কে পড়ান(Who Teaches)? | স্থায়ী শিক্ষকদের গৃহশিক্ষকতা ও গৃহশিক্ষকদের সংগঠন

who teaches

বিদ্যালয় শিক্ষক না’কি গৃহশিক্ষক- কোন শিক্ষক প্রকৃতপক্ষে পড়ান(Who teaches really- a school teacher or a private tutor)? এ প্রশ্ন আসার সাথে সাথেই শিক্ষক বিভাজনের প্রথম রাস্তা তৈরী হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিভাজন থেকে আসে অস্তিত্ব রক্ষার সঙ্কট। সঙ্কট থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে উদ্ধার পাওয়ার জন্যই হয়তো গৃহশিক্ষকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি নোটিশ সোশাল মিডিয়ায়(Social Media) ঘুরপাক খাচ্ছে। এ নিয়ে নানান মন্তব্য। কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সোশ্যাল মিডিয়া, অতএব স্বাধীনভাবে যা খুশি মন্তব্য করার অধিকার রয়েছে। তবে খুবই চিন্তার বিষয়। কেননা যা নিয়ে মন্তব্য তার অন্যতম প্রধান বিষয়বস্তু শিক্ষা। তার সাথে সমানভাবে রয়েছে রুজিরুটি, রোজগার, বেকারত্বের সমস্যা।

কিন্তু মূল প্রসঙ্গ যেখানে শিক্ষা প্রদান, সেখানে স্থায়ী শিক্ষক ও গৃহশিক্ষক উভয়ের পক্ষ থেকে তির্যক মন্তব্য ব্যথা দেয় ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবক সহ গোটা সমাজকে। নিজেরাই নিজেদের ভালো-মন্দের বিশ্লেষক ও মূল্যায়নকারী হলে নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেহাতই মূল্যহীন বস্তুতে পরিণত হয়। এ ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতি সমস্ত ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

সরকারী বিজ্ঞপ্তি-

দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ বিদ্যালয়ের স্থায়ী শিক্ষকদের গৃহশিক্ষকতা করা যাবে না এ প্রসঙ্গে সরকারি নানান নির্দেশাবলী জারি হয়েছে। ফলস্বরূপ বর্তমানে অনেক স্থায়ী শিক্ষক গৃহশিক্ষকতা ছেড়ে দিয়েছেন এ কথা সত্য। কিন্তু তবুও কোন কোন শিক্ষক সেই নির্দেশিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে গৃহশিক্ষকতা করে যাচ্ছেন নির্দ্বিধায়।

সরকারি নির্দেশ নামায় প্রধান বক্তব্য পরিষ্কার- যেহেতু স্থায়ী শিক্ষক, সরকারি বেতন ভোগ করছেন না, তাই সেই পেশা ছাড়া অন্য কোন লাভজনক পেশায় যুক্ত হতে বা যুক্ত থাকা যাবে না। লাভজনক পেশার সঙ্গে শিক্ষকতা যুক্ত হয়েছে। উদ্দেশ্য অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতী আছেন তারা গৃহ শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত থেকে কিছুটা হলেও আর্থিক স্বচ্ছলতায় জীবন যাপন করতে পারবেন। সরকারের উদ্দেশ্যকে সাধুবাদ জানাতে হয়। কিন্তু গৃহ শিক্ষকতাকে লাভজনক পেশার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া যায় কি’না এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

শিক্ষা বিভিন্ন এককের সম্মিলিত সচল রূপ-

দ্বন্দ্বের সীমা পরিসীমা নেই। শিক্ষা নামক সামাজিক সচল পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত আছেন নানান ব্যক্তিবর্গ প্রতিষ্ঠান। একদিকে সরকার, সরকারি নিয়ম, বিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, গৃহশিক্ষক, অভিভাবক এবং কেন্দ্রবিন্দুতে অবশ্যই ছাত্রছাত্রীরা। ছাত্রছাত্রীদের বাদ দিয়ে শিক্ষা নামক এই প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক সচল পদ্ধতির কোন মূল্যই নেই। শিক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সমস্ত ব্যক্তিবর্গ প্রতিষ্ঠানের বিকল্প থাকতে পারে। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের বিকল্প কিছুই থাকতে পারে না।

A নামক ছাত্রকে যে কোন প্রতিষ্ঠানে যেকোনো বেসরকারি সরকারি পরিচালনাধীন যে কোন শিক্ষকের কাছে পাঠানো যায়। কিন্তু A এর বিকল্প B হতে পারে না। এক্ষেত্রে A এবং তার অভিভাবকদের পছন্দের গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া খুবই জরুরী। তিনি বা তার ছেলে মেয়েরা কোন প্রতিষ্ঠানে, কার কাছে পড়বে এই সিদ্ধান্ত ছাত্র-ছাত্রীদের এবং সেই অভিভাবকের।

তাহলে সমস্যা কোথায়?

সমস্যাটি জড়িয়ে আছে অর্থের সাথে। জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রির আদান-প্রদানে অর্থই একমাত্র ভরসা। অর্থের যোগানের জন্য আমাদের যত দৌড়ঝাঁপ। স্থায়ী শিক্ষকদের মাসে মাসে সরকারি বেতন রয়েছে, তাই তাদের অতিরিক্ত অর্থ যোগানের মানসিকতাকে প্রশমিত করা প্রয়োজন। যতক্ষণ স্থায়ী শিক্ষকদের গৃহ শিক্ষকতা শূন্যতে না দাঁড়ায় ততক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতী গৃহশিক্ষকদের শান্তি নেই।

গৃহশিক্ষদের সংগঠন-

তৈরি হল সংগঠন। খুব ভালো কথা। সংগঠনের পক্ষ থেকে নানান দাবি সরকারের কাছে পেশ করা হচ্ছে। জেলা ডি.আই’রা তৎপরতা দেখাচ্ছেন। আশা করি গৃহ শিক্ষকদের দাবি গুলি আগামী দিনে কার্যকর হবে। 

সংগঠন কি প্রকৃতই কোন সমস্যার সমাধান করে?

করে, আবার করে না। কখন করে? সংগঠন যদি সেই শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রচেষ্টায় নিজেদের তাগিদে কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক দলের সাহায্য ছাড়াই তৈরি হয় তখনই তাদের উদ্দেশ্য পূরণ হতে পারে। আর সেই সংগঠনে কোন স্থায়ী রাজনৈতিক দল নাক গলালে এসব পন্ড। কেবলমাত্র কিছু ছোট ছোট পাইয়ে দেওয়া ছাড়া অথবা সেই সংগঠনের কিছু ব্যক্তিকে বাড়তি সুযোগ দেওয়া ছাড়া কিছুই হয় না। অন্যদিকে সংগঠনের সমর্থক মূল রাজনৈতিক দল, সংগঠনের সমস্ত সদস্যদের কাছ থেকে রাজনৈতিক আনুগত্য আদায় করতে সক্ষম হয়। এই সত্য সমস্ত শ্রমিক সংগঠনের ক্ষেত্রে সমান ভাবে কার্যকরী। এই মুহূর্তে জানা নেই গৃহ শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দল নাক গলিয়েসে কিনা।

শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের কি আন্দোলনের অভিমুখ পরিবর্তন হচ্ছে না?

প্রথমে জানা প্রয়োজন দাবি গুলি কি কি? প্রধান দাবি গুলির মধ্যে স্থায়ী শিক্ষকদের শিক্ষকতা কঠোরভাবে বন্ধ করা। পাঁচ হাজার টাকা ভাতা। ইপিএফ চালু করা ইত্যাদি ইত্যাদি। সারা বাংলায় স্কুল-কলেজের স্থায়ী চাকরির স্থান সংকুলান হচ্ছে, নিয়োগহীন পদ্ধতিকে নিজেদের কেমন ভাবে মেনে নিচ্ছি। এ নিয়ে কোনো আন্দোলন নেই। অথবা এই নিয়েই আন্দোলনের গতিকে বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই কেউ কি গৃহ শিক্ষকদের সংগঠন করার জন্য উৎসাহিত করছে? জানা নেই।

শিক্ষা শ্রমিক বিভাজন- পরিণতি ‘শিক্ষা’ হত্যা-

তবে এটা নিশ্চিত শিক্ষা শ্রমিকদের মধ্যে এক বিশাল বিভাজন অনেক আগেই তৈরি হয়েছে এবং আগামীতে হবে। যার পরিণাম ‘শিক্ষা’ হত্যা। প্রাথমিক শিক্ষক, হাইস্কুল শিক্ষক, পার্শ্ব শিক্ষক, পার্টটাইমার, শিক্ষাবন্ধু ইত্যাদি ইত্যাদি নানান পদ শিক্ষা শ্রমিকশ্রেণীর মধ্যে বিভাজন রয়েছে। সেখান থেকে পরস্পরের প্রতি ঈসা, রাগ, অশ্রদ্ধা, অবিশ্বাস দেখার অভ্যাস তৈরি হয়ে যাচ্ছে এবং এর সঙ্গে যুক্ত আছে গৃহশিক্ষক। অভ্যাস তৈরি হয়ে যাওয়ার অর্থই যে সুস্থ স্বাভাবিক তা কিন্তু নয়। ভেতরে ভেতরে রোগের জীবাণু বংশবিস্তার করছে। এখানেই পারস্পরিক শত্রুতার অশনি সংকেত। কেউ যেন কারো কারো ভাতের থালা ছিনিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টা কি তাই?

গৃহ শিক্ষকদের দুটি বিভাকে বিভক্ত করে আরেকটু গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করি। দুটি বিভাগ হল- ১. শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ২. বয়স।

১. শিক্ষাগত যোগ্যতা নিরিখে বলতে গেলে বলতে হবে এখানে যেমন মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পাস গৃহ শিক্ষক রয়েছেন তেমনি পিজি ডিগ্রি বা তার তুলনায় উচ্চ ডিগ্রি ধারীরাও আছেন। সকলেই নিজের নিজের ছাত্রদের কাছে তাদের সেরা পরিষেবা দেন এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।

২.বয়সের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৮ বছর থেকে শুরু করে চল্লিশোর্ধ অভিজ্ঞ শিক্ষক আছেন এবং এই বয়স সীমার মধ্যে মাধ্যমিক থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারী রাও রয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের শ্রেণীবিভাজন-

এবার আসা যাক শিক্ষার্থীদের শ্রেণীবিভাজনে। এখানে নিম্ন প্রাথমিক থেকে উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে পাঠরত শিক্ষার্থীও রয়েছেন। স্বভাবতই গৃহশিক্ষক নির্বাচনেও তাদের পার্থক্য থাকছে। এখন একজন গৃহশিক্ষক যিনি প্রাথমিক পড়ান বা মাধ্যমিক পরান তিনি যদি ডিগ্রী কোর্সের কোন শিক্ষার্থী পড়ান এমন কোন স্থায়ী শিক্ষকের শিক্ষকতা নিয়ে কথা বলেন তা কতটা যুক্তিযুক্ত? আবার একজন ডিগ্রি পাঠরত কোন ছাত্র, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যুক্ত নয় এমন কোন উচ্চ ডিগ্রিধারী গৃহশিক্ষককে কোন ভরসায় বেছে নেবেন? যদিও কোন একজন ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুক্ত হলে বা স্থায়ী চাকরি করলেই তিনি সেরা শিক্ষক হবেন তার কোন যৌক্তিকতা নেই। তবুও আমাদের সমাজ সেভাবেই মূল্যায়ন করে। এটা একটা মানসিক তৃপ্তি বা আস্থা নাও হতে পারে। 

কে ভালো পড়ান(Who teaches better)?

এখানে অন্য একটি কথা বলা যেতে পারে উচ্চ ডিগ্রিধারী একজন গৃহ শিক্ষক হয়তো সুযোগ পাননি চাকরি পরীক্ষায় বসার বা একটা দুটো পেয়েছেন আর সে রকম সুযোগই আসেনি। সুযোগ থাকলেই তিনি সেই প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হতে পারতেন। সুযোগ তৈরি করার জন্য আন্দোলন দাবি থেকে লক্ষ্য সরে গিয়ে গৃহশিক্ষকতা সংগঠন ও দাবি কি খুবই উচ্চমানের? আমাদের আগামী প্রজন্ম কোন ভরসায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি ভরসা রাখবে? যারা আজ চল্লিশের কোঠায় তাদের কাছে একাধিক সুযোগ থাকলে এই দুর্গতি হতো না। তারা কিভাবে কোন পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন ভাবলে আঁতকে উঠতে হয়। তাদের কি কোন ডিগ্রী কম ছিল? তা আজ পর্যন্ত জানা গেল না।

আন্দোলনটা কেমন হওয়া উচিত-

কোন বয়স সীমা নয়, প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, উচ্চ বিদ্যালয় যত শুন্য পদ রয়েছে অবিলম্বে তায পূরণ করা হোক। নিয়োগ করা হোক এই গৃহ শিক্ষকদেরও তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী। যে বা যারা বেকারদের জীবন তছনছ করে দিয়েছে বা এখনো দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা হোক। স্থায়ী শিক্ষকরা আপনাদের শত্রু নয়। আপনাদের চাকরি স্থায়ী শিক্ষকরা কেউ ছিনিয়ে নেননি। আগামীতে তারা গৃহ শিক্ষকতা ছেড়ে দিলেও মূল সমস্যার সমাধান কোনমতেই সম্ভব নয়। আপনারা যারা ৪০-৫০ এর কোঠায় রয়েছেন আপনাদের জীবন হয়তো কেটে যাবে। কিন্তু আপনার ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ কি স্থায়ী শিক্ষকদের গৃহ শিক্ষকতা ছেড়ে দিলেই উজ্জ্বল হবে? ভেবে দেখুন।

মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যাল্যের শিক্ষকদের গৃহশিক্ষকতা-

স্থায়ী শিক্ষকদের গৃহ শিক্ষকতা বিষয়ে মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপর যত না চাপ আছে, তার তুলনায় প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষকদের উপর বেশি। কারণ প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও যেমন বেশি তেমনি গৃহ শিক্ষকদের সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষকদের তুলনায় অনেকটাই বেশি। সুতরাং মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের গৃহ শিক্ষকতা দরুন তাদের আয়ের সীমাও বেশ প্রসারিত। অথচ জন মানসে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষকরাই নাগালের মধ্যে রয়েছেন।

আইন কি বলছে?

সরকার মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। সাধারণ মানুষ এই স্তরের শিক্ষকদের নিয়ে উচ্চবাচ্য করছেন না। সরকারের উদাসীনতার কারণ হিসেবে বলা যায় যে, যে পেশায় স্থায়ীভাবে যুক্ত তিনি সেই পেশায় উৎকর্ষতা, উন্নয়নে নির্দিষ্ট কাজের সময়ের বাইরে চর্চা বা গবেষণা করতে পারেন। এটা পারিশ্রমিক বা বিনা পারিশ্রমিকে হতে পারে। পারিশ্রমিক নিলে আয়কর রিটার্নে অন্যান্য উৎস থেকে রোজগার হিসেবে ওই পারিশ্রমিকের অর্থ দেখাতে পারেন। আইনি জটিলতা থাকার কথা নয়। এ প্রসঙ্গে ইউটিউবার রাম দাঁ’র শিক্ষকদের টিউশনি পড়ানো আইনের চোখে কি অপরাধ? এই ভিডিওকে অনুসরণ করার অনুরোধ রইল। তিনি এ বিষয়ে একজন আইনজীবীর সাথে সাক্ষাৎকার নিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।

আদালত আপনার পক্ষে যাবে ধরে নিয়েও বলবো গৃহ শিক্ষকতা প্রাতিষ্ঠানিক সার্বিক গণশিক্ষার পরিপন্থী। তা সে স্কুল-কলেজের স্থায়ী শিক্ষকরাই করুন আর শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরাই করুন। এখানেও এক শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুযোগের অভাবে পিছিয়ে পড়ে এবং পড়ছেও। এ আমার অভিজ্ঞতা। পরে এ বিষয়ে অন্য লেখায় বলা যেতে পারে।

শত্রু শত্রু খেলাটায় কার লাভ?

পারস্পরিক ঈর্ষা, অবিশ্বাস থেকে অশ্রদ্ধা ও শত্রুভাপন্ন মানসিকতা একপক্ষ লাভবান হচ্ছে। শত্রু শত্রু খেলাটা রাস্তাঘাটে বাজারে ঘরে যতই আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে রাখা যায় ততই তাদের কাজ করতে ও গুছিয়ে নিতে সুবিধা হবে। এ বিষয়টি যতদিন না বুঝবো ততদিন পর্যন্ত আমাদের সকল পক্ষেরই অমঙ্গল। গোটা সমাজের অহিক ছাড়া কিছুই ভবিতব্য নেই।

শিক্ষার্থী-অভিভাবক বিভ্রান্তি ও সামাজিক অবক্ষয়-

দুই পক্ষের যাঁতাকলে পড়ে কখনো কখনো শিক্ষার্থী অভিভাবকরা বুঝে উঠতে পারেন না, মানসিকতায়, মানবিকতায় বন্ধুত্ব কে বা কোন পক্ষ উচ্চ শ্রেণীর? দ্বন্দ্বে শ্রদ্ধা-অশ্রদ্ধা মান সম্মানের সংঘাতে অশ্রদ্ধা ও অসম্মানের পাল্লা ভারী হয়, যা শিক্ষার্থী পর্যন্ত গড়ায়। এরই পরিণতিতে সামাজিক অবক্ষয় অনিবার্য।

প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়ী শিক্ষকদের গৃহ শিক্ষকতা ও বেকার যুবক যুবতীদের গৃহ শিক্ষকতা দ্বন্দ্ব বিভেদ সমস্যার সমাধান কবে কিভাবে হবে? এখনো সুস্পষ্ট নয়। তবে তর্কাতর্কি থেকে বিভেদের অবসান জরুরী। কেননা মাঝখানে ‘শিক্ষা’ যাঁতাকলে পিষে যাচ্ছে। মনে রাখা উচিত বেকারত্ব, বেরোজগার, আর্থিক অনটন যেমন সমস্যার ভার বৃদ্ধি করছে, তেমনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার উপর ভরসা ও আস্থাও রাখতে হচ্ছে।

আমি গৃহ শিক্ষকতার পরিপন্থী হলেও, গোটা সমাজ গৃহশিক্ষকতার উপর নির্ভরশীল আছে। স্থায়ী স্কুল কলেজ শিক্ষকরা মানবিক হয়ে অবশ্যই তাদের গৃহ শিক্ষকতার বিষয়টির উপর যেমন বিবেচনা করা উচিত, তেমনি বেকার যুবক-যুবতী যারা গৃহ শিক্ষকতা করছেন তারাও নিজেদের উপর বিশ্বাস, আস্থা ও ভরসা রাখা উচিত। আমার অনেক পরিচিত, আত্মীয়, বন্ধু, ভাই, বোন, ছাত্র-ছাত্রী, দাদা দিদিরা নানান শ্রেণীতে শিক্ষকতা করেন। আমি জানি তাদের নিজেদের উপর অগাধ আস্থা ও বিশ্বাসও আছে।

কার পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত?

কিন্তু তাদেরও ভেবে দেখা উচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, গৃহ শিক্ষক নির্বাচনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পছন্দকেই সর্বজ্ঞে প্রাধান্য দেওয়া। মূল্যায়নও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর করুন। আর ক্ষুদ্র ও সাময়িক লাভের জন্য সংগঠন কতটা কার্যকরী এ বিষয়ে ভাবনার অবকাশ রয়েছে যদি তা কোন চলমান রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় তৈরি হয়। প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়ী শিক্ষকদেরও গৃড় শিক্ষকতা বিষয়টি মানবিকতাসহ বিবেচনা করার অনুরোধ রইলো। স্থায়ী শিক্ষক বা গৃহ শিক্ষক যাই হোন না কেন, প্রত্যেকেরই প্রথম পরিচয় শিক্ষক ও শিক্ষা শ্রমিক। শিক্ষকের বিভাজন অর্থই ‘শিক্ষা’কে হত্যার নামান্তর।

মন্তব্যের আশায় রইলাম। শেয়ারও করতে পারেন।

আরো পড়ুন

মহিলাদের প্রতি প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি
সমাজে টি ভি সিরিয়ালের প্রভাব
বয়স্ক মা-বাবাকে অবহেলা- ভয়ানক অপরাধ
একান্নবর্তী পরিবার ও অনু পরিবার এবং সমাজ
ভারতীয় সমাজে নারীর অবস্থান
আঁতুড়ঘরে 1 মাস
বিধবা বিবাহ
ভারতের বিস্ময় কন্যা জাহ্নবী পানোয়ার

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.