Mehndi Design

Mehndi Design as Bright Profession in 2021 in Bengali | জীবন জীবিকায় মেহেন্দী নকসা

মহিলাদের রূপচর্চায় মেহেন্দি নকশার(Mehndi Design) প্রচলন শাড়ি, গয়না, প্রসাধনের সাথে সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে। Mehndi Design আর কেবলমাত্র হাতে হাতে তৈরি নকশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। নানান ধরনের মেহেন্দি ডিজাইন(Mehndi Design) বাজারে এখন অতি সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। গত দশ বছর পূর্বে আমরা দেখেছি বাজার থেকে কেবল মাত্র মেহেন্দির কোন (Cone)গুলো পাওয়া যেত।  তার পূর্বে আমরা মা, পিসি, দিদিদের মেহেদি পাতা বেঁটে হাতে মেহেন্দি নক্সা(Mehndi Design)করতে দেখেছি। আজ সেসময় আর নেই। এগিয়ে চলেছে মেহেন্দি নক্সা করার নানান উপাদান এবং সহযোগী উপাদানগুলো।

মেহেন্দী কি? | What is Mehndi?-

মেহেন্দি একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম লসোনিয়া(গন) ইনারমিস(প্রজাতি)(Lawsonia Inermis)। উদ্ভিদটির বিভাগ ম্যাগনোলিয়া ফাইটা(Magnoliophyta)। এর শ্রেণী ম্যাগনোলিয়োসসিডা(Magnoliopsida)। বর্গ মিরটেলস(Myrtales)। এর পরিবার লাইথ্রাসি(Lythraceae)। (Source- Wikipedia)

আমাদের জীবজগতের দেহ নানান রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। মেহেন্দি উদ্ভিদের মধ্যে অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে যেটি হয়েছে তাহলো লসোন(Lawson)। মেহেন্দির মধ্যে রঙিন প্রকাশ মূলত লসোন থেকে সৃষ্টি হয়।

মেহেন্দির ব্যবহার | use of Mehndi- 

বর্তমানে হাতে পায়ে মেহেন্দি ডিজাইন করা হলেও বহু প্রাচীনকাল থেকে মেহেন্দি নানান কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। যেমন-

রঞ্জক পদার্থ হিসেবে | Colouring-

মেহেন্দির ব্যবহার হলো কোন বস্তুকে রঙিন করা। এখানে বস্তু বলতে প্রাথমিকভাবে বস্ত্র রঙিন করার কাজেই মেহেন্দির ব্যবহার হতো।

ব্রোঞ্জ যুগ থেকে মেহেদী ব্যবহার হয়ে আসছে। সেই প্রাচীন যুগ থেকেই বর্তমান পর্যন্ত এর ব্যবহারের পরিধি বেড়েছে।

চুল রঙিন করার কাজে‌ | Hair Colour-

রঞ্জক পদার্থ হিসেবে মেহেন্দি চুল রং করার কাজে ব্যবহার করা হয়। শুধু কালো রং নয়। এর সঙ্গে রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে সোনালী এবং ফিকে বাদামি রংও করা হয়ে থাকে।

চুল পড়া রোধে | Treatment of Hair Fall-

Mehandi ইংরেজি নাম হল হেনা(Hena)। হেনা শব্দটি আরবি শব্দ হেন্না শব্দ থেকে উৎপত্তি। হেনার মধ্যে লাসোন ছাড়াও অন্যান্য নানান দার্শনিকপদার্থ এর গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে। মেহেন্দি মাথায় দিলে চুল পড়া রোধ হয়। তবে সবার ক্ষেত্রে সমান ফলাফল পাওয়া যায় না। বর্তমান বাজারের নানান কোম্পানির হেনা বিভিন্নভাবে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টায় থাকে।

নখ রঙিন করতে | As Nail Polish-

অন্যান্য প্রসাধনী সামগ্রী সঙ্গে মেহেন্দি তার স্থানটি অটুট রেখেছে এবং রাখছে। এখন বিভিন্ন ধরনের নেলপালিশ হওয়ার জন্য রঙিন করার কাজে মেহেন্দির ব্যবহার কিছুটা কমলেও প্রাচীনকালে রং করার কাজেও মেহেন্দির ব্যবহার হতো।

পশুর চামড়া রঙিন করতে | Colour for Animal Skin-

পশুর চামড়া রঙিন করার কাজও মেহেদি ব্যবহার করা হতো এবং বর্তমানেও হয়। তবে বর্তমানে মেহেন্দি সাথে অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রন বৃদ্ধি পেয়েছে। তার জৈব বৈশিষ্ট্য নষ্ট হচ্ছে।

মেহেন্দী নকসা | Mehndi Design-

বর্তমানে মেহেন্দি ডিজাইন(Mehndi Design) এর ধরন যুগ পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে পরিবর্তন হয়েছে। ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মেহেন্দি ডিজাইন(Mehndi Design) এর ধরন বলতে পূর্বে যখন কোন(Cone) ছিল না, তখন হাতে মেহেন্দি বেঁটে সরাসরি হাত দিয়ে মেহেদী পড়ানো হতো। এখন কোন(Cone) এসেছে। তার সাথে নকশার বিভিন্ন ফর্মা বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া কেবলমাত্র বিবাহ, ঈদ, দুর্গোৎসবের মধ্যে মেহেন্দি সীমাবদ্ধ নেই। ছোট-বড় নানা অনুষ্ঠানে অতি সহজে হাতের কাছে মেহেন্দি পাওয়া যায় বলে ব্যবহারের পরিধিও বুদ্ধি পেয়েছে।

উচ্চ, উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলাদের ব্যবহার থেকে অতি সাধারণ বাড়ির মহিলাদের মধ্যে মেহেন্দির ব্যবহার প্রচলন হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে অর্থ সমাগম, স্বচ্ছলতা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কথা। বলা যেতে পারে বিনোদনের ধারার পরিবর্তন, প্রচার, উচ্চস্তর থেকে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।

মেহেন্দি নকসা এবং সংস্কৃতি | Mehndi Design and Culture- 

মানুষের পোশাক, খাবার জীবনযাপন প্রণালী স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ভিন্ন। ঠিক সেভাবে সাংস্কৃতির মধ্যেই এর ছাপ এবং আঞ্চলিক পরিবর্তন লক্ষণীয়। মেহেন্দি ডিজাইনও(Mehndi Design) অঞ্চল ও দেশ মেরে বিভিন্ন। টেলিভিশন, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে বিভিন্ন পৃথক সংস্কৃতিতে জীবন যাপনে মানুষের মধ্যে মেহেন্দি ডিজাইনের(Mehndi Design) মিশ্র রূপ দেখা যাচ্ছে। কোন অঞ্চলের মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতির মধ্যে নিজেদের আবদ্ধ রেখে অন্য সংস্কৃতিকে পুরোপুরি ব্রাত্য করছে তা বলা যাবে না।

মেহেদী নকশা শ্রেণিকরণ | Classification of Mehndi Design-

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সংস্কৃতির বৈচিত্র মেহেন্দি নকশার (Mehndi Design) মধ্যেও লক্ষ্য করা যায়। সেই সূত্র ধরে বিভিন্ন দেশের মেহেন্দি নকশাগুলিকে এইভাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে-

  •  Indian,
  • Moroccan,
  • Indo Western,
  • Western Mehndi Design,
  • Pakistani,
  • Indo Arabian,
  • Arabic.

মেহেন্দী নকসার স্থান-

বহিরঙ্গের যে স্থান উন্মুক্ত, অর্থাৎ দর্শনযোগ্য স্থানে মেহেন্দীর ব্যবহার হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে হাতই হল মেহেন্দীর প্রথম স্থান। হাতের আবার বিভিন্ন অংশ যেমন আঙ্গুলের মেহেন্দী নকসা(Finger mehndi design), নখ(at present chemical nail polish is used), হাতের উপরিস্থল(Mehndi Design on Upper part of the Palm) এমনকি কব্জির উপর অংশ ছাড়িয়েও মেহেন্দী নকসা করার প্রচলন রয়েছে। তাছাড়া পায়ের পাতাতেও আলতার সাথে সাথে মেহেন্দী নকসা ভারতীয় সংস্কৃতিতে ভুলভাবে প্রচলিত হয়।

finger mehndi design
Photo by Mehndi Training Center from Pexels
finger mehndi design
Photo by Mehndi Training Center from Pexels
Image by Mehndi Training Center from Pixabay

পেশা হিসাবে মেহেদী নকশা | Mehndi Design as Profession-

পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতবর্ষ এবং সারা বিশ্বে বহু মানুষ মেহেন্দি নকশা(Mehndi Design) তৈরি করাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই পেশা কেবলমাত্র মাত্র বিউটি পার্লারে সঙ্গেই যুক্ত নয়। বিউটি পার্লার ছাড়াই শুধুমাত্র মেহেন্দি নকশা করে অনেকজন তাদের রোজগারের পথকে নিজেদের জীবনে জড়িয়ে ফেলেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন নামকরা মেহেন্দি ডিজাইনার | Some Mehndi Designer in West Bengal-

  • Trisha’s creation(Rs. 2100),
  • Mehndi by Disha(Rs.  2500),
  • Bijoy Mehndi(Rs.3500),
  • Jain Mehndi Oul and Double Haldi Mehndi (Rs. 2500),
  • Mehndi by Nusrat(Rs. 2500),
  • Sharma Mehndi (Rs.2500),
  • Gautam Mehndi Artist (Rs. 5000),
  • Sangeeta Mehndi(Rs. 5100)

উপরের সমস্ত নামগুলি কলকাতাকেন্দ্রিক। প্রথমেই বলা হয়েছে মেহেন্দি ব্যবহার গ্রামাঞ্চলের ঢেউ নিয়ে এসেছে। গত 15 বছর আগে পর্যন্ত বিউটি পার্লার বলতে গ্রামের লোকেরা ভ্রু কোঁচকাতো। বর্তমানে এ বিষয়ে আর বিস্ময় প্রকাশ করতে দেখা যায় না। গ্রামাঞ্চলেও যেমন বিউটিপালার প্রচুর তৈরি হয়েছে, তেমনি ছোট ছোট অনুষ্ঠানসহ নৈমিত্তিক জীবনে বিউটি পার্লারের ব্যবহার গ্ৰামের মহিলারা করছেন। অনুষ্ঠান ও বিয়ে বাড়ির কথা বাদ দিয়েও বিউটি পার্লারের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।

সেইসাথে মেহেন্দির ব্যবহার সেরকম পেশাগতভাবে তেমন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই যে কেউ তার মত মেহেন্দি ডিজাইন শিখে স্পেশালাইজড হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পুরুষ মহিলা উভয়ই প্রফেশন হিসেবে এই কাজকে গ্রহণ করতে পারেন। তাছাড়া বিউটি পার্লারের মালিকরাও মেহেন্দি ডিজাইনারদের নিয়োগ দিতে পারেন।

আরো পড়ুন-

উপরোল্লিখিত মেহেন্দি নকশাকারীরা মেহেন্দী ডিজাইন করার জন্য যে পরিমাণ অর্থ ধার্য করেন তা দেখতে পেয়েছেন। স্থানভেদে ও কাজের ধরন অনুযায়ী অর্থের সামান্য হেরফের করে আপনারা অর্থ ধার্য করতে পারেন। আগামী দিনে মেহেন্দি ডিজাইনার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

মেহেন্দি ডিজাইন(Mehndi Design) তৈরি করার নির্দিষ্ট কোন সীমাবদ্ধ নেই। বলতে চাইছি ডিজাইন নিজে নিজে তৈরি করার কোনো বাধা-বিপত্তি নেই। নকশা তৈরি করার ক্রিয়েটিভিটি থাকলে অবশ্যই অনন্য হবে এবং অন্যের থেকে পৃথক হয় নিজেকে অনন্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। তার সকলেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। অন্যান্য মেহেন্দি ডিজাইন দেখে নতুন ডিজাইন অথবা বিভিন্ন ডিজাইনের কম্বাইন্ড করে নতুন ডিজাইন সৃষ্টি করলেও পেশাদারিত্বকে সমৃদ্ধ করতে পারে। নিজেকে সেই কাজে প্রতিষ্ঠিত করতে সুবিধা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *