Wastewater

Wastewater in Bengali – a Great Problem in 21st Century, be ware | জল অপচয় | সাবধান হোন

জল অপচয়(Wastewater)- এর মত কাজ বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম গর্হিত কাজ বলে আমি মনে করি। অন্যান্য আরো অনেক অপরাধমূলক কাজ আছে। খুন ডাকাতি, রাহাজানি, করাপশন ইত্যাদি। এগুলোর থেকে জল অপচয় কোন অংশে কম নয, তা আজ বলার সময়। তবে সচেতন আর অবচেতন প্রসঙ্গ আসতে পারে। অপরাধমূলক কাজকর্ম গুলো সচেতনভাবে হয়। আবার কোনো কোনো নিষ্পাপ সাধারণ মানুষের দ্বারা অবচেতনভাবেই গর্হিত কাজকর্ম ঘটে থাকে। সেরকম জল অপচয়ও সচেতন আর অবচেতনভাবেই ঘটে থাকে।

আজ এ বিষয়ে সামান্য আলোকপাত করব। আমাদের অনুরোধ আপনাদের মনে যদি কোন কিছু ধারনা থাকে ইনবক্সে আমাদের জানান।

পৃথিবীর জল বন্টন(Water Distribution of World)-

জল অপচয় সম্পর্কে জানার পূর্বে জানা প্রয়োজন পৃথিবীর জল বন্টন সম্পর্কে। পৃথিবীর মোট জলের পরিমাণ 1.386 বিলিয়ন কিউবিক কিলোমিটার। এর মধ্যে 97.5% লবণাক্ত। মা মহাসাগর সমুদ্রের মধ্যে বিরাজমান। যে জল আমাদের সরাসরি পানীয় জল বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জল হিসাবে কাজে লাগে না। তবে লবন তৈরীর ক্ষেত্রে সেই দলের কিছু অংশ আমরা ব্যবহার করি।

সমুদ্রে যাতায়াত করা জল জাহাজের মধ্যে RO(REVERSE OSMOSIS)এর মাধ্যমে সামুদ্রিক জলকে পরিশুদ্ধ করে পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

97.5% জল লবণাক্ত হলে, বাকি 2.5% জল ফ্রেশ ওয়াটার বা স্বাদু জল। কিন্তু স্বাদু জলের মধ্যে বন্টন গত জলের বিভাজন করলে দাঁড়ায় এরকম- 69% বরফ বা হিমবাহ হিসেবে। 30% ভৌম জল এবং বাকি 1% হ্রদ, নদী এবং অন্যান্য জলজ স্থানে আবদ্ধ রয়েছে।

অর্থাৎ আমরা বলতে পারি 1.386 বিলিয়ন কিউবিক কিলোমিটারের 2.5%= 0.005544 বিলিয়ন কিউবিক কিলোমিটার জল স্বাদু জল। এর আবার 30% জল ভৌম জল, যা পানের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। 0.005544 বিলিয়ন কিউবিক কিলোমিটার এর 30% = 0.001662 বিলিয়ন কিউবিক কিলোমিটার জল সবচেয়ে বেশি পানের জন্য ব্যবহৃত হয়।

 তবে 2.5% জল হ্রদ নদী বা জলজ স্থানে অবস্থিত হলেও এর কিছু অংশ পরিশুদ্ধ করে পানীয় জলে পরিণত করা হয়।

তবে ভৌমজলের বন্টন সারা পৃথিবীতে সমান ভাবে থাকে না। কারণ ভূমির গঠন, শিলার অবস্থা, শিলার ধরন অনুযায়ী ভৌম জল বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন গভীরতা অবস্থান করে। প্রবেশ্য শিলা, উদ্ভিদের অবস্থান, বৃষ্টিপাত, জনসংখ্যাও ভৌমজলের সঞ্চয় ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে।

পৃথিবীর এমন কিছু স্থান আছে সামান্য সাধারণ জলের জন্য সেখানকার মানুষ হাহাকার করে। জলের অভাবে যেমন জনসংখ্যার স্থানান্তর ঘটছে, সেরকম জলের সরবরাহ যেখানে বেশি সেখানকার জনসংখ্যার চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ওয়েস্ট ওয়াটার(Wastewater) এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

What is wastewater | জল অপচয় কি-

জল অপচয(wastewater) মূলত পানীয় জলের অপচয়কে বোঝানো হলেও নিত্য প্রয়োজনীয় জলও এর মধ্যে পড়ে। কারণ জল কেবল পানীয় জল হিসেবে আমাদের উপকারে আসে তা নয়, নিত্য ব্যবহার্য জল অপচয় যথেষ্ট হয়। যেহেতু পানীয় জলের উপর মানুষের আকাঙ্ক্ষা বা চাহিদা সবচেয়ে বেশি। একদিন স্নান না করলেও চলে, একদিন জামা-কাপড় না পরিষ্কার করলেও চলে যায়। একটু দুর্গন্ধ বা নোংরা জামাকাপড় একদিন বালতিতে পড়ে থাকবে, কিন্তু একদিন জল পান না করা অর্থে আমাদের শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলীও পাল্টে যাবে।

স্নান না করা, জামা কাপড় পরিষ্কার না করার কথা বলা একটাই কারন, শীতপ্রধান দেশের মানুষজন বেশ কয়েকদিন টানা স্নান করে না বা জামাকাপড় পরিষ্কার না করে কাটিয়ে দেন। কিন্তু জল না পান করে থাকার ঘটনা খুবই কম। হয়তো তাদের পানীয় জলের চাহিদা কম থাকতে পারে, কেননা শীতপ্রধান দেশে কম ঘাম বা কাজকর্মের জন্য শারীরিক পরিশ্রম কম হলে শরীরে জলের চাহিদা কম।

স্বাভাবিকভাবেই গ্রীষ্মপ্রধান দেশে জলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে বেশি উষ্ণতার জন্য শারীরিক পরিশ্রম বেশি হয়। তাই জলের ব্যবহার বেশি। বায়ুর আর্দ্রতা কম থাকার জন্য শরীরে ঘাম বেশি হয়। আবার ঘাম শুকিয়ে যায়। 

তাপমাত্রা বেশি হওয়ার জন্য পুকুর নদী-নালা জল বাষ্পীভূত হওয়া সাথে ভৌম জলের স্তর নিচে নেমে যায়। জনসংখ্যা বেশি হওয়ার জন্য জল ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

সুতরাং জলের যত ব্যবহার ততই তার অপচয় অবধারিত। এখানে দেখা যাচ্ছে শুধু পানীয় জলই নয়, সমগ্র ব্যবহার্য জলের কথাই বলা যেতে পারে।

জল ব্যবহারের সমস্ত ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জল ব্যবহার করা যেমন ওয়েস্ট ওয়াটার(wastewater) বলবো। অপরদিকে ব্যবহারের পরও যে জল গড়িয়ে যায় তাকে ওয়েস্ট ওয়াটার(wastewater) বলবো।

Where wastewater | কোথায় জল অপচয়?-

আরো পড়ুন- সভ্য ভারতীয় সমাজে কিছু অনভিপ্রেত আচরণ
চাঁদা তোলার ভালো-মন্দ

যদি Wastewater কে দুটো ভাগে বিভক্ত করি তাহলে সুবিধা হবে। যথা- পানীয় জল ও নিত্যব্যবহার্য জল।

লোকালয়ের পানীয় জল- 

পানীয় জলের অপচয় করা সমাজে বিভিন্ন স্থানে এক সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভৌমজল পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করে এমন জায়গায় যেখানে জনসাধারণকে কর্পোরেশন বা পঞ্চায়েত জল সরবরাহ করে থাকে সেখানে।

সারা দিনে দু তিনবার জল আসে যে সমস্ত জায়গায়, সেখানে জনসংখ্যার বেশি থাকলে জলের লাইনে দাঁড়ানো সংখ্যা কম হয় না। সেখানে সকলে আবার সময় মতো ব্যবহারযোগ্য জল পায় না। আবার অন্য কোন স্থানে সেখানে জল নেবার পর ট্যাপের জল পড়ে গড়িয়ে যায়। ঘন্টার পর ঘন্টা প্রতাপ ভাঙ্গা। সেদিকে সাধারণ মানুষের নজর নেই। ট্যাপ ছিল। সাধারণ স্থানীয় মানুষই হয়তো ভেঙে নিয়ে নিজের বাড়িতে লাগিয়েছে। আমাদের এ এক অদ্ভুত আচরণ।

আপনারা বলবেন- কর্তৃপক্ষ দেখেনা কেন? আমি বলব- দেখে। তারা লাগিয়ে যাই।য় না। আবার ভেঙে যায় অদৃশ্য শক্তি বলে। স্থানীয় মানুষের সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত সেটা কেউ ভাঙবে না। ভাঙলেও নিজেরা একটা ট্যাপ লাগানোর ব্যবস্থা করা। ক’টা টাকা দাম হবে। সবকিছু কর্তৃপক্ষের উপর ছেড়ে দিয়ে বসে থাকবো।

আগামী প্রজন্ম জলের অভাবে তৃষ্ণা নিবারণ না করতে পেরে মারা যাবে চোখের সামনে। তখন শুধু কর্তৃপক্ষকে দোষ দিয়ে যাবেন। প্রিয়জন মারা পড়বে। প্রিয় জন হারাবেন। আর কর্তৃপক্ষকে গালিগালাজ দিলেও আপনার প্রিয় জন আর ফিরে আসবেনা।

কৃষি ক্ষেত্রে পানীয় জল-

কৃষি ক্ষেত্রে যেখানে সাবমারসিবল বসিয়ে জলসেচের কাজ করা হয়। দেখা যায় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি জল তোলা হয় যা অপচয় এর সামিল। কৃষিক্ষেত্রে মেশিনের হর্স পাওয়ার ও ক্ষমতা বেশি, তাই জ্বল প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তোলে। অনেক সময় দেখা যায় মাঠে জল পরিপূর্ণ হয়ে যাবার পরেও মেশিন চলছে। অপচয়ের শেষ সীমা বলতে কিছু থাকে না।

কৃষি ক্ষেত্রে জলসেচের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। থাকলেও কিছু নিয়ন্ত্রিত ভাবে ব্যবহারের সীমা থাকা উচিত। এতে দীর্ঘ বছর কৃষিক্ষেত্রে জল সেচের জলের যোগান যেমন অব্যাহত থাকে, সেরকম অন্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের পরিস্থিতিও বৃদ্ধি পাবে। ভৌম জলের পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা নিশ্চিত করে তোলে।

অনেকের ধারণা কৃষিক্ষেত্রে জলসীমা নিচে নামছে তো কি হয়েছে, বসতি এলাকার মাটির নিচে জল তো আর নামছে না। ভুল ধারণা। কারণ ভৌম জল স্তর একে অপরের সাথে সংযুক্ত। যেখানকার জলস্তরই  কমুক না কেন কেন, তা সবস্থানের জলস্তরের উপরেই প্রভাব ফেলবে। অর্থাৎ সব স্থানের জল সীমা কমে যাবে। এ এক নিশ্চিত বাস্তব। তাই সকলকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।

পাইপ লাইন ফেটে গিয়ে-

অনেক সময় দেখেছি জল সরবরাহ পাইপ লাইন ফেটে গিয়েও পানীয় জলের অপচয় হয়। ফেটে যাওয়ার কারণে ও ফেটে যাওয়ার সময়ে উপর নির্ভর করে কত জল অপচয় হলো বা হবে। এ ব্যাপারে সরকারি কর্তৃপক্ষের নজরে থাকা উচিত এবং শীঘ্র মেরামত কর্তব্য।

Why Wastewater | জল অপচয় কেন হয়-

অসচেতনতা-

জল অপচয়(Wastewater) কেন হয় এ প্রসঙ্গে বলতে গেলে বলতে হয় সচেতনতা বা শিক্ষার অভাব। মূলত সচেতনতা বা শিক্ষার অভাবের জন্যই জল অপচয় বেশি হয়। অনেকেরই ধারণা সে তার বাড়িতে তার অধিকারে থাকা বস্তু-সামগ্রীর জন্য জল সরবরাহ করছে। তাতে কারো কিছু বলার নেই। কিন্তু না, বলার অধিকার সবার আছে ষ। প্রথমেই বলেছি ভৌম জলের স্তর একে অপরের সাথে জড়িত। এই যোগাযোগ কিলোমিটারের পথ কিলোমিটার প্রশস্ত থাকে। অর্থাৎ কোনো এক জায়গায় জল তুললে তা সমগ্র জনগণের উপর প্রভাব ফেলবে। তাই সকলকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।

একটা কথা মাথায় রাখা দরকার- হয়তো আপনার এলাকায় জল আছে বলে আপনি ব্যবহার করছেন অনিয়ন্ত্রিতভাবে। পৃথিবীর এমনকি দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন স্থান আছে যেখানে জলের অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে। জলের অভাবে মৃত্যুর পালা আপনার এলাকায় আপনার পরিবারের মধ্যে আসতে পারে ভবিষ্যতে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচিয়ে রাখতে আপনার নাতি-নাতনি বা তাদের বংশধরদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য শীঘ্রই জল অপচয় বন্ধ করতে হবে।

পাড়া-প্রতিবেশীদের দেখুন। আপনার পাড়ায় যেন টাইম কলের ট্যাপ থেকে অযথা জল না পড়ে। আপনি নিজে একটা ট্যাপ লাগিয়ে দিন। যে ভেঙেছে, ভেঙে নিয়ে বাড়িতে ট্যাপ লাগাচ্ছে, তাকে বাধা দিন। বোঝান, সচেতন করুন, প্রয়োজনে আইনের সহায়তা নিন।

শুচিবায়গ্রস্ত মানুষ-

কিছু মানুষজন আছেন স্নান করা বা জামাকাপড় কাচার জন্য প্রয়োজনের অনেক অতিরিক্ত জল বারবার ব্যবহার করেন। তারা ভাবেন এখনো তার শরীরে, জামাকাপড়ে নোংরা লেগে আছে। শরীরে জল ঢালা বা জামা কাপড় কাচার আর শেষ থাকে না। বালতি বালতি জল ঢেলে যান। এ এক ধরনের মানসিক রোগ যা OCD নামে পরিচিত। OCD হল অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। এ এক মানসিক রোগ। এই মানসিক রোগের উপায় ডাক্তার দেখানো। ডাক্তার দেখালে রোগ সেরে যাবে। ফলে জল অপচয় বন্ধ হবে।

Wastewater Preservation-

একদিকে জল অপচয় বন্ধ ও অন্যদিকে Wastewater প্রিজারভেশন একে অপরের সঙ্গে জড়িত। জল আমাদের জীবনে অপরিহার্য, অনিবার্য তরল। জল ছাড়া আমাদের এক মুহূর্ত চলে না। খরচ করা অর্থ সেই জল নষ্ট হলো এমন নয়। নষ্ট তাকেই বলব যখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার হবে।

আমরা জল পান করছি। যদি বলি সারা দিনে 4 লিটারের স্থানে এক লিটার জল পান করুন। তাহলে বিষয়টা ভুল হবে। পানীয় জল শুধু 4-5 লিটারও পান করতে পারেন। জল আমাদের শরীরের পক্ষে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ওই বিশুদ্ধ জল দিয়ে যখন জামা কাপড় পরিষ্কার করেন বা বাড়ির মেঝে পরিষ্কার করেন, পাকা বাড়ি তৈরির জন্য খরচা করেন, তখন একটু ভাবনা চিন্তা করার আবশ্যকতা আছে।

ঐ সমস্ত কাজের জন্য বিকল্প জল অন্য কোন স্থান থেকে সরবরাহ হলে পানীয় জলের সাশ্রয় হয়। অন্যদিকে আপনার প্রয়োজন মিটে যায়।

তাছাড়া আমরা যে জল গৃহস্থলী বা কারখানার কাজের জন্য ব্যবহার করি, সেই জল যাতে পুনরায় মাটির নিচে পৌঁছে যায়, তার সুবন্দোবস্ত করা অত্যন্ত জরুরি। সোকফিট চেম্বার এর মাধ্যমে মাটির নিচে জলকে পৌঁছে দিলে ভৌম জলের স্তর এর সীমা সামান্য হলেও বৃদ্ধি পাবে।

Preservation of Rain Wastewater-

বর্তমানে বৃষ্টির জলের প্রতি সরকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করছে যেমন-

বাড়ির ছাদে, স্কুল, কলেজ, হাসপাতালে ছাদে বৃষ্টির জল ধরে রাখার জলাধার তৈরীর মাধ্যমে বৃষ্টির জল(Rain Wastewater) সংরক্ষণ করা সম্ভব। ছাদের জলাধারে সংরক্ষিত জল স্নান, জামাকাপড় কাচা, বাড়ি নির্মাণ বা এ ধরনের অন্যান্য কাজকর্মে ব্যবহার করলে একদিকে বৃষ্টির জলের অপচয় বন্ধ হয়ে বৃষ্টিজলের সদ্ব্যবহার হবে  অন্যদিকে পানীয় জলের অপচয় বন্ধ হবে।

তাছাড়া পানীয় জল খেয়ে কিছু অংশ বইতে না দিয়ে সুড়ঙ্গের মাধ্যমে মাটির নিচে পৌঁছে দিয়ে ভৌম জলের আধার বৃদ্ধিও সম্ভব হতে পারে।

দৈনন্দিন কাজকর্মের প্রয়োজনীয় জল টিউব ওয়েল বা কুয়ো থেকে পেয়ে থাকি, সেই ব্যবহার্য জল যাতে পুনরায় মাটির নিচে যেতে পারে তার জন্য সুড়ঙ্গ তৈরি করে ভৌম জলের ভাণ্ডার বৃদ্ধি করা জরুরি।

বৃক্ষরোপণ-

বৃক্ষরোপনের শুধু একক কোন উপযোগিতা মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৃষ্টিপাতের জন্য বৃক্ষরোপণ একান্ত জরুরী। বনভূমি একদিকে বৃষ্টি পাত ঘটানোর  সহায়ক হয়, অন্যদিকে মৃত্তিকায় ছায়া প্রদান করে অতিরিক্ত বাষ্পায়ন বন্ধ করার পক্ষেও সহায়ক। ফলে ভৌম জলের ভারসাম্য বজায় থাকে। দীর্ঘ সময় ব্যাপী জল সরবরাহ অক্ষুন্ন রাখে।

সমুদ্রের জল কে পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করা-

সমুদ্রের জলকে বিশুদ্ধ করে পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করা প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত। এর জন্য বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো খুবই প্রয়োজন। RO সিস্টেমের মাধ্যমে লবণাক্ত জলকে কিভাবে পানীয় জলে পরিণত করা যায় তার সদুত্তর একমাত্র প্রযুক্তি এবং তার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানই দিতে পারবে। সমুদ্রের জল পানীয় জল হিসেবে রূপান্তরিত করলে জলাভাব কমবে বলে মনে হয়।

পরিশেষে-

পরিশেষে বলি শিক্ষা এবং সচেতনতা হচ্ছে জল সংরক্ষণ, জলকে অপচয়ের(Wastewater) হাত থেকে বন্ধ করার একমাত্র উপায়। জল ব্যবহার বন্ধ করা নয় বরং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যবহারের দিকেই বেশি লক্ষ্য রাখা উচিত। অনিয়ন্ত্রিত ভাবে যেখানে জল পড়ে যায়, জল গড়িয়ে যায় যেকোনো ব্যক্তি হোক না কেন, তার প্রতি দৃষ্টি দেওয়া অবশ্যই উচিত এবং কর্তব্য। প্রত্যেকে যদি নিজের নিজের এলাকার প্রতি সচেতন থাকেন, আশা করা যায় সারা পৃথিবীর জল সংকট অনেকটাই কমে যাবে।
ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *