থান করেন, তিনি সুখী মানুষ।

সুখ-শান্তি দুটি অপার্থিব, পরম অনির্বাচনীয় অনুভূতি, যা জীবনযাপনে, জীবনশৈলীতে সহায়ক ভূমিকা গ্রহণ করে। সাধারণ মানুষের মনে সুখ সম্বন্ধে সাধারণ ধারণা হলো- সুখের সাথে অর্থের সম্পর্ক নিবীড়। অর্থাৎ অর্থ থাকলে তার জীবনযাপন, জীবন পাল্টে যায়। সে সুখী জীবনযাপনে নিজেকে নিয়োজিত করে বলা যেতে পারে। সে সেই মুহূর্তে শান্তির সঙ্গে সহাবস্থানে আসীন।

আবার অন্যভাবে বলা যায় আর্থিক সুখ যে শান্তি দেবে তাও নিশ্চিত নয়। যেমন সাংসারিক গন্ডগোল, পাড়া প্রতিবেশীদের সাথে ঝগরা, বিতন্ডা কোন তর্ক ইত্যাদিতে সেই মানুষ অশান্তিময় জীবন যাপন করতে পারে। অথবা আর্থিক চাহিদার নির্দিষ্ট সীমা রেখা টানা অসম্ভব বলে, তার সাময়িক সুখের সাথে শান্তি বিঘ্নিত হতে বেশি সময় নেবে না। তাই অর্থের চাহিদা সীমারেখা নির্দিষ্ট না থাকলে সুখ পাওয়া সম্ভব নয়। তাই শান্তিও এক অলীক স্বপ্ন।

আমাদের বিপরীতে আর্থিক সীমারেখা তো দূর, যারা অর্থের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করে, তাদের যে ধরনের জীবনযাপন সেখানে শান্তি বিরাজমান হতেই পারে। তবে এধরনের মানুষের সংখ্যা খুবই সীমিত। সাধারণত এ ধরনের মানুষেরা সাংসারিক জীবনের আঙ্গিকে ধরা না দিয়ে, ভবঘুরের জীবনকে বেশি প্রাধান্য দেয়। সাধারণ মানুষের পার্থিব বস্তুর অভাববোধ মানসিক অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রথমেই বলা হলো অর্থের অভাব অথবা অর্থ প্রাচুর্য।

যে মানুষ আজ মাসে 10000 টাকায় সুখী, তার চাহিদাকে 10000 টাকাতেই সে মুহূর্তে ধরা থাকবে এমন স্থির ধারণাকে পোষণ করা বোকামি। কেননা সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে দ্রব্যের মূল্য পরিবর্তন এবং রোজগারের পরিমাণ বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হয়। তাই সুখের ঘরে আঘাতের সাথে সাথে শান্তি ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হয়।

আবার একমাত্র পার্থিব অর্থনৈতিক কারণের সাথে সুখ জড়িত এ কথা বলা যাবে না। অন্যান্য বিষয়গুলিও সুখ নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন- প্রেম, ভালোবাসা, স্নেহ। সংসারে অথবা সংসারের বাইরের স্নেহ, ভালোবাসা, প্রেম সম্পর্কগুলিকে সুখকে সাংঘাতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। স্বামী স্ত্রী পুত্র-কন্যা বন্ধু আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে বিমূর্ত আচরন গুলির বিপরীত স্রোত থেকে মানুষকে সুখ থেকে দূরে রাখে‌। ফলস্বরূপ সেই মানুষ কখনো শান্তিও পায় না।

সুখের সাথে শান্তি সরাসরি যোগাযোগ যেমন আছে তেমনি শান্তিও সুখকে নিয়ন্ত্রণ করে। যে ব্যক্তি সাংসারিক মায়া ছিন্ন করে শান্তিতে আছেন, তিনি সুখী। আবার কোন ব্যক্তি স্ত্রী-পুত্র-কন্যা মা-বাবার সঙ্গে সীমিত চাহিদার মধ্যে নিজেকে শান্তিতে রাখতে পারেন। বলা যেতে পারে তারা নিজেদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের জন্য একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করে তার পরিণতি প্রাপ্তির মধ্যে শান্তি খুঁজে পান।

তবে সুখ-শান্তি চলমান রেখা সরলভাবে চলে না। তা সব সময় ওঠানামা করে। ঢেউ খেলানো আকার ধারণ করে। অথবা তার শীর্ষ ক্রমশ উচ্চমান হতে পারে। আবার ক্রমনিম্ন ধাবমানও অসম্ভব নয়। মানসিক চাহিদার সাথে সার্বিক অপার্থিব বস্তুর যোগান সুখ-শান্তি রেখাকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে- এ কথা পূর্বেই বলা হয়েছে।

আবার এও ঠিক-  সুখ-শান্তি অপার্থিব অনুভূতি গাণিতিক ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে মানসিক আচার আচরণের পরিবর্তন এবং ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তির মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ দ্বারা সুখী-অসুখীর সম্বন্ধে সম্যক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একজন মনোবিজ্ঞানী, মানসিক ডাক্তার, কাউন্সিলর এ ব্যাপারে ব্যক্তি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন।

বিশ্ব শান্তি দিবস 2021(international Day of peace 2021)-

একক মানুষের জীবনযাপনের সাথে অন্য অসংখ্য জীবনযাপন যুক্ত হয়ে তৈরি হয় সামাজিক জীবনযাপন। সামাজিক জীবন যেমন একেঅপরের সংমিশ্রণের নিয়ন্ত্রিত হয়, তেমনি সমাজের মধ্যে শাসন শোষণ এবং রাজনৈতিক স্তরে রাষ্ট্রব্যবস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। একদল চায় ছোট ছোট চাহিদা পূরণে সুখ শান্তিতে থাকতে, অন্য দল শাসন শোষণ ক্ষমতা প্রদানের দলকে বশীভূত করে সুখ পেতে। দু’দলের মধ্যে বিপরীত স্রোত এবং বিতন্ডার মধ্যে সৃষ্টি হয় অসীম যান্ত্রিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে চমকপ্রদ বিভিন্ন নাটুকে ছবি। এই চিত্রনাট্য সম্পূর্ণভাবে এখনো পর্যন্ত শাসন-শোষণের যুক্ত দলিল তৈরি করে নিজের প্রয়োজনে, নিজের সুখের জন্য। কিন্তু শান্তির জন্য চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়। সর্ব সাধারণের মধ্যে শান্তি বিরাজমান হলে শাসন-শোষণের যুক্ত মানুষের সুখ বিঘ্নিত হবে, যা তারা কখনও চাইবেনা।

এই ধরনের শান্তি অশান্তির জন্ম ও নিয়ন্ত্রণ শাসন-শোষণের যুক্ত রাষ্ট্র কর্তৃক সামাজিক ছোট ছোট বাকবিতণ্ডা থেকে কিভাবে তা দাবানলের মত একটি সীমারেখা থেকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে তারও নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রকর্তৃক মদদপুষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দলগুলি দ্বারা সংঘটিত হয়। তা নিয়ে হাঙ্গামা থেকে বিস্ফোরণ, গণহত্যা, ধ্বংসাত্মক লীলাখেলা থেকে দশ হাজার টাকার সুখ শান্তিতে জীবন যাপন করা ব্যক্তিও নিস্তার পায়না।

বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী কখনো রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনের নামে সমাজে সন্ত্রাস সৃষ্টি মাধ্যমে শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে। এই গোষ্ঠীগুলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অথবা অন্য রাষ্ট্রকর্তৃক ইন্ধনে সারা দিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করে। ফলস্বরূপ গণ উচ্ছেদ, গৃহযুদ্ধ সহ অশান্তির সীমা-পরিসীমা থাকে না।

অন্যভাবে রাষ্ট্রে রাজনৈতিক মুনাফা লাভের প্রয়াসে নাটকীয়ভাবে তৃতীয় কোন শক্তির সহায়তাও সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে পারে। বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়ে এক অরাজক অবস্থার সৃষ্টি অমূলক নয়। নাগরিক, অনাগরিক, শরণার্থী সকল সমাজের মধ্যে নেমে আসে অন্ধকার ভীতি। সুখ শান্তি বিঘ্নিত হয়ে সেই শক্তির কাছেই বশ্যতা স্বীকার বা সাহায্য প্রার্থনা বাধ্যতামূলক হয়ে ওঠে‌। রাষ্ট্রই এই পরিস্থিতিতে শান্তি আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ নিজের হাতে ধরে রাখে।

আবার রাজনৈতিক মদদপুষ্ট কারণ সৃষ্টির পেক্ষাপটে সমাজের সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রেণি গুলির মধ্যে একে অপরের প্রতি বিতর্ক থেকে ছোট মারামারি এবং অবশেষে তুমুল হাঙ্গামা, বিস্ফোরণ, হত্যা পর্যন্ত গড়ালে ওই অঞ্চলে নেমে আসে অশান্তি। সেখানেও ভালোবাসার ঘরে অসুখের সহাবস্থানকে অস্বীকার করা যায় না।

আরো পড়ুন-

কন্যাভ্রূণ হত্যা

বিশ্ব শান্তি দিবস ও শান্তি আনয়নের পদ্ধতি | International Peace Day and the System of Establishing Peace-

অবশেষে শান্তি আনয়নের জন্য রাষ্ট্র পুলিশ, সেনাবাহিনী, আধা সেনাবাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে বিশাল প্রয়াসের অভিনয়ে আমরাও সামিল হই‌। নিমেষের মধ্যে জনগণের সাথে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ইট বর্ষণ, গুলি-বন্দুক চলতে থাকে। অবশেষে রাষ্ট্রীয় শক্তির কাছে জনগণ বশ্যতা স্বীকার করে। ওই অঞ্চলে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। রাস্তা, হাট, বাজার জনশূন্য যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। শুধু সেনাবাহিনী, পুলিশের উর্দি ছাড়া কিছুই দেখা যায়না। রাজনৈতিক নেতাদের সরল হাসি আমাদের মুগ্ধ করে- ‘আমরা ওই এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে এনেছি’- ইত্যাদির মত বাক্য শ্রবনে।

সত্যি কি সে এলাকার মানুষের মধ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনীর সমাগমে শান্তি ফিরে আসে? না’কি গুলিগোলা বাহিনীর মারধর, গ্রেপ্তারির মধ্যে  জনগণকে ভীতসন্ত্রস্ত করে রাখার প্রয়াস। এতে কিভাবে মানুষের মনে শান্তি আসে তা বোধগম্য হয় না। 

বিশ্ব শান্তি দিবসের জন্ম ইতিহাসে দেখতে পাবেন শাসন-শোষণের উদ্দেশ্যে কখনো রাষ্ট্রকর্তৃক, কখনো জঙ্গিগোষ্ঠী কর্তৃক সাম্রাজ্য বিস্তার, ধন আহরনের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধাচরণে শান্তি দিবসের উদ্ভব। যারা এই শান্তি দিবসের জন্মদাতা? দেখা যায় শান্তি বিঘ্নিতকারী শক্তিগুলিই সেসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ স্থানে আছে। নিষ্পাপ সাধারণ মানুষজনের কাছে এ এক সাংঘাতিক পরিহাস।

Theme of the international Day of peace 2021-

Recovering data for an equitable and sustainable world.

Un.org siteএ আপনি যদি international day of peace article টিতে একবার হানা দিলে দেখতে পাবেন- 
The International Day of Peace was established in 1981 by the United Nations General Assembly. Two decades later, in 2001, the General Assembly unanimously voted to designate the Day as a period of non-violence and cease-fire.

অর্থাৎ ওই দিন ছাড়া বাকি দিনগুলোতে শান্তি আনয়নে মানুষের এবং তার সাথে হিংসা ছড়ানো বিভিন্ন দল, প্রতিষ্ঠানের কোন দায়বদ্ধতা নেই।

কিন্তু মানুষ সব সময় সুখ-শান্তির প্রয়াসী। সংসারিক, পারিবারিক, সামাজিক জীবনে হোক বা রাজনৈতিক রাষ্ট্রীয় জীবনে, কখনো চায় না অশান্তি আসুক। জীবন-যাপনের প্রতিমুহূর্তে সুখ-শান্তির সাথে সহবাস মানুষের সার্বিক প্রয়াসের এক অন্যতম প্রচেষ্টা। পারিবারিক, সামাজিক জীবনের সুখ শান্তির জন্য আশেপাশে মধ্যে সাধারণ কিছু ছোট ছোট বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখলে জীবনযাপন আরো সহজতর হয়।যেমন-

  • স্বচ্ছলতা, স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যাপারে অন্যের সাথে তুলনা না করা,
  • বিলাসিতার চেয়ে প্রয়োজনীয়তাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া,
  • পরনিন্দা, পরচর্চা বন্ধ করা,
  • সীমাহীন চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া,
  • পারিবারিক, সামাজিক সম্পর্ক গুলিকে মধুর থেকে মধুরতর করা,
  • একে অপরের প্রতি বিশ্বাসী হওয়া,
  • প্রেম-ভালোবাসাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।

সাময়িক সুখের মুখ সাময়িক শান্তি আস্বাদের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী সুখ-শান্তির প্রয়াসে মানুষের প্রচেষ্টার প্রতি গুরুত্ব প্রাধান্য পাওয়া উচিত। অন্যদিকে তারই অন্বেষণে রাজনৈতিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার হস্তক্ষেপ সমস্ত প্রচেষ্টাকে ধুলিস্যাৎ করে। সকলের মিলিত সহযোগিতা’ই পারে এই তৃতীয় শাসন-শোষণ দুষ্ট শক্তিকে চিহ্নিত করে, তার শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতে। এই দুষ্টু শক্তিরই অনুপ্রেরণায় কেবলমাত্র একদিনের হিংসা বর্জন, গোলা গুলি বন্ধের শান্তি আনয়নের বদলে চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির হাসিখুশি সমাজে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক- এই আমাদের অভিলাষ। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *