Competitive Exams

Competitive Exams, Coaching Classes and Merits in 21st Century | প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, কোচিং ক্লাস ও মেধা

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার(Competitive Exams) জন্য কোচিং ক্লাস (Coaching Classes)- এর প্রচলন বেশ জনপ্রিয়। এর প্রাসঙ্গিকতার প্রশ্নে প্রায় সকলেই একমত- কোচিং ক্লাসের(Coaching Classes) প্রয়োজনকে অস্বীকার করার উপায় নেই। এখানেই প্রশ্ন আসে তাহলে কি প্রচলিত বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রাসঙ্গিক নয়? সে কথা জোর দিয়ে বলার মত বা তার জন্য অকাট্য প্রমাণ বের করাও খুব মুশকিল হয়ে পড়ে। আজ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য কোচিং ক্লাসের(coaching classes for competitive exams) বিষয়ে আলোকপাত করার ইচ্ছা হল।

প্রথমে আমরা জানি কোন কোন ক্ষেত্রে অর্থাৎ কোন কোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার(competitive exams) জন্য কোচিং ক্লাসের(coaching classes) খুবই প্রয়োজনীয়তা অভিভাবক সহ শিক্ষার্থীরাও অনুভব করেন।

Major Competitive Exams-

Competitive Exams গুলোকে দুটি ভাগে বিভক্ত পারি, যথা-

1-Competitive Exams for Admission in Higher Education, Professional Courses-

এক্ষেত্রে রয়েছে বিভিন্ন পেশাগত পড়াশোনা। যেমন- ডাক্তারী, ইঞ্জিনিয়ারিং, উকিল ইত্যাদি পড়াশোনার জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা(Competitive Exams)। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় JEE, NEET, NEETPG, AIIMS Nursing, CLAT, AILET ইত্যাদি ইত্যাদি এবং আরও অনেক কিছু। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিশেষত উপরের দিকে র্্যাঙ্ক করলে উচ্চ পেশাগত কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। যেহেতু ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা, তাই এই কোর্সে ভর্তি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ক সাংঘাতিক ভাবে বৃদ্ধি করে। তবে সবার পক্ষে এ কোর্সে ভর্তি হওয়া সম্ভব হয় না। মূলত দুটি যোগ্যতার প্রয়োজন, এক- মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী এবং দুই- আর্থিক সংগতি। দুটি বিষয় বা যোগ্যতার পারস্পরিক মেলবন্ধনে এই কোর্স গুলিতে ভর্তির নিশ্চয়তা প্রদান করে। মেধা থাকলেও আর্থিক অসমর্থতা শিক্ষার্থীকে পিছু হটতে বাধ্য করে। অন্যদিকে এর বিপরীত ঘটনা চোখে পড়ার মতো।

2- Competitive Exams for Employment-

অন্য ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা(competitive exams) হলো চাকরি পাওয়ার পরীক্ষা। জাতীয় স্তর সহ বিভিন্ন রাজ্যের উচ্চপদস্থ চাকরি বলতে যা বোঝায় তা হল- আইএএস, আইপিএস, বিসিএস ইত্যাদি পদে যোগদানের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ। তাছাড়া আরও নানান প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আছে। সেগুলো অপেক্ষাকৃত অন্য ধরনের পদ হলেও তার পরীক্ষার ধরনকে কম গুরুত্ব দিলে বোকামি হবে। যেমন- আর্মি, নেভি এবং এয়ার ফোর্স, ক্লারিক্যাল বা পিয়ন এর পদ হলো প্রতিযোগিতাযর ভীড় সকলকে অবগত করে আমাদের দৈন্যদশাকে।

এ সমস্ত পরীক্ষাগুলি পরিচালনা ও প্রার্থী নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন কমিশন রয়েছে। যেমন- জাতীয় স্তরে ইউপিএসসি(union public service commission) বা বিভিন্ন রাজ্যের পিএসসি(public service commission), এসএসসি(staff selection commission) ইত্যাদি। ইউপিএসসি যেমন আইএএস, আইপিএস এর মত পরীক্ষা পরিচালনা করে, তেমনি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে অসংখ্য পরীক্ষা পরিচালনা করে থাকে। যেমন- সিডিএস(combined defence services), আইএফএস(Indian forest services) ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার রাজ্যগুলিতে পিএসসি যেমন বিসিএস পরীক্ষা পরিচালনা করে, তেমনি ক্লার্কশিপ পরীক্ষাও পরিচালনা করে।

বর্তমান আলোচ্য বিষয় বিভিন্ন পরীক্ষা বা পদ নয় বরং এই পদে আসার জন্য যে পরীক্ষা ও তাতে বসা এবং উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য অতিরিক্ত কোচিং ক্লাসে(coaching classes) ভর্তি হওয়া সংক্রান্ত।

যোগ্যতা(Eligibility)-

পরীক্ষায় বসার জন্য সে ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্যই হোক বা চাকরি পরীক্ষায় বসার জন্যই হোক, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ন্যূনতম যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন তা সকলকে অর্জন করতে হয়। যেমন কেন্দ্রীয় স্তরে কোন বিভাগে অফিসার হওয়ার জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই গ্রাজুয়েট হতে হয়। ডাক্তারি পড়তে গেলে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করতে হয় এবং অবশ্যই বায়োলজি বিষয় নিতে হয়। সেরকম একজন পিয়ন পদের জন্য ন্যূনতম অষ্টম উত্তীর্ণ এবং একজন ক্লক হওয়ার জন্য নূন্যতম মাধ্যমিক পাস অবশ্যই হতে হবে। তবেই পদগুলির ক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রিধারী প্রার্থীরাও অংশগ্রহণ করে।

এখন প্রশ্ন ন্যূনতম ডিগ্রী থাকলে যেকোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা অর্জন করলেই সমস্যা সমাধান হওয়া উচিত। যার মেধা যেরকম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সে সেই স্থানে র্্যাঙ্ক করবে এবং সেই কোর্সে বা সেই পদে চাকরিতে যোগদান করবে। কিন্তু সমাধান এখানে হয়না। সমাধানকে আরো জটিলতর করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষ থেকেই সাংঘাতিক ভাবে সমানতালে অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।

তাহলে কে যোগদান করবে? এক কথায় বলা যায় মেধাবীরাই। এখানে মেধা নির্ণয়ের যোগ্যতা নির্ণায়ক পদ্ধতির মূলেই রয়েছে অর্থনীতি এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক। অর্থাৎ সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও পাশ করে বেরিয়ে এলে হবেনা। নিজের মেধা প্রমাণ দেওয়ার জন্য বসতে হবে মেধা নির্ণয়ের অন্য ধরনের পরীক্ষা যথা প্রবেশিকা বা চাকরি সংক্রান্ত পরীক্ষা। 

বিভিন্ন কারণবশত বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হলেও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারে। অথবা বেশি বেশি নম্বর পাওয়াকে যদি মেধাবী বলে থাকি সেই প্রার্থীও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায়(competitive exams) ভালো ফল নাও করতে পারে। পরবর্তী সময়ে সে তার প্রকৃত মেধা দেখানোর সুযোগ পেতে পারে।

আবারও বলি কোন পেশাদার কোর্সে ভর্তি অথবা চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য নূন্যতম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও সঙ্গে মেধা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কোনো রকম কাটছাঁট চলবে না। আমরা ভরসা রাখি মেধার উপর। এখানে আমাদের দৃষ্টি যায় প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেটের দিকে। যার নাম্বার বেশি সে মেধাবী। যার নাম্বার কম সে মেধাবী নয়‌। আবার যে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছে সে কমার্স রাত আর্টস-এর ছেলে মেয়েদের তুলনায় বেশি মেধাবী। এই আপেক্ষিক আপাত মানসিক বিচারকেই হাতিয়ার করেই ব্যবসা শুরু হয়েছে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের। সরকারি অনুমতি ও অনুমোদনে বেসরকারি ভাবে এইসব সেন্টারের উন্মেষ এবং চলছে যোগ্যপ্রার্থী নির্বাচনের ব্যবসা।

সরকারিভাবে এন্ট্রান্স বা চাকরির পরীক্ষায় যেসব প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়, তার মধ্যে বিগত বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমের মধ্যে 100% কোন মিল থাকে না। আর এই হাতিয়ারকে কাজে লাগিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো গজিয়ে উঠেছে। প্রার্থীদের সরকার যেভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেয় তার ধরন অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক কোচিং সেন্টার গুলি শুরু করেছে এক পৃথক পাঠক্রম, যার সাথে আবারো বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়ের পাঠক্রম, পড়াশোনার পদ্ধতির কোন মিল নেই। অর্থাৎ বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায  অতিরিক্ত দক্ষতা অর্জনের জন্য কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতেই হবে।

কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই বলবেন কোচিং ছাড়া এস, আই পি এস সি পরীক্ষায় পাশ করা অসম্ভব। মেনে নিলাম। তাহলে ওই কোচিং গুলোতে মূলত ছাত্র-ছাত্রীদের কি শেখায়? যা বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় ষ, মহাবিদ্যালয় শেখানো হয় না। যেখানে সাধারণ নিম্নবিত্ত বাড়ি থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করে, সেখানে উচ্চ পেশাদার কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষা অথবা উচ্চপদে সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য বসতে গেলে কোচিং সেন্টার থেকে কোচিং নিতে হয়। আর এখানেই আর্থিক সামর্থ্যতার প্রশ্নে নিম্ন মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্তদের কোন স্থানি নেই। 

কোচিং সেন্টারগুলোতে কি শেখায়-

কিভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যতটা পারা যায় উত্তরগুলো বিশেষ টেকনিক্যাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করে আসা। তার সাথে কিছু অতিরিক্ত রেফারেন্স বই ও সহযোগী নোটস সমূহ। যে পদ্ধতিতে কোচিং সেন্টারগুলো শেখায় ও অতিরিক্ত নির্বাচনী পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রশ্ন আসে তা আমাদের সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকেনা। সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সার্টিফিকেট প্রধান আর এন্ট্রান্স ও চাকরির পরীক্ষা’ই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এখানে প্রশ্ন- যদি এন্ট্রান্স বা চাকরি পরীক্ষায় পাশ করাটাই গুরুত্ব পায়, তাহলে ঠিক কোচিং সেন্টারের মতোই পড়াশোনা সাধারণ বিদ্যালয় চালু করা যায় না কেন? তাহলে ডিগ্রী সার্টিফিকেট ও মেধা পরীক্ষার পড়াশোনা একসাথেই পাওয়া যাবে। নিম্ন মধ্যবিত্ত বা আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীরা ঐ সমস্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বা চাকরি পরীক্ষায় বসে অন্তত ভরসাটুকু পাবে যে তারাও যোগ্য। আপনারা বলবেন কোচিং না নিয়ে বসতে পারে। পারে। কিন্তু পাশ করবে না। পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, বা মান তা উদ্ধার করতে গেলে প্রচুর টাকা দিয়ে কোচিং নিতে হবে। তা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

যোগ্যতার বিচার-

নির্বাচনী পরীক্ষা বা চাকরি পরীক্ষায় যা প্রয়োজন তা হলে যোগ্যতা। যোগ্যতা আবার মেধা, দক্ষতা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ সহকারে অবয়ব তৈরি করে। এর সঙ্গে প্রয়োজন কাজ করা বা পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বয়স, মানসিকতা এবং এফোর্ট। সব বৈশিষ্ট্যগুলি এক প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায়না। তা ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন আর্থিক যোগানের মাধ্যমে কিনে নিতে হয়। মেধা, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা সবগুলো একসাথে পাওয়ার আকাঙ্খাই মালিক, সরকারপক্ষ সবসময় চায়। কিন্তু কিছু কর্মের ক্ষেত্রে কর্মের যোগ দেওয়ার পূর্বে সমস্ত কিছু প্রয়োজন, আবার কিছু কিছু কর্মের ক্ষেত্রে কেবল মেধা নির্বাচনের মাধ্যমে কর্মে বা পড়াশোনা যোগদানের পর প্রশিক্ষণ, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়।

Read More-

Coaching Classes and Merits-

ডাক্তারি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা আইএএস আইপিএস বিসিএস চাকরির জন্য কেবল মেধাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে মেধা নির্ণয়ের একমাত্র নির্ণায়ক যান্ত্রিক পদ্ধতি হলো জে ই ই, ইউ পি এস সি, পিএসসি পরীক্ষায় পাস করা। আর এখানে প্রশ্ন সেই পরীক্ষাগুলো মেধা নির্ণয়ের প্রকৃতই কোন মাপকাঠি কি’না। যদিও আইএএস আইপিএস ইত্যাদি ক্ষেত্রে গ্রুপ ডিসকাশন বা পার্সোনালিটি টেস্ট হয়।  প্রশ্ন সেখানে নয়। প্রশ্ন হল এই স্তর পর্যন্ত যাওয়ার পূর্বেই প্রিলিমিনারী, মেন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও তা উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য কোচিং নেওয়ার ব্যাপারে। কোচিং এর মাধ্যমে যে যন্ত্রমানব তৈরি হয়, তা পেতে পারে কেবল অর্থবান বাড়ির ছেলে মেয়েরাই। সকলের জন্য পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে। কিন্তু প্রশ্নের ধরন বলে দেয় তাকে উদ্ধার করার জন্য কোচিং প্রয়োজন।

তাই মেধা নয়, মেধার তুলনায় ওয়েল ট্রেনডকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। যদি তাই হয় তাহলে বিদ্যালয় স্তর থেকেই সেই শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা যায় না কেন? যার সাহায্যে প্রশিক্ষণ বা উচ্চ চাকুরী সমস্ত পরীক্ষাতে সকল ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত হতে পারে। অন্তত সাহস টুকু পায়।

আজ থেকে 40- 50 অন্তত কুড়ি বছর পেছনে চলে যাই। সে সময়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বা আইএএস, আইপিএস অফিসার বর্তমানেও রয়েছেন তারা কি কোন কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করে ওই ধরনের শক্ত পরীক্ষায় পাশ করেছিলেন? এক বাক্যে বলবো- না। তারা সাধারণ বিদ্যালয় মহাবিদ্যালয় থেকে, এমনকি তাদের আঞ্চলিক ভাষার মাধ্যমেই বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইপিএস, আইএস চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উন্নত মানের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা আমলার কাজ সামলে এসেছেন। তাহলে আজকের এই অবস্থা কেন? কেন প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি এই ধরনের প্রবেশিকা বা চাকরির পরীক্ষার জন্য কোচিং নিতেই হবে? প্রকৃত মেধার বদলে আমরা কি যান্ত্রিক মানুষের কাছে নিজেদের সঁপে দিচ্ছি না? 

এই বিষয়টা একটু উদাহরণ সহকারে বোঝালে পরিষ্কার হয়ে যাবে। ধরা যাক উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার দুটি ছাত্র। একজনের উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট অন্যজনের তুলনায় খারাপ। যার খারাপ রেজাল্ট সে কোচিং এ ভর্তি হল এবং যার ভালো রেজাল্ট সে বাড়িতেই পড়াশোনা করতে লাগল এন্ট্রান্স পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। অবশেষে মেধাবী ছাত্রটি উপরের দিকে ব্যাংক করল এবং সরকারি ডাক্তারি কলেজে ভর্তি হলো। অন্যদিকে কোচিং সেন্টারে কোচিং ছাত্রটি সে বছর এন্ট্রান্স পরীক্ষা পাস করতে পারলো না, পরের বছরে পাশ করল এবং কয়েক বার কাউন্সেলিং এর পর সরকারি ডাক্তারি মহাবিদ্যালয়েই ভর্তি হল। অবশেষে ডাক্তার হলো।

এই দুজন ডাক্তারের মধ্যে কার কাছ থেকে সবচেয়ে ভালো ডাক্তার, ভালো পরিষেবা আশা করা যায়? 

আর এ কারণেই কেবল মুষ্টিমেয় কিছু গোষ্ঠীর কাছেই উচ্চপদের চাকরি গুলির সীমাবদ্ধ থাকবে। আর মেধা তৈরীর নামে কোচিংয়ের জয়জয়কার হবে।

pmehatory

Hi I am Prabhat, Prabhat Mehatory. I am PG, interested in Technology and Blogging. Like to read and inspired from there try to write something whatever I gathered from learning and experiences.

View all posts by pmehatory →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *