Full Moon Lunar Eclipse

Full Moon Lunar Eclipse on 26th May in Bengali | Red Blood Super Moon | রেড ব্লাড পূর্ণগ্ৰাস চন্দ্রগ্ৰহণ

এই বুদ্ধ পূর্ণিমায় দেখতে পাবেন রেড ব্লাড পূর্ণগ্ৰাস চন্দ্রগ্ৰহণ(Full Moon Lunar Eclipse)। এ এক বিশেষ রক্ত লালাভ চন্দ্রগ্রহণ(Red Blood Super Moon)। চাঁদের ঝলকানি রশ্মি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন বর্ণে দেখা যাবে। 26 May দিনটিতে পূর্ণগ্ৰাস চন্দ্রগ্রহণ অস্ট্রেলিয়ায় দেখা যাবে। তখন কলকাতাযর চাঁদে সন্ধ্যাযর আলোয় আংশিক চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে। জানা গেছে মধ্য প্রদেশে 19 মিনিট পর্যন্ত গ্রহনের কারণে এর উজ্জ্বলতা কিছুটা কম হবে। তবে এর পরে সারারাত ব্যাপী একটি সুপারমুন(Super Moon) আকারে চাঁদকে দেখা যাবে। এ দিন চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছাকাছি হওয়ার কারণে  30 শতাংশ উজ্জ্বল দেখবে।

চন্দ্রগ্রহণ কিভাবে হয়?(How Lunar Eclipse)-

পূর্ণিমার দিন চাঁদ সূর্য এবং পৃথিবী এক সরলরেখায় অবস্থান করে। চাঁদ এবং সূর্যের মাঝে থাকে পৃথিবী। অর্থাৎ পৃথিবীর একদিকে সূর্য এবং অন্যদিকে চাঁদ। পৃথিবীর যে দিকে সূর্য থাকে সেদিকে দিন এবং যেদিকে চাঁদ থাকে সেদিকে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেদিকে হয় রাত। অর্থাৎ রাতের বেলা আমরা চাঁদকে দেখি। এই অবস্থানে যখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর গিয়ে পড়ে, যেখানে চাঁদের উপর পৃথিবীর ছায়া পড়ে সেই অংশ পৃথিবী থেকে দেখা যায় না বা আংশিক দেখা যায়। যদি আংশিক দেখা যায় তাহলে হয় খন্ড গ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। 

কেন পূর্ণগ্ৰাস চন্দ্রগ্ৰহণ?(Why Full Moon Lunar Eclipse?)-

আর পৃথিবীর ছায়া পুরো চাঁদকে ঢেকে ফেললে তখন হয় পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। এ বিষয়ে আপনারা সকলেই অবগত।

সব পূর্ণিমায় চন্দ্রগ্রহণ হয় না কেন?(It does not happen Lunar Eclipse in all Full Moon situation)-

সব পূর্ণিমাতেই সূর্য পৃথিবী এক সরলরেখায় অবশ্যই অবস্থান করে। কিন্তু প্রতি পূর্ণিমাতেই পৃথিবীর ছায়া চাঁদ পর্যন্ত পৌঁছায় না। মাঝ পথেই শেষ হয়ে যায়। যেহেতু চাঁদে পৃথিবীর কোন ছায়া পড়ে না, তাই চন্দ্রগ্রহণ হয় না।

26শে মে গ্রহন সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য(Information on Full Moon Lunar Eclipse on 26 th May)-

এই গ্রহনের মোট সময়কাল 3 ঘন্টা 08 মিনিট হবে। এই চন্দ্রগ্রহণটি ভারতীয় সময় দুপুর 3:15 এ শুরু হয়ে সন্ধ্যা 6:23 এ শেষ হবে। পূর্ণগ্রাস আরম্ভ বিকাল 4:39 মিনিট। গ্রহণ মধ্য 4:49 মিনিট। পূর্ণগ্রাস সমাপ্তি বিকাল 4 টা 58 মিনিট। গ্রহণ স্থিতি- 3 ঘন্টা 08 মিনিট। পূর্ণগ্রাস স্থিতি 19 মিনিট। গ্রাসমান- 1.016(তথ্য বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা 1428 বঙ্গাব্দ)।

গ্রহণের সময় চাঁদটি লাল তুষের মতো রং ধারণ করবে।, সুতরাং এটির নাম রেড ব্লাড মুন(Red Blood Moon)। 

জ্যোতিষ অনুসারে, এই চন্দ্রগ্রহণটি বুধবার বৃশ্চিক এবং অনুরাধা নক্ষত্রের মধ্যে হতে চলেছে।

লাল রক্তের চাঁদ কী? (লাল রক্ত ​​চাঁদ- ইংরেজি নাম- red blood moon)

26শে May মে চন্দ্রগ্রহণ একটি বিশেষ চন্দ্রগ্রহণ। এই চন্দ্রগ্রহণ জ্যোতির্বিজ্ঞানে এক বিশেষ ইভেন্ট হবে। কারণ সেখানে এক সাথে সুপারমুন, চন্দ্রগ্রহণ এবং লাল রক্তের চাঁদ থাকবে(Super moon, Lunar Eclipse and Red Blood Moon in same time)। পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝে আসে, তখন একটি চন্দ্রগ্রহণ হয়। এই পরিস্থিতির কারণে, পৃথিবীর ছায়া পুরো চাঁদের আলোকে ঢেকে রাখে। এক্ষেত্রে, যখন সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, চাঁদে আলো পড়লে চাঁদ উজ্জ্বল হয়। চাঁদ আস্তে আস্তে পৃথিবীর পিছনে পৌঁছালে এর রঙ আরও গাঢ় হয়। এবং তামাটে বর্ণের মতো  গাঢ় লাল হয়। এই রঙের কারণে এটি ব্লাড মুন(Red Blood moon) নামে পরিচিত।

আংশিক গ্রহণের দৃশ্য কলকাতায় দেখা যাবে।

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, এ বছর প্রথম চন্দ্রগ্রহণটি 26 মে 2021-এ হতে চলেছে। এটি হল এই বছরের প্রথম এবং শেষ সুপারমুন চন্দ্রগ্রহণ। এবং লাল ​​চাঁদও(Red Blood Moon)দেখা যাবে এই চন্দ্রগ্রহণে।

এই চন্দ্রগ্রহণের দিন বুদ্ধ পূর্ণিমাও রয়েছে। এই দিন, চন্দ্রগ্রহণের পাশাপাশি বুদ্ধ পূর্ণিমার উৎসবও উদযাপিত হবে।

2021 সালের প্রথম চন্দ্রগ্রহণের খবর খুব কম লোকই জানেন যে, তিনটি চন্দ্র ঘটনা একই সাথে ঘটবে, যথা- ‘সুপারমুন'(Super Moon), ‘লাল রক্তের চাঁদ'(Red Blood)এবং একটি চন্দ্রগ্রহণ(Lunar Eclipse)। 

26 মে, প্রথম পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ অস্ট্রেলিয়া, প্রশান্ত মহাসাগর, পূর্ব মহাসাগর এবং উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকা থেকে দৃশ্যমান হবে। যেখানে ভারতীয়দের পক্ষে, চাঁদটি পূর্ব দিগন্তের নীচে থাকবে, যার কারণে মানুষ রক্ত ​​চাঁদ দেখতে পাবে না।

সুপার মুন কী?(What is Super Moon?)-

পৃথিবীর চারপাশে চাঁদের কক্ষপথ পুরোপুরি গোলাকার নয়। তাই চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে ঘোরাঘুরি করার সাথে সাথে উভয়ের মধ্যকার দূরত্ব পৃথক হয়। 

পেরিগি/Perigee-  

চাঁদ পৃথিবীর কাছে অবস্থান করলে তাকে পেরিগি বলা হয়। কি অবস্থা পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব হয় 238,000 মাইল। সুতরাং যখন পূর্ণিমা পেরিজির নিকটে থাকে, তখন এটি একটি সুপারমুন হিসাবে পরিচিত। কারণ সেই সময়ে পূর্ণিমার চাঁদ স্বাভাবিক পূর্ণ চাঁদের চেয়ে 30 শতাংশ বড় এবং 14 শতাংশ উজ্জ্বল দেখায়।

এ্যাপোগি/Apogee-

চাঁদ থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সর্বাধিক হলে সে অবস্থানকে এ্যাপোগি বলে। এই সময় চাঁদ থেকে পৃথিবীর দূরত্ব হয় 252 595 মাইল।

রেড ব্লাড পূর্ণগ্ৰাস চন্দ্রগ্ৰহণ(Why Red Blood Super Moon Eclipse?)-

রক্ত রংয়ের চাঁদ দেখা দেয় যখন চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা থাকে। তবে এটি কালো রঙের পরিবর্তে লাল হয়ে যায়। এ কারণেই একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণকে কখনও কখনও ‘লাল রক্তের চাঁদ'( Red Blood Moon) বলা হয়।

নাসারNASA) মতে, “সেই সময় বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া সমস্ত সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয় থেকে রোহিত লাল-কমলা আলো দ্বারা গ্রহন চাঁদটি ম্লানভাবে আলোকিত হয়। গ্রহনের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে যত ধুলাবালি বা মেঘ, তত বেশি লাল চাঁদ দেখা দেবে। “

আরো পড়ুন- বিশ্ব-উষ্ণায়ণের 26টি ছড়া

গ্রহনের সময় করনীয় কাজ-

গ্রহণ একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। এর সঙ্গে পুরানের সেই রাহু কেতুর কোন সম্পর্ক নেই। রাহু কেতু চন্দ্র সূর্যকে ভক্ষণ করার কোন বিষয় নয়। চাঁদ সূর্য পৃথিবী এক সরলরেখায় থাকে বলে চন্দ্রগ্রহণ এবং সূর্য গ্রহণ। অমাবস্যায় সময় সূর্য গ্রহণ এবং পূর্ণিমার চন্দ্রগ্রহণ ঘটে থাকে। এর সঙ্গে আপনাদের কাজকর্মের কোন ক্ষতি বা তার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। আপনাদের যা স্বাভাবিক বলে মনে হবে সেটাই করবেন, তাই খাবেন, তাই পান করবেন।

pmehatory

Hi I am Prabhat, Prabhat Mehatory. I am PG, interested in Technology and Blogging. Like to read and inspired from there try to write something whatever I gathered from learning and experiences.

View all posts by pmehatory →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *