Campaigning of consciousness

Campaigning of Consciousness of Covid- 19 and Free Panic with it | করোনা সচেতনতা প্রচারের সাথে আতঙ্ক বিনামূল্যে

সচেতনতা প্রচারে ও বিনামূল্যে আতঙ্ক(Campaigning of Consciousness and Free Panic with it) সরকারি-বেসরকারি সহ অন্যান্য নানান প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত স্তর থেকে আমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে অতি সহজে। কারণ বর্তমান সময়ের মাধ্যম- সরাসরি দূরদর্শন, সংবাদপত্র, সামাজিক মাধ্যম, ইন্টারনেট সকল স্তরে আমাদের অবাধ যাতায়াত। যদিও সংবাদপত্র পড়ার মত সামর্থ্য সকলের থাকেনা। কিন্তু অন্যান্য মাধ্যমগুলি তার স্থান পূরণ করে। মাধ্যমের শ্রেণীবিভাজন বিষয়ে আজ বক্তব্য নয়। মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে সমাজের সকল স্তরে বিভিন্ন সংস্থা, ব্যক্তিবর্গ সচেতনতা শিবির চালিয়ে যাচ্ছে বা চালাচ্ছেন এ বিষয়ে আমার অনুভূতির কথা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি।

স্বীকারোক্তি | Disclaimer-

এখন আমার মনেও প্রশ্ন আসছে আমি এই লেখার মাধ্যমে কি সচেতনতা প্রচার করছি? না’কি নিছকই হিজিবিজি কিছু কথা। তাল নেই, সুর নেই, এলোমেলো উদাসী হাওয়া? কোন সচেতনতা প্রচার নয়। কেবলই সাদামাটা ধারণা। মস্তিস্কে ও মনে যে প্রশ্নগুলি দানা বাঁধছে তা আপনাদের কাছ থেকে উত্তরের আশায় আছি।

সচেতনতা প্রচার- সাথে আতঙ্ক বিনামূল্যে | (Campaigning of Consciousness and Free Panic with it)-

2021 থেকে আজ পর্যন্ত কোভিড নিয়ে শ’য়ে শ’য়ে খবর, ভিডিও, ভয়েস, ছবি আমরা পড়লাম, শুনলাম, দেখলাম। ভালো-মন্দ মিলেমিশে একাকার। তার মধ্যে থেকে ভালোকে শনাক্ত করে মন্দগুলোকে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার মতো ক্ষমতা অধিকাংশ মানুষের নেই। নেই বলা ভুল। আসলে শনাক্ত যাতে না করা যায় সেভাবেই খবর তৈরি ও প্রচার।

উদাহরণ দি- যেমন 23/6/2021 আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রথম পাতায় খবরের শিরোনাম- ‘ ডেল্টা প্লাসেই ভয় তৃতীয় ঢেউয়ের।’ আবার 24/6/2021 এর প্রথম পাতায় শিরোনাম- ‘রোগী বাড়ছে ডেল্টা প্লাসের।’ পরপর দুদিনে্য এই খবর দুটো গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতা প্রচার? না’কি ভয় প্রচার? নাকি দুটোই?

এরকম আরো অনেক প্রচার আছে। যেখানে সচেতনতা আর ভয় সহাবস্থান করছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ঢোকানোর জন্য একটা খবরই যথেষ্ট। মনের মধ্যে চুম্বকের মত তার আকর্ষণ এবং জোরালো আঠার মত আটকে পড়া। সেখান থেকে ছাড়ানো খুবই মুশকিল। অন্যদিকে মানুষকে প্রকৃত সচেতন করতে লাগে হাজার হাজার শিবির, প্রচার, সাংঘাতিক প্রচেষ্টা। তবুও একজন মানুষকে সচেতন করা দুরূহ হয়ে পড়ে।

সচেতন ব্যক্তি হিসেবে আপনি চাইছেন আপনার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সমস্ত লোকজনকে প্রকৃত সচেতন করতে। এখানে কোনো রকম ব্যবসায়িক বা আর্থিক লাভের বিষয় নেই। কিন্তু যদি সচেতনতা প্রচারের সাথে অর্থের কোন সম্পর্ক থাকে, আপনার আর্থিক লাভ-লোকসানের ব্যাপারটা থাকে তাহলে বলব আপনি সচেতনতার জন্য প্রচার করবেন ঠিকই। কিন্তু বিনামূল্যে আতঙ্ক উপহার অমূলক নয়। সেটা স্বাভাবিক ভাবেই আপনার প্যাকেজে থাকবেই।

সচেতনতা প্রচার, বিভিন্ন সংস্থার কার্যাবলী-

কোভিড সচেতনতার জন্য প্রথমেই বলেছি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা আছে। সরকারের দায় আছে মানুষকে সচেতন করার। কারণে মানুষের করের টাকায় সরকার চলে। সুতরাং স্বাস্থ্য জীবন সুরক্ষায় দায়ও সরকারের আছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা উঠে পড়ে লেগেছে সচেতন করার কর্মসূচি বাস্তবায়িত করার জন্য।

অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সরকারিভাবে নির্দেশ দেওয়া হয় তাদের দিক থেকে জনগণকে সচেতন করার কর্মসূচী প্রণয়ন ও তার প্রয়োগে। বেসরকারি সংস্থাগুলো এ ক্ষেত্রে দায়ী কেন? কেননা বেসরকারি সংস্থা গুলির তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম তথা সংস্থাটি সচল রাখার জন্য সরকারের অনুমতি নিতে হয়। তাই সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতা প্রচারেও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রচারিত হয় সেটা স্বাভাবিক।

উদাহরণ দি- এখন বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে তাদের লোগোতে বা ক্যাপশনে সচেতনতা বাক্য ঝলসে উঠছে। সাবান, হাত ধোয়ার সামগ্রী, পুষ্টির বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে সচেতনতা প্রচারের প্রতিযোগিতা। এটা কি ওদের দায়, না’কি কেবলই ব্যাবসায়িক দিক?

Loss and Profit in Campaigning | সচেতনতা প্রচার ও লাভ লোকসান-

একটা লাভজনক সংস্থা সচেতনতা শিবির কেন করবে? যদি তার আর্থিক লাভ না হয় অথবা কোন ব্যক্তি যদি কোন লাভজনক সংস্থার সাথে যুক্ত থাকেন, অবশ্যই তিনি সচেতনতা শিবির করবেন। তার সাথে ভয় ধরাবেন বিনামূল্যে। কোন ব্যক্তি বা কোন সামাজিক সংস্থা কোন লাভজনক সংস্থার সাথে যুক্ত আছে, কি নেই তা কখনো প্রকাশ্য অথবা প্রচ্ছন্ন থাকে। অর্থাৎ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লাভজনক সংস্থার জন্য কাজ করে যায়। তবে পক্ষে যারা কাজ করে তাদের কার্যাবলী বেশিরভাগ প্রচ্ছন্ধ থাকে। সহজে প্রমাণ পাওয়া বা দেওয়া যায় না। ওদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে বেশ মুশকিল। আপনাকে তাদের রোষে পড়তে হতে পারে। জীবনহানির সম্ভাবনা থাকতে পারে। তাই চুপচাপ থাকতে হয়। আপনি সবই বুঝতে পারছেন, বোঝাতে পারছেন না‌ দেখতে পাচ্ছেন না, কিন্তু অনুভব করতে পারছেন- কোথাও একটা গন্ডগোল আছে।

চারিদিকে সকল সচেতনতা প্রচারকারী লোকজন, সংস্থা সবসময়ই বলছেন- বাড়িতে কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র রাখতে। ওষুধ গুলির নাম বলছি না। সকলেই জানেন। কিছু জ্বরের ওষুধ, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, কিছু ভিটামিন ইত্যাদি। কতজন যে কিনে খেয়েছেন ভুরি ভুরি, তার পরিসংখ্যান অবশ্য আমি দিতে পারবো না। কিন্তু এই অসময়ে অন্যান্য ব্যবসা যেখানে লাটে উঠেছে সেখানে ওষুধ ব্যবসার কি রমরমা বাজার। কেন? কেননা জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। বেঁচে থাকার প্রশ্ন। কোনরকম সমঝোতা করা সম্ভব নয়। ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কিনে আনছি। প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। এখানেও সেই একই কথা। এক- প্রেসক্রিপশন করানো অর্থে সময় বরবাদ। দুই- ডাক্তারের ফিজ- অর্থ বরবাদ।

তাছাড়া অন্য আরও দুটি দ্রব্য বাজারে প্রচুর বিক্রি। সে দুটো হল- মাক্স, স্যানিটাইজার। এ দুটোও ওষুধ ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত।

Campaigning through E-media | সংবাদ মাধ্যমগুলোর সচেতনতা প্রচার-

এর মধ্যেও লাভ-লোকসান জড়িয়ে আছে। বেসরকারি চ্যানেল গুলো যেভাবে সংবাদ গুলো প্রচার করে তাতে বুক দুরুদুরু অবস্থা। সেদিন খবর দেখছিলাম। স্টুডিও সাংবাদিকের কি প্রকাশভঙ্গি, কি তার জোর, অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি- ‘আছড়ে পড়ল করোণার তৃতীয় ঢেউ।’ আপনি আতঙ্কিত হতে বাধ্য হবেন। বুকে আঘাত লাগবে জোর। দুর্বল হলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এই খবরগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কৌতুহল হয়। ওদের ভঙ্গিমাযটাই ওরকম। উদ্দেশ্য মানুষকে ভয় দেখানো, আতঙ্কে রাখা। পরক্ষনেই বলছে- ‘আতঙ্কিত হবেন না, ভয় পাবেন না।’ একথাতেও আছে ঢিল ছোঁড়ার মত গতি। ‘ভয়’ আর ‘আতঙ্ক’ শব্দ দুটো দিয়ে আপনাকে এমন ছুঁড়ে মারবে আপনার বুক ছিন্নভিন্ন হতে বাধ্য।

Why Panic | কেন ভয় বা আতঙ্ক-

ভয় বা আতঙ্ক সচেতনতা সত্ত্বেও আমাদের মনের মধ্যে দানা বাঁধে। আগেই বলেছি শত সচেতনতা একটিমাত্র আতঙ্কে ধরাশায়ী। আপনি খুবই সচেতন কিন্তু একটু আতঙ্কিত হওয়ার অর্থই আপনার মানসিক শক্তি তলানীতে এসে ঠেকবে। ফলস্বরূপ অনাক্রম্যতা/ইমিউনিটি কমতে বাধ্য।

আতঙ্ক ভয় তৈরি এবং তাকে জিইয়ে রাখাই হলো আর্থিক লাভবান সংস্থাগুলির প্রধান উদ্দেশ্য। মানুষ যত আতঙ্কিত হবে ততোই তাদের ওপর নানান রকম রেমিডির বোঝা চাপানো যাবে। তারা সেগুলো কিনতে বাধ্য হবে। কোম্পানি অর্থ লাভ করবে। সোজা হিসাব।

Weather the People not buy medicine | তাই বলে মানুষ ওষুধপত্র কিনবে না-

অবশ্যই কিনবে। শরীরে প্রয়োজনীয় রোগের নিরাময় ওষুধ কিনতে হবে। খেতেও হবে। কিন্তু ওষুধ কেনা বিলাসিতায় পরিণত হয়ে সেবন হিতের চেয়ে বিপরীত হবে।

সত্য থেকে মিথ্যার সাময়িক পোটেনশিয়ালিটি বেশি-

মাধ্যমগুলো প্রায়শই বলে- ‘গুজব ছড়াবেন না। গুজবে কান দেবেন না।’ আমাদের কান কিন্তু গুজবের দিকেই বেশি করে ছুটে। করোনা আবহে পরস্পর বিরোধী মন্তব্য, তথ্য আমাদেরকে যেভাবে বিভ্রান্তি করেছে, সত্য-মিথ্যা মিলেমিশে একাকার হয়েছে, তার থেকে নিষ্কৃতি পেতে সময় লাগবে অনেক। কেননা সত্যের সাথে যে মিথ্যাগুলো মনের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছে তাকেও শর্টিং করা বেশ মুশকিল। সবই তো বিনামূল্যে পাওয়া। যেহেতু বিনামূল্যে তাই নিয়েছিও ঝুলি ভরে।

ফলস্বরূপ কতজন মানুষ মানসিক রোগীতে পরিণত হয়েছে তার খবর কে রাখে। করোণা আতঙ্কেই কত মানুষ যে মারা পড়েছে, তার পরিসংখ্যাও আমাদের কাছে নেই। সরকারের কাছে কি আছে?

The words which Spread Penic | আতঙ্ক ছড়ানো শব্দ-

কতগুলো শব্দ যেগুলো সচেতনতার নামে সচেতনতা প্রচারের পাশাপাশি বসানো বন্ধ করা উচিত। যে শব্দগুলো প্যাকেজের সাথে আমাদের মনে বাসা বাঁধছে। যেমন- ‘ভয়’, ‘আতঙ্ক’, ‘মৃত্যুসংখ্যা’, ‘মারাত্মক ক্ষতি’, ‘মহামারী’ না জানি আরো কত কি।

আরো পড়ুন- নন ডিজিটাল সিটিজেনশিপ টিকাকরণ

Light of hope | আশার আলো-

 ‘ডেল্টায় শেষ, ক্ষমতার শেষ প্রান্তে করোণা‘- (আনন্দবাজার পত্রিকা, পৃষ্ঠা-7, 25/6/ 2021) এক ভরসা যোগ্য আশার আলো। সার্স কোভ-2 মিউটেশন করেছে আলফা, বিটা, গামা, থেকে ডেল্টা প্লাসে। একাধিক ভেরিয়েন্ট অফ কন্সার্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে covid-19 ক্ষমতার শেষে সে প্রান্তে এসে পৌছেছে। আগামীতে আর তার মিউটেশন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। কারণ স্পাইক প্রোটিনের আর মিউটেশন ঘটানো সম্ভব নয়। ছোটখাটো পরিবর্তনও নয়। সাহসী মন গঠনের বাজ্ঞধন শক্ত হবার শুরু। আশা রাখি অবসাদ থেকে সকলেই বেরিয়ে, সুস্থ শরীর ও মন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। ধন্যবাদ।

pmehatory

Hi I am Prabhat, Prabhat Mehatory. I am PG, interested in Technology and Blogging. Like to read and inspired from there try to write something whatever I gathered from learning and experiences.

View all posts by pmehatory →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *