Durga Puja 2021 in bengali

Why Durga Puja 2021 in Bengali | Cultural Programme Preferably Necessary in spite of Corona Crisis | দুর্গাপূজা ২০২১ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

১৪২৭ বঙ্গাব্দের দুর্গাপূজার(Durga puja 2020) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান(Cultural Programme) গুলি ঠিক মত হলো না। কিন্তু 2021 (১৪২৮ বঙ্গাব্দ) দুর্গোৎসবের খবরা-খবর(Durga puja 2021 in Bengali) সঠিকভাবে এখনো আমাদের কাছে নেই। গতবছর পুজোর দু-তিন মাস আগে থেকে দ্বন্দ্বে ছিলাম‌‌। গত এক দু’বছর যাবৎ করোনা মহামারীর চরম খেলায় সামাজিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গুলিতে যেভাবে প্রভাব ফেলেছে তাতে মনে সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক।

Cultural Programme এ বিধিনিষেধ-

বিভিন্ন কারণে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন জনসমাবেশও সরকার নোটিশ জারী করে হয় নিষিদ্ধ করেছে, না হয় অনুষ্ঠানের বহর কমানোর নোটিশ জারি করেছে। সে সমল আমরা সকলে অবগত। কারণ করোনা মহামারীর আকার নিয়েছে। জনসমাগম থেকে করোনা ছড়ানোর সম্ভাবনা থেকেই দুর্গাপুজোর মতোই মেলাগুলো বন্ধ হবার সম্ভাবনা।  বোলপুর শান্তিনিকেতন মেলা এবং জয়দেব মেলা সব বন্ধ হল। 

আগস্ট, 2020 কেরালার বিখ্যাত ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে কেরালা সহ আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছে। নিয়ন্ত্রিত করোনা কিভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়ায়। এপ্রিল-মে মাসে কেরালা ভারতের মধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণের মডেল ছিল। বামপন্থীরা উচ্চস্বরে ঘোষণা করেছিল এবং কখনও কখনও দাবি উঠেছিল সারা দেশে করোনা মোকাবেলায় কেরালা মডেল অনুসরণ করা হোক। ভালো মন্দ যাই হোক বা ফলাফল যাই হোক বিপক্ষ রাজনৈতিক নেতারা কখনোই অনুসরণ করে না। এটা অবশ্যই সত্যি। 

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন 2021। সারাদেশে করোণা হুহু করে বেড়ে চলেছে। সেই পরিস্থিতিতে কিভাবে নির্বাচন পদ্ধতি সমাপন হল, আমরা দেখেছি। এবং তারপরে করোনার তীব্র আক্রমণ আর সংক্রমণের হার যে হারে বেড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যেহেতু নির্বাচন সে ক্ষেত্রে সকল রাজনৈতিক দলগুলি মতাদর্শগত মিলন সকলের জানা।

সে যাই হোক, এখন পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন বাঙালি এলাকায় অনুষ্ঠানে মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান(Cultural Program) নিয়ে দু’চারটে কথা বলার প্রয়োজন।

পুজো মেলা অনুষ্ঠিত হওয়া না হওয়া নিয়ে বাঙালি শিবিরে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়েছিল। একপক্ষ মেলা ও পুজোর মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চাইছে। অন্যপক্ষ যাতে না হয় তার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তাদের হাতে বিস্তর কারণ ও তার প্রমাণ রয়েছে যে পুজো অনুষ্ঠিত হওয়ার থেকে না হওয়া অনেক নিরাপদ।পুজো অর্থে করোনা কে আরও সাদরে আমন্ত্রণ এবং সংক্রমণ ছড়ানোর পথকে প্রশস্ত করা। 

সত্যি তাই। কেরলে ওনাম উৎসব তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। তাছাড়া অন্যান্য আরো যুক্তি আছে। হাইকোর্টে গিয়ে ফোরাম ফর দুর্গোৎসব কমিটি মামলা করেছিল। হাইকোর্ট বিভিন্নভাবে রায় দেয় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে।

Durga Puja 2020 বিধিনিষেধ-

হাই কোর্টে গতবছর 2020 পূজো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য রায় দিয়েছিল। রায়ে বলা হয় পুজোমণ্ডপে নো এন্ট্রি’ বোর্ড লাগাতে হবে। পুজোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত লোকদের নাম প্রকাশ করতে হবে। এবং এই নামের তালিকা যখন তখন  পরিবর্তন করা যাবে না। মন্ডপের 40 থেকে 45 জনের বেশি লোক সমাগম করা যাবে না।

এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন খবরের কাগজে, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে জানতে পেয়েছি। মহামান্য উচ্চ আদালতে এ ব্যাপারে সম্মান জানাই। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রায়কে মানা না মানা নিয়ে কোনরূপ খবর হয়তো ছিল। কিন্তু সব জায়গায় 100% আদালতের রায় কে মানা হয়েছিল কি? জানা নেই।

দুর্গাপূজা ২০২১(সন ১৪২৮ সালের) দুর্গাপূজার সময় নির্ঘণ্ট-

2021খ্রীঃ/১৮২৮সালের দুর্গাপূজার মহাষষ্টি পড়ছে 11 ই অক্টোবর।

মহালয়া6 ই অক্টোবর
মহাসপ্তমী12 ই অক্টোবর
মহাষ্টমী13 ই অক্টোবর
মহানবমী14 ই অক্টোবর
বিজয়াদশমী 15 ই অক্টোবর

এখানে সন ১৪২৮ সালের দুর্গাপূজার সময় নির্ঘণ্ট দেওয়া হল। এই সময় অনুযায়ী কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গের পূজা কার্যাদি সম্পন্ন হবে। সমস্ত সময় ভারতীয় প্রমাণ সময়ানুযায়ী—

• পঞ্চমী ও ষষ্ঠী •

২৪শে আশ্বিন, (ভাঃ ১৯শে আশ্বিন), ইং ১১ই অক্টোবর, সোমবার–সূর্যোদয় ঘ ৫।৩৫, সূৰ্য্যাস্ত ঘ ৫।১৩, পূৰ্ব্বাহ্ন ঘ ৯।২৮। পঞ্চমী প্রাতঃ ঘ ৬।২৪ পরে ষষ্ঠী শেষরাত্রি ঘ ৪।৪ পৰ্য্ন্ত। প্ৰাতঃ ঘ ৬।২৪ গতে শ্রীশ্রীদুর্গাষষ্ঠী। প্রাত: ঘ ৬।২৪ গতে পূৰ্ব্বাহ্ন মধ্যে, (কিন্তু কালবেলানুরোধে দিবা ঘ ৭।৩ মধ্যে পুনঃ দিবা ঘ ৮।৩০ গতে পূৰ্ব্বাহু মধ্যে) শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর ষষ্ঠ্যাদিকল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা প্রশস্তা, (অত্রকৃত্যে কালবেলানুরোধে নিরবকাশে ন বহু সম্মতঃ)। সায়ংকালে শ্রীশ্রীদুর্গাদেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। 

• সপ্তমী •

২৫শে আশ্বিন, (ভাঃ ২০শে আশ্বিন), ইং ১২ই অক্টোবর, মঙ্গলবার সূর্যোদয় ঘ ৫।৩৬, সূৰ্য্যাস্ত ঘ ৫।১২, পূৰ্ব্বাহ্র ঘ ৯।২৮। সপ্তমী রাত্রি ঘ ১।৪৮ পর্যন্ত। শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাপূজা। পুৰ্ব্বাহ্র মধ্যে দ্ব্যাত্মক চরলগ্নে ও চরণবাংশে, (কিন্তু বারবেলানুরোধে দিবা ঘ ৭।৩ মধ্যে পুনঃ দিবা ঘ ৮।৩০ গতে পূৰ্ব্বাঃ মধ্যে) শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদিকল্পারম্ভ ও সপ্তমীবিহিত পূজা প্রশস্তা, (অত্ৰকৃত্যে বারবেলানুরোধে নিরবকাশে ন বহু সম্মতঃ)। দেবীর ঘোটকে আগমন। ফল-ছত্রভঙ্গ। 

• মহাষ্টমী •

২৬শে আশ্বিন (ভাঃ ২১শে আশ্বিন), ইং ১৩ই অক্টোবর, বুধবার সূর্যোদয় ঘ ৫।৩৬, সূর্যাস্ত ঘ ৫।১১. পূৰ্ব্বাত ৯।২৮। মহাষ্টমী রাত্রি ঘ ১১।৪৯ পৰ্য্যন্ত। পুৰ্ব্বাহ্ন মধ্যে কিন্তু কালবেলানুরোধে দিবা ঘ ৮।৩০ মধ্যে শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর মহাষ্টম্যাদিকল্পারম্ভ ও কেবল মহাষ্টমীকল্পারম্ভ এবং মহাষ্টমীবিহিত পূজা প্রশস্তা, (অত্রকৃত্যে কালবেলানুরোধে নিরবকাশে ন বহু সম্মতঃ)। পূৰ্ব্বাহ্ মধ্যে বীরাষ্টমী ও মহাষ্টমীর ব্রতোপবাস। রাত্রি ঘ ১১।০ গতে ১১।৪৮ মধ্যে শ্রীশ্রীদুর্গাদেবীর অর্দ্ধরাত্রবিহিত পূজা।

● সন্ধিপূজা ●

রাত্রি ঘ ১১।২৫ গতে ১২।১৩ মধ্যে সন্ধিপূজা। রাত্রি ঘ ১১।২৫ গতে সন্ধিপূজারম্ভ। রাত্রি ঘ ১১।৪৯ গতে বলিদান। রাত্রি ঘ ১২।১৩ মধ্যে সন্ধিপূজা সমাপন।

● মহানবমী ●

২৭শে আশ্বিন (ভাঃ ২২শে আশ্বিন), ইং ১৪ই অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সূৰ্য্যোদয় ঘ ৫।৩৭, সূৰ্য্যাস্ত ঘ ৫।১১, পূৰ্ব্বাহু ঘ ৯।২৮। মহানবমী রাত্রি ঘ ৯।৫২ পর্য্যন্ত। পূৰ্ব্বাহ্ন মধ্যে শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর কেবল মহানবমীকল্পারম্ভ ও মহানবমীবিহিত পূজা প্রশস্তা এবং দেবীর নবরাত্রিক ব্রত সমাপন। পূৰ্ব্বাহ্ন মধ্যে বীরাষ্টমী ও মহাষ্টমী ব্রতের পারণ।

• বিজয়াদশমী ●

২৮শে আশ্বিন, (ভাঃ ২৩শে আশ্বিন), ইং ১৫ই অক্টোবর, শুক্রবার সূর্যোদয় ঘ ৫।৩৭, সূৰ্য্যাস্ত ঘ ৫।১০, পূৰ্ব্বাহ্র ঘ ৯।২৮। বিজয়াদশমী রাত্রি ঘ ৮।২১ পৰ্য্যন্ত। পূৰ্ব্বাহ্ন মধ্যে দ্ব্যাত্মক চরলগ্নে ও চরণবাংশে, কিন্তু বারবেলানুরোধে দিবা ঘ ৮।৩০ মধ্যে শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর দশমীবিহিত পূজা সমাপনান্তে বিসর্জ্জন প্রশস্তা, (অত্রকৃত্যে পারবেলানুরোধে নিরবকাশে ন বহু সম্মতঃ)। কুলাচারানুসারে বিসর্জ্জনান্তে অপরাজিতা পূজা। দেবীর দোলায় গমন। ফল—মড়ক। বিজয়াদশমীকৃত্য। (উৎস- বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা)

এক্ষনে আমার মূল বিষয় হলো- মেলা, পুজো পার্বণ এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কেন জরুরি- এ বিষয়ে কিছু বলা।

Durga Puja 2021 এ সেই বিধিনিষেধ থাকবে কি?

গত বছর করোনায় আক্রমণ এবং মনুষ্য সমাজ একদিকে কতটা ধরাশায়ী তার উপসমে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

করোনা কেবলমাত্র আমাদের বাংলা নয়, সারা পৃথিবীতে তার তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে। সমাজ রাষ্ট্র তার অর্থনীতির ভীত দুর্বল করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এখন এই অর্থনীতি বা বাজার একটু হলেও সতেজ রাখার জন্য জন্য দুর্গাপুজো বা অন্যান্য মেলা খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রয়োজন। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজন থেকে শুরু করে ছোট থেকে মাঝারি ব্যবসায়ী সকলেই এই মুহূর্তে চরম মতর দুর্দশার শিকার। অনিশ্চিত আগামীর আলো অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে আছে এই মুমূর্ষু চোখগুলো। এই সমাজটাকে যারা দুর্গোৎস ও অনুষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত আছে, তাদের কথা ভেবে দুর্গোৎসবে মতো অন্যান্য সংস্কৃত অনুষ্ঠান গুলো একান্তভাবে প্রয়োজন।

বাংলায় দুর্গাপূজা ২০২১ এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রুজিরুটি(Cultural Program and Breadwinner in Durga Puja 2021 in Bengali)-

এখন দেখা যাক কোন গোষ্ঠী উৎসব অনুষ্ঠানের সাথে রোজগারের বন্ধনে জড়িত। যে রোজগার তাদের প্রায় সারা বছরের খোরাক যোগায় অথবা বছরের প্রায় বেশ কয়েক মাস পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে পারে, তা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া অর্থ ভবিষ্যৎ অন্ধকারে স্থবির।

মৃৎশিল্প ও ডাক শিল্পী-

প্রথমে যাদের কথা মনে পড়ে তারা হল মৃৎশিল্পী। মৃৎশিল্পীর বেশিরভাগ অংশই সারা বছরের খোরাক দুর্গোৎসবের মতো উৎসব-অনুষ্ঠান মধ্যেই মধ্যে উঠে আসে। সারাবছর কিছু-না-কিছু মূর্তি যেমন গণেশ, বিশ্বকর্মা, সরস্বতী, কার্তিক, কালি হয়ে থাকলেও দুর্গোৎসবে মত বড় উৎসব অন্যান্য উৎসবগুলি নয়। তাই দুর্গোৎসবে হল শিল্পীদের উপার্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম বা বাজার বললেও ভুল হবে না। কলকাতার কুমারটুলির শিল্পীরা তো বটেই, মফস্বল থেকে গ্রামীন শিল্পীদের মাথায় হাত পড়তে বাধ্য।

গত বছর মার্চের পর যে পুজোগুলি হয়েছে তার মধ্যে বিশ্বকর্মা পুজো ছিল। তখন সেভাবে মূর্তির চাহিদা ছিল না। সারা পৃথিবী যেহেতু করোণা মহামারীর রোষানলে, সেহেতু বিদেশে বাঙালি অতীতেও সেরকমভাবে দুর্গাপুজো হয়নি। তাই কুমোরটুলির বিদেশি চাহিদাও সীমিত ছিল।

শিলপটাকে বাঁচানোর জন্য বাঙালির বৃহত্তম উৎসবের রাশ টেনে ধরলে পরোক্ষে অনেক পরিবার ধরাশায়ী হবে। তাই এবছর মৃৎশিল্প, ডাকশিল্পকে বাঁচানোর জন্য আশা করছি দুর্গোৎসব হওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে।

মন্ডপ শিল্পী-

করোনা সমস্যায় পুজো কমিটিগুলি মন্ডপের বহর কমিয়েছিল। খুব ভালো কথা। এই অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে বিশালাকার মন্ডপ করাটাও এককথায় দৃষ্টিকটু। কিন্তু উৎসবটা পুরোপুরি বন্ধ কলে যে মন্ডপ শিল্পীরা ধরাশায়ী হবে। না হোক থিম পুজো। স্বল্প ব্যয়ে হোক আরাধনা। ন্যূনতম মন্ডপ তৈরি করলেও তো প্রয়োজন পড়বে মন্ডপশিল্পীদের।

ডেকোরেটর ব্যবসা-

মন্ডপের সঙ্গে যুক্ত আছেন ডেকোরেটর ব্যবসা। ডেকোরেটার্স ব্যবসায়ীদের সাথে শ্রমিকশ্রেণী। যারা দুর্গোত্সবের দিকে তাকিয়ে থাকে সারা বছর ধরে। ডেকোরেটর সে কাজ করে যা কিছু উপার্জন তা থেকেই সংসার আর পরিবারের গায়ে তুলে দেয় নতুন পোশাক। নতুন পোশাকের কথা বাদ দিলাম, কিন্তু পেটের ভাত।

আলোকশিল্পী  ও ইলেকট্রিক ব্যবসা-

দুর্গোৎসব ও সাংস্কৃতিক মন্ডপে আলোর প্রয়োজন। এর জন্য প্রয়োজন ইলেক্ট্রিক্যাল সামগ্রী। শুধু শুধু সাধারণ ইলেকট্রিক সামগ্রীর দিন ফুরিয়েছে। কারন মানুষের দর্শন দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টেছে। চোখ খোঁজে আলোর মধ্যে শিল্পকে। প্রয়োজন আলোকশিল্পী। বর্তমান ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে প্রয়োগের ক্ষেত্রও পাল্টেছে। মানুষের চাহিদাও পাল্টেছে। তাইতো আলোকশিল্পী ও আলোক শিল্প বেঁচে থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজন আলোকশিল্পীকে। আলোকশিল্পের সাথে যুক্ত সমস্ত শ্রেনীর মানুষের হাতে অর্থ আনয়নের জন্যও দুর্গোৎসবের মত বিভিন্ন উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

শব্দশিল্পের সাথে যুক্ত মানুষজন-

এই শিল্পের সাথে যুক্ত রয়েছে সাউন্ড বক্স, ইকোসিস্টেম অন্যান্য সামগ্রী। বর্তমানে ডিজে বক্সের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও উচ্চতর শক্তির বিরোধী হওয়া প্রয়োজন এবং গুরুতর ভাবে আপত্তি জানানোর দরকার আছে। কিন্তু এর সঙ্গে মানুষদের রুজি-রুটির আধারে আমাদের হাত দেওয়ার অধিকার নেই। দুর্গাপূজা বন্ধের সাথে সাথে এদের রোজগারের রাস্তাও বন্ধ হয়।

আতশবাজি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন- দুর্গাপুজোয় ব্যাপকভাবে আতশবাজি চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বাচ্চা ছেলে মেয়ে থেকে শুরু করে প্রায় সকল বয়সের মানুষজন বাজি পোড়ান না এমন নয়। আতশবাজি প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদা থাকে এক বিরাট বাজার সৃষ্টি হয়েছে। এই শিল্পের সাথে যুক্ত কারখানার মানুষজন, মাঝারি ও ছোট ব্যবসায়ীদের হাতে অর্থ সমাগম ঘটে। দুর্গোৎসব বন্ধ মানে এই ব্যবসারও বেহাল দশা সৃষ্টি হবে। এবং এর সাথে যুক্ত মানুষদের এক বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি।

বস্ত্র, রূপসজ্জা ব্যবসা- 

দুর্গোৎসব সবচেয়ে বেশি বাজার ও ব্যবসা সৃষ্টি হয় বস্ত্র রূপসজ্জা শিল্পে। পশ্চিমবঙ্গের এমন কোন বাড়ী যেখানে দুর্গোৎসবে ন্যূনতম কম দামি পোশাক কেনে না। মানুষ সামর্থ্য ও দাম অনুযায়ী পোশাক কেনেন। সৃষ্টি হয় এক বিরাট বাজার এবং অর্থ আদান-প্রদান।

সঙ্গে আছে চটিজুতো, রূপসজ্জা ও কসমেটিকসের বাজার। বাচ্চা মেয়ে থেকে শুরু করে মধ্য বয়সী মহিলাদের এই বাজারের সাথে সরাসরি যুক্ত। সৃষ্টির আর্থিক সমাগম।

দুর্গোৎসব বন্ধ অর্থে সব ধরণের বাজার বন্ধ। আর বাজার বন্ধ অর্থে- অর্থ সমাগমও বন্ধ। রুজি-রুটির সরবরাহ বন্ধ।

এতো শুধু সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতির দিক। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকার। সরকার নানাভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন। বিশেষ করে বস্ত্র, রূপসজ্জা, কসমেটিকস এবং অন্যান্য আরো কিছু সামগ্রী যেগুলো বিক্রি হলে সরকারও জিএসটির মাধ্যমে কোষাগার বৃদ্ধির সুবিধা পাবে। সেই সুবিধা থেকে সরকারও বঞ্চিত হবে। সরকারের কোষাগার সংকোচন উন্নয়ন অবরুদ্ধ হাওয়া।

সংগীত শিল্পী-

সংগীতের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মানুষজন যেমন গায়ক, মিউজিসিয়ান, বাচিকশিল্পী ইত্যাদি। যারা এই শিল্পটাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন, মানুষকে আনন্দ, বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক চেতনা ও বোধে উন্নীত করার জন্য। সুর এবং মিষ্টতা এই পেশা শিল্পের মূল আধার। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ- তাদের শিল্প প্রকাশনের প্রধান মাধ্যমে ষ স্তব্ধ হয়ে যাওয়া। যেখানে মানুষের সঙ্গে সরাসরি শিল্পবান্ধব সম্প্রীতির সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যদিও এই ধরনের শিল্পীদের ক্ষেত্রে অর্থ কখনো কখনো গৌণ হয়, তথাপি মানুষ হিসেবে অর্থের প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। স্বভাবতই অনুষ্ঠান বন্ধ অর্থে এই শিল্পীরা সেই অনুষ্ঠানের সঙ্গে কোনভাবেই অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। 

ন্যূনতম খরচে অনুষ্ঠান-

দু’বছর আগে সমস্ত ধরনের পুজো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পেছনে কমিটি ও আহ্বায়করা যে হারে খরচা করতেন, তাদের খরচের দিকে একটু নজর দেওয়া প্রয়োজন। মূলত মেম্বারশিপ, স্থানীয় মানুষজনদের কাছ থেকে চাঁদা, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা ও স্পনসর্শিপ নেওয়া ইত্যাদি নানান ধরনের উৎস রয়েছে। পুজো কমিটি গুলির কাছে কিন্তু প্রত্যেকটি উৎসই বর্তমানে করুন অবস্থা। পুজো কমিটিগুলি উৎসগুলি আর্থিক ক্ষতির দিকটি ভেবে দেখা দরকার। দু’বছর আগে যে হারে অর্থ আদায় করা হতো অবশ্যই এখন সেই আদায় সম্ভব না। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসাদার সকলকে যেন তারা বিবেচনা করেন।

অন্যদিকে পুজো কমিটি গুলির আয় যেহেতু কমে যাবে, সেহেতু তারা খরচের দিকেও রাশ টানার চেষ্টা করবে। অর্থাৎ খরচ কম করার চেষ্টায় থাকবে। উপরিউক্ত যে সমস্ত মানুষদের কথা বললাম যারা দুর্গোৎসব বা অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি পেশাদারিত্বের সাথে যুক্ত, তাদের ক্ষেত্রেও অর্থ বরাদ্দ কম হবার সম্ভাবনা আছে। যেখানে তারা বিগত বছরগুলোতে কমিটির কাছ থেকে পারিশ্রমিক নিয়েছেন, সে হারে কিন্তু এবছর নেওয়া সম্ভব হবে কিনা এটাও বিবেচনাধীন।

আরো পড়ুন-
আটিটিউড বলতে কি বুঝি?
সহজপাঠে রবীন্দ্রনাথ।

Durga Puja 2021
গত দু'বছর থেকে সারা পৃথিবী করোনার করাল গ্রাসে যন্ত্রনায় ছটফট করছে। মহামারী। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় ব্যাহত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। স্বজন হারা, আত্মীয় হারা পরিবারগুলি এখনো শোক থেকে বের হতে পারেনি। অন্যদিকে কাজ হারানো হাজার হাজার মানুষ, চিন্তায় আছে আগামীদিনে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে পারবে কি'না। এমতাবস্তায় আসছে বাঙ্গালীর সবচেয়ে বড় উৎসব- দুর্গাপূজা। সংশয় এ বছর পুজো হবে তো? না, হওয়া উচিৎ?
আপনাদের কি মনে হয়- দুর্গাপূজা ২০২১ হওয়া উচিৎ , কি উচিৎ নয়? নিচে হ্যাঁ অথবা না- তে বোতাম টিপুন।

Disclaimer- এই লেখাটি করোনা পরিস্থিতির এই চরম টানাপোড়েনের মধ্যে দুর্গোৎসব ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও উদ্দামতা, যথেচ্ছাচার, অনিয়ন্ত্রিত জমায়েত বা অসচেতনতার পরিস্থিতিকে উস্কানি দেওয়া একাবারেই প্রশ্রয় দেয়না। যেখানে চাহিদা প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বাজার, তার মাধ্যমে আর্থিক আদান-প্রদান সহ অন্যান্য সম্পর্কগুলি সুস্থিত হবে- তার প্রয়োজনীয়তাকে বিশেষ করে প্রাধান্য দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *