Interview list of Upper Primary

Interview list of Upper Primary is Crying in Court | 1ম উচ্চ প্রাথমিকের ইন্টারভিউ তালিকা কাঠগড়ায়

উচ্চ প্রাথমিকের ইন্টারভিউ তালিকা (Interview list of Upper Primary is Crying in Court) পুনরায় কাঠগোড়ায়। মেধাতালিকা বারবার জন্মাচ্ছে জন্ম মুহূর্তেই বারবার অপরাধে অপরাধী। কি করে সম্ভব? সদ্যজাত শিশুর সব সময় নিষ্পাপ হয়। মেধা তালিকার পাপ নিয়ে জন্মগ্রহণ। শুধু আজ নয় সেই 2011 সালের পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত যত মেধাতালিকা জন্মেছে- প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক যাই হোক না কেন, মুক্ত দূষণ, মুক্ত পাপ একটাও লিস্ট দেখা গেল না। জন্ম মুহূর্তে যেন অপেক্ষায় বসে থাকে- ‘কই এখনো পর্যন্ত আমাকে তো কেউ কাঠগোড়ায় তুললি না।’ হাসতে থাকে। এবারও সেই তালিকার অভিলাষ অপূর্ণ থাকতো না। যথারীতি সেই একই পথে।

2011 সালের পর থেকে কোন গ্রহের ফেরে এই অপরাধ? কোন দোষের দুর্বিপাকে বারবার হোঁচট খাচ্ছে একটি অতি সাধারণ অথচ বহু আকাঙ্খিত অভিলাষ? অমৃতকুম্ভের জয়লাভে 2011 থেকে 2021 এর মাঝে ঝরে গেছে কত বেকার যুবক যুবতীর প্রাণ। এই সময়ে চাকরি পাওয়ার বয়স দিগন্তের ওপারে মিলিয়ে গেছে। ডিগ্ৰীর সমস্ত বান্ডিল দেহত্যাগ করেছে অথবা নিষ্ক্রিয় হয়েছে কালের প্রবাহ চক্রে। আমরা এখন শুনতে পাই সেই নিথর দেহ বুকে ধরে যুবক যুবতীর ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজ।

গ্রাম বাংলার বেকার যুবক-যুবতীদের একটি অতি সরল সাধাসিধে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্র হলো বিদ্যালয়। প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক হোক কিংবা উচ্চ মাধ্যমিক- বিদ্যালয়ের চাকুরী। শহরাঞ্চলে যেখানে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকুরীর পাশাপাশি অন্যান্য বিভিন্ন বিভাগ অথবা সেক্টর গুলি রয়েছে, গ্রামাঞ্চলের বেকার যুবক-যুবতীদের ক্ষেত্র সেভাবে প্রসারিত নয়। তাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর D.El.Ed অথবা গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি করে B.Ed এবং প্রাথমিক অথবা স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় বসা। বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি করা। 

কিন্তু তা আর হবার নয়। কেননা তা হাতের মধ্যে ধরা দিয়েও, সে যেন বারবার পিছল কেটে বাইরে বেরিয়ে যায়। অতীতেও হয়েছে এবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।

Problem of Interview list of Upper Primary | উচ্চ প্রাথমিকের ইন্টারভিউ তালিকা- এর সমস্যা

এবারের তালিকায় সেই একই অভিযোগ- তারা মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছিল তাদের অনেকের সেখানে নাম নেই। অথবা উল্টোদিকে যারা মৌখিক পরীক্ষা দেয়নি তাদের নাম লিস্টে। স্বভাবতই দুটো ভিন্ন ভিন্ন দল তৈরি হয়েছে। যাদের নাম লিস্টে রয়েছে তাদের একটি দল এবং যারা মৌখিক পরীক্ষায় বসে ছিল অথবা বেশি নাম্বার ছিল তাদের নাম লিস্টে নেই তাদের একটি দল। সহজ-সরল হিসাব- যাদের নাম লিস্টে আছে তারা চুপ চাপ বসে থাকবে। তারা কখনোই আদালতে তো যেতে চাইবে না।

অন্যদিকে যাদের নাম লিস্টে নেই তারা আদালতের দ্বারস্থ হবে, জবাব চাইবে। কেন তাদের নাম লিস্টে নেই? তাদের মাক্স বেশি আছে, ইন্টারভিউ দিয়েছিল এবং নিজের উপর অগাধ বিশ্বাস ছিল না। সে বিশ্বাস ভঙ্গের অপরাধে পুরো তালিকায় এখন কাঠগড়ায়। নিশ্চয়ই সমস্ত ছেলে মেয়েদের মনের মধ্যে এখনো পর্যন্ত আত্মবিশ্বাস রয়েছে যে তাদের নাম লিস্টে থাকা উচিত ছিল। কোন এক ভুতুড়ে কান্ডের জন্যেই এই ধরনের অবস্থা হয়েছে।

Who are behind the Interview list of Upper Primary | এর পেছনে কারা?

সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি উপর আদালত তদন্ত করছে এবং সরকারের কাছ থেকে হলফনামা চেয়ে পাঠাচ্ছে। সেই বিষয়ে সাধারণের বলার কিছু থাকতে পারে না। কিন্তু সরকার বলুন, আদালত বলুন, পার্লামেন্ট বলুন, সবই কিন্তু একদম তৃণমূল স্তর থেকে অর্থাৎ মানুষের কাছ থেকেই উঠে এসেছে। যেখানে মানুষ নেই সেখানে এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের কোন মূল্য নেই। আবার মানুষজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আবশ্যকতা রয়েছে। সর্বোপরি পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে চলছে সরকার, রাষ্ট্র। তাই কিছু বলা আশাকরি দোষের কিছু হবে না।

শুধু স্কুল সার্ভিস কমিশনের মেধা তালিকা’ই নয়, যেকোনো সুযোগ অথবা ভবিষ্যৎ লাভজনক পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষের নিয়োগ, পুরো পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত থাকা লোকের লাভের অংক এসে পড়ে। অর্থাৎ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে যারা যুক্ত রয়েছে এবং যারা নিযুক্ত হচ্ছে। সোজা-সরল হিসাব। লাভ যখন প্রকট হয়ে ওঠে তখন প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে এসে পড়ে ফাঁকফোকর। সেখান দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাস্তায় একে অপরকে লাথি মেরে সেই ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবল পরাক্রান্ত সুযোগ বা জোর।

এর মধ্য দিয়ে উঠে আসে অনেক শব্দ। তারমধ্যে একটি হচ্ছে স্বজনপোষণ ও অন্যটি উৎকোচ। উৎকোচ দিয়ে নিজের কার্যসিদ্ধি। অন্যদিকে উৎকোচ নিয়ে স্বজনপোষণ। এই মেধা তালিকার ক্ষেত্রে এরকম ঘটনা ঘটেনি তা জোর দিয়ে বলা যায় না। আবার ঘটেছে তাও প্রমাণসাপেক্ষ। আসলে পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে দুর্নীতি চলছে এবং সেগুলো আমাদের সামনে আসছে স্বভাবতই এ ধরনের বিষয় মস্তিষ্কে জন্ম নেবে না, সেটা জোর দিয়ে বলা যায়না। ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়। ঠিক সেরকমই মনের মধ্যে টানাপড়েন।

অন্যদিকে আরেকটি কথা সকলেই বলছে- করোনা আবহে সারা রাজ্যে তথা দেশের অর্থনীতির হাল বড়ই সঙ্কটজনক। অন্যদিকে শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতি সে কথা বলছে না। জানিনা এই দুইয়ের মধ্যে কোথায় মিল অথবা অমিল।

যাইহোক রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার করোনা অতিমারির সঙ্গে পরাক্রমে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। বিনামূল্যে টিকাকরন এবং বিনামূল্যে রেশন ছাড়াও একাউন্টে টাকা পাঠানো সরকারের ভান্ডারের উপর চাপ বৃদ্ধি হচ্ছে। অন্যদিকে ভান্ডার পূর্ণ হওয়ার সেরকম উৎস নেই। উৎস বলতে বিভিন্ন ধরনের ট্যাক্স এবং আরেকটি হলো বিভিন্ন দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি। মানুষ বুঝছে, জানছে- সরকার  বিভিন্নভাবে তাদের সাহায্য করছে। অন্যদিকে তাদের মূল্যবৃদ্ধির প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। একটা কথা মাথায় রাখা দরকার যেখানে অযথা পাইয়ে দেওয়ার নীতি প্রচলিত, সেখানে উল্টো দিকে অন্য কোন ভোগ্যবস্তুর মূল্য বৃদ্ধি ঘটতে বাধ্য।

ঠিক এরকম পরিস্থিতিতে যেকোনো সরকারই চাইবে তার ব্যয় হ্রাস করতে। ঠিক এই মুহূর্তেই চাকরি নিয়োগ এর মেধা তালিকা প্রকাশ। সেটা যদি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হয়, তার ওপর কোনো রকম নিষেধাজ্ঞা অর্থাৎ আদালতের কেশ কিংবা অন্য রকম জটিলতা সৃষ্টি না হয় তাহলে সরকারকে অবশ্যই মেধাতালিকার অনুযায়ী বেকার যুবক-যুবতীদের নিয়োগপত্র দিতে হয়। আর নিয়োগপত্র দেওয়া অর্থেই সেদিন থেকেই তার বেতন দিতে হবে।

করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে স্কুল কলেজ সবই বন্ধ। সেখানে বর্তমানে নিযুক্ত চাকুরীরত শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষা কর্মীদের বেতন দিতে হচ্ছে। অথচ সেখান থেকে কোন প্রত্যক্ষ রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের মধ্যে এরকম এক আক্রোশ শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষা কর্মীদের উপর রয়েছে। সেখানে স্কুল-কলেজে নতুন করে নিয়োগ এবং তাদের জন্য বেতন বরাদ্দ সরকারকে সংকটে ফেলবে না তার কোন গ্যারান্টি নেই। অন্যান্য বিভিন্ন সংস্থা এই মহামারী পরিস্থিতিতে ব্যয় হ্রাস করার জন্য কর্মী ছাঁটাইয়ের পথ অবলম্বন অথবা বেতন হ্রাস বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেতন বন্ধও করেছে। অতএব উচ্চ প্রাথমিকের ইন্টারভিউ তালিকা’য় জটিলতা অসম্ভব নয় এটা জোর দিয়ে বলা যায়না।

যত দেরি ক্রা যায় ত্তদিন পর্যন্ত ভাণ্ডার খালি হবার সম্ভাবনা নেই। তছাড়া এটা তো ইন্টারভিউ লিস্ট। এটা নিয়েই এতকিছু না জানি চূড়ান্ত মেধা তালিকা লিয়ে ক্ত জটিলতা সৃষ্টি হবে। তবে ঋণাত্মক ভাবনা ভাবা উচিৎ নয়। কিন্তু সিঁদুরে মেঘটাও বারবার ফিরে আসে।

যাই হোক- আবারও বলছি যেহেতু এটি আদালতের বিচারাধীন, তাই এর চেয়ে বেশি মন্তব্য করাও ধৃষ্টতা।

pmehatory

Hi I am Prabhat, Prabhat Mehatory. I am PG, interested in Technology and Blogging. Like to read and inspired from there try to write something whatever I gathered from learning and experiences.

View all posts by pmehatory →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *