Future of Internet Social Media in Bengali | Web 3.0 | ক্রিপ্টোকারেন্সী | NFT Art

Social Media

ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ভবিষ্যৎ কী(what is the future of social media and internet in 21st century?)? তার পালাবদল এখন থেকে শুরু হয়ে গেছে। আপনারাও এই মুহূর্ত থেকে প্রস্তুত হয়ে থাকুন এবং পালাবদলের দোদুল্যমান বিপ্লবকে গ্রহণ করার জন্য এখন থেকেই ধীরে ধীরে জানার চেষ্টা করুন। আমাদের আজকের বিষয় ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার পালাবদলের কিছু আভাস। 

যদিও এই পালাবদলের ক্রিয়াকর্ম গত এক দশক ধরেই শুরু হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত গণহারে সবার কাছে যেমন পৌঁছায়নি, তেমনি সকলে অবগতও নয়। সঙ্গে থাকুন। এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে অনেক কিছুই জানতে পারবেন এবং নিজেকে কিছুটা হলেও অ্যাডভান্স হিসাবে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিচিত, এমনকি অপরিচিত লোকদেরকেউ জানিয়ে দিতে পারবেন এই আশা রাখি।

Page Contents

ইন্টারনেটের ভার্শন | Version of internet-

প্রথমেই ইন্টারনেট সম্পর্কে জানতে গেলে ইন্টারনেটের অতীত সম্পর্কে জানা দরকার। অতীত না জানলে বর্তমানটাকে অনুভব করা, অনুধাবন করা কিছুটা মুশকিল হয়ে পড়ে। ইন্টারনেটের প্রথম যে ভার্শন শুরু হয় তা ছিল web 1.0।

Internet web 1.0-র বৈশিষ্ট্য-

এই ভার্সনে ইন্টারনেট কেবলমাত্র একমুখী মাধ্যম হিসেবে কাজ করতো। বিষয়টা কি রকম? Web 1.0 ইন্টারনেট খুললেই সেই সাইটের তথ্যাবলী আমরা কেবলমাত্র দেখতে পেতাম। অর্থাৎ যিনি দেখাচ্ছেন, সার্ভারের মাধ্যমে আমাদের দেখাটাই ছিল একমাত্র কাজ। ওই সাইটের মধ্যে আমরা কোন কিছুই নিজেদের কাজকর্ম করতে পারতাম না। কেবলমাত্র দেখে নিয়ে, তার তথ্যাবলী, ছবি আমরা আমাদের সংগ্রহে রাখতাম।

আপনার যদি কোন কিছু জানানোর প্রয়োজন হতো, সেই কাজটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল। মোটামুটি বলতে পারি ইন্টারনেটের প্রথম যুগ শুরু হয়(1970-80 দশক) থেকে। 1999-2000 সাল পর্যন্ত এই ভার্সনটি চালু ছিল। যদিও 1970-80 দশকে ইন্টারনেটের একেবারে সদ্যোজাত সংস্করনের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু তা সারা পৃথিবী জুড়ে ব্যাপক ভাবে প্রচলন হয় নি।
1999-2000 সালের থেকে এবং এর পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেটের ভার্সন web 2.0 শুরু হয়।

Internet web 2.0 বৈশিষ্ট্য-

Internet web 2.0, ইন্টারনেট এবং কম্পিউটার যুগের এক বিপ্লব নিয়ে আসে। এই ভার্শন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারা পৃথিবী জুড়ে শুরু হয়ে যায় এক টালমাটাল সাংঘাতিক প্রতিযোগিতা, দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে স্বল্প সময়ের সদ্ব্যবহার।

এই ভার্সনে ব্রাউজারের মাধ্যমে আমরা কোন তথ্য, ছবি জানা ও দেখার সাথে সাথে নিজেদের মতামত এবং নিজের জানার ইচ্ছা বা প্রশ্ন ওই সাইটের মালিককে জানাতে পারি। অর্থাৎ আমাদের নিজের চাহিদার উপরেও তথ্য আদান প্রদাননের কাজকর্ম শুরু হতে থাকে।

বিষয়টা আরেকটু পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করা যাক। যে তথ্য আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেই তথ্যের কোন ত্রুটি অথবা সেই তথ্য সম্পর্কে প্রকৃত বিশ্লেষণ পাওয়ার জন্য ইউজাররা কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করতে পারে। ওই ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন ফর্মে নিজের নাম, ইমেইল আইডি, মোবাইল নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারি। তারপর লগইন করে ওয়েবসাইটের খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে জানতে পারি এবং প্রশ্ন করতে পারি। 

অন্যদিকে আরেকটি বিষয় উন্মুক্ত হয়ে পড়ল। আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য সাইটের মালিককে জানিয়ে দেওয়া হতে থাকলো।

তথ্যাবলী জানার আগ্রহে যেমন নিজের মোবাইল নাম্বার, ইমেইল আইডি, নাম আমরা ওয়েবসাইটের মালিককে জানিয়ে দিচ্ছি অথবা কোন ই-কমার্স সাইটে গিয়ে মোবাইল নাম্বার, ইমেইল এবং নামসহ রেজিস্ট্রেশন করছি কোন কিছু কেনার জন্য।

ঠিক তেমনি ইন্টারনেট ভার্শন 2.0 আরেক উল্লেখযোগ্য অবদান Social Media। facebook, twitter, হোয়াটসঅ্যাপ, শেয়ারচ্যাট, টিকটক, পিন্টারেস্ট ইত্যাদি নানা Social Media-য়, যেখানে চেনা পরিচিত এবং অপরিচিত লোকদের সঙ্গে তৈরি হচ্ছে আন্তঃসম্পর্ক। আদান-প্রদান হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য, ছবি সহ কখনো কখনো ইমেইল আইডি, মোবাইল নাম্বার ইত্যাদি ইত্যাদি। এই যুগে আমরা একে অপরকে জানতে পারছি। তাইতো বলা হয় সারা পৃথিবী হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। অর্থাৎ এই যুগে এসেছে সেই ছোট্ট ঢেলার মত মোবাইলের পথ পরিবর্তন করে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের যুগান্তকারী আবির্ভাব। বর্তমানে আমরা ইন্টারনেট ভার্শন 2.0 তে এখনো পর্যন্ত বিচরণ করছি।

ইন্টারনেট ভার্শন 2.0 সুবিধা- 

ইন্টারনেট ভার্শন 2.0 রোজগার-

বিশেষ করে বাড়িতে বসে রোজগারের ক্ষেত্রকে সুদূর প্রসারী করেছে। যেকোনো ধরনের সাধারণ মানুষ থেকে বিভিন্ন সংস্থা ফার্ম, কোম্পানি ওয়েবসাইট এবং ব্লগ নির্মাণ করে বিভিন্ন রকম মনিটাইজেশনের মাধ্যমে রোজগারের পরিসরকে প্রসারিত করেছে। ব্যক্তিগত স্তরে ব্লগিং অথবা অনলাইন ব্যবসা, বৃহত্তর সংস্থার ক্ষেত্রে ব্যবসার পরিসরকে আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে পৃথিবীব্যাপী প্রসারণের বৃদ্ধি সাফল্যমন্ডিত হয়েছে।

ফ্রিল্যান্সিং | Freelancing-

অন্যদিকে Freelancing-এর সাহায্যে যুবক-যুবতীরা, এমনকি ছাত্ররাও কখনো কখনো পার্টটাইম বা ফুল টাইমার হিসেবে নিজেদেরকে নিযুক্ত করেছে। কেবলমাত্র ব্যক্তিগত হাত খরচের টাকা উপার্জনের লক্ষ্যই নয়, অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা ফ্রিল্যান্সিং বৃত্তিকে স্থায়ী রোজগারের পন্থা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

জানার আকাঙ্ক্ষাকে ত্বরান্বিত করা-

Web 2.0 সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো মানুষের অজানা অচেনা জগতের প্রতি আকাঙ্ক্ষার যথার্থতা পূরণ করার প্রয়াসকে ত্বরান্বিত করা। Web 1.0 যেখানে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে, ওয়েবসাইটের মালিক যেটা চাইতেন মানুষের সামনে তুলে ধরা হতো। ইন্টারনেটের পটপরিবর্তন Web 2.0তে ইউজার তাদের জানার আকাঙ্খাকে গুরুত্ব দিয়েছে।

আন্তঃসম্পর্ক-

অন্যদিকে ওয়েবসাইট বা ব্লগ নির্মাতাদের সঙ্গে ইউজারদের একটি আন্ত সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে জানা-অজানা এবং জানার আকাঙ্খার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ভুল তথ্য পরিবেশন হলে ইউজাররা যেমন সেটি সংশোধন করার জন্য ব্লগারদের বা ওয়েবসাইট নির্মাতাদের জানাতে সক্ষম, অন্যদিকে যারা তাদের অজানা তথ্য সম্পর্কে ওয়েবসাইট-ব্লগ এডমিনদের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন বা যোগাযোগের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করার কথাও বলতে পারেন।

সময়ের সদ্ব্যবহার-

Internet version web 2.0 ক্ষেত্রে সময়ের যথার্থ সদ্ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ হয়েছে। কোন একটি তথ্য জানার প্রবল আগ্রহ থাকলে সবকিছুই যে বাস্তবে কোন বই পত্র পত্রিকার মাধ্যমে জানা যাবে এমন কোনো কথা নেই। তথ্যটি খুঁজতে কিংবা পত্রিকা পেতে পেতে অনেক সময় নষ্ট হয়। কিন্তু হাতের কাছে একটি মোবাইল থাকলেই এবং সেই মোবাইলে ইন্টারনেট কানেকশনের সাহায্যে তৎক্ষণাৎ সেই প্রশ্নের সঠিক তথ্য আমাদের কাছে চলে আসে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই। অর্থাৎ বাস্তবে সশরীরে বই বা পত্র পত্রিকার মাধ্যমে খোঁজার জন্য যে সময় অতিবাহিত হত, পাঠক তা অন্যভাবে ব্যবহার করতে পারেন।

সামাজিক মাধ্যম- এর জন্ম | Birth of Social Media-

Internet web 2.0 ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থার এক বিশেষ মাধ্যম Social Media-র ব্যাপক প্রচলন। Social Media-র দৌলতে পুরনো চেনা অথবা নতুন অচেনা-অজানা বিভিন্ন মানুষজনের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক মিলন সেতু। কেবলমাত্র নিজের এলাকার মধ্যেই এই যোগাযোগ সীমাবদ্ধ নয়‌ নিজের অঞ্চল ছাড়িয়ে দেশ এবং দেশ ছাড়িয়ে সারা পৃথিবীর মধ্যে যোগাযোগের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে Social Media-র মাধ্যমে। একে অপরের সঙ্গে তথ্যের আদান প্রদান সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আলোচনা- সমালোচনা, বিষয়টির সত্যতা অথবা অস্বচ্ছতার এক সারাংশ পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

বিনোদনের মাধ্যম-

এই ব্যবস্থায় বিনোদন জগতের এক সামগ্রিক পরিবর্তন হয়েছে। শুধুমাত্র Social Media-র মাধ্যমেই নয়, বিভিন্ন ভিডিও সাইট, অনলাইন স্ট্রিমিং সাইটের মাধ্যমে গ্রহণ আত্তীকরণের ব্যাপক পরিবর্তন। তাছাড়া কোন সিনেমা অথবা চলচ্চিত্র দেখার জন্য দর্শকদের থিয়েটারে যেতে হতো। সিনেমা হলে যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। বাড়িতে বসে হাতের মুঠোয় সমস্ত দরজা খুলে গেছে। বিভিন্ন ধরনের অনলাইন, অফলাইন খেলার মাধ্যমকে পাল্টে দিয়েছে।

উপরিউক্ত সুযোগ সুবিধাগুলি internet version web 2.0-র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাছাড়া নানান ধরনের সুযোগ-সুবিধা ইন্টারনেট ভার্শন 2.0 আমাদের সামনে এনে দিয়েছে। আপনাদের কাছেও আমরা সেই সুযোগ সুবিধাগুলি জানার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছি‌। কমেন্ট বক্সে অবশ্যই সেগুলো উল্লেখ করুন।

ইন্টারনেট ভার্শন 2.0 ক্ষতির দিক-

ইন্টারনেট ভার্শন 2.0 এর ব্যবহারের সুবিধা ও উন্নয়নের পাশাপাশি, ক্ষুদ্র থেকে বৃহত্তর ক্ষেত্রে আমাদের সামনে এক প্রতিকূলতা সৃষ্টি করেছে।

মানসিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন- 

প্রথমত সামাজিক ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের এই যুগে প্রত্যেকটা মানুষকেই একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। মানবিক, সামাজিকতা ও সুসম্পর্ক অবলুপ্ত হয়ে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি নির্জন দ্বীপে পরিণত হয়েছে।

আবার ব্যক্তিগত অশান্তির পরিসর বৃদ্ধি হয়েছে‌। পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য, ছেলে মেয়ে ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে নিজেকে সঁপে দিয়ে অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্র আচার-ব্যবহার ভুলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার উপর অন্তরায় সৃষ্টি হয়েছে। অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের কাজকর্ম, গেম খেলা- ব্যর্থ হলে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।

মানুষজন দ্রব্যে পরিণত হয়েছে-

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা অন্যান্য বস্তুরমতো কমোডিটিতে পরিণত হয়েছে। একদিকে খরিদ্দার অন্যদিকে নিজেরাই প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মত জিনিসপত্রের পরিণত হয়ে গেছে। বিভিন্ন কোম্পানি মানুষদেরকে বিভিন্ন দ্রব্যের ব্যবহার অভ্যাস করিয়ে আমাদেরকে নেশাগ্রস্ত খরিদ্দারে পরিণত করেছে।

ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তার কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় বস্তুর প্রতি আমাদের আসক্তি, ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়া বিভিন্ন কোম্পানী গুলির অস্ত্র।

আরো পড়ুন
মহিলাদের প্রতি প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি
সমাজে টি ভি সিরিয়ালের প্রভাব
বয়স্ক মা-বাবাকে অবহেলা- ভয়ানক অপরাধ
একান্নবর্তী পরিবার ও অনু পরিবার এবং সমাজ
ভারতীয় সমাজে নারীর অবস্থান
আঁতুড়ঘরে 1 মাস
বিধবা বিবাহ
ভারতের বিস্ময় কন্যা জাহ্নবী পানোয়ার
ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কতটা প্রাসঙ্গিক

হ্যাকারদের আবির্ভাব-

প্রতিটি যুগেই দুষ্টু, অসৎ এবং লোভী লোকের অভাব হয়না। ইন্টারনেট ভার্শন 2.0তে এ ধরনের লোকের অভাব নেই। বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য চুরি করে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে এদের কাজ। নতুবা এক মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় প্রবণতা অথবা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পয়সা চুরি করে ইউজারদের সর্বস্বান্ত করে দেওয়া। যতই নিরাপত্তার কথা বলা হোক না কেন 100% নিরাপত্তা ইন্টারনেট ভার্শন ওয়েব 2.0 যুগে কখনোই সম্ভব নয়।

ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি | Selling of Personal Information-

E-commerce সাইট অথবা বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইটগুলি তাদের সাইটে জিনিসপত্র কেনা বেচার জন্য অথবা বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানের নিমিত্তে আমাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। অর্থাৎ নিজের নাম, মোবাইল নাম্বার, আধারের তথ্য, ইমেইল আইডি ইত্যাদি ইত্যাদি। এই তথ্যগুলি তারা তাদের হোস্টিং সার্ভারে জমা রাখে। অন্যদিকে এই তথ্যগুলি আবার বিভিন্ন ধরনের কোম্পানিগুলি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স(AI)-এর মাধ্যমে ডাটা সাইন্স এর সহযোগিতায় সংগ্রহ করে। যে সংগ্রহের কথা আমরা অর্থাৎ ইউজাররা বুঝতেই পারিনা।

বুঝতে পারিনা আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যাবলী যার কাছে থাকার কথা ছিল অতি গোপনে এবং নিরাপদে, সেই তথ্যগুলো অন্য কোন কোম্পানি বা সার্ভারে আমাদের অজান্তেই ট্রান্সফার হয়ে গেছে। যাদের কাছে ট্রানস্ফার হলো তারা আমাদের ইমেইলে, মোবাইলে তাদের বিভিন্ন পরিষেবা বা দ্রব্যের বিবরণীসহ এবং এসএমএস-এ বিজ্ঞাপন  পাঠাতে শুরু করে। সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে আমাদের একাউন্টে ঐ বস্তুগুলির বিজ্ঞাপন প্রেরণ করে।

আপনি ব্রাউজারে অথবা Social Media-য় কি ধরনের পোস্ট সার্চ করছেন অথবা কি ধরনের পোস্টের উপর আপনি কমেন্ট করছেন, কোন ধরনের ছবি লাইক করছেন, আপনার এই কার্যাবলীর উপর ভিত্তি করে কোম্পানি গুলি আপনাকে আপনার পছন্দের বিষয়ের উপর বিজ্ঞাপন চালাতে শুরু করে। এতে অবশ্যই দ্রব্যাদি কেনার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়।

যেকোনো ধরনের সাইটেই ইমেইল আইডি, মোবাইল নাম্বার, নিজের নাম সহ যখনই কোন রেজিস্ট্রেশন করবেন, আপনি জানবেন আপনার এই তথ্য যেখানে প্রদান করছেন, সেই সাইট বা কোম্পানি তথ্যগুলি অন্য কোন দ্বিতীয় বা তৃতীয় কোম্পানিকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যাবলি বিক্রি করে দেয় এবং এর জন্য তারা প্রচুর পরিমাণে অর্থ পায়। বিষয়টা হাস্যকর এবং অযৌক্তিক মনে হলেও একেবারে সত্যি ঘটনা।

স্বত্ত্ব সংরক্ষণের উপর প্রভাব-

ইন্টারনেটে আপলোড করা যেকোনো ধরনের ক্রিয়েটিভ কার্যাবলী, ছবি হতে পারে, কোন ভিডিও হতে পারে, আপনার কণ্ঠস্বর হতে পারে, আপনার নিজস্ব গানও হতে পারে। এগুলো কোনোভাবেই আপনি 100% নিরাপদে রাখতে পারেন না‌। আপনার তৈরি করা জিনিসপত্র যে কোন মুহূর্তে যে কোন ব্যক্তি চুরি করে, সেগুলি অন্য কোন সংস্থা বা ব্যক্তি কে বিক্রি করে দিতে পারে। বলতে চাইছি আপনার ক্রিয়েটিভিটির মূল্য আপনি পেলেন না। পেয়ে গেল তৃতীয় কোন ব্যক্তি।

কিভাবে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যাদি কোন হ্যাকার বা দুষ্টু লোক ডাউনলোড করে বা নিজের আয়ত্বে নিয়ে সেই ক্রিয়েটিভিটির বিকৃত রূপ যেকোনো মাধ্যমে প্রকাশ করার সম্ভাবনা তৈরি হয় বা প্রকাশ করে দেয়, এই মর্মে আপনাকে জ্বালাতন করতে শুরু করে‌ আপনার কাছ থেকে অর্থ আদায় করার চেষ্টা করতে পারে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে। আপনার মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। সাধারন স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলতে পারে। এই ধরনের বিভিন্ন দুর্ঘটনা আমরা প্রায়ই বিভিন্ন খবরের মাধ্যমে জানতে পারি।

মুক্তির উপায়-

আমরা যদি বিক্রি হয়ে যাই, আমরা যদি মানবিক বৈশিষ্ট্যগুলো ভুলে ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাই, আমাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যদি কেউ ছিনিমিনি খেলে, আমরা যদি ভবিষ্যতে অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাই, এর থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে আমাদের অভ্যাস অবশ্যই পাল্টাতে হবে‌। অর্থাৎ ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত যেকোনো দ্রব্যাদি এবং পরিষেবা সবই বর্জন করা উচিত। কিন্তু প্রকৃত ইন্টারনেট জগত, মোবাইল, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা সম্ভব? যদি সম্ভব হয় তাহলে এই লেখার শেষ অংশটুকু লেখার কোন প্রয়োজন হয় না।

কিন্তু আমার মনে হয় ইন্টারনেট জগৎ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসার মুক্তির কোন উপায় নেই? দু-একজন বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত ব্যবহারকারী, আমি, আপনি নেশাগ্রস্ত মানুষে পরিণত হয়ে গেছি। প্রযুক্তির সঙ্গে আমাদেরকে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে যারা আমাদেরকে দিয়ে এগুলো ব্যবহার করছে, আমরা ব্যবহৃত হচ্ছি। আমরা যাতে যতটা পারি নিজেরা ব্যবহার না হয়ে, তাদেরকেও কিছুটা ব্যবহার করতে পারি সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।

এরই সমাধান সূত্র বের করার এক বৃহত্তর প্রয়াস হলো ইন্টারনেট ভার্শন ওয়েব 3.0(internet version web 3.0)

ওয়েব 3.0 | Future of Internet | Web 3.0-

ইন্টারনেট জগতকে বদলে দেওয়ার এক অভূতপূর্ব বিপ্লব Web 3.0। এটি একটি ডিসেন্ত্রালাইজড পদ্ধতি। এই পদ্ধতির একটি মূল বৈশিষ্ট্য হলো লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটী ইউজার তাদের নিজস্ব কন্টেন্টগুলির মালিক এবং তাদের মালিকানা তাদের নিজেদের হাতেই সংরক্ষিত থাকবে। Web 2.0 অনেক অনেক কনটেন্ট রয়েছে যাদের মালিকানা, স্বত্ব থাকাকালীনও যেকোনো ব্যক্তি সেই কন্টেন্টগুলি ডাউনলোড করে নিজস্ব কনটেন্ট বলে বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করে অথবা বিক্রিও করে দেয়।

বর্তমান ইন্টারনেট যুগের লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকার মূলধন কেবল মাত্র কয়েকটি সংস্থার হাতে সীমাবদ্ধ। বিশেষ করে গুগল, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি ইত্যাদি। এ সমস্ত মালিকদের তৈরী দ্রব্যাদি ইউজাররা হয়তো অনলাইনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে, বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করছেন। ভালো করছেন কিন্তু বেশিরভাগ অংশই উপরিউক্ত বৃহৎ কোম্পানিগুলির হস্তগত। যে সমস্ত কন্টেণ্ট  ক্রিয়েটররা ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে কনটেন্ট আপলোড করছেন, তা সবই গুগলের নিয়ন্ত্রণাধীন‌।

আপনার নিজস্ব কনটেন্টের আপনি মালিক ঠিকই, কিন্তু সেই কনটেন্টকে কাজে লাগিয়ে রোজগার করছে গুগুল। আপনি তার সামান্যতম অংশটুকু পাচ্ছেন। কখনো বা একেবারেই পাচ্ছেন না। আমরা যতই সার্চ করি বিভিন্ন তথ্য জানার জন্য, তার সবই আপনার এবং আমার মতো বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েটররা নিজস্ব ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করে, ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে গুগুল-এর শরণাপন্ন হয়।

ঠিক এইখানেই Web 3.0 এর বিপরীত কথা বলে। অর্থাৎ যারাই content ক্রিয়েটর তারাই প্রকৃত সেই কনটেন্টের মালিক। এবং সেই মালিকানা স্বত্ব সংরক্ষিত থেকে যাবতীয় মূল্যায়ন পাবে এবং রয়েলটি ভোগ করবে। এই পদ্ধতির যে প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে সেটি হল ব্লকচেইন পদ্ধতি। একে অপরের সঙ্গে ব্লকচেইনের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবে। প্রতিটি আপলোড-ডাউনলোড যদি অথেন্টিক না হয়, তাহলে কোন ভাবেই ট্রানজেকশন অথবা আপলোড-ডাউনলোড করা যাবে না।

ব্লকচেইন কী | What is blockchain-

প্রথমেই বলেছি সার্ভারের মধ্যে যেগুলো থাকে সেগুলো হচ্ছে কন্টেণ্ট বা তথ্য। অর্থাৎ এগুলোকে আমরা ডাটা বলে থাকি বা ইনফর্মেশন। ইনফরমেশনগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে কি’না বা সেগুলো নিরাপদে থাকছে কি’না, সেগুলোর মধ্যে কেউ অযৌক্তিকভাবে পরিবর্তন করছে কি’না তা ব্লক চেন টেকনোলজি নিশ্চয়তা দেয়‌। যেটা বর্তমানে internet version web 2.0 একেবারে দিতে পারেনা।

ব্লকচেইন হলো এমন একটি প্রযুক্তি যা ডিসেন্ত্রালাইজড পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ডিসেন্ত্রালাইজড পদ্ধতি জানার পূর্বে, সেন্ট্রালাইজড পদ্ধতি জানা উচিত।

বিষয়টি উদাহরণের সাহায্যে বলা যেতে পারে। আমরা ইন্ডিয়ান কারেন্সি ব্যবহার করি। সেটা রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর ব্যবহার করার জন্য অনুমতি দেয় এবং কেন্দ্রীয় সরকার তা প্রচলন করার নিশ্চয়তা দেয়। একটি 100 টাকার নোটের মূল্য সব সময় 100 টাকাই হবে। কেউ যদি একশ টাকার একটি নোট দুটি 50 টাকা, 5টি কুড়ি টাকা, 10 টি 10 টাকার অথবা যে কোন ভাবে তা পূরণ করতে পারে। পূরণ করার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র সরকারের দ্বারা রিজার্ভ ব্যাংক করে থাকে।

আবার আমাদের নির্বাচন পদ্ধতি, ই ভি এম-এ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে হোক বা ব্যালটের মাধ্যমে হোক সত্যিই আপনি যাকে ভোট দিলেন প্রকৃতপক্ষেই ভোট আপনার পছন্দের ব্যক্তির কাছে গেল কি গেল না অথবা আপনার ভোটটি গোনা হলো কি’না, তা বুঝতে পারছেন না। নির্বাচন পদ্ধতিটি পরিচালনার জন্য যে সংস্থা ওপর আমাদের ভরসা করতে হয় এবং বিশ্বাস করতে হয় তা হলো নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের উপর আমাদের অন্ধভাবে বিশ্বাস করে যেতে হয়। কিন্তু ব্লক চেন পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করা হলে, আপনি নিজের ভোট নিজেই যাচাই করতে পারবেন এবং গণনাও করতে পারবেন।

কিভাবে ব্লকইচেন পদ্ধতি কাজ করে-

আমরা সকলেই জানি বিভিন্ন ধরনের তথ্য অর্থাৎ যেকোন ধরনের কনটেন্ট কম্পিউটার অথবা মোবাইল ডিভাইসে আমরা স্টোর করে রাখি। কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক এবং মোবাইলের মেমোরি অথবা এক্সটার্নাল মেমোরি মধ্যে তথ্যগুলি জমা থাকে। সেটা এক্সেল ওয়ার্ড, পিডিএফ বা যেকোন ফরমেটে, যেকোনো ধরনের ফাইল হতে পারে। 

ঠিক সেই রকমই অনলাইন পদ্ধতিতেও কোন ব্যক্তি বা কোম্পানির বিভিন্ন ধরনের তথ্যাবলী সার্ভারে জমা হয়। সার্ভারের মধ্যে থাকে হার্ডডিস্ক অথবা এসএসডির মত মেমোরি‌ হার্ডওয়ার। যার মধ্যে এই তথ্যগুলি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে জমা হয়।

ওয়েব 2.0 ক্ষেত্রে অনলাইনে সার্ভারে যে পদ্ধতিতে জমা হয়, Web 3.0 ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যই আপনার যেকোন ধরনের জমা তথ্য এবং আদান-প্রদানকে নিরাপত্তা দেয় এবং জমা হওয়ার ক্ষেত্রে কারোর উপর নির্ভরশীল থাকতে হয় না। তাই web 3.0 ব্লকচেইন পদ্ধতিকে ডিসেন্ত্রালাইজড পদ্ধতি বলা হয়। কোন একজন ইউজারই নয়, সেই ওয়েবে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ইউজারই ট্রানজেকশন পদ্ধতিকে নিয়ন্ত্রণ করে।

যেখানে তথ্য অর্থাৎ কনটেন্ট ব্লকচেইন পদ্ধতিতে ব্লকের মধ্যে জমা পড়ে। এবং এই তথ্যাবলী সত্য মিথ্যা যাচাই তিনটি অংশের উপর নির্ভরশীল, যথা ডাটা, হ্যাশ এবং প্রিভিয়াস হ্যাস।

  1. ডাটা– যেকোনো ধরনের তথ্যাবলী অর্থাৎ কনটেন্ট ডাটা হিসেবে পরিগণিত।
  2. হ্যাস– কোন ইউজার তার কনটেন্টকে ব্লকের  মধ্যে জমা করার সাথে সাথেই একটি হ্যাসকোড তৈরি হয়। এই হ্যাসকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর সঙ্গে তুলনা করতে পারেন।
  3. পূর্বতন হাস-কোন একজন ইউজার কনটেন্ট বা তথ্যকে আপলোড করার সময়, সেই ইউজারকে ও ট্রানজেকশনকে আইডেন্টিফাই করার জন্য পূর্বতন ইউজারের হ্যাস স্বীকৃতি দিলে তবেই নতুন কোনো তথ্য বা কনটেন্ট আপলোড হবে। নতুবা বর্তমান ইউজার তার প্রেরিত কন্টেণ্ট বা তথ্য কোনমতেই সার্ভারে আপলোড করতে পারবেন না। লক্ষ লক্ষ ইউজারদের মাধ্যমে তথ্যাবলীর আদান-প্রদান করার সাথে সাথেই লক্ষ্য লক্ষ্য হ্যাস তৈরি হয়। প্রতি মুহূর্তেই এই হ্যাশ আইডিগুলি একে অপরকে আইডেন্টিফায়ের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদানকে স্বীকৃতি দেয়। অর্থাৎ এরমধ্যে কোন হ্যাকার হ্যাক করলেই অন্যান্য ইউজারের তৈরি হ্যাস এই হ্যাকিংকে প্রতিরোধ করবে। এবং আপনার তথ্যের আদান প্রদানকে নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা প্রদান করবে।

আর্থিক আদান প্রদানের ক্ষেত্রে কোন ইউজার সঠিকভাবে তার নিজস্ব তথ্য কেওয়াইসি না দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করলে তার সমূহ বিপদ। কেননা ব্লক চেনের মাধ্যমে আপলোড বা ডাউনলোডের ক্ষেত্রে কেওয়াইসি সঠিক তথ্য ব্যতিরেকে ভুল তথ্য সার্ভারে জমা রাখলে ইউজারের লোকসান।

এইজন্য বলা হয়ে থাকে সমস্ত ট্রানজেকশনের মধ্যে স্বচ্ছতা এবং সত্যতার আধার নিয়ে ব্লকচেইন প্রযুক্তি সহায়তা করে।

তাই অনেকের ধারণা নির্বাচন পদ্ধতিকে ব্লকচেইন-এর মাধ্যমে সংঘটিত করালে প্রত্যেক ভোটার তার নিজস্ব ভোট স্বচ্ছতার সঙ্গে যেমন দিতে পারবে, সেই ভাবে তার ভোটটি সঠিক ব্যক্তিকে দিল কি’না, সেটাও সে নিজে ভেরিফাই করতে পারবে। এই ভেরিফিকেশন প্রত্যেকটি ভোটারের তথ্য একজনকে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিশ্চয়তা দেবে। অর্থাৎ এখানে কেন্দ্রীয় অথরিটি অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের মতো সংস্থা সহায়তা নেবার কোন প্রয়োজন হবে না।

ঠিক সেভাবেই টাকাপয়সা আদান প্রদানের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী সংস্থা অর্থাৎ ব্যাংক এর কোনো প্রয়োজন হবে না। তার জন্য বর্তমানে ব্যাঙ্ক যে কমিশন নেয়, সেই কমিশন দেওয়ার কোনো প্রয়োজন পড়বে না।

ব্লকচেইন টেকনোলজির মাধ্যমে বর্তমানে সারাবিশ্বে ডিজিটাল কারেন্সি উদ্ভব এবং আদান-প্রদান সংঘটিত হচ্ছে। এই ডিজিটাল কারেন্সি ক্রিপ্টো কারেন্সি নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি | Cryptocurrency-

ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো non-physical ডিজিটাল কারেন্সি, ব্লক চেন পদ্ধতির মাধ্যমে আদান প্রদান করা হয়। বাস্তবে সশরীরে ক্রিপ্টোকারেন্সি কোন অস্তিত্ব নেই। কেবলমাত্র ব্লকচেইনের মাধ্যমেই এই ক্রিপ্টোকারেন্সি আদান-প্রদান হয়। তাই ব্লকচেইন সার্ভারের মধ্যেই ক্রিপ্টোকারেন্সি অস্তিত্ব।

বর্তমানে অনেক ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়েছে। তার মধ্যে বহুল প্রচলিত বিটকয়েন, ইথেরিয়াম, পলকাডট, কারদানো,বিটকয়েন ক্যাশ, স্টেলার ইত্যাদি ইত্যাদি। এই নামগুলো আমরা অনেকেই শুনেছি। অনেকেই হয়তো এই কারেন্সির সাহায্যে ট্রানজেকশন করে থাকেন, ট্রেডও করে থাকেন।

পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশই ক্রিপ্টোকারেন্সিকে মেনে নিয়েছে বা মান্যতা দিয়েছে তা নয়। কিছু কিছু দেশ রয়েছে যেখানে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রচলন আইন সিদ্ধ। আবার কিছু কিছু দেশ রয়েছে তারা ক্রিপ্টোকারেন্সি পুরোপুরি ব্যান করেছে। এমন কিছু দেশ রয়েছে যারা নিজেরাই নিজেদের দেশের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি তৈরি করেছে। আমাদের ভারতবর্ষ সহ অন্যান্য দেশের ক্রিপ্টোকারেন্সি আইনসিদ্ধতা এখানে ক্লিক করে জেনে নিন।

বলা হয় ব্লকচেইন পদ্ধতির মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিকেটারদের কনটেন্টের ওনারশিপ এবং কপিরাইটের উপর এক ধনাত্মক প্রভাব পড়বে। অর্থাৎ একজন আর্টিস্ট তার তৈরি যেকোনো নিজস্ব কনটেন্টের মালিকানার উপর সঠিক মূল্যায়ন হবে। বর্তমানে ওয়েব 2.0 ক্ষেত্রে যে কোন ধরনের কনটেন্ট যদিও বিভিন্নভাবে কপিরাইট রাখার পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়, তবুও 100% সেগুলো সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব হয়না।

যেমন যেকোনো ধরনের ছবি আমরা যেকোন সাইট থেকে সহজেই ডাউনলোড করে নিতে পারি‌ এবং তার জন্য সব সময় অর্থ দেবার প্রয়োজন পড়ে না‌ এবং সেই ছবিটি পুনরায় বিভিন্ন স্থানে যে কেউ আপলোড করে দেন। অর্থাৎ ব্যবহার করেন। সেই ছবিটি প্রেসে গিয়ে প্রিন্ট করে তার বাড়িতে বাঁধিয়ে রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে যার কন্টেণ্ট তিনি কিন্তু তার সঠিক অর্থ পেলেন না বা বলা ভাল সঠিক মূল্যায়ন হল না।

ব্লকচেইন এর মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিকেটারদের সঠিক মূল্যায়ন হবে বলে আশা করা যায়‌ এর জন্য যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে তাকে এনএফটি নামে অভিহিত করা হচ্ছে।

এন এফ টি ও এন এফ টি আর্ট | NFT & NFT Art-

এন এফ টি সম্পূর্ণ নাম নন ফানজিবল টোকেন। নন ফানজিবল- এর পূর্বে ফানজিবল কথাটির অর্থ জানা প্রয়োজন। ফানজিবল কথাটির আক্ষরিক অর্থ হল ছত্রাকযুক্ত। কিন্তু ছত্রাকযুক্ত বললেই এর অর্থ সম্পূর্ণ হয় না ও অর্থনীতিতেও এর যথার্থতা সম্পূর্ণতা পায় না। বাস্তবে উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টা বোঝানো যেতে পারে। ধরা যাক 100 টাকার একটি নোট আমি 10 টি 10 টাকার নোটে দুটি 50 টাকার নোটে অথবা পাঁচটি কুড়ি টাকার নোটে যা খুশি করে আমি 100 টাকা পূরণ করতে পারি। এই বিশ্লেষণ এই ব্লগের কিছু পূর্বে করা হয়েছে। এই পদ্ধতি হচ্ছে ফানজিবল পদ্ধতি। অর্থাৎ 100 টাকার নতুন নোট এর পরিবর্তে অন্যান্য নোটগুলি বিভিন্ন ধরনের নোংরা, রং দেওয়া, সামান্য কাটাছেঁড়া নোটও হতে পারে।

মোনালিসা হল একটি ছবি। এখন সেই আসল, প্রকৃত ছবিটির অনেক রকম নকল ছবি সারা বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে। সেগুলো বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত মোনালিসা ছবি একটাই। অর্থাৎ নকল ছবিগুলি ফানজিবল ছবি এবং আসল মোনালিসা ছবিটির কোন বিকৃত হবার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। এন এফ টি বিষয়টিও তাই, শিল্পী বা কনটেন্ট ক্রিকেটারদের তৈরি প্রকৃত কন্টেন্টগুলি এন এফ টি বিবেচিত হয় এবং এই কনটেন্টগুলির প্রকৃত মূল্যায়ন এন এফ টির দ্বারাই সম্ভব। যা ব্লক চেন টেকনোলজি সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

অর্থাৎ বলা যেতে পারে অনলাইনে বর্তমানে কনটেন্টের আদান-প্রদান যেভাবে অনিয়ন্ত্রিত এবং অবমূল্যায়নের মাধ্যমে সংগঠিত হচ্ছে, আগামী দিনে এন এফ টি’র মাধ্যমে এই অবমূল্যায়ন বন্ধ হবে। আর্টগুলির প্রকৃত মূল্যায়ন হবে এবং এর সৃষ্টিকর্তা সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে অর্থ পাবেন। এন এফ টি আর্টগুলিকে নিশ্চিত নিরাপত্তা এবং সঠিক কপিরাইটস্বত্ব সংরক্ষণ করে রাখবে। 

মনে রাখা উচিত এখানে কিন্তু কোন সশরীরে প্রকৃত ছবির আর্টের কথা বলে না। এটি প্রকৃতই একটি ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে ডিজিটাল আর্ট হতে হবে। হতে পারে সেটি কোন ভিডিও ক্লিপিং, জিআইএফ, জেপিইজি ছবি, বিভিন্ন গেমের চরিত্রগুলির ছবি ইত্যাদি ইত্যাদি। এই ধরনের আর্ট গুলির প্রকৃত কোন মূল্য হয়না বলা যেতে পারে। একজন ব্যক্তির কাছে এই আট গুলির মূল্য একেক রকমের হয়ে থাকে। আমার কাছে কোন একটি ছবির মূল্য 5000 ডলার হলে আপনার কাছে যে সেই ছবিটির মূল্য 1 পয়সাও নয়- সেটাও সম্ভব। অর্থাৎ এই আর্ট গুলির মূল্য পাবার জন্য ক্রেতাকেই সেই মূল্যের গুরুত্ব বোঝার জন্য তার মানসিকতার মধ্যে শিল্পের উপর গুরুত্ব প্রদানের মানসিকতার উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অর্থাৎ সেই ধরনের বাজারকে ও বাজারের দিকে সেই শিল্পীকে নজর দিতে হবে।

এর জন্য অবশ্যই সেই কনটেন্ট ক্রিকেটারকে অর্থাৎ আর্টিস্টকে ব্লকচেইন সার্ভারের যুক্ত হওয়ার জন্য তার অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।  ডিজিটাল পদ্ধতির সঙ্গে নিজেকে আবদ্ধ হতে হবে। বর্তমানে Web 2.0- এর মধ্যেও এই পদ্ধতি চালু হয়েছে। এর জন্য আপনাকে অবশ্যই সজাগ এবং সমসাময়িক আপডেট থাকতে হবে। এই মুহূর্তে এন এফ টি এর মাধ্যমে ডিজিটাল আর্ট কেনাবেচার অনেকগুলো স্টোর রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ওপেন সী(opeansea)।

এন এফ টি ট্রানজাকশন এর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ-

বর্তমান web 2.0 যুগেও আপনি এন এফ টি ট্রানজেকশন করতে পারেন। অর্থাৎ এন এফ টি’র মাধ্যমে আপনার ডিজিটাল প্রোডাক্ট কেনাবেচা করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন-

ব্লকচেইন সার্ভারে একটি একাউন্ট। 

এই একাউন্ট খোলার জন্য গুগল ক্রোম ব্রাউজার এ গিয়ে প্রথমে যেটা করা প্রয়োজন তা হলো মেযটামাস্ক নামে একটি metamask google-chrome-extension ব্রাউজারের মধ্যে ইন্সটল করতে হবে। এই এক্সটেনশনটি ব্লক চেনের মাধ্যমে ব্লক চেইন সার্ভারের সকল ট্রানজেকশনকে নিয়ন্ত্রণ করবে। অর্থাৎ কখনো আপনাকে পারমিশন দেবে অথবা ভুল ট্রানজাকশনের জন্য আপনার ট্রানজেকশনকে বাধা দেবে।

মেটামাস্ক ক্রিপ্টোকারেন্সি মাধ্যমে আপনার এন এফ টি সম্পন্ন করে। অর্থাৎ সামান্য মূল্যের ইথেরিয়াম আপনাকে কিনতে হবে, যা মেটামাস্ক ওয়ারলেটের মধ্যে আপনার ইথেরিয়াম স্টোর হয়ে থাকবে। এই ইথেরিয়াম ক্রিপ্টোকারেন্সি মাধ্যমে আপনি আপনার এন এফ টি প্রডাক্টকে আপলোড করবেন। আপনার প্রোডাক্টের মূল্য নির্ধারণ করবেন এবং কমিশন নির্ধারণ করেও রাখতে পারেন‌‌। অর্থাৎ এই প্রোডাক্টটি প্রথম যিনি কিনবেন তিনি আপনার নির্ধারিত মূল্য দেবেন।

পরবর্তী ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি যদি সেই প্রোডাক্টটি অন্য কাউকে বিক্রি করে তাহলে তার রয়েলটি আপনার একাউন্টে জমা পড়বে‌। যা মেটামাস্ক ওয়ালেটে আপনি দেখতে পাবেন। এরকম তৃতীয় চতুর্থ পঞ্চম বা আরো বেশি বার আপনার প্রোডাক্ট অন্য কোন ব্যক্তি বিক্রি করলে, তাদের বিক্রির জন্য আপনার ফাইলটি, আপনার মেটামাস্ক ওয়ালেটে জমা হতে থাকবে। পরবর্তী ক্ষেত্রে সেই ওয়ালেট থেকে আপনি ইথেরিয়াম ক্রিপ্টোকারেন্সি আপনার দেশের কারেন্সিতে কনভার্ট করতে পারবেন। 

মেটাভার্স | Metaverse-

গুগল ক্রোমে মেটামাস্ক এক্সটেনশনের কথা শুনলেন। এবার আসা যাক মেটাভার্সের বিস্তারিত বিবরণে।

মেটাভার্স কথাটি আপনারা অনেকেই শুনেছেন। মেটাভার্স না শুনলেও মেটা কথাটির সাথে আপনারা অনেকেই পরিচিত। কেননা কিছুদিন পূর্বে জুকারবার্গ ঘোষণা করেন ফেসবুকের নাম বদলিয়ে করা হবে মেটা। এখন হোয়াটসঅ্যাপে মেটা নামে একটি শব্দ এবং তার সঙ্গে একটি লোগো দেখা যাচ্ছে।

মেটা একটি গ্রিক শব্দ যার আক্ষরিক অর্থ হলো বিয়ন্ড, বিহাইন্ড। অন্যদিকে ভার্স অর্থ ইউনিভার্স‌, অর্থাৎ বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। মেটাভার্স কথাটির অর্থ দাঁড়াচ্ছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ওপারে। আমরা মেটাফিজিকস, মেটা ইকোনমিক ইত্যাদি শব্দ গুলির সঙ্গে পূর্ব পরিচিত। পদার্থবিজ্ঞানের ওপারে আরেক পদার্থবিজ্ঞান অথবা অর্থনীতির ওপারে আরেক অর্থনীতি অবস্থান। ঠিক সেই রকমই ইন্টারনেট ভার্শন 3.0 ক্ষেত্রে মেটাভার্স সারাবিশ্বের জীবনযাপন প্রণালীকে বদলে দেওয়ার এক প্রযুক্তি যা পুরোপুরি ভার্চুয়াল‌, যা ব্যবহারিক গতিপ্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করবে।

ধরা যাক লন্ডনের আপনার বন্ধু আপনাকে লন্ডন ব্রিজের ছবি পাঠিয়েছে। মেটাভার্স পদ্ধতির সাহায্যে আপনি ভার্চুয়ালি লন্ডন ব্রিজের উপর ঘোরাফেরা করতে পারবেন। এক বিশেষ ধরনের চোখে ব্যবহৃত টুলের সাহায্যে একটি থ্রিডি(3D) আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠবে। তাকে অনুভব করতে পারবেন। কিন্তু ছুঁতে পারবেন না। আপনার মনে হবে আপনি লন্ডন ব্রিজের উপরে দাঁড়িয়ে আছেন। যাকে দেখছেন সে সেখানে উপস্থিত রয়েছে।

ঠিক এভাবেই আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে কোন তীর্থক্ষেত্রে ভ্রমণে সশরীরে উপস্থিতির পাশাপাশি ভার্চুয়ালি সেই অবস্থানে গিয়ে আপনার উপভোগ্যতা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। যদিও এ নিয়ে অনেকেরই দ্বিধাদ্বন্দ্ব বিতর্ক রয়েছে। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন মেটাভার্সেস মধ্যে এক মানসিক টানাপোড়েন, অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। সে যাই হোক আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ, তাদের সঙ্গেই এক সম্পর্ক তৈরি করে চলতে হবে।

সেজন্যই ফেসবুক, গুগল অন্যান্য বড় বড় ডিজিটাল কোম্পানিগুলোকে নিজেদের পরিষেবাকে মেটাভার্সে পরিণত করছে ও করার চেষ্টায় আছে।
আশা করি লেখাটি আপনাদের সামনে অনেক তথ্য তুলে ধরেছে। এতে আপনারা যথেষ্ট সমৃদ্ধ হয়েছেন। আপনাদের মতামতের আশায় রইলাম। মন্তব্য বক্সে আপনাদের মতামত জানিয়ে আমাদের সাহায্য করুন। ধন্যবাদ।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.