Vimal Pan Masala

Surrogate Advertising of Vimal Pan Masala, Pan Parag etc by the Celeb | সেলিব্রিটিদের দ্বারা মাদকদ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও সমাজ

সাধারণ বিজ্ঞাপনের তুলনায় সেলিব্রিটিদের দ্বারা বিজ্ঞাপন মানুষকে বেশি আকৃষ্ট করে। পান পারাগ, বিমল পান মশলা, কমলা পসন্দ অথবা এই ধরনের গুটখা বা সূরার বিজ্ঞাপন মাদকাসক্তদের আরো গভীরভাবে আকর্ষণ করে(Surrogate Advertising of Pan Parag, Vimal Pan Masala etc by the Celeb affects the society most.)। আটপৌরে জল কাদা, ধুলোবালি মাখা জীবনযাপন সেলিব্রিটিদের জীবনযাপনের চাকচিক্য দেখে আকৃষ্ট হয়। পোশাক-আশাক খাবার-দাবার, চলন, বলন ঘরবাড়ির টিপটপ গোছানো বস্তু সামগ্রী আমাদেরকে, আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে। ঠিক সেই রকমই ভালো-মন্দের সংমিশ্রণের জীবটাও আমরা আষ্টেপৃষ্ঠে গ্রহণ করি। অথবা আমাদেরকে জড়িয়ে ফেলে। ঠিক সেভাবেই সেলিব্রিটিদের পান মশলা এবং মাদক দ্রব্যের বিজ্ঞাপন আমাদের জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

নেশা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় গাঙ্গের ঘোলা জলে। নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি মানুষের স্বাভাবিক আকর্ষণ আছে। যদিও মাদকদ্রব্য প্রস্তুত এবং বিক্রি কোনটাই আমাদের দেশে নিষিদ্ধ নয়। তবে রাজ্যভিত্তিক কিছু কিছু মাদক দ্রব্য নিষিদ্ধ হয়ে থাকতে পারে। আমরা তার কতটুকু জানি? কাগজে-কলমে লিপিবদ্ধ থাকলেও কতটা নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

আমাদের আজকের বিষয় পান মশলা, গুটকা, নিকোটিন এবং মাদকদ্রব্যের বিজ্ঞাপনী প্রচারের উপর। সরকার সরাসরি মাদকদ্রব্যের বিজ্ঞাপন বন্ধ করেছে। কিন্তু এরই পাশাপাশি পান মশলা ও মাদক দ্রব্যের বিজ্ঞাপন কিভাবে মানুষকে মাদকদ্রব্যের প্রতি আকৃষ্ট করে তা নিয়ে দু’একটি কথা বলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কোম্পানিগুলো এই ধরনের বিজ্ঞাপন কিভাবে সেলিব্রিটিদের ব্যবহার করে, সেলিব্রিটিরাও কিভাবে জেনে অথবা না জেনে, না বুঝে এই বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হচ্ছেন, সেটাও ভাবনার বিষয়। সেলিব্রিটিদের জীবনযাপন অথবা বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র, অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের প্রদর্শন আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে। সেই সূত্র ধরে তাদের দ্বারা মাদকদ্রব্যের বিজ্ঞাপন ক্ষুদ্র সমাজ থেকে কিভাবে বৃহত্তর সমাজে পৌঁছে যাচ্ছে এ নিয়ে নাগরিক জনজীবনকে সতর্ক থাকাও অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করি।

Vimal Pan Masala সহ সমস্ত কোম্পানীর উপর নিষেধাজ্ঞা-

সরকারিভাবে গুটকা, পান মশলা, টবাকো ইত্যাদিতে নিকোটিন সরাসরি কোনো খাদ্যদ্রব্য সঙ্গে মিশ্রিতকরণ সম্পূর্ণরূপে ব্যান করা হয়েছে। ব্যান করেছে Food Safety and Standards Prohibition and Restrictions on Sales Regulations 2011.  কোম্পানিগুলি এর মধ্যেই ফাঁকফোকর বের করে ফেলেছে। যেহেতু বলা হয়েছে খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে গুটকা পান মশলা টোবাকো নিকোটিন মিশ্রিত করা যাবে না, কিন্তু কখনোই বলা হয়নি আলাদা করে বিক্রি করা যাবে না। তাই তারা অন্যভাবে অন্য প্যাকেটে গুটকা বিক্রি করা শুরু করে। অর্থাৎ আলাদা করে সুপারীর প্যাকেট অথবা এলাচের প্যাকেট অথবা মুখশুদ্ধি প্যাকেট এবং আলাদা করে গুটখা বা জরদার প্যাকেট কেনার রাস্তা তৈরি হয়েছে। নেশাখোররা আলাদাভাবে সুপারি এবং গুটকা প্যাকেট কিনে ব্যবহার করছে। এমনকি টবাকো ফ্রি পান মসলাতেও সুপারি রয়েছে যা পোটেনশিয়াল ক্যান্সার এজেন্ট হিসেবে কার্যকরী।(সোর্স)

অন্যভাবে কোম্পানিগুলি মানুষদের ভুল বোঝায় এবং ভুল বলে। 2019 সালে বিহারের সরকার টোবাকো কোম্পানিকে বিশেষভাবে বিশ্লেষণ করেছে। স্টেট হেলথ ডিপার্টমেন্ট, ন্যাশনাল টোবাকো ল্যাবরেটরিতে টোবাকো স্যাম্পল পাঠিয়েছিল। 12 কোম্পানির মধ্যে সাতটি কোম্পানিতে নিকোটিন পাওয়া যায়। সেগুলি হল- কমলাপসন্দ, রজনীগন্ধা, রাজশ্রী ইত্যাদি। কোম্পানিগুলি তারা তাদের প্যাকেটে লিখে রেখেছিল তাদের পান মশলা নিকোটিন নেই। কিন্তু বাস্তবে নিকোটিন ছিল এবং এর প্রমাণ দেয় ন্যাশনাল টোবাকো ল্যাবরেটরি। তাছাড়াও ঐ 12টি কোম্পানির দ্রব্যের স্যাম্পেল গুলিতে ছিল সাংঘাতিক ক্ষতিকারক রাসায়নিক- ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট (সোর্স)।

মাদকদ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও সেলিব্রিটি । Intoxicating and Celebrities-

প্রথমেই বলেছি একজন সাধারণ মানুষ একজন সাধারণ মানুষের কথা যতনা বিশ্বাস করেন, ভরসা রাখেন তার তুলনায় সেলিব্রিটিদের কথাবার্তা এবং তাদের দ্বারা বিজ্ঞাপন মানুষের অন্তরে গেঁথে বসে যায়। বাজারে আমরা কোন জিনিস কিনতে গেলে খুঁজতে থাকি সেই বস্তুটির এডভেটাইজকে দিচ্ছে। আমাদের মনে ধারণা, যেহেতু সেলিব্রিটিরা, বিশিষ্ট ব্যক্তিরা কোন বস্তুর বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন অতএব সেই বস্তুটি ভালো হবেই, উত্তম হবে। মানুষের মানসিক এই অবস্থাকে কোম্পানিগুলির বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিখ্যাত লোকদের দ্বারা বিজ্ঞাপন দেওয়ার চেষ্টায় থাকেন এবং তার কাজও হয়।

কোম্পানি এডভেটাইজ গিয়ে লোককে বোকা তৈরি করার এক মাধ্যম দিনের-পর-দিন প্রদর্শন করাতে থাকে। উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে- অক্ষয় কুমারের এডভেটাইজ রেড এন্ড হোয়াইট খোলাখুলিভাবেই বিজ্ঞাপন করতো 2003 সালে। বিজ্ঞাপন ব্যান্ হয়েছিল COTPA এর তত্ত্বাবধানে 2003 সালে। সারাদেশে বিজ্ঞাপন দেওয়া নিষিদ্ধ হয়েছিল। শুধু ভারতে নয় WHO, FCTC(FRAMEWORK CONNECTION ON TOBACCO CONTROL) নামে একটি শাখা খুলে 2003 সালের মে মাসে। এই শাখার উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে এবং কোম্পানিগুলিকে টোবাকো খাওয়া এবং বিজ্ঞাপন অনুৎসাহিত করা। এতে 181টি দেশ সাড়া দিয়েছিল।

আরো পড়ুন-
ভারতীয় সমাজে নারীর অবস্থান
একান্নবর্তী পরিবার ও অনু পরিবার এবং সমাজ
সভ্য ভারতীয় সমাজে কিছু অনভিপ্রেত আচরণ
সমাজে টি ভি সিরিয়ালের প্রভাব
ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কতটা প্রাসঙ্গিক
ভারতীয় সমাজে লটারি টিকিটের প্রভাব

Surrogate Advertising-

এই সতর্কবার্তার মধ্যেও কোম্পানিগুলো তাদের ফাঁকফোকর খুঁজে বেড়ায় এবং খুঁজেও পায়। পরবর্তীকালে যেটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচার করতে থাকে। এই বিজ্ঞাপনগুলি সারোগেট বিজ্ঞাপন নামে পরিচিত লাভ করে।

একটি কোম্পানি ভিন্ন ব্র্যান্ড নামে প্রোডাক্ট তৈরি ও বিক্রি করে। যেমন হিন্দুস্তান ইউনিলিভার হরলিক্স, বুষ্ট, ডাব সাবান ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু বাকি কোম্পানিগুলি একই ব্র্যান্ড নামে ভিন্ন ভিন্ন প্রোডাক্ট বিক্রি করে। একেই সারোগেট এডভার্টাইজমেন্ট বলে। মানুষ দ্বিধাগ্রস্থ হয়। একই নাম আর একই প্যাকেট, হয়তো একই দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ পান মশলা, সুপারি, মুখশুদ্ধি, টোবাকো না অন্য কিছু। কোম্পানি দ্রব্য গুলির সাথে সাথে কোম্পানিকে স্মরণ করানোর জন্য এক সাংঘাতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। একটিতে পান মসলা, এলাচ এবং অন্যটিতে মাউথ ফ্রেশনার। প্যাকেটের গায়ে কিন্তু একই ধরনের নাম এবং ট্যাগ লাইন লেখা থাকে।

যেমন কমলা পসন্দের অ্যাডে কি আছে? ভাববেন পান পান মশলা। কিন্তু ছোট ছোট অক্ষরে লেখা আছে সিলভাট কোটেড এলাচ। যেহেতু পান মশলা সিলভার কোটেড, মাউথ ফ্রেশনারের প্যাকেট গুলো একই রকম, মানুষ বুঝতে পারে না প্রকৃতপক্ষে কি দেখানো হচ্ছে। বিজ্ঞাপনে তাই ভুলবশত বা জ্ঞানতঃ পান মশলা কিনে সেবন করে। সেই পুরনো ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে।

তাছাড়া জলের ব্র্যান্ড কোম্পানি গুলো সোডা ওয়াটারের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি মদের বিজ্ঞাপন করে। অর্থাৎ বলতে চায় জল কিন্তু দেখানো হয় অ্যালকোহল।

সরকারি কর্তব্য । Duty of Government-

সরকার কি জানে না? কি মনে হয়? সবাই জানে। সবাই সবকিছু জানি। কিন্তু ঘটনা হলো বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে? সরকার Advertising Standards Council of India আইন তৈরি করেছে এবং তা চালু আছে।

দেখা যাক সেই আইনের রুলস রেগুলেশনের কয়েকটি পয়েন্ট।

১. Product Extension must be Genuine- অর্থাৎ যে দ্রব্য এডভেটাইজে দেখানো হচ্ছে তা যেন বাস্তবে থাকে। অর্থাৎ দোকানে পাওয়া যায় জল, পান মশলা, হরলিক্স, সাবান, কসমেটিকস ইত্যাদি ইত্যাদি।

২. যখন বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে সেই মুহূর্তের নেট সেলস টার্নওভার কমপক্ষে প্রতিমাসে কুড়ি লাখ টাকার হতে হবে।

৩. তাছাড়া কোম্পানি দেখাতে পারে এই প্রোডাক্টের জন্য কোন জমি বা অন্যকোন মেশিনারিতে ইনভেস্ট করেছে। সফটওয়্যারও হতে পারে। যার কমপক্ষে মূল্য 10 কোটি টাকা হতে হবে।

৪. বস্তুটির উৎপাদন সংস্থাকে সরকারি সংস্থা তারা রেজিষ্টার হতে হবে। যেমন জিএসটি, এফ এস এস এ আই, FOA ইত্যাদি এবং স্বাধীন স্বনির্ভর কোম্পানি দ্বারা অডিট করানো বাধ্যতামূলক।

৫. Advertise টি যেন কোন ব্র্যান্ড প্রোডাক্টের দিকে ইঙ্গিত বা ইশারা না করে।

যেমন শাহরুখ খানের রয়াল স্টাগ হুইস্কি এর অ্যাডভারটাইজ বলেছেন- স্মল মিলতে যাও, লার্জ বানাতে যাও। সত্যি এখানে হুইস্কির কথা বলা হয়নি ঠিকই, কিন্তু সেটা যে ধূপকাঠি, সুগন্ধি বা সাবানের বিজ্ঞাপন নয় সেটাও পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি। অর্থাৎ বিজ্ঞাপনটি নির্দেশ করছে হুইস্কিকেই।

এরকম ধরনের বিভ্রান্তি মূলক বিজ্ঞাপন সরকারের নজরে আসে এবং ASCI(Advertising Standards Council of India) 12টি এডভেটাইজকে ব্যান্ করে(Source)। ইনভেস্টিগেশনে জানা যায় যে বিজ্ঞাপনগুলি ব্যান্ড প্রোডাক্টের দিকেই ইশারা করা হচ্ছে। তাই রয়েল স্ট্যাগ, স্টারলিং, রিজাভ, ব্লেন্ডার প্রাইড বিজ্ঞাপনগুলি পর্যালোচনা করে বলা হয়েছে- এইগুলিক সুইটেবল মডিফিকেশন করা দরকার এবং তারপর তা চালানো যেতে পারে। তাই কোম্পানিগুলির পক্ষে অনেক সুবিধা হয় তারা বিজ্ঞাপনগুলিকে সামান্য পরিবর্তন করে পুনরায় চালাতে শুরু করে।

কোঠারি পান পরাগ 2020 সালের টার্নওভার ছিল 4100 কোটি টাকা। তাই মাসে কুড়ি লাখ টাকা বা বছরে 2.4 কোটি টাকা সের দেখানো সামান্যতম কাজ। তাই প্রশ্ন ওঠে আইন যতই শক্তিশালী হোক এ সমস্ত কোম্পানির পক্ষে তা খুবই লঘু।

সরকারের সাথে সমাজের কর্তব্য-

সরকারকে কঠোর হয়ে আশু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। যে একই ব্র্যান্ডের  নামে দুটি প্রোডাক্ট বিক্রি করা যাবে না।

শুধু সরকারই নয়। সরকারের সাথে সমাজকে মাদকদ্রব্য থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য, মুক্ত করার জন্য এগিয়ে আসা উচিত। সেভাবে সেলিব্রিটিদের এ বিষয়ে আরও সক্রিয় হওয়া উচিত। তাদেরও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বিজ্ঞাপন না দেওয়াই ভালো। অথবা কোম্পানির সঙ্গে বিজ্ঞাপনের কোনো চুক্তি না করাই ভালো। তাদের বোঝা উচিত, তাদের জীবনধারা, তাদের প্রচার সাধারণ মানুষের জীবন যাপনকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

সেলিব্রিটিদের অনুরোধ-

অমিতাভ বচ্চন, অজয় দেবগন, অক্ষয় কুমার, হৃত্বিক রোশন, রণবীর সিং, শাহরুখ খান, সালমান খান, মনোজ বাজপেয়ী, টাইগার শ্রফ, সাইফ আলি, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, অনুষ্কা শর্মা, সাইনি লিওন, গোবিন্দা আরো অনেকে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মাদক বিক্রয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে যান‌‌। অবশ্য এর মধ্যে অনেকেই মাদক ব্যবহারের ফলাফল, সামাজিক প্রভাব কতটা হানিকারক হতে পারে এই ভেবে বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো সঙ্গে তাদের চুক্তি বাতিল করেছেন।

2016 সালের দিল্লি গভমেন্ট সমস্ত সেলিব্রিটিদের আবেদন করেছিলেন যে, তারা যেন মাদকবিরোধী ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করে এবং যুব সমাজকে মাদকদ্রব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি সরকার তাদের অনুরোধ করে তারা যেন মাদকদ্রব্যের এ ধরনের বিজ্ঞাপন না করেন। সাইনি লিওন সহ অনেক সেলিব্রেটি মাদকদ্রব্যের বিজ্ঞাপন থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছেন। এখনো পর্যন্ত অজয় দেবগন, শাহরুখ খান এলাচের বিজ্ঞাপন দিয়েই চলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *