Babul Supriyo joins TMC

Babul Supriyo joins TMC in Bengali | বাবুল সুপ্রিয় অবশেষে টি এম সি’তে । Social Impact

আর ধরে রাখা গেল না। সমস্ত ধারণা’কে আস্তাকুঁড়ে ফেলে বাবুল সুপ্রিয় অবশেষে টি এম সি’তে যোগদান(Babul Supriyo joins TMC)। কার কি’বা এসে যায় তাতে। তিনি শিল্পী, তার চেয়েও তার আরো পরিচয়- তিনি মানুষ, তিনি ভারতীয় নাগরিক। তার মধ্যেও ভারতীয় রাজনৈতিক সত্ত্বা বর্তমান। তিনি স্বাধীন। যেকোন দলে যোগদান করতেই পারেন।

তিনি বিজেপি এবং সাংসদ পদ ছেড়েছিলেন- শুনে বড় ভালো লেগেছিল। খুবই আনন্দ হয়েছিল। সবচেয়ে খুশির খবর তিনি পার্লামেন্টের সাংসদ পদ ত্যাগ করেছিলেন। একদিকে রাজনৈতিক সত্ত্বা, অন্যদিকে ব্যক্তিসত্তা ও শিল্পী। কখনো কখনো উভয়ের মধ্যে সংঘাত। আবার কখনো কখনো মিলন। এসব নিয়েই মানুষের জীবন। 2014 সাল থেকে তিনি পার্লামেন্টের শুধু সদস্য ছিলেন না, একজন মন্ত্রী ছিলেন।

আগামিকালের বাংলা খবরের শিরোনাম- বাবুল সুপ্রিয় বাবুল সুপ্রিয় অবশেষে টি এম সি’তে

যেকোনো কারণেই হোক না কেন বি জে পি’র সঙ্গে, তাদের নীতির সঙ্গে এক সংঘাত তৈরি হয়েছিল। প্রথমে হয়ত তার নীতি মনের সাথে যাচ্ছিল। দিনবদলের সাথে সাথে দ্বন্দ্ব, দিনকে দিন বাড়তে থাকে। নিজের কাছেই হয়তো প্রশ্ন করছেন। কোন সঠিক উত্তর পাচ্ছেন না। তাই তার একমাত্র ভরসা ছিল তার পরিবার এবং নিকট বন্ধুবান্ধব। অন্তরের শিল্পীসত্তার জাগরুক প্রদীপ হয়তো জ্বলছিল সামান্য সলতেতে ভর করে। তার স্তিমিত হয়ে আসছিল। কিন্তু তিনি সেই আগুন নেভাতে চাইছেন না। হয়তো তিনি বুঝতে পেরেছেন তার ব্যক্তিসত্তার ওপর কোনো না কোনো প্রভাব তার শিল্পীসত্তার বুকে আঘাত দিয়েছে। কিন্তু কাউকে ছোট বা অপমান নয়।সকলকে শিল্পীর শ্রদ্ধাবনত দৃষ্টিতে দেখে স্বেচ্ছায় রাজনৈতিক জীবন থেকে আলবিদা জানাচ্ছেন।

News of Babul Supriyo joins TMC-

 ইন্টারনেট দুনিয়ার বিভিন্ন খবরা-খবর এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি। নিজস্ব ফেসবুক পেজে এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের অসামান্য অভিজ্ঞতা এবং দল ও এমপি পদ ছাড়ার বিবরণ পত্র কয়েক’শ শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছিলেন।

এখানে বাবুল সুপ্রিয়র ফেসবুক পোষ্টে ক্লিক করুন। দেখে নিন তিনি বিজেপি ছাড়া নিয়ে কি বলেছিলেন।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় বলে যেকোন শিল্পী কোন রাজনৈতিক দলে নাম লেখালেই কেমন যেন বুকের মধ্যে একটা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। মাঝে মধ্যে একটা খচখচানি ভাব। গলার মধ্যে দলাপাকানো অসমাপ্ত কাশি যেন আটকে থাকে।

প্রতিটি মানুষই রাজনৈতিক। একজন শিল্পীও মানুষ। তার রাজনৈতিক সত্ত্বা আছে। বিগত দিনে আমরা যত শিল্পীদের দেখেছি এবং বর্তমানেও প্রত্যেকের মধ্যে একটা রাজনৈতিক সত্ত্বা বিরাজ করে। সে থাকবেই। কেউ পরোক্ষভাবে কোন রাজনৈতিক মতাদর্শকে আশ্রয় করে বেঁচে থাকেন। সৃষ্টি করেন ন্তুঙ্কে। আবার কেউ কেউ প্রত্যক্ষভাবে রাজনৈতিক দলের নাম লেখান এবং দলের হয়ে কাজ কর্ম করেন। থাকতেই পারে। তাদের ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনার মধ্যে রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার প্রশ্রয়, ভালোবাস, জনগণের প্রতি সেবা-যত্ন যাই বলুন না কেন।

তবুও বলবো শিল্পীরা সরাসরি যখন রাজনৈতিক দলে দলে নাম লেখান অথবা দলের কথা বলেন অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের মত,মাথাটা কেমন খিচিমিচি হয়ে যায়। ঠিক এরকম আরেক জনের ক্ষেত্রে হয়েছিল- কবীর সুমন। এই মানুষটাকে এত ভালো লাগে, এত ভালোবাসি। যখনই দেখলাম তিনি একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন, জিতলেন। তারপরই পুনরায় ব্যাকফুটে চলে গেলেন। এসবের মধ্যে কেমন যেন নিজের প্রতি বিশ্বাসের এক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়ে গেছিলো।

যাইহোক কবির সুমন এখন আর সরাসরি কোন রাজনৈতিক দলে নেই। কিছু  বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়ে গেছিল। যাই হোক তিনি এখন আর সরাসরি কোন রাজনৈতিক দলে নেই। কিন্তু রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনার মধ্যে থাকতেই পারেন। তারই ফলশ্রুতিতে তার অবশেষে টি এম সি’তে যোগদান। সমাজসেবা, লাভলোকসান, টানাপোড়েন সবকিছু জড়িয়ে পুনরায় সরাসরি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়।

সে থাকুন। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। সৃষ্টি করুন।

আরো অনেক শিল্পী আছেন তারাও রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনা নিজের মনে গেঁথে রেখেছেন। সরাসরি প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। অথবা কোন কোন শিল্পী, সৃষ্টিকর্তা মানুষজন সরাসরি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, এদের জন্য সত্যি সেরকম কোনো কষ্ট দুঃখ হয়না। যেন এক সাধারণ নিয়মের অভিকর্ষ টানের উপর থেকে নিচের দিকে গড়িয়ে যাওয়া জলধারা। কোন অজানা শক্তির হাতে নিজেদেরকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন, ভাসছেন। আবার হয়তো কখনো পাড়ে উঠতেও পারেন। আমরা তাপস পালের করুণ পরিণতির কথা সকলেই জানি। সেই দাদা তাঁর জীবনদর্শন যে কীর্তিতে লিখে গেলেন তা ইতিহাস হয়ে থাকবে।

দিন কয়েক আগেই আমাদের এই সাইটের একটি লেখা পোস্ট হয়েছিল জেতার পরে দল পরিবর্তন নিয়ে। রাজনৈতিক নেতারা দল পরিবর্তন করতেই পারেন- যতক্ষণ না তিনি বিজয়ী এমএলএ/ এমপি হচ্ছেন মন্ত্রী হচ্ছেন। একজন এমএলএ /এমপি/মন্ত্রী দল পরিবর্তন কেন করবেন? যে মানুষের সমর্থনে তিনি সেই দলে জয়ী হয়েছেন, সেই দলকে স্বার্থের কাজে ব্যবহার করে, স্বার্থ অবসানে পুনরায় নতুন দলে নাম লেখানো? এ কেমন আচরণ। শুধু সাধারণ আচরণ নয়, শুধু ভুল নয়, অনিয়ন্ত্রিত অসীম অন্যায়।

আপাতত বাবুল সুপ্রিয়র পোষ্টের উপর ভিত্তি করে এটাই বলেছিলাম তিনি বিজেপি ত্যাগ করছেন, সাংসদ পদও ত্যাগ করছেন। কিন্তু কোন দলে এখনও নাম লেখাচ্ছেন না। অদুর ভবিষ্যতে কি করবেন তা আমরা কেউ বলতে পারিনা। তা একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়।

কিন্তু ওই বললাম একজন শিল্পী তাকে কিন্তু প্রত্যেক শ্রোতা তার ভালোবাসে, সমস্তটাই তার কাছে পরম প্রিয়, পরম আদরে পরম বন্ধুর মতো। যখন সে শিল্পী নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের সরাসরি যোগদান করেন তখন সাধারণ জনগণের মনে কোথায় যেন একটা খটকা তৈরি হয়। সে শিল্পীদের প্রতি মনের মধ্যে যেন একটা পাথর সৃষ্টি হয়, ভেতরের টানাপোড়েন চলতে থাকে, শ্রোতারাও বিভাজিত হয়ে পড়ে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে বিভিন্ন দলে। যদিও শ্রোতাদের এই সমস্যা তাদের অন্তরের নিজস্ব সমস্যা। কিন্তু সমস্যা থেকে সমাধানের পথ কোথায়? কীভাবে সে সমস্যা থেকে নিষ্কৃতি পাবে? তারা তো সাধারণ। তারা কোথা থেকে এ সমাধানের রাস্তা বের করবেন জানা নেই।

যাইহোক বাবুল সুপ্রিয় আবারো ভালোই করলেন। কিন্তু আপনার নিজের সৃষ্টির প্রতি মনোযোগ? একাগ্রচিত্তে আপনার কন্ঠ থেকে আমরা যে গান শুনতে চাই। আপনার কন্ঠ থেকে সুর সরাসরি আকাশের বুকে মেঘ হয়ে বৃষ্টি ধারা ঝড়ে পড়ুক। যেদিকে যাই অন্তরাত্মাকে সুর আর সুর শুধু সুরের দিয়ে বিশ্বের মাঝে অন্ধকার পথে আলোকিত রোশনাই পথিকের সহায় হোক আপনার কীর্তিতে। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

pmehatory

Hi I am Prabhat, Prabhat Mehatory. I am PG, interested in Technology and Blogging. Like to read and inspired from there try to write something whatever I gathered from learning and experiences.

View all posts by pmehatory →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *