Unconsciousness

Powerful Debate between Unconsciousness vs Consciousness regarding Covid 19 Vaccine

করোনা পরিস্থিতি ও ভ্যাক্সিন(Covid 19 Vaccine) নিয়ে সচেতনতা, অসচেতনতা এবং অতিসচেতনতার পরস্পর বিরোধী আচরণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চোখে পড়ার মতো। সচেতনতা vs অসচেতনতা vs অতিসচেতনতা(Unconsciousness vs Consciousness vs Over Consciousness in Covid Situation), সক্রিয়তা vs অতিসক্রিয়তা, স্মার্ট vs ওভারস্মার্ট এই ধরনের শব্দ বা আচরণ গুলি পরস্পর বিরোধী। পরস্পরবিরোধী ব্যবহারগুলি ব্যক্তিবর্গের দ্বারা অর্জন আত্তীকরণ এবং তার প্রয়োগ বিভিন্ন ধরনের পরস্পর বিরোধী গোষ্ঠী তৈরি করেছে। কার্যক্ষেত্রে ব্যক্তিকে দূর্ভোগে ফেলেছে। ব্যক্তি থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ব্যক্তিবর্গে এবং বৃহত্তর সমাজে। এই গুনগুলির পূর্বে ‘অতি’ উপসর্গ কার্যক্ষমতার ঘনত্বকে বাড়িয়ে তুলেছে এবং তার প্রকাশ এক বড় অংশের মানুষের চোখে পড়ে। চোখে পড়ে না বলে চোখে লাগে বলা ভালো। অবশেষে অতি গুণবান সেই ব্যক্তিকে আমরা মানসিক রোগী বলতেও দ্বিধা করি না। এও আমাদের অতিআত্মবিশ্বাস কি’না সন্দেহ হয়।

সচেতনতা | Consciousness-

উদাহরণ দেওয়া যাক- করোনা পরিস্থিতিতে সচেতনতার কথা। কেউ সচেতন, কেউ অসচেতন আবার কেউ অতিসচেতন। হতেই পারে। সচেতন ব্যক্তি কোভিডের মারাত্মক ফলাফল সম্পর্কে সচেতন। সকল মানুষের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। কোভিডের মারাত্মক ফলাফল তার মাথায় সবসময়। নিজেকে, পরিবারকে নিরাপদে রাখার জন্য w.h.o. অথবা ICMR অথবা পারিবারিক ডাক্তারের পরামর্শ মতো সাবধানী, সচেতন জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গুলি নিয়ে থাকেন। অথবা চেষ্টা করে যান। যতটা মেনে চলা যায়। চেষ্টা করা যান অর্থে 100% কারো পক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব নয়।

অসচেতনতা | Unconsciousness-

অন্যদল পড়েন অসচেতন শ্রেণীতে। যারা সারাবিশ্ব যে নিয়মাবলী মানছে অথবা মেনে চলার চেষ্টা করছে সেখানে অসচেতন শ্রেণী কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে অবাধে কোভিড বিধিগুলিকে তাচ্ছিল্য করে জীবন যাপনে পারদর্শী। এই শ্রেণীর মধ্যে সাক্ষর নিরক্ষর- খবরের সাথে সম্পর্কযুক্ত অথবা খবরের সাথে সম্পর্ক নেই, সমস্ত রকম মানুষ আছেন। অর্থাৎ কেউ কোভিড পরিস্থিতি না জেনে অসচেতন আবার কেউ জেনে অসচেতন। তবে এদের ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে এরা মৃত্যুভয় হীন। হয়তো তাই। জানানে সার্ভের প্রয়োজন আছে।

অতিসচেতন | Over Consciousness-

কোভিড পরিস্থিতি মোকাবেলায় আরৎএক আছেন অতিসচেতন। ঘনঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার লাগানো মাস্ক ব্যবহার করা, বাইরে ব্যক্তিদের বাড়িতে প্রবেশ করতে না দেওয়া, নিজেরা বাজারে না গিয়ে বাড়িতে বসে জিনিসপত্র আনানো সেগুলিকে স্যানিটাইজ করা ইত্যাদি ইত্যাদি সত্ত্বেও প্রতি পদক্ষেপে সন্দেহ এবং মানসিক অতৃপ্তির মধ্যে দিন কাটানো। এই ধরনের কিছু পরিবার আমি জানি যারা সামাজিক দূরত্ব বৃদ্ধি মানছেন। গুরুতরভাবে মানছেন। এবং সমাজ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছেন। এবং অন্যান্যদেরও নিজেদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন। প্রয়োজনে পাড়া প্রতিবেশীদের সাথে ঝগড়া বিবাদ পর্যন্ত গড়িয়ে গেছে।

এতে ওদের দোষ দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত সেটা নিয়োগ প্রশ্ন উদ্রেক হয়। কেননা যেভাবে মিডিয়া কোভিডের নীতি ও খবরগুলো প্রচার করছে, ফলস্বরূপ সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীষণ ভীতির সঞ্চার। এই ভীতি অবশ্য গত বছর যে ভাবে আমাদের মনে দানা বেঁধেছিল এখন সেরকম নেই। যদিও এবছর সংক্রমণ আর তার তীব্রতা অনেক বেশি, তবুও এবছর কোভিডনীতি ও লকডাউন পরিস্থিতি দৃশ্যগুলি গতবছরের তুলনায় সামান্য হলেও আলাদা। এবছর যেন মানসিক পরিস্থিতি থেকে আমরা একটু বেরিয়ে এসেছি। কোভিডনীতির মধ্যেও স্বাভাবিক জীবন-যাপনে পুনরায় ফিরে আসার চেষ্টা করছি।

এর কারণ কি?-

কারণ হিসেবে তিনটি বিষয় আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। যথা-

  • 1. কোভিড সম্পর্কে w.h.o. বা স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্যগুলির ঘনঘন রদবদল,
  • 2. সরকারি প্রতিষ্ঠান বিরোধী প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নানান বিপরীতমুখী তথ্য পরিবেশন,
  • 3. ভ্যাকসিনের আবিষ্কার ও ব্যবহার।
    এবার এই কারণগুলি সম্পর্কে সামান্য ব্যাখ্যা।

1. এক কোভিড সম্পর্কে w.h.o. বা স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্যগুলির ঘনঘন দলবদল-

কোভিড সম্পর্কে WHO বা স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্যগুলি ঘনঘন দলবদল। কোভিড19 এর 2020 জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মার্চ পর্যন্ত সব খবরা খবর আমাদের সামনে এসেছে তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ করা প্রয়োজন। এবং সেগুলো কিভাবে সময়ের সাথে সাথছ পরিবর্তন হয়েছে। প্রথমে বলা যাক করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে। কখনো বলা হয়েছে ল্যাবে তৈরি, কখনো বলা হয়েছে প্রাকৃতিক।

কোন বস্তুতে কতক্ষণ বেঁচে থাকে- তরল গ্যাসীয় বা কঠিন পদার্থে বেঁচে থাকার স্থায়িত্ব নিয়ে নানান বিভ্রান্তিমূলক তথ্য আমরা পেয়েছি। বায়ুতে করোনা ছড়াতে পারে কি পারে না এ নিয়ে প্রশ্ন। কখনো বলা হয়েছে তিন ফুট, কখনো বা 3 মিটার। ধাতব পদার্থের কতক্ষন বেঁচে থাকে, তরলে কতক্ষন বেঁচে থাকে ইত্যাদি। এ বছর আবার শোনা গেল বায়ুতে কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়াতে পারে। কখনো বলা হচ্ছে গলাতেই গরম জল পান করে করোনাকে মেরে ফেলা যায়। পরে শোনা গেল গরম জল নয় ফুটন্ত জলের ভাপ দিয়ে করোনা মরতে পারে।

করণা মিউটেশন নিয়ে তো কত রকম তথ্য। খুব ঘনঘন নিজের জিন পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেকে বদলে ফেলে করোণা। ফলস্বরূপ কোন ওষুধে কাজ করে না। আর জানা গেল ক্লোরোকুইন ভালো কাজ দিচ্ছে। ট্রাম্প হুমকি দিলো- ভারত ক্লোরোকুইন না পাঠালে ভারতের উপর নানাবিধ নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। পরক্ষণেই আবার শোনা গেল ক্লোরোকুইন দেওয়া নিষিদ্ধ। কিছুদিন পর শুনলাম এজিথ্রোমাইসিন ইত্যাদি নানা রকম ওষুধের নাম।

নানান ওষুধের পরীক্ষামূলক ব্যবহার এবং ফলস্বরূপ নানারকম পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া। এভাবে চলতে চলতে মানুষ যেন বুঝতে পারছে কোথায় যেন কোভিড সম্পর্কে সংস্থাগুলো এখনো পর্যন্ত হয় সঠিকভাবে জানে না, নতুবা সর্ষের ভিতর ভূত আছে। অতএব সংস্থাগুলো যে যা বলছে বলুক আমরা আমাদের মতো করে কাজকর্মে মন দি। রোজগারে মন্ দি। সরকার বসিয়ে বসিয়ে বিনি পয়সায় চাল দিলে , ডাল দেবে না। তাছাড়া কোভিডের পর হাসপাতালে ভর্তি হলে বেঁচে বাড়ি ফিরে আসার সম্ভাবনা একেবারেই তলানীতে।

অতএব যে যা বলছে বলুক কোভিড হলে হবে। তবে খাওয়া-দাওয়া ঘুমের ওপর জোর যতটা পারা যায় দিতে হবে‌। একটু সচেতন থাকা, তাই ভয়টাকে একটু হলেও দূরে সরিয়ে জীবনযাপনের মান স্বাভাবিক হবার চেষ্টায় আছে। অনেকটা মানসিক উৎপীড়ন থেকে নিজেকে মুক্ত করে চলেছে।

2. সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিশেষ বিশেষজ্ঞ ও নানা বুদ্ধিজীবিদের কোভিড নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা বিপরীতমুখী তথ্য পরিবেশন-

এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি যেটা পরিবেশিত হয়েছে তা হলো কোভিড একটি সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগ। প্রতিবছর আসে। কিছু লোক মারা যায়। আবার চলে যায়। এ নিয়ে বেশি মাতামাতি করা ঠিক নয়। কোনো অর্থ হয় না। যার ইমিউনিটি বেশি তার হবে না। কারো শরীরে ঢুকবে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে মারাও যেতে পারে। অতএব ইমিউনিটি বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। ঘুম আর ভিটামিন সি ডি সেবন করা জরুরি। অন্তত আট-ন ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

কেউ কেউ আবার বলছেন কোভিড গরিবদের হবে না। কতজন রাস্তার ভিখারি গরীব লোক মারা গেছে তার হিসাবও তাদের কাছে বিদ্যমান। আমেরিকা, চীন, ইংল্যান্ড, ইতালির লোকদের কোভিড হচ্ছে। কারণ তারা ধনী দেশ। আর তাদের ইমিউনিটি ভারতের লোকদের তুলনায় কম ইত্যাদি নানান তথ্য আমাদের সামনে এসেছে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সচেতনতা খবর প্রচার করতে গিয়ে অনেকটা ভীতসন্ত্রস্ত করেছে। তাছাড়া বুদ্ধিজীবী ও ডাক্তারদের মিলিত সমাবেশে যে অনুষ্ঠান গুলো সম্প্রচারিত হয়েছে সেখানে কেবলই পরস্পরবিরোধী মতামত মানুষকে কতটা সচেতন করছে জানা নেই। কিন্তু প্রাথমিকভাবে বিভ্রান্ত হয়েছে।

আর আছে নানান প্যাথির মধ্যেও পরস্পরবিরোধী আক্রমণ। হোমিওপ্যাথি বলছে আর্সেনিক খেতে। আর্সেনিক খাওয়া হলো ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য। মাসে একবার। তিন মাস খেতে হবে। একমাস খাওয়ার পর জানা গেল আর্সেনিক শরীরে নাভের চেয়ে ক্ষতিই করবে। অতএব আর খাওয়া নয়। এক ডোজে যেটা ঢুকলো সেই যা করে করুক। মানুষ এ নিয়ে আর চিন্তা করছে না। সরকারের নির্দেশ তার মত চলুক। লকডাউন চলছে চলুক। সেটা না মেনে উপায় নেই, তাছাড়া পুলিশের মার। গা বাঁচিয়ে চলাফেরা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মাস্ক পরব নিজের মত। কখনো নাকের নিচে, কখনো পকেটে, পুলিশ দেখলে নাকের উপর ব্যস।

স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করার ব্যাপারেও তাই‌ গত বছর যে ভাবে গুরুত্ব দিয়ে আমরা ওগুলো ব্যবহার করেছি, আর এবছর তার বালাই নেই। আমাদের এখন বক্তব্য হচ্ছে শুধু শুধু মাক্স স্যানিটাইজার এর জন্য ব্যবসাদারদের মুনাফা করে দেওয়া। কেউ বলছে এমন কোনো মাক্সনেই যে করোনাভাইরাসকে আটকাতে পারে। এসব শুনে শুনে মানুষ বুঝতে পারছে কোথাও যেন রহস্য রয়েছে। কেউ না কেউ ভয় চতুর্দিকে সরাবার চেষ্টায় আছে। যদিও সংক্রমণ আছে, মৃত্যু আছে কিন্তু ভয় নেই।

3. Covid 19 Vaccine এর আবিষ্কার ও ব্যবহার-

Covid 19 Vaccine ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে। অতএব করোনাকে আর ভয় নাই। করোনা নিজেই ভয় পেয়ে পালাবে। এও সাধারণ মানুষের ভয় দ্রবীভূত হওয়ার আরেক কারণ। যদিও বলা হচ্ছে ভ্যাকসিন সম্পূর্ণভাবে করোনাক আটকাতে পারবে না। তবুও চূড়ান্ত ভয়াবহতা থেকে মানুষকে দূরে রাখবে।

করোনার যে চরম কষ্টদায়ক পরিস্থিতি থেকে মানুষকে বাঁচাতে এও এক ভালোর দিক। স্বাভাবিক কারণেই মানুষের ভয় কিছুটা হলেও কমেছে।

ভ্যাকসিন এর মধ্যে রয়েছে রকমফের-

Covishield, Covaxine দুটো Covid 19 Vaccine সমানে প্রয়োগ হচ্ছে। আরো একটি ভ্যাকসিন আসছে- Sputnik-V. সেটা নাকি আরো ভালো ফলাফল দেবে এবং দিচ্ছে। মানুষের মধ্যে ভয় দূর করার নানান উপাদান সামনে আসছে।

যদিও ভ্যাকসিন নিয়ে কিছু মানুষের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। যেমন- 1 এত তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয় কিভাবে 2 আদৌ কি এগুলোর ভ্যাকসিন 3 ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও সংক্রমন, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। মৃত্যুর কারণ কি ভ্যাকসিন? ইত্যাদির মত আরো নানা ধরনের জিজ্ঞাসা।

তাছাড়া আরও কিছু জিজ্ঞাসা ও কৌতুহল দানা বাঁধছে। যেমন- ভ্যাকসিন নাকি প্রতি বছর নিতে হবে। কেউ আবার বলছে একবার যে ভ্যাকসিন নেবে সেটাই পরবর্তী সময় নিতে হবে। অন্য কোন ভ্যাকসিন দেওয়া যাবেনা।

তাছাড়া যে সময়ের ভাইরাস ট্রেনড নিয়ে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে তা 2020 সালের মাঝামাঝি সময়ে। বর্তমান 2021 এ কোভিডের মিউটেশন হয়েছে অনেকবার। অতএব সমসাময়িক ট্রেনডের ভ্যাকসিন না এলে তার মোকাবেলা কি পুরনো ট্রেনডের ভ্যাকসিন কতটা কার্যকরী। যদি ভ্যাকসিন নিতেই হয় তাহলে সমসাময়িক ট্রেন্ড বা তার পরবর্তীতে যে ট্রেণ্ডটা আসবে সে ধরনের ভ্যাকসিন নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

সরকার সব সময় বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমগুলোয় বলছে- ভারতীয় ভ্যাকসিন কোভিড এ কার্যকরী। কিন্তু কোভিড হবে না, একথা কখনোই বলছে না। হবে কিন্তু আক্রমনাত্মক হবে না। তাহলে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর তাদের কোভিড হলো আর মারা গেল, এর কারণ হিসেবে ভ্যাকসিনের গুরুত্ব কতখানি? সরকার সহ অন্যান্য সংস্থা ও ভ্যাকসিন তৈরি কোম্পানিগুলোর মধ্যে কি ধরনের সমঝোতা চলছে- এ প্রশ্নও উদিত হচ্ছে মানুষের মনে। কি ধরনের ভয় তারা প্রচার করছে ও জনগণকে মানসিক রোগীতে পরিণত করার চেষ্টা করছে। মৃত্যু ভয়ের সুযোগ নিয়ে সে প্রশ্নও উদিত হচ্ছে কিছু কিছু মানুষের মনে।

সচেতনতা আর অসচেতনতা, অতি সচেতনতা পক্ষপাতিত্বের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই অস্বীকার করার জায়গা নেই। ভ্যাকসিন এর প্রতি অগাধ আস্থা অথবা একেবারে আস্থা নেই এমন মানুষও যেমন আছেন, তেমনই আছেন আরো উন্নত ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দিকে তাকিয়ে থাকা অপেক্ষারত মানুষজন।

ভ্যাকসিনের প্রতি বিশ্বাস অবিশ্বাসের আরো কারণ-

কিছু কিছু ভ্যাকসিন এক দেশে চলছে আবার অন্য দেশের নিষিদ্ধ। যেমন Covaxine ভারতে চলছে। কিন্তু কোভ্যাকসিন নিলে কিছু দেশে পাড়ি দেওয়া যাবে না। আবার Covishield-এর ক্ষেত্রেও তাই। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞাও মানুষের মনে প্রশ্ন তুলছে। যেখানে স্বচ্ছতা নেই, কেবলই দ্বিধা আর সদুত্তরের অভাব। আমরা অসহায় ভাবে মৃত্যূ হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। একদিকে প্রভিডের করাল দংশন অন্যদিকে পুঁজিবাদী আগ্রাসন আর রঙিন চোখ।

সমস্ত দ্বিধা দ্বন্দের কারণে সচেতনতা অসচেতনতা আর  অতিসচেতনতা গোষ্ঠী ও তাদের মধ্যে চলতে থাকা যুক্তি-পাল্টা যুক্তির বা স্ট্যাটিক ধারণা বলে কিছু থাকতে পারে না। সরকারি-বেসরকারি এনজিওদের প্রচারের পালাবদল, ও তাদের ভূমিকার বদলের সাথে সাথে সচেতনতা আর অসচেতনতা অতিসচেতনতার গোষ্ঠীর মধ্যে সংখ্যার রং বদলও স্বাভাবিক। কেননা ধারণা পাল্টানোর সাথে সাথে সচেতন থেকে অসচেতন, অসচেতন থেকে সচেতন বা বিপরীতমুখী স্রোত হতে পারে এবং হচ্ছে।

এর মধ্যে যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তাদের সচেতন বলছি। আর যারা নেয়নি তাদের অসচেতন বলছি। তাহলে অক্টোবর-নভেম্বরে ডিসেম্বর-জানুয়ারি,2022-তে যে নতুন ভ্যাকসিন আসছে ChAdOx1 nCoV- 19 ইত্যাদি সহ আরো কিছু ভ্যাকসিন। সেগুলো যদি আপডেটেড করোনা ভ্যাকসিন হয় এবং আজ যারা অসচেতন, তারা যদি সেই ভ্যাকসিন নেবার জন্য এখনো পর্যন্ত কোন ভ্যাকসিন নেয়নি বলে বর্তমানে অসচেতনতার তকমা দিচ্ছি, তাদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে তাদের আর অসচেতন বলবো? না হোক, এখন যারা Covishield বা Covaxin নিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে যদি আবার নতুন ভ্যাকসিন নিতে হয় বা নেওয়া যাবে না, অথচ কোভিড নিউ ভেরিয়েন্টে কাজ করবে না বলে সরকারি মহল ঘোষণা করে, তখন সচেতনতা আর অসচেতনতার কি হবে?

এ সমস্ত প্রশ্ন উদয়ের একটাই কারণ- কোভিড নিয়ে ধারণা, যুক্তি, প্রচার সময় সময় কিভাবে পাল্টেছে। আগামী দিনে তা পাল্টাবে না তা নিশ্চয় ভাবে বলা সম্ভব নয়।

তাই হঠাৎ করে করোনা নিয়ে কারোকে সচেতন, অসচেতনতা বা অতিসচেতন বলে সম্বোধন করাটাও বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। এ বিষয়গুলো আপেক্ষিক এবং ডায়নামিক। স্থান-কাল-পাত্রভেদে রূপ ধারণ করে। মানসিক দ্বন্দ্ব, টানাপোড়েন থাকুক কিন্তু সেখান থেকে যেন অবসাদ গ্রাস না করে। এ বিষয়ে সকলকে অবগত থাকতে হবে। সরকারি-বেসরকারি বা অন্যান্য সমাজসেবী সংস্থা যেন মানুষকে স্বাধীনতা দেয়- যুক্তি পরামর্শ গুলিকে বোঝার। তারপর সেই ব্যক্তির মতামত গ্রহণকে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি লোক বা সংস্থার লোক অর্থেই সবজান্তা এবং সঠিক জানতা আর আমজনতা বোকা ভাবার কারণ নেই।

Read More- ভারতের সামাজিক সমস্যা
ঋতুস্বাস্থবিধি দিবস কবে?
সি এম সি ভেল্লোরের অভিজ্ঞতা
কেন কখনো কখনো নিজে থেকে প্যাথোল্যাবে যাওয়া প্রয়োজন?
জটিল অপারেশনের ক্ষেত্রে কিভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন?

Disclaimer-

Vaccine নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো এই লেখাটির উদ্দেশ্য নয়। কোনো ভুল তথ্য পরিবেশনও আমাদের কাজ নয়। সঠিক তথ্য ও সঠিক পরামর্শ আপনি ব্যক্তিগত স্তর থেকে নেবেন। আপনি কি সিদ্ধান্ত নেবেন তা সম্পূর্ণ আপনার অধিকারে।
তবে সাধারণ কিছু নিয়ম বা হিত অহিতের প্রশ্নকে অস্বীকার নয়। যেমন সিগারেট খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। তা সে টিবি, ক্যান্সার, কোভিড, সর্দি কাশির জন্যও চরমতম বিরূপ প্রভাব ফেলে। এটা অস্বীকার করা অর্থে আপনি সচেতন ব্যক্তি, তা কখনই নয়।

ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *